ঝড়ের নাম বুলবুল

অজয় নাথের কক্ষপথে ১ম দিন

আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের ঘুর্ণিঝড়ের নামের তালিকার ৬৪টি নামের মধ্যে বুলবুল ছিল ৬২তম। সুতরাং আবার একটি নামের তালিকা তৈরি করা আশু প্রয়োজন।এই বিষয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি লেখার প্রেক্ষিতে ভূগোলিকার একটি লেখা আমাকে আমার একজন বন্ধু পাঠিয়েছেন। তার সূত্র ধরেই আমি লিখছি।

আমার বইতে ঘুর্ণিঝড়ের নাম নিয়ে একটা আলাদা রচনা আছে। এখন হয়ত সাল তারিখ ঠিকঠাক বলতে পারব না তবুও বলছি ঝড়ের নামকরণ শুরু হয়েছে মূলত ৫০এর দশকে। তখন আবহাওয়া সম্পর্কে সমস্ত তথ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নৌসেনার হাতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আবহাওয়া তথ্য ছিল অতি গোপনীয় বিষয়। আমাদের দেশে স্বাধীনতার পর পঞ্চাশের দশকে কৃষি আবহাওয়া পুর্বাভাস আলাদাভাবে দেওয়া হত বর্ষার মরসুমের জন্য। এই পুর্বাভাস গোপন তথ্য হিসাবে ভারত সরকারের কৃষি মন্ত্রকেকে পাঠানো হত।

যাই হোক একজন ইংরেজ লেখক “দি স্টর্ম” নামের একটি উপন্যাস রচনা করেন। তার উপন্যাসের উপজীব্য ছিল একটি সামুদ্রিক ঝড়। তিনি খুব সম্ভবত নিজের মেয়ের নামে ঘুর্ণিঝড়টির নাম রাখেন। এর পর থেকে ইউ এস নেভির আবহাওয়াবিদরা আটলান্টিক অঞ্চলের ঘুর্ণিঝড়ের নাম নিজেদের বৌ, মেয়ে বা প্রেমিকার নামে রাখতে শুরু করেন। কিছুদিন পর থেকে নারীবাদীদের বিভিন্ন সংগঠন এর প্রতিবাদে সরব হতে থাকেন। ঘুর্ণিঝড়ের মত একটি বিধ্বংসী আবহাওয়া ব্যবস্থার নাম শুধু মেয়েদের নামে হবে সেটা তারা মানতে রাজি নন। তার পর থেকে ঝড়ের নাম রাখার প্রক্রিয়া কিছু দিন বন্ধ থাকে।

তারপর বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মাধ্যমে আবার নাম রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ঝড়ের জন্য ছয় বছরের নামের তালিকা প্রস্তুত হয়। প্রতি ছয় বছর অন্তর নামগুলো পুনরায় ব্যবহার করা হয়। তালিকায় নাম লেখা হয় ইংরেজি অক্ষর মালা অনুসারে। একটি ছেলের নাম তার পর একটি মেয়ের নাম এই ক্রম অনুযায়ী। তাই উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর অঞ্চলে ঝড়ের নামের তালিকা নিয়ে কোন ভাবনা নেই। অবশ্য অতি প্রবল ও বিশেষ বিশেষ ঝড় যেমন ক্যাটরিনা বা স্যান্ডি ইত্যাদি নাম দ্বিতীয় বার ব্যবহার হয় না। সেগুলো বিশেষ ঝড়ের তালিকাভুক্ত হয়। তার জায়গায় নুতন নাম লেখা হয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পূর্ব ও পশ্চিম ভাগের জন্য আলাদা নামের তালিকা আছে। আমাদের সাগর অঞ্চলের নামের তালিকায় আর মাত্র দুটি নাম আছে যা অদূর ভবিষ্যতে ফুরিয়ে যেতে পারে। নুতন আরো ৬৪টি নামের তালিকা তৈরি হয়ে যাবে আর কিছু দিনের মধ্যে। ভারতের ৮টি নামের তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার জন্য যে কোন ভারতীয় নাগরিকের নাম পাঠানোর অধিকার আছে। তবে সেই সময় আর এবারের তালিকার জন্য নেই। বর্তমান তালিকা চলেছে ১৬ বছর। ২০০৪ থেকে এ পর্যন্ত। পরের তালিকা কতদিন চলবে সেটাই দেখার।

আবহাওয়াবিদ অজয় নাথ

Published by @

পরিবেশ, পরিবেশ আন্দোলন, দূষণ, গাছ, নদী, পাহাড়, সাগর

Leave a Reply

%d bloggers like this: