কিগিলিয়া ফুল

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের বাগানে মস্ত বড় এই সুন্দর ফুলটির নাম কিগিলিয়া বা সসেজ ফুল।
বৈজ্ঞানিক নাম Kigelia africana. মধ্য আফ্রিকার রুক্ষ শুকনো অঞ্চলের গাছ। মে মাসে তার ফুলের সময়।
ফুলগুলি রাতে ফোটে, বাদুড় জাতীয় প্রাণী এদের পরাগমিলন ঘটায়। ভোর বেলায় ঝরে যায়। ঝরে পড়া ফুল আমরা একদম তাজা অবস্থায় রোজ দেখি। ইদানিং দিনের আলোতেও এদের গাছে ফুলন্ত, ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। যেমন এখন শিউলি।
কিগিলিয়ার ফল দুর্দান্ত। কাঁচা তেঁতুলের মতো ঝুলতে থাকে থোকায় থোকায়। একেকটি ফল দু-আড়াই কেজি ওজন। তবে তেঁতুলের মত চ্যাপ্টা নয়, দেখতে cylindrical. ফলের রং অবিকল কাঁচা তেঁতুলের মতো। সে ফল আফ্রিকার লোকেরা নানাভাবে খেয়ে থাকে। তবে কাঁচা কখনোই নয়। তখন তা তীব্র জোলাপের কাজ করে।
সেসব বাজে কথা থাক। ফুলটির কথা বলি।

ফুলগুলি বাসরলতা ফুলের মতো ঝাড় লন্ঠন হয়ে ঝুলে থাকে। মূল অক্ষের গায়ে গায়ে চার-ছটি করে কুঁড়ি ধরে। কুঁড়ি পরিণত হলে তার অগ্রভাগ উন্মুক্ত হয়ে পাপড়ি মেলাতে থাকে যখন, সে এক দেখার জিনিস। অতখানি পাপড়ি কি করে ওইটুকু কক্ষে লুকানো ছিল তা ভাবতে মাথা ঘুরে যায়।
উজ্জ্বল মেরুন রঙের একটিই পাপড়ি। চারটি অংশে বিভক্ত। পাপড়ির পিছনের দিক হলুদাভ।
ফুলের বুকে চারটি পুংদন্ড ও একটি লম্বা গর্ভদন্ড। পংদন্ডগুলি পাপড়ির গায়ে লেগে থাকে। গর্ভদণ্ডের মাথাটি চেরা এবং সেটি সকলকে ছাড়িয়ে ফুলের প্রকোষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে আসে।
পরাগমিলন সম্পন্ন হলে পুংদন্ডসহ ফুলটি ঝরে যায়, গাছে লেগে থাকে গর্ভদন্ড ও গর্ভাশয়, যা কদিন পরেই একটি পুরুষ্ট তেঁতুলের আকার নেয়।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের বাগানে কিগিলিয়া আছে দুটি। দুটিতেই এখন ফুল ফুটেছে। একটির ফুল ঝরে পড়ে মাটিতে, অন্যটির কামিনীর গাছে। আর শিবপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনের গাছে এখন ভর্তি ফল। সে দৃশ্য না দেখলে ঠিক বোঝা যাবে না। তাদের বিশালতা ও সংখ্যা বিস্ময়ে অভিভূত করে দেয়।

ফাল্গুনী মজুমদার

Published by @

পরিবেশ, পরিবেশ আন্দোলন, দূষণ, গাছ, নদী, পাহাড়, সাগর

Leave a Reply

%d bloggers like this: