ভাকুম্বা ফুল

শিবপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে এই সুন্দর ফুলটির নাম কুম্ভী বা ভাকুম্বা। এর ফল দেখতে খুব বড় গাব বা পেয়ারার মতো, মুখের কাছটি উঁচু, কুম্ভের মতো। সেই থেকে নাম কুম্ভী। ইংরাজি নাম Wild guava বা Ceylon oak.

আর একটি মজার নাম আছে, Slow Match Tree.
সে নামের তাৎপর্য বেশ মজার।
Slow match হল সলতে। আগেকার দিনে মাস্কেট, গাদা বন্দুক, কামান ইত্যাদিতে বারুদে আগুন দেওয়া হত। সে ছিল খুব ঝুঁকির কাজ, একটু উনিশ-বিশ হলেই সব বারুদে আগুন লেগে যাবে। তাই বিচ গাছের ছাল সলতে হিসাবে কাজে লাগানো হতে থাকে। এদেশে আসার পর ইংরেজরা বিচ গাছের বদলে কুম্ভী-র ছাল ব্যবহার করতে শুরু করে। সেই কাজে এর জুড়ি ছিল না। সেই থেকে নাম Slow match.
বিখ্যাত জাপানি পরিচালক আকিরা কুরোসাওয়া “পথের পাঁচালী”র আগের বছর, ১৯৫৪ সালে Seven Samurai নামে একটি ছবি করেন।
১৫৮৬ সালের ঘটনা। একদল ডাকাত একটি গ্রামের ফসল লুট করার পরিকল্পনা করে। তাদের প্রতিরোধ করা প্রায় অসাধ্য। গ্রামের মোড়ল বললেন, সামুরাই নিয়োগ করা হোক। তারাই রক্ষা করবে।
সামুরাই হলো মধ্য যুগে জাপানের মিলিটারি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একশ্রেণীর যোদ্ধা। অনেকটা গেরিলা বাহিনীর মতো। তারা তাদের বন্দুকে এই Slow match ব্যবহার করত।
সে যাক।

কুম্ভী-র সংস্কৃত নাম গিরিকর্ণিকা। গিরি হলো পাহাড়, আর কর্ণিকা হলো পদ্ম ফুলের ভিতরে থাকা মুড়ি। কেন এমন নাম হল তা বুঝতে পারিনি। সেসব কথা থাক।

বোটানিক্যাল গার্ডেনে কয়েকটি নার্সারী আছে, সেখানে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ। তারই এক নম্বর নার্সারীতে আছে কুম্ভী গাছটি। বাইরে থেকেই দেখা যায়।
বেশ উঁচু গাছ। ৪০/৫০ ফুট তো হবেই। তো, সেই গাছে ফাল্গুন মাসে এই ফুল ফোটে। এ ছবি সেই তখনকার। পরে ফলেরও ছবি তুলেছি।

সে ফলের ডাক নাম বাঁদর নাড়ু। ফলের মুখে পেয়ারা, গোলাপ জামের মতো বৃতির অংশগুলি লেগে থাকে।
কুম্ভী ফুল ভারী সুন্দর। চারটি সাদা পাপড়ি, চারটি বৃত্যংশ। তবে এর শোভা পাপড়িতে নয়, শোভা এর পুংদণ্ডে। ফুলের কেন্দ্রে বৃত্তাকারে সাজানো থাকে লম্বা লম্বা অজস্র পুংদন্ড, তাদের গোড়াটি আবার লাল। দেখতে নরম তুলতুলে পাউডারের পাফের মতো। এর কুঁড়িগুলি শিমুলের কুঁড়ির মতো, বড় বড়, মসৃণ, থোকা থোকা।

ফাল্গুনী মজুমদার

Published by @

পরিবেশ, পরিবেশ আন্দোলন, দূষণ, গাছ, নদী, পাহাড়, সাগর

Leave a Reply

%d bloggers like this: