শ্রেণিকক্ষে বিজ্ঞানসম্মত বিজ্ঞান শিক্ষা চাই পর্ব- ২

@
5
(5)

WhatsApp Image 2019-11-25 at 12.07.15 PM.jpeg

এইসব সমস্যা থেকে উত্তরণের কিছু সমাধান ভেবে দেখা যেতে পারে –
প্রথমত, প্রতিটি বিদ্যালয়ে আবশ্যিক ভাবে একটি করে ছোট ল্যাব তৈরি করা, আমি এই ল্যাব বলতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের মত বিষয়ভিত্তিক বিজ্ঞানের ল্যাব-এর কথা বলছি না। বিশাল কিছু ভাবে এই ল্যাব বানানোর প্রয়োজন নেই। একটি ছোট্ট ঘর ব্যবহার করে সপ্তম থেকে দশম শ্ৰেণি পাঠ্যসূচি অন্তর্গত বিজ্ঞানের একক গুলি বুঝতে পারার জন্য সহযোগী উপকরণগুলি আলাদা আলাদা ভাবে টেবিলে সাজিয়ে রাখা। প্রয়োজনে বিজ্ঞানের ক্লাসটি সেখানে করা, সেটি সম্ভব নাহলে সপ্তাহে একদিন ওই ল্যাবে সারা সপ্তাহের পড়ানো বিষয়গুলি দেখানো ও তাদের নিজেদের করতে দেওয়া প্রয়োজন। এই সমগ্র পরিকল্পনাটি প্রতিটি বিদ্যালয়ে আবশ্যিকভাবে চালু হওয়া দরকার। একথা সকলেই মেনে নেবেন, চুম্বকের সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে একথা ছাত্ররা শুনে যতটা না বুঝবে তার থেকে বেশি বুঝবে চুম্বকের দুটি সমমেরু কাছাকাছি এনে বিকর্ষণ বল অনুভব করে। শুধু তাই নয় ছাত্রদের হাতে দুটি দন্ড চুম্বক তুলে দিলেই তারা নিজেরাই আকর্ষণ/বিকর্ষণ বুঝে নিতে পারবে, তাদের বলার দরকার হবে না। একই সাথে গড়ে উঠবে আবিষ্কার মানসিকতা।

WhatsApp Image 2019-11-25 at 12.07.16 PM.jpeg

দ্বিতীয়ত, এই উপরোক্ত পরিকল্পনাটি তখনই বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব যতক্ষণ না বাধ্যতামূলক ভাবে এই বিষয়ে মুল্যায়ণের বন্দোবস্ত করা যায়। প্রতিটি শ্রেণির জন্য আলাদা আলাদা করে আব্যশিক মূল্যায়ণ ব্যবস্থা করা হোক। এই মূল্যায়ণ ব্যবস্থাটি গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্ব বর্ণিত ব্যবস্থাটি ভাবাও যেতে পারে।

তৃতীয়ত, সব ক্ষেত্রেই যে বিজ্ঞানের ল্যাবের জন্য কৃত্রিম কিটস্ কিনতে হবে এমন কোনো বিষয় নয়, শিক্ষকদের নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে কিটস্ তৈরি করুক। প্রয়োজনে জেলায় সরকারি উদ্যোগে কর্মশালা হোক। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও নানা কিটস্ তৈরি করতে উৎসাহ দেওয়া হোক।

WhatsApp Image 2019-11-25 at 12.07.16 PM(1).jpeg

চতুর্থত, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিতি ঘটানো জরুরি। তাদের বোঝানো প্রয়োজন, বিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তক হল প্রকৃতির ক্ষুদ্র সংস্করণ। তাই তাদের পর্যবেক্ষণ শক্তি বাড়াতে ও প্রকৃতির নানা ঘটনাগুলির কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য উৎসাহ প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ পাঠ্যপুস্তক ও প্রকৃতির মেলবন্ধন ঘটাতে না পারলে পাঠদান অসম্পূর্ণ থাকবেই।

পঞ্চম তথা শেষ যেটি বলার তা হল শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে শেখানো।বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্নহীনতা একটি বড় ব্যাধি, তাদের যেটুকু বলা হয় তাই নিয়ে থাকে, তাদের মনে কোনো প্রশ্ন আসে না, আসলে প্রশ্ন করতে সাহসও পায় না। এটার কারণ আমরাই, “এই প্রশ্ন সিলেবাসের নয়”, “পরীক্ষায় আসবে না”, এসব নিরুৎসাহমূলক কথা বলে তাদের দমিয়ে দিই। প্রতিটি শিক্ষার্থীদের বলা উচিত নানা প্রাকৃতিক ঘটনাবলি নিষ্ঠা ভরে দেখো, তার কারণ খোঁজার চেষ্টা করো, না পারলে তা শ্রেণিকক্ষে আলোচনার জন্য রাখো। একথা মেনে নিতে অসুবিধা নেই যে পরোক্ষ জ্ঞানের চেয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান বেশি জরুরি। তাই শুধু শুনে বা বই থেকে যে জ্ঞান অর্জন করা হবে তাকে যতক্ষণ না যাচাই করা হচ্ছে ততক্ষণ অবধি সেটি অসম্পূর্ণ। আগেই বলেছি যাচাই করে গ্রহণ করা বিজ্ঞানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, আর এই যাচাই করার মানসিকতা তৈরি হবে বিজ্ঞানের ক্লাস থেকেই। বিজ্ঞান শিক্ষার পাশাপাশি তাদের বিজ্ঞান মানসিকতা তৈরি হওয়া খুব জরুরি।
আমাদের দেশে বিজ্ঞান মানসিকতার হাল কিরূপ, তা নানা ঘটনাপঞ্জি থেকেই পরিষ্কার। তাই বিজ্ঞান শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান মানসিকতার গড়ে তোলার ভীত তৈরি হোক না শ্রেণিকক্ষ থেকেই।

WhatsApp Image 2019-11-25 at 12.07.16 PM(2).jpeg

অনেকের মনে হতেই পারে এসব তত্ত্ব কথা খাতায় কলমেই ভালো, বাস্তবে প্রয়োগ বড় কঠিন। বিদ্যালয়গুলি নানাবিধ সমস্যায় সম্মুখীন, একদিকে পরিকাঠামোর অভাব, পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাব, পাঠদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের বোঝা, অন্যদিকে ছাত্রদের অনিয়মিত উপস্থিতি। এসব অস্বীকার করার ক্ষমতা আমার নেই, এসব কিছু মেনে নিয়েও বলতে হয় আমাদেরও মধ্যে রয়েছে সদিচ্ছার অভাব। সমস্যা তো থাকবেই, কিন্তু সমস্যাগুলি তুলে দিয়েই আমরা থেমে থাকব কেন! আসুন না এসব কিছু দূরে সরিয়ে বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে চলি।

AddText_11-08-11.10.55.PNG

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 5

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

কচু পাতার ফুল

5 (5) অত্যন্ত উচ্চ গলনাঙ্ক বিশিষ্ট ধাতুগুলিকে এককথায় বলা হয় রিফ্র্যাকক্টরি মেটাল। টাংস্টেন তেমনই একটি ধাতু। এর গলনাঙ্ক ৩৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। টাংস্টেন এবং এর নানান সংকর (alloy) বাল্বের ফিলামেন্ট ছাড়াও ধাতব উখো (file) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্ত এটি অত্যন্ত মূল্যবান। এর তুলনায় সিলিকন কার্বাইড অনেক সস্তা অথচ দুর্দান্ত ঘর্ষণক্ষমতা […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: