বুলবুল ট্রেলার ছিল; আরো বড় ঝড় তবে আসছে!

@
4.2
(5)
অজয় নাথ

অনেকেই আমার কাছে জানতে চেয়েছেন ইদানীং ভারত মহাসাগর অঞ্চলে এত ঘন ঘন ও তীব্র ঘুর্ণিঝড়ের বাড়বাড়ন্ত কেন? গোটা বিশ্বের ক্রান্তীয় সমুদ্র অঞ্চলে বছরে যতগুলো ঘুর্ণিঝড় তৈরি হয় (হ্যারিকেন, টাইফুন ইত্যাদি মিলিয়ে) তার মোট সংখ্যার গড় ৬৬টি। ভারত মহাসাগরের আরব ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের গড় সংখ্যা পাঁচ। গত ১০০ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আরব সাগরের তুলনায় বঙ্গোপসাগরের ঘুর্ণিঝড়ের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। তবে গত দুবছর আরব সাগর অঞ্চলে ঘুর্ণিঝড়ের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৯ সালে এখন পর্যন্ত আরব সাগরে চারটি ঘুর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে বায়ু, হিক্কা, কেয়ার ও মাহা। ভারত মৌসম বিজ্ঞান বিভাগের ইতিহাসে ১১৭ বছরের ব্যবধানে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। তাছাড়া আরব সাগরের ঝড়ের এত তীব্রতা আগে দেখা যায়নি। ২০১৪ সালে নিলোফার ও চপলা, ২০১৫ সালে মেঘ, ২০১৭ সালে অক্ষি ও ২০১৯ সালের কেয়ারের তীব্রতা ছিল অনেক বেশি। সবচেয়ে বেশি তীব্রতা ছিল কেয়ারের। কেন্দ্রীয় বাতাসের গতিবেগ পৌঁছেছিল ঘন্টায় ২২০ কিলোমিটারের বেশি বা সুপার সাইক্লোন স্তরে। নিলোফার, অক্ষি ও মাহার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল প্রায় একই রকম। ২০১৯ এর নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরের ঘুর্ণিঝড় বুলবুলও অতি তীব্র ঘুর্ণিঝড়ের পর্যায়ভুক্ত। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীদের ধারনা বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য যেমন সমুদ্র জলের তাপমাত্রা বেড়েছে তেমনি বেড়েছে বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা। যার ফলে ক্রান্তীয় অঞ্চলে ঘন ঘন ঘুর্ণাবর্ত তৈরি হচ্ছে। সমুদ্রের জলের উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে ঘুর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তাপশক্তি সঞ্চারিত হচ্ছে বায়ুমন্ডলে।

তাছাড়া প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা হ্রাস বৃদ্ধির জন্য ‘এল নিনো লানিনা’ ও ‘ইন্ডিয়ান ওসেন ডাইপোল’ নামে দুটি অবস্থার সৃষ্টি হয়। এল নিনো লানিনা-র কথা আমরা অনেক দিন থেকেই জানি। এর সাথে ভারতের বর্ষা ঋতুর বৃষ্টিপাতের একটা গভীর যোগ রয়েছে। ইন্ডিয়ান ওসেন ডাইপোলের কথা আমরা জেনেছি ১৯৯৯ সালে, ২০ বছর আগে। ইন্ডিয়ান ওসেন ডাইপোলের তিনটি অবস্থা আছে। পজিটিভ, নেগেটিভ ও নিউট্রাল। পজিটিভ অবস্থায় আরব সাগর অঞ্চলে সমুদ্র জলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে। তাছাড়া পজিটিভ বা নেগেটিভ যাই হোক তার দুটি আবস্থা হয় স্ট্রিং ও মাইন্ড। স্ট্রং পজিটিভ অবস্থায় ভারতে বর্ষা ঋতুতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হয়। দীর্ঘ স্থায়ী ও বেশি বৃষ্টিপাত হয় উত্তর পশ্চিম ভারতে। ২০১৯ বছরটি স্ট্রং পজিটিভ ইন্ডিয়ান ওসেন ডাইপোল বছর। তাই ২০১৯ সালে বর্ষায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। বিশ্ব উষ্ণায়নের সাথে স্ট্রং পজিটিভ ইন্ডিয়ান ওসেন ডাই পোলের প্রভাবে এত বেশি সংখ্যক ও তীব্র ঘুর্ণিঝড় আমরা প্রত্যক্ষ করেছি ২০১৯
সালে।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.2 / 5. Vote count: 5

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

Redmi Note 8 Pro বনাম Realme XT: 64 এমপি ক্যামেরার যুদ্ধে জিতেছে কোনটি?

4.2 (5) ৪৮এমপি ক্যামেরা থেকে স্মার্টফোনগুলি এখন ৬৪এমপি ক্যামেরায় স্থানান্তরিত হচ্ছে। দুটি প্রতিযোগিতা ব্র্যান্ড ইতিমধ্যে ভারতে তাদের প্রথম ৬৪এমপি ক্যামেরা স্মার্টফোন চালু করেছে। ৬৪এমপি ক্যামেরার স্মার্টফোনটি চালু করার প্রথম স্মার্টফোন উৎপাদনকারী সংস্থা হল Realme এবং ফোনটির নাম Realme XT। Realme  XT লঞ্চ হওয়ার পরে শীঘ্রই Redmi Note 8 Pro নামে […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: