আবহমান জীবনানন্দ দাশ

poribes news 1
4.2
(15)

বাংলা সাহিত্যের এই বিপুল সম্ভারে আমাদের চারপাশের বন্যপ্রাণ, বিশেষত পাখির অনুষঙ্গ নিয়ে লিখতে গিয়ে জীবননান্দ দাশকে কখনো উল্লেখ করিনি। আমার বাংলা কবিতা পড়া শুরু হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে। সামান্য যা কিছু লিখেছি মূলত সত্তর-আশি-নব্বই দশকের কিছু কবিদের নিয়ে। আরো আরো লেখার অবকাশ থেকে যায়। ছোটবেলায় পাঠ্যবইয়ে পড়া বাদ দিয়ে জীবনানন্দকে সেরকম ভাবে তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখা হয়নি অল্প বয়সে। হয়ত দুর্বোধ্য ঠেকত, হয়ত তার কবিতার জগতের কাছে আসতে আরো অনেক বোধ – আয়োজন দরকার ছিল। আমার সে চেতনা সেই বয়সে ছিল না। তবু বলব, জীবননান্দ ব্যতিরেকে বাংলা সাহিত্যে পাখির অনুষঙ্গ বিষয়ে চর্চা স্বাদহীন মিষ্টান্নের মত। কিন্তু সমস্যা অনেক। জীবননান্দ এমন এক কবি তার কবিতার পৃথিবীর কাছাকাছি আসতে বহুকালের কবিতা চর্চার প্রয়োজন। তার কবিতার ভাষা, শব্দপ্রয়োগ, তার জীবন, প্রাণবায়ু বেরোনোর আগে পর্যন্ত শতরকম ঝুটঝামেলা, তার লেখার বেপরোয়া সমালোচনা-ব্যঙ্গ, বরিশালের ছোটবেলা– সর্বানন্দ ভবন, তার পূর্বপুরুষদের গৌরবময় জীবন, ব্রাহ্মসমাজ, তৎকালীন পূর্ববঙ্গের প্রকৃতির যে গভীর বর্ণনা ইত্যাদি এত কিছু ধারণ করে আলাদা অর্থে পাখির অনুষঙ্গ ফুটিয়ে তোলা দূরূহ কাজ। তবে অবশ্যই লিখতে চাই। বয়স আরো বাড়ুক। তাকে আরো ভালো করে বুঝি। তারপর।

jibananda.jpg
আপাতত মনে হয় জীবনানন্দ মানুষটি আমার জন্মের পঁচিশ বছর আগে পৃথিবী থেকে চিরকালের জন্য চলে গেছেন। তাঁর এই বাংলা, আজ থেকে একশো বছর আগের বাংলা, আদতে পূর্ববঙ্গ, নদীনালার-জলকাদার দেশ বরিশাল, দেশভাগ, তার লেখার- ভাবচেতনার নিয়ত পরিবর্তন, তার কবিতায় ইতিহাস চেতনা – এত কিছু আমি কি ভাবে পড়ে শেষ করব। তার হৃদয়ের কাছাকাছি কি করে আমার বসত গড়ে তুলব! কত কে তাঁর জন্য, তাঁকে নিয়ে লিখেছেন। আমি তাকে নিয়ে কোথায় শুরু করব, কোথায়ই বা শেষ করব। প্রথম পোস্টিং নিয়ে শিলিগুড়ি যাওয়ার পর এক প্রকৃতি-প্রেমিক সহকর্মী আমাকে শুধু দার্জিলিং সংলগ্ন হিমালয়ের ম্যাপ দিয়ে বলেছিলেন – “আপনার পোস্টিং-এর পাঁচবছর এটুকু ঘুরে দেখার জন্য যথেষ্ট নয়, আরেকটা টার্ম থেকে যাবেন কিন্তু!” আমি প্রত্যেক সপ্তাহান্তে পাহাড়েরে আনাচে-কানাচে যেতাম। তাহলে সমগ্র হিমালয়ের জন্য? সেই কাশ্মীর থেকে অরুণাচল? তার উত্তর ছিল – “লোকে তো বলে পাঁচটা জন্ম লাগবে”। আজ এই বয়সে জীবনানন্দ নিয়ে বলতে কোনো অসুবিধা নেই যে তার সাহিত্য, হৃদয়, চেতনা অনুধাবন করতে বাদবাকি যতদিন এই পৃথিবীতে আছি – লাগবে। শর্ত – এই ক’বছরে অন্য কোনো প্রসঙ্গে অকাতরে জড়িয়ে পড়া যাবে না।

জীবনে কোনোদিন চোখধাঁধানো সাফল্য চাননি, দেখেনওনি। তার সময়ে বাংলার সমস্ত সাহিত্যজগত তাকে খুব উঁচুদরের কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ভাবতে অবাক লাগে জীবদ্দশায় তাঁর মাত্র ১৬২টি কবিতা মুদ্রিত হয়েছিল। তাতেই তিনি রবীন্দ্রোত্তর যুগে সবচেয়ে আলোচিত, প্রভাবশালী বাংলাভাষার কবি। মৃত্যুর পর তার সিংহভাগ উপন্যাস, গল্প ইত্যাদি মুদ্রিত হয়। কবি সজনীকান্ত দাস ‘শনিবারের চিঠি’-র প্রতিটি সংখ্যার তাকে নিয়ে ব্যাঙ্গ-ঠাট্টা করতেন। তবু নিয়মিত ‘শনিবারের চিঠি’ খুঁটিয়ে পড়তেন। নতুন লেখকদের লেখা পড়তেন। তার লেখার অন্তর্নিহিত বোধ জানান দেয় তিনি প্রচুর পড়তেন। নিজের পেশা তো ছিল খাপছাড়া ভাবে ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপনা। বিস্তর ইংরেজি সাহিত্য যে পড়বেন তা আর এমন কি! এছাড়াও পড়তেন নানা বিষয়ে। কেউ তার চিঠি পড়লে বুঝতে পারবেন বাংলা কবিতার মধ্যে তিনি বসবাস করতেন। অথচ ‘রবীন্দ্র-স্মৃতি পুরষ্কার’ পাওয়ার পর বাড়ির কাউকে বলেননি। স্মারকটি খাটের নীচে চালান করে দিয়েছিলেন। মেয়ে দেখতে পেয়ে পরিবারে জানাজানি হয়। বড় অদ্ভুত কবি তিনি। সভা-সমিতি এড়িয়ে গিয়েছেন বারবার। কবিতা লিখেছেন অথচ প্রকাশ করেননি। তার বিখ্যাত টিনের বাক্সে ঢুকিয়ে রেখে দিয়েছেন। বেশিরভাগ কবিতাতেই সাল-তারিখ স্থান উল্লেখ নেই। পত্রিকায় পাঠানো কবিতার ফাইনাল প্রুফ চলে যাওয়ার পরও শব্দ পরিবর্তন করেছেন, শিরোনাম পরিবর্তন করতে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। নিজেই বলেছেন যে তার কবিতা কিছুটা কুয়াশাচ্ছন্ন। তাঁর জীবন – প্রায় একশো বছর পর যেটুকু খুঁজে দেখেছি, কোথাও তার উচ্চগ্রামের প্রচার-আস্ফালন নেই। নীরব, নিভৃতে সৃষ্টির আনন্দে ডুবে থাকতে চেয়েছেন। শত যন্ত্রণায় বিদ্ধ হয়েও। এই অপার্থিব নির্মল হৃদয় এই সময়ে কীভাবে অর্জন করা সম্ভব যে তার কবিতা নিয়ে কিছু লিখব? পাখির অনুষঙ্গ তো কতদূরের ব্যাপার!
বাংলা কবিতার আজকের যে রূপ, গঠন, ভাষা – রবীন্দ্র যুগ পেরিয়ে সে আবহে প্রবেশ কিন্তু বেশিটাই জীবনানন্দের হাত ধরে ঘটেছিল। জীবননান্দের প্রিয় কবি-বন্ধু বুদ্ধদেব বসু যথার্থ লিখেছেন “ সমকালীন ও পরবর্তী কবিদের উপর তাঁর প্রভাব কোথাও-কোথাও এমন সূক্ষভাবে সফল হয়ে উঠেছে যে বাইরে থেকে হঠাৎ দেখে চেনা যায় না।“
‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ তে জীবনানন্দ লিখছেন –
“…তুমি শুধু একদিন, –এক রজনীর;
মানুষের –মানুষীর ভিড়
তোমারে ডাকিয়া লয় দূরে — কত দূরে!
কোন্‌ সমুদ্রের পারে, বনে – মাঠে – কিংবা যে-আকাশ জুড়ে
উল্কার আলেয়া শুধু ভাসে —
কিংবা যে আকাশে
কাস্তের মত বাঁকা চাঁদ
জেগে ওঠে — ডুবে যায় – তোমার প্রাণের সাধ
তাহাদের তরে;
যেখানে গাছের শাখা নড়ে
শীত রাতে – মড়ার হাতের শাদা হাতের মতন—
যেইখানে বন
আদিম রাত্রির ঘ্রাণ
বুকে লয়ে অন্ধকারে গাহিতেছে গান!—
…….”
খেয়াল করুন ‘বাঁকা চাঁদ/ জেগে ওঠে – ডুবে যায়” কথাটি। চাঁদ ওঠা ও ডুবে যাওয়ার মত শাশ্বত একটি ঘটনাকে লিখেছেন। তার মাঝখানের লোভনীয় চন্দ্রিমা দীর্ঘ হাইফেনে কি দক্ষতায় বিলীন করে দিয়েছেন। পরিবর্তে তার উর্ধে উঠে দেখতে চেয়েছেন পৃথিবীটাকে। আবহমানকে লিখেছেন ‘বার্ডস আই ভিউ’ থেকে। শুধু চন্দ্রিমায় ক্ষয়ে যাননি।

jibananda image.jpg

আজ যদি কবি জয় গোস্বামীকে পড়ি, একই আভাস তার ‘সূর্য-পোড়া ছাই’-এর একটি কবিতায় পেয়ে যাই।
“মা এসে দাঁড়ায়
জানালায়

নিম্নে স্রোত, নদী
জল থেকে লাফিয়ে উঠছে এক একটা আগুনজ্বলা সাপ
আমি সে-নদীর থেকে তুলে নিতে আসি
আমার শিকলবাঁধা বাঁশি

আকাশের উঁচু জানালায়
মা এসে দাঁড়ায়
সরে যায়।”
খেয়াল করুন ‘মা এসে দাঁড়ায়/ সরে যায়’ কথাটি। একেবারে শেষ পংক্তিতে প্রয়োগ করেছেন। মা এসে দাড়ানোর পরের যে ছবি, তার মুখ-মুখ ভঙ্গিমা, সযত্নে অনুচ্চারিত রেখেছেন এবং তার রেশ টেনে কবিতা শেষ করে দিয়েছেন। বাকিটা আপনার কবিতাযাপন।
কেন এই প্রভাব – আজ যখন বাংলা কবিতা পড়ি – কিছুটা উদ্ভ্রান্তের মত খুঁজি? আমি যে চাক্ষুষ করিনি তাঁকে। তিনি লিখছেন আর পত্র-পত্রিকায় টাটকা তাঁর লেখা পড়ছি এরকম তো হওয়ার নয়। তাকে টুকরো টুকরো কুড়িয়ে পাই আজকের কবিতায়। এইসব কবিতার সরণি বেয়ে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকি তাঁর “অন্তর্গত রক্তের ভিতরে”।

যে একটু হৃদয় দিয়ে জীবননান্দ পড়েছেন, একটু তার কবিতা উপন্যাস যাপন করেছেন, তার কাছে কবির কবিতা দুর্বোধ্য ঠেকলেও আমি নিশ্চিত এক অমোঘ টান আসবেই। হাজার সেমিকোলন, হাইফেন, কমা, দাঁড়ি পেরিয়ে, থেমে থেমে, সে যেন এক শান্তির, গভীর ধূসর জগতের মধ্যে চলে যাওয়া। যেন মহাকাশ থেকে – নক্ষত্ররাজির ভেতর থেকে পৃথিবীটাকে দেখছেন এক প্রাগৈতিহাসিক মানুষ। অপার সময়ের শাশ্বত রূপ তার জ্ঞান আর বোধের তালুবন্দি। কবির মৃত্যুশয্যায় যে নার্স তার সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিলেন সে জানতই না কাকে দেখভালের জন্য তাকে রাখা হয়েছে। কবি ও ডাক্তার ভূমেন্দ্র গুহ এবং তার ‘ময়ুখ’-এর বন্ধুরা তাকে কবির পরিচয় দেন সেইসাথে ‘বনলতা সেন’ পড়তে দেন। সেই নার্স সম্ভবত কালে ভাদ্রেও বাংলা কবিতা পড়েননি। কিছুদিন বাদে তিনি সটান ভূমেন্দ্র গুহর মেসে চলে আসেন। জানিয়ে দেন জীবনানন্দর পরিবার তাকে পয়সা কড়ি না দিলেও তার কাজ তিনি করে যাবেন। ‘বনলতা সেন’-এর ভেতর কি যেন এক টান আছে, সে কবিতা বোঝে না, তবু কি এক টান। তার স্রষ্টাকে এই দোমড়ানো-মোচড়ানো অবস্থায় ছেড়ে যাওয়া যায় না। ছেড়ে যানওনি। মৃত্যুর মুহূর্তেও তিনি ছিলেন।

‘বনলতা সেন’ – বলতেই মনে আসে তাঁর সবচেয়ে আলোচিত – এবং জনপ্রিয় – কবিতাগুলোর একটি ‘বনলতা সেন’। বাংলাদেশের সাহিত্যিক আবুল কালাম শামসুদ্দিন বরিশালের ব্রজমোহন কলেজে পড়বার সময়কার স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। তখন জীবনানন্দ ব্রজমোহন কলেজে ইংরেজি পড়ান। শামসুদ্দিন লিখছেন “’বনলতা সেন’ কবিতাটি আমরা যত্রতত্র মুখে মুখে আবৃত্তি করে বেড়াতুম।“ সেই অবসেশন আজকের কবিতা পাঠকদের মধ্যেও দেখতে পাই। স্বভাবতই পাঠকের মনে আগে আসে, কে এই ‘বনলতা সেন’? পাখির প্রসঙ্গ দূরে চলে যায়। সত্যি কি বনলতা সেন বলে কবির প্রথম জীবনে কেউ ছিল? এখানে বলব জীবনানন্দের একটি উপন্যাসের কথা। ‘কারুবাসনা’-র কথা। উনিশশো ত্রিশের প্রথমার্ধে লেখা হয়েছিল। আর পৃথিবীর আলো দেখেছিল কবির মৃত্যুর পর। যারা কারুবাসনা পড়েছেন তারা স্বীকার করবেন জীবনানন্দের প্রায় আত্মজীবনী এই উপন্যাস। এই উপন্যাস পড়া একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা হবে আজকের পাঠকের। ছত্রে ছত্রে লিপিবদ্ধ আছে অন্তঃসলিলা বিষাদ। উপন্যাসের গঠনটাও অন্যরকম। সে আলোচনা পরে হবে। এই উপন্যাসেই আছে ‘বনলতা সেন’ নামে সেই অবসেশনের উল্লেখ। তিনি কবির বরিশালের বাড়ির কাছেই থাকতেন। “সেই বনলতা – আমাদের পাশের বাড়িতে থাকতো সে।“ আমার মনের ভেতর জমে থাকা রহস্যের হাত থেকে নিস্তার পেতে, জীবনানন্দের বদলে বনলতা সেন কে খুঁজি। সিন্ধুসারস, করমোর‍্যান্ট, সোনালী ডানার চিল, হেমন্তের শালিক বনলতা সেনকে খুঁজে পেতে বলে। আমি পড়ি “কত শীতের ভোরের কুয়াশা ও রোদের সঙ্গে জড়িত খড়ের ঘরখানাও নেই তাদের আজ; বছর পনেরো আগে দেখেছি মানুষজন নেই, থমথমে দৃশ্য, লেবুফুল ফোটে, ঝরে যায়, হোগলার বেড়াগুলো উঁইয়ে খেয়ে ফেলেছে। চালের ওপর হেমন্তের বিকেলে শালিখ আর দাঁড়কাক এসে উদ্দেশ্যহীন কলরব করে। গভীর রাতে জ্যোৎস্নায় লক্ষীপেঁচা চুপ করে উড়ে আসে। খানিকটা খড় আর ধুলো ছড়িয়ে যায়। উঠোনের ধূসর মুখ জ্যোৎস্নার ভেতর দু-তিন মুহূর্ত ছটফট করে। তার পরেই বনধুঁধুল, মাকাল, বঁইচি ও হাতিশুঁড়ার অবগুন্ঠনের ভিতর নিজেকে হারিয়ে ফেলে।“ এবার খেয়াল করুন একটি লাইন। “লেবুফুল ফোটে, ঝরে যায়”। সেই আবহমান – তার সংসারের দুরত্বে থেকে বিষাদময় ধারাবাহিক বিবৃতি যেন। আছে তো শালিখ, দাঁড়কাকের প্রসঙ্গ। তা ব্যাতিরেকে হৃদয় যেন আবহমানকেই দেখে। এই অবসরে আমি না চাইলেও আমার পক্ষীপ্রেম বনলতামুখী হয়ে ওঠে। পাখিও আবহমান। বনলতাও যে চিরকালের! এসব আবছায়া সরিয়ে তার লেখায় কি করে শুধু পাখিদের দেখব?

সারা জীবন লেখা আর পড়ার মধ্যে মুক্তি চেয়েছেন জীবনানন্দ। বহু গল্প আর উপন্যাসে তার সেই বাসনা – ‘কারুবাসনা’ – পাখিদেরই নৈকট্যে – রয়ে গেছে। বারবার জীবন থেকে, কাছের মানুষ থেকে আঘাত পেয়েছেন। একটু লেখার নিভৃতি চেয়ে আজীবন ঘুরে মরেছেন। তবু তার নিঃস্বার্থ হৃদয় কাবু হয়ে পড়েনি, ট্রামে ধাক্কা খাওয়ার আগে পর্যন্ত। তাকে কীভাবে ব্যক্ত করব, যদি না বাকি যে কটা দিন আছে হাতে – গ্রামবাংলার বিশদে তাকে খুঁজি! তার হৃদয় অর্জন করি! পাখিদের মত আকাশ থেকে তাঁর পাণ্ডুলিপির রং-এ আবহমানকে দেখে যাই –
“কোথাও হয়তো কতগুলো পলাশ, অর্জুন গাছ, হিজল গাছ, উলুখড়ের জঙ্গল, মাছরাঙার ডানার শিরশিরানি, এমনই এক জায়গায়, ঘাসের নরম গন্ধের কাছে, প্রান্তরের এক টেরে বনের দেবতা অশ্বত্থ যেখানে অনেক দিন হইতে ছায়া রচনা করিয়া বাঁচিয়া আছেন, রাত্রি দিন শালিখ, বুলবুলি, কোকিল ও কাকের আশ্রয় দিয়া আসিতেছেন, সেইখানে খড়ের একখানা ঘর তুলিয়া পড়ি, লিখি, চুরুট ফুঁকি, দিন কাটাইয়া দেই –

লেখকঃ- সম্রাট সরকার

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.2 / 5. Vote count: 15

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

One thought on “আবহমান জীবনানন্দ দাশ

Leave a Reply

Next Post

পুডল জবা

4.2 (15) ফ্রেঞ্চ বার্বেট হল একটি লোমশ কুকুরের নাম। তাদের লম্বা লম্বা লোম এক কুশলী পন্থায় ছেঁটে অদ্ভুত সাজে সাজানো হয়। লোম ছাঁটা সেই কুকুরগুলিকে বলা হয় পুডল (Poodle). তার আবার শ্রেণী বিভাগ আছে, স্ট্যান্ডার্ড পুডল, মিনিয়েচার পুডল, টয় পুডল ইত্যাদি। একবার Calcutta Kennel Club-এ dog show দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: