বাজে শব্দ

loud sound, sound pollution, sound pollution imapct on ear,শব্দদূষণ

রাস্তায় জোরে জোরে হর্ন বাজছে। আপনি ভাবলেন, ও ঠিক আছে, কানে একটু লাগছে বটে, তবে এটুকুতে কিছু ক্ষতি হয়না। আপনার প্রতিবেশী তার প্রিয় দল ফুটবল ম্যাচ জেতার আনন্দে শব্দবাজি ফাটাচ্ছে। আপনি ভাবলেন, ও ঠিক আছে, ওরা তো আনন্দ করছে। আপনার ব্রেন কিন্তু তা ভাবছে না। সে তলে তলে নিজের সেফটি মেক্যানিজম অ্যাক্টিভেট করে দিচ্ছে আর সেটা আপনার হার্টের জন্য মোটেই সেফ নয়।

loud sound, sound pollution, sound pollution imapct on ear,শব্দদূষণ

প্রথমত, অতিরিক্ত জোরালো শব্দ তরঙ্গ কানের ভেতর ককলিয়া (cochlea) বলে যে প্যাঁচানো টিউব আছে তার মধ্যের হেয়ার সেল (hair cells) গুলোকে নষ্ট করে দিতে পারে। এই হেয়ার সেল গুলোই আসলে শব্দ তরঙ্গকে ইলেকট্রিক সিগন্যালে পরিবর্তন করে। তারপর সেই সিগন্যাল অডিটরি নার্ভ দিয়ে ব্রেনে যায়। তাই এই হেয়ার সেলগুলো নষ্ট হয়ে গেলে, মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে।

loud sound, sound pollution, sound pollution imapct on ear,শব্দদূষণ

সুতরাং এই যে আপনি প্রত্যেকবার জোরালো হর্ন বাজান, উচ্চশব্দযুক্ত বাজি ফাটান, সেই প্রত্যেকবার শব্দ প্রাথমিক ভাবে আপনার যে ক্ষতি করতে পারে, তা হল টেম্পোরারি বা পার্মানেন্ট বধিরতা।
এ তো গেল সবচেয়ে স্পষ্ট ও প্রমানিত শারীরিক ক্ষতি। তাছাড়া আর যেসব শারীরিক ক্ষতির বিষয়ে গবেষকরা অনুমান করছেন তার মধ্যে প্রধান হল হৃদয় ও রক্তবাহের অসুখ( cardiovascular disease)।
সম্ভবত বধিরতা থেকে বাঁচার জন্যই ব্রেনের এমিগডালা (amygdala) অংশটি জোরালো শব্দতরঙ্গকে বিপদজনক বলে ইন্টারপ্রেট করে ( এমিগডালা আমাদের স্ট্রেস আর ইমোশন রেগুলেট করে ) আর হাইপোথ্যালামাসকে ডিসট্রেস সিগনাল পাঠিয়ে দেয়। হাইপোথ্যালামাস সঙ্গে সঙ্গে নিজের কাজ শুরু করে দেয়। প্রথমে অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেমকে অ্যাক্টিভেট করে।

loud sound, sound pollution, sound pollution imapct on ear,শব্দদূষণ

অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেমের মধ্যে যে অংশটি ফাইট অর ফ্লাইট (fight or flight) রেসপন্স এর জন্য দায়ি, সেই সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম (sympathetic nervous system) এর পর তার কাজ শুরু করে। অর্থাৎ কিনা জোরালো শব্দের বিপদ ‘বধিরতা’ থেকে শরীরকে রক্ষা করতে ‘যুদ্ধ বা পালিয়ে যাওয়া, এর জন্য শরীরকে প্রস্তুত করে।
সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম অ্যাক্টিভ হওয়ার ফলে রক্তে বেশি পরিমাণে কিছু হরমোন মিশে যায় (যেমন cortisol, epinephrine ইত্যাদি)। এই স্ট্রেস হরমোনগুলো ব্লাড প্রেসার, গ্লুকোজ লেভেল, রক্তের সান্দ্রতা(viscosity), রক্তে লিপিডের পরিমাণ(lipid) এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা(activation of blood coagulation) বাড়িয়ে দেয় এবং সম্ভবত হৃদয় ও রক্তবাহের অসুখের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেয়।

loud sound, sound pollution, sound pollution imapct on ear,শব্দদূষণ

আবার কেউ বলেন, যেহেতু স্ট্রেস হরমোনগুলো হার্টবিট রেট বাড়িয়ে দেয় (1 মিনিটে 100 থেকে 400 বার হার্ট বিট করতে পারে) সেহেতু হার্ট এর পক্ষে সম্ভব হয় না শরীরের সব জায়গায় ঠিক পরিমাণ মতো অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পৌঁছে দেওয়া এবং সেটাই ডেকে আনে মারাত্মক সব বিপদ।

তাই শেষপর্যন্ত আপনাকেই ঠিক করতে হবে যে শব্দগুলোর থেকে আপনার শরীরের এত ক্ষতি হতে পারে, সেই শব্দকে আনন্দের শব্দ ভেবে প্রশ্রয় দেবেন না শব্দ দূষণ বলে কড়া হাতে দমন করবেন।

মৌমিতা হীরা

তথ্যসূত্র :
Understanding the Stress Response, Harvard Health Publishing, HARVARD MEDICAL SCHOOL
Environmental Noise and the Cardiovascular System, Journal of the American College of Cardiology

AddText_11-08-11.14.50.PNG

Published by @

পরিবেশ, পরিবেশ আন্দোলন, দূষণ, গাছ, নদী, পাহাড়, সাগর

Leave a Reply

%d bloggers like this: