গ্রিস থেকে উড়িষ্যা : সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিক আটকাতে পণ করছে বিশ্ব

@
4
(2)

 

bandicam 2019-11-23 12-06-11-875.jpg

মহাত্মা গান্ধির দেড়শ বছরের জন্মদিন পালিত হবে, তোড়জোড় শুরু হয়েছে জোরকদমে। ২রা অক্টোবর সেই মহাপ্রাণের পরিবেশভাবনার খানিকটা প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেল প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায়। ২০২২ সালের মধ্যে দেশ থেকে সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিকের পাট পুরোপুরি চুকিয়ে দিতে চাইছে সরকার। তারই অঙ্গ হিসেবে গত ২রা অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিকে তৈরি ছটি সামগ্রীর ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ জারির কথা ঘোষণা করলেন।

carry-bag.jpg

রোজ সকালে আলুটা-মুলোটা কিনতে গিয়ে প্লাস্টিকের মহিমা উপলব্ধি করেননি এমন বাজার করিয়ে নেই বললেই চলে। তারপর ওষুধের শিশি, শ্যাম্পুর স্যাশে, চানাচুরের প্যাকেট সবেতেই সে মুশকিল আসান – অতএব গোদের ওপর বিষফোঁড়া। অসাবধানতা আর অসচেতনতার পূর্ণ সুযোগ নিয়ে নিত্য দিনের ব্যবহারের পরেই প্লাস্টিকের গতি হচ্ছে ডাস্টবিন। সেখান থেকে মাটির তলায় বা সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে পড়াটা শুধু সময়ের অপেক্ষা। আর পরের দিন যে টাটকা মাছটা আপনার পাতে উঠবে, তার পাকস্থলীতে যে আপনারই ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের টুকরো কিলবিল করছে না, এমন গ্যারান্টিও নেই। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আজকে পৃথিবীর মহাসাগরগুলিতে যত না সামুদ্রিক প্রাণী আছে, আগামী কয়েক দশকে তার কয়েক গুণ বেশি প্লাস্টিক থাকতে চলেছে।

animals-plastic-nationalgeographic_2636691.jpg

তাই রাশ টানাটা একান্ত জরুরি ছিল। ইউ এন-এর পরিবেশ বিষয়ক সম্মেলনগুলি থেকে একাধিকবার বার্তা দেওয়াও হয়েছে। ভারতের মতোই অন্যান্য দেশগুলিও আর চুপ করে বসে থাকতে পারছে না, পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো। কিন্তু মুশকিল বাঁধছে বিকল্প নিয়ে। তাই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা নিয়ে ‘কনফেডারেশনের অব্ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি’র মতো সংস্থা বলছে, এই মূহুর্তে সরকরের এই সিদ্ধান্ত বহু ধরনের শিল্প ক্ষেত্রের পক্ষে সমস্যাজনক হতে চলেছে। যেমন, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলি যে ধরনের প্লাস্টিকের শিশিতে তাদের ওষুধের প্যাকেজিং করেন কিম্বা সাবান বা শ্যাম্পুর ক্ষেত্রে যে ধরনের স্যাশে ব্যবহার করা হয় তার বিকল্প এইমূহুর্তে কারোর কাছেই নেই। তাই সরকারের পক্ষেও এই মূহুর্তে প্লাস্টিক বয়কট করা যতটা না সম্ভব, তার থেকে অনেক সহজ হবে প্লাস্টিকের ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনাটা। ভারত সরকারও অনেকটা সেই পথেই হাঁটতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে রাজ্য সরকারগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পলিথিন ব্যাগের মতো সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিকে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যে ধরনের আইন গুলি আছে, সেগুলিকেই আরো গুরুত্ব দিয়ে লাগু করা হোক। বিকল্প খোঁজার প্রয়াসকে উৎসাহ দিতে প্লাস্টিকের বিকল্প নিয়ে যেসব উদ্যোগপতিরা কাজ করেন, তাঁদের পুরস্কার দেবার কথাও ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরের দিন পর্যটন মন্ত্রী প্রহ্লাদ প্যাটেল আরেকটি নির্দেশিকা জারি করে বলেছেন, এরপর থেকে দেশের যেকোনো ঐতিহাসিক নিদর্শনের ১০০ মিটারের মধ্যে সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিকের কোনো সামগ্রী আনা যাবে না আর।

Plastic-ban-in-Odisha.jpg

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিকার প্রায় সমসাময়িক হয়ে ওড়িশা সরকারও গত ৩০ সেপ্টেম্বর জানিয়ে দিয়েছে, ওড়িশার শহরগুলিতে সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিকে তৈরি পলিথিন ব্যাগ, ২০০ মিলিলিটারের কম ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন পেট্ বটল্ ইত্যাদি উৎপাদন, বিক্রি, ব্যবসা, আমদানি ও পরিবহন নিষিদ্ধ হতে চলেছে ২রা অক্টোবর, ২০১৯ থেকে।
শুধুমাত্র দুধ ও দুগ্ধজাত সামগ্রি ছাড়া ভেন্ডররা আর ৫০ মাইক্রনের কম মোটা প্লাস্টিক ব্যবহার করতে পারবেন না ওড়িশার যেকোনো নগরাঞ্চলে।

eu-plastic-ban.jpg

‘রোটি- কাপড়া- মকান- এর মতো পরিবেশের প্রশ্নও যে মহাদেশ- মহাসাগরের সীমানাটা তুচ্ছ পৃথিবীকে একসূত্রে গেঁথে দিচ্ছে, সেটাও দেখা যাচ্ছে। ভারতের মতোই প্লাস্টিক আটকানোর ব্যাপারে এগিয়ে আসছে গ্রিস। ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে দেশকে প্লাস্টিক দূষণ থেকে মুক্ত করার চিন্তা ভাবনা চলছে সেখানে। গ্রিসের পরিবেশ মন্ত্রী হাটজিডাকিসের কথায়, ”প্রতিদিন ৩৯ টন প্লাস্টিক সামগ্রী গ্রিসের সমুদ্রে মেশে।” ইউরোপিয়ান ইউনিয়ানের লক্ষ্যমাত্রা আগামি ২০২১ সালের জুলাইয়ের মধ্যে গোটা মহাদেশে সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা। এই ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নতুন আইন আনতে চলেছে গ্রিস। গত বছর গ্রিসের এজিয়ান সাগরের অন্তর্গত সিকিনোস দ্বীপে প্লাস্টিক স্ট্রয়ের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল কর্তৃপক্ষ।

ANAFI-beauty-shot-7.jpg

আর গ্রিস থেকে উড়িষ্যা যখন প্লাস্টিক নিয়ে যুঝে যাচ্ছে, তখন আমার আপনার নিত্যদিনের সঙ্গী মাদার ডেয়ারিও কিন্তু অন্যরকম কাজ করে দেখাল। উত্তর ভারতে রাবণ দহন বেশ জনপ্রিয়। ঠিক দশেরা নয়, তবে গান্ধি জয়ন্তীর কথা মাথায় রেখে প্লাস্টিকের প্যাকেট দিয়ে ২৫ ফুট লম্বা একটা রাবণ মূর্তি বানিয়েছিলেন তাঁরা। দিল্লি, গুরুগ্রাম, নয়ডা, ফরিদাবাদ, গাজিয়াবাদের প্রায় ৪০০০ পরিবারের কাছ থেকে এই প্লাস্টিক গুলি জোগাড় করা হয়। প্রদর্শনের পর যথারীতি প্লাস্টিক গুলি খুলে নেওয়া হয়।
দিল্লির মানুষরা কী ভাবছিলেন, দশ কাজে ব্যবহার করা যায় যাকে, সেই কোনদিন দশ মাথাওয়ালা ভিলেন হয়ে গেছে! মাদার ডেয়ারি কর্তৃপক্ষও তাই চান। সচেতনতা আসুক সবার আগে।

mother-dairy-builds-25-feet-plastic-ravan-does-909012.jpg

AddText_11-08-11.18.05.PNG

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 4 / 5. Vote count: 2

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

মোবাইল হ্যাং হয়ে যাচ্ছে? ঠিক করুন এই সহজ উপায়ে

4 (2) স্মার্টফোনের বাজারে প্রত্যেকদিন নতুন মোবাইল লঞ্চ করছে, নতুন ফিচারসের সাথে, এবং স্মার্টফোন নির্মাতারা দাবি করছেন, তাদের প্রোডাক্টটাই সবথেকে ভাল|কিন্তু এই অবস্থায় দাঁড়িয়েও আমরা স্মার্টফোন বিষয়ক একটি সমস্যায় নিত্যদিন জর্জরিত, এবং সেটি হল ফোন hang করা|তাহলে এর থেকে বাঁচার জন্য আমরা কি করতে পারি| 1. প্রথমেই বলা দরকার আপনার […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: