অজয় নাথের কক্ষপথে ৫ম দিন

@
5
(1)

গত সোমবার মালদা থেকে বাড়ি ফেরার পর বিভিন্ন কাজে এমনভাবে জড়িয়ে ছিলাম যে ফোন হাতে নিয়ে কিছু লেখার সময় পাইনি। একটি কাজ ছিল আমাদের ভদ্রেশ্বর ভ্রমণ আড্ডার বাৎসরিক পত্রিকা ভ্রমণ আড্ডার কিছু লেখার প্রুফ দেখা। গতকাল, রোববার, ছিল আমাদের একসাথে কয়েকজন মিলে প্রুফ দেখা। আগামী রবিবারেও হয়ত এভাবে প্রুফ দেখা হবে। এবার বাৎসরিক ভ্রমণ আড্ডার আসর বসবে চন্দননগর রবীন্দ্র ভবনে। ১৫ই ডিসেম্বর, মাসের ৩য় রবিবার। ভ্রমণ আড্ডা প্রকাশ হবে সেই দিন। প্রতি বছর তাই হয়। আমাদের রবিবারের প্রুফ দেখার একটি বড় আকর্ষণ দুপুরের ডিম্ভাত । গরম গরম ডিমের ঝোল আর গরম ভাত। গরম গরম ডিমের ঝোল ভাত খেতে যে কী ভালো লাগে তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। এবারের মেনু একটু আলাদা ছিল। গরম গরম ডাল ভাতের সাথে আলু চোখা অর্থাৎ মাখা আর ডিমের ওমলেট, সঙ্গে দ‌ই। শেষ পাতে যত খুশি খাও মোয়া।

এবার প্রুফ দেখতে গিয়ে একটি নুতন শব্দের সাথে পরিচয় হল –
“টিউলিপোম্যানিয়াক”। কথাটির উৎপত্তি হয়েছে সপ্তদশ শতকে। কথাটি এসেছে সপ্তদশ শতকে ডাচদের টিউলিপ ফুল প্রীতি ও তার জন্য অর্থনৈতিক উত্থান পতন থেকে। লেখক বাঙালির ভ্রমণ প্রীতি ও আমাদের পর্যটন ব্যবসার অর্থনীতির সথে সপ্তদশ শতাব্দীর ডাচদের অর্থনৈতিক উত্থান পতনের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন।

এ মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশ বেড়াতে যাব ঠিক করেছি। গত শনিবার দিনটি ব্যয় হয়েছে কলকাতা ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটতে। কলকাতা স্টেশনে টিকিট দেওয়া হয় বিকেল চারটে থেকে। নিজের টিকিট নিজেই কাটতে হয়। আমরা যে তিন জন মালদা গিয়েছিলাম সেই তিনজনই বাংলাদেশ যাব। তাই আমি আর মানিক গিয়েছিলাম ট্রেনে হাওড়া। সেখান থেকে লঞ্চে শোভাবাজার ঘাটে নেমে অটো ধরে গৌরি বাড়ি। আবার অটো পাল্টে গৌরি বাড়ি থেকে আর জি কর মেডিকেল কলেজ। বাকি পথ হেঁটে চারটা ত্রিশ মিনিটে কলকাতা স্টেশনে পৌঁছাই । বাপী বাইক নিয়ে গিয়েছিল বলে আমাদের অনেক আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। আধ ঘন্টার মধ্যে টিকিট কাটা হয়ে গেল। এবার আর আগের মত অটো লঞ্চের ঝামেলা না করে বাসে সোজা হাওড়া আসব বলে আর জি কর মেডিকেল কলেজের সামনে চলে এলাম। সামনেই বাবুঘাটগামী ফাঁকা বাস পেয়ে গেলাম তাই হাওড়া যাওয়ার বাসের জন্য অপেক্ষা না করে বাবুঘাটগামী বাসেই উঠে পড়লাম। বহুদিন পর বাসে চেপেছি কলকাতায়। বাস চলেছে সেন্ট্রাল এভিনিউ দিয়ে। মনে হল আমরা যাব বাংলাদেশ বেড়াতে অথচ আমি এত বছরেও কলকাতা শহর সেভাবে ঘুরে দেখিনি। সেন্ট্রাল এভিনিউএর দু’পাশেই কত কী দেখার ও জানার আছে। কিছু দূর চলার পর মানিক বলল সাইন বোর্ডে দেখলাম লেখা আছে হরি ঘোষ স্ট্রিট। আরি ব্যাস ইনি যে প্রবাদ প্রতিম মানুষ। তাঁর বাড়িকে বলা হত হরি ঘোষের গোয়াল। তাঁর জন্ম ১৭২০ সালে। ৮৬ বছর বয়সে ১৮০৬ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মুঙ্গেরের দেওয়ান ছিলেন। বাংলা, ইংরেজি ও ফার্সি ভাষায় তাঁর যথেষ্ট দখল ছিল। দেদার টাকা রোজগার করেছেন। গরিব ঘরের ছেলেদের জন্য নিজের বাড়িতে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতেন যাতে তারা ঠিকমতো লেখা পড়া করতে পারে। এই কারণেই তাঁর বাড়িকে গোয়াল বলা হত। (বাকিটা আগামীকাল)

আবহাওয়াবিদ অজয় নাথ

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

পিঁপড়ে ও অম্ল-ক্ষারের মজা।

5 (1) ক্লাসে প্রবেশ মাত্রই দেখি শিক্ষার্থীরা রীতিমত দু’দলে ভাগ হয়ে তর্ক বিতর্ক জুড়ে দিয়েছে। এত শোরগোলের কারণ জিজ্ঞেস করা মাত্র ক্লাসের মনিটর সবিস্তারে বর্ণনা দিতে শুরু করল। ঘটনা হল যে, দল বেঁধে স্কুলে আসার পথে তাদেরই এক সহপাঠীর পায়ে বেশ খানিকটা স্থান অনেকগুলি পিঁপড়ে কামড়ে দেয়, যথারীতি জ্বালা যন্ত্রণা […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: