দাদা সরে বসুন সমুদ্র দেখব” নয়, সমুদ্র এখানে কথা বলে

@
4.3
(18)

bakkhali_sea_beach_ban.jpg

বাঙালির সঙ্গে দী-পু-দার রোমান্স চিরন্তন, তার প্রথম দুটি দীঘা এবং পুরীতে বড়ই স্থানাভাব, চতুর্দিকে গজিয়ে উঠেছে হোটেল, জায়গায় জায়গায় যানজট। নোনা বাতাসের গন্ধ না থাকলে আপনি সমুদ্রসৈকতে নাকি পশ্চিমবঙ্গ হস্তশিল্প মেলায় তা গুলিয়ে যেতে বাধ্য। সমুদ্রের তীরে কাতারে কাতারে মানুষ, সাগর কুসুম তো দূর ঝিনুকের দেখা মেলাও ভার। কৃত্রিমতার নাগপাশ জায়গা দুটিকে আষ্টে পৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। অত্যধিক পর্যটকের ভারে ন্যুব্জ দীঘা ও পুরীর প্রাকৃতিক ভাড়ার আজ শূন্য।

bandicam 2019-11-21 16-06-21-081.jpg

 

তাহলে বেলাভূমিতে অস্তাচলে যাওয়া সূর্যের মৃদু কিরণে আভাটুকু গায়ে মেখে সময়যাপনের ঐকান্তিক যে ইচ্ছা বাঙালি তার হৃদয়ে সতত লালন পালন করে চলেছে তার কী হবে? উপায় অবশ্যই আছে তার নাম বকখালি।

bakkhali2.jpg

আপনার সম্পর্ক যদি কখনো জীববিদ্যার সাথে হয়ে থাকে তবে এ জায়গায় এক্সকারশন এ যাননি এমন বিদ্যার্থী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। প্রকৃতি প্রেমী মানুষরা সজীবতার সান্নিধ্য পেতে মাঝে মাঝেই ছুটে আসেন এই আর্দ্র নোনামাটির দেশ বকখালিতে। শহর জীবনের দৈনন্দিন ব্যস্ততাকে ভুলিয়ে অনাবিল আনন্দের জোয়ারে ভাসতে। তবে অধিকাংশ উদযাপন প্রিয় মানুষের কাছে এ জায়গা বড়ই নিরস, শুষ্ক, আড়ম্বরহীন, শান্ত সমুদ্রের ন্যায় নিস্তরঙ্গ। একথা ঠিক যে পুরী বা দীঘার মতো প্রাণবন্ত সমুদ্রের উচ্ছাস এখানে নেই, তবে আর যা আছে তা অনবদ্য, প্রকৃতি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে।

shareiq_1360321019.948259.jpg

বেলাভূমি প্রশস্ত সেখানে অসংখ্য কাঁকড়ার বাস, সমুদ্র পাড় থেকে কিছুটা দূরে কিন্তু এই দূরবর্তী অবস্থানের জন্যই প্রকৃতি মেলে ধরেছে তার ঐশ্বর্য সম্ভার। মাঝের এই জল ও কাদা যুক্ত অঞ্চলে আপনি দেখতে পাবেন অসংখ্য সাগরকুসুম, সী পেন, হার্মিট ক্র্যাব। মন্থর গতিতে এগিয়ে চলা স্টার ফিশ, নাম না জানা অসংখ্য প্রজাতির রঙবেরঙের ঝিনুক । ইতি উতি ছড়িয়ে রয়েছে শঙ্খের খোলা, কপাল ভালো থাকলে দেখা হতে পারে ক্যাটেল ফিসের সাথেও। সমুদ্রের পাশেই ছোট বড় জলের স্রোত তৈরি করে তাতে চলছে ছোট ছোট জাল দিয়া মাছ ধরার কাজ। পাশেই ওৎ পেতে রয়েছে মাছরাঙা।

img-20190809-5d4cfe8aeb716.jpg

বকখালি আসলে অবশ্যই যাবেন হেনরি দ্বীপে, এখানকার watch tower থেকে উপভোগ করাযায় সুন্দরবনের দৃশ্য, দিগন্ত রেখায় চোখ রেখে সুন্দরী, গরান দেখতে দেখতে চোখে পড়বে নানা রঙের পাখি – মাছরাঙা, ফিঙে, ঘুঘু আরো কত কি । এছাড়া এখানে আছে একটি ফিশিং হারবার, সর্বদা সেখানে লেগে আছে মাছ ধরা ট্রলারের আনাগোনা। ঝুড়িতে ভরা পমফ্রেট, ইলিশ, খয়রা, আমুদে, ভেটকি, চিংড়িরা বাজারে যাওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে। জেলেরা জাল বুনতে ব্যস্ত। এখান থেকে নৌকায় আপনি ঘুরে আসতে পারেন জম্বুদ্বীপ। সংরক্ষণের কারণে এই দ্বীপে নামা নিষিদ্ধ, তবে নৌকায় বসেই আপনি উপভোগ করতে পারবেন লাল কাঁকড়ার ব্যস্ততা ও অগণিত পাখির ঝাঁক। ভগবৎপুর কুমির প্রকল্প বকখালির আর একটি দর্শনীয় স্থান।

bakkhali_003.jpg

এখানকার স্থানীয় মানুষ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ। অন্যান্য পর্যটন স্থান গুলির তুলনায় এখানকার বাজারদর অনেকটাই কম। তিনজনের তিন দিন দু রাত থাকা খাওয়ার খরচ আনুমানিক 2500-3000 টাকা।
শিয়ালদহ থেকে নামখানা এসে সেখান থেকে গাড়ি বা বাস নিয়ে বকখালি চলে আসা যায় বা কলকাতার ধর্মতলা থেকে প্রতিদিন সকালে বাস ছাড়ে সরাসরি বকখালির উদ্দেশ্যে। তাই আসন্ন শীতে বকখালি হয়েই উঠতে পারে আপনার প্রকৃতি প্রেম উদযাপনের বিচরণ ক্ষেত্র। বেলাভূমিতে বসে মায়াবী পরিবেশ উপভোগ করবেন এক অকৃত্রিম প্রকৃতির স্বাদ, যা আপনার মনে মণিকোঠায় চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

লেখকঃ- সংবর্ত সাধু

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.3 / 5. Vote count: 18

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

একের মধ্যে দুই

4.3 (18) একাধিক জীবের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে জীবজগৎ। উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব ইত্যাদির এক সমাহার হল জীবজগৎ। জীবভাণ্ডারের এক বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে প্রাণীরা। ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যযুক্ত বিভিন্ন প্রাণীরা মিলে গড়ে তুলেছে প্রাণীজগতের জীববৈচিত্র্য।   মেরুদণ্ডী,অমেরুদণ্ডী,ছিদ্রাল, অঙ্গুরীমাল, সন্ধিপদী, পতঙ্গ, মৎস্য, উভচর, সরীসৃপ,পক্ষী, স্তন্যপায়ী ইত্যাদি একাধিক শ্রেণির প্রাণীরা প্রকৃতিতে রয়েছে যারা আচরণগত, গঠনগত, অভিযোজনগত বৈষম্য প্রদর্শন করে। পাখির ‘গান’, মাকড়সার জাল বোনা, শুঁয়োপোকা থকে […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: