উত্তরাখন্ডে পাখি দেখা

3.9
(27)

সে এক নির্জনতার মধ্যে এসে পড়লাম। চারিদিক পাহাড়ে পাহাড়ে ছয়লাপ হয়ে রয়েছে। নীলাভ-সবুজ পাহাড়। দু-একটির মাথায় শেষ বিকেলের সোনালি রোদ। মেঘ-বর্জিত নীল আকাশ। কোনো পাহাড়েই এক-দৃষ্টিতে বাড়িঘর চোখে পড়ে না। রাস্তার ধারে কিছুটা ফাঁকা জায়গায় যেখানে লটবহর নিয়ে নামলাম সেখানে একটি পুলিশের গাড়ি ও একটি ইলেকশনের গাড়ি রাখা। হালকা মনোরম ঠান্ডায় ড্রাইভার দুজনেই গভীর ঘুমের মধ্যে রয়েছেন। আমাদের গাড়ির আচমকা আযাচিত শব্দ, নতুন জায়গায় আসা-কেন্দ্রিক কলহ-কলরব তাদের নিদ্রার গভীরতা আতিক্রম করতে পারে না। রাস্তার একধারে বড় বড় পাথর, পাহাড় আকাশপানে অগ্রসর হয়েছে। উল্টো দিকে নিচুমত সমতল। খোপ খোপ করে চাষ হয়েছে। একটি পাকা বাড়ি জমির শেষে। বুঝতে আসুবিধা হয়না চাষের মালিকানা কার। বাড়িটার পেছন জুড়ে পাহাড়। এত উঁচু যে ঝাপসা হয়ে আসে। নিশ্চিত করা যায় বসতি এ তল্লাটে বিরল। সামনে অল্প নিচে তাকাতেই এক পাহাড়ি নদী সশব্দে বয়ে চলেছে পশ্চিম দিকে। রাস্তাটা নদীর ধারে এসে শেষ। দু-একটি টিনের দোকান। বলা-বাহুল্য বন্ধ। নির্জন পাহাড়ি অঞ্চলে দোকানের উচ্ছ্বাস দুপুরের মধ্যেই প্রশমিত হয়ে আসে। দেখেছি আলো নরম হতেই দোকানদার বিষাদগ্রস্থ হন এবং পলায়নপর হয়ে ওঠেন। তবে গাড়ি দুটি দেখলে বোঝা যায় উত্তারাখন্ডের এই গ্রামটিতে পঞ্চায়েত নির্বাচন এগিয়ে এসেছে। বাড়িআমার কৌতূহল হয় কোথায়, মানুষ কোথায়, যে ভোট দেবে? আমাদের ড্রাইভার সহ আমরা চারজন। পুত্রকে বাদ দিলে মাথা-পিছু দুটি করে ফোন। কোনোটাতে মহার্ঘ্য নেটওয়ার্ক নেই। তাই এরপর আমাদের গন্তব্য কোথায় তা জানার উপায় নেই। যে বন্ধু এইসবের বন্দোবস্ত করে দিয়েছিল তার নির্দেশ ছিল নদীর ধারে নেমে তাকে যেন ফোন করা হয়। সেই মোতাবেক ফোন করতে গিয়ে দেখি আমরা নেটওয়ার্কের বাইরে। সেও হয়ত জানত না। সরকারি গাড়ি-দুটির ড্রাইভারদের যৌথ ঘুম ভাঙাবো কিনা ভাবছি। আমাদের ধূলো-বালি-পাথরের ওপর রাখা লাগেজের হাতলের ওপর একটি পাখি এসে বসেছে। খুব বেশি হলে ছ’ফুট দূরে হবে। গ্রে-বুশচ্যাট।

মনে আছে মানস জাতীয় উদ্যানে পাখিটার ছবি তোলার পর লজে এসে এক জাপানি সহ-পর্যটককে দেখাই। তাঁর কাছে গ্রে-বুশচ্যাট প্রচন্ড মূল্যবান পাখি। আমি জনতাম না। উনি পাগলপ্রায় হয়ে উঠলেন গ্রে-বুশচ্যাট দেখবেন বলে। আমার সঙ্গে হন্যে হয়ে দুদিন ঘুরে বেড়ালেন, দেখলেন। বাঘ, লেপার্ড, ফ্লোরিকান তফাতে পড়ে রইলো। গ্রে-বুশচ্যাটে মেতে থাকলেন। মন মত ছবি হল না। শেষমেশ আমার চিপ থেকে ছবিটা প্রায় কেড়ে নিয়ে টোকিও উড়ে গেলেন। সামান্য পাখি। হিমালয় ও হিমালয়ের পাদদেশে আকচার দেখা যায়। তবে বুঝলাম ‘মূল্যবান’ শব্দটি চরমতম আপেক্ষিক। অতএব কোন মানুষের কাছে কী মূল্যবান হয়ে উঠবে বলা মুশকিল। মানসের কথা ভাবতে ভাবতে একটু আনমনা হয়ে পড়েছিলাম। মনোজ-ভাই ডাকছেন। লোহার সাঁকোটা পেরোলে বাঁ-দিকে একটা সরু রাস্তা চলে গেছে ঘন জঙ্গলের ভেতর। সাত-আটটা টেন্ট দেখা যাচ্ছে। ওটাই হবে হয়ত। সাঁকোর ওধারেই একটি দোকান এবং বন্ধ। চাতালে বেশ কতগুলো বাইক রাখা। মনোজের কাছে শুনলাম ওপরে যাদের বাড়ি আছে তাদের বাইক। বাড়ি অবধি তোলা যাবে না। বাইকগুলো তাই এখানেই দিন-রাত রাখা থাকে। মালিকেরা দোকান অবধি নেমে এসে বাইক নিয়ে নৈনিতাল চলে যান।

ঝোপঝাড়ের ভেতর কোনো মতে একটি পথ তৈরি করা হয়েছে। ঝোপজঙ্গল খুব বেশি তছনছ করা হয়নি দেখলে বোঝা যায়। ঘন জঙ্গলটি পেরোলেই বাঁ-দিকে বাঁশের তৈরি রান্নাঘর চোখে পড়ে। টিনের চাল। সামনে বেশ খানিকটা ফাঁকা জায়গা। তার মধ্যে কিছুটা ঠাসাঠাসি করেই টেন্ট ফেলা। ছয়-সাতটা তো হবেই। নিস্তব্ধ বিকেল-সন্ধ্যের সন্ধিক্ষণে পাখির ডাক ছাড়া কিছু শোনা যায় না। পোষা কুকুরটিও বিনা শব্দব্যয়ে আমাদের শুঁকে নিয়ে নিশ্চিত হয়ে শুয়ে পড়েছে উনুনের পাশে। নদীর জলের শব্দ বেশ জোরে কানে আসে। কোনো টেন্টে লোকজন নেই। নতুন বার্ডিং ক্যাম্প এই অঞ্চলে। বুকিং তেমন নেই। এখানেই আমারা পাখি দেখতে এসেছি পুজোর ছুটিতে। গ্রামের নামটি ‘জখ’। থাকব দু-দিন।

উত্তরাখন্ডে পাখি দেখা

ক্যাম্পের মালিক শাদাব নৈনিতালের মানুষ। সবে তিরিশ ছুঁয়েছে। স্বচ্ছল পরিবারের ছেলে, শিক্ষিত। পারিবারিক ব্যাবসা আছে। নিজে কর্পোরেটে চাকরি করত। রাশিয়াতে থাকাকালীন এক রুশ তরুনীর প্রেমে পড়ে। বিয়ে করে চাকরি ছেড়ে সোজা দেশে। তারপর এই নির্জনতায় একটুকরো জমি লিজে নিয়ে ক্যাম্প তৈরি করেছে। দু’বছর হল। সে গর্বের সঙ্গে বলে যায় গোটা পঞ্চাশেক বৃক্ষচ্ছেদন করতে হয়েছে ক্যাম্প সাইট বানাতে। এই হল আমাদের প্রকৃতির কাছাকাছি আসার গল্প। জানতে গেলে, দেখতে গেলে, থাকতে গেলে, স্থায়ী দখলদারি গড়ে তুলতে হয়। পঞ্চাশটি গাছ – সেই সাথে ঝোপঝাড় শতাধিক পাখি, প্রজাপতি, পোকামাকড় আরো কতশত প্রাণের বসতি ছিল তো। অস্বীকার করি কি করে! আমিও তো তাহলে তাদের এই উচ্ছেদের শরিক। দুদন্ড দম ফেলতে এসেছি বনজঙ্গলে। ভাবি আদৌ – কোনো মানব সন্তান – পরিবেশ রক্ষার কথা বলার যোগ্য?আমার আপনার সকলের বাড়িটিতো এই উচ্ছেদের ফসল, “বিবর্ণ সন্তান”। এসব ভাবলে পাখি দেখার উত্তেজনা মিইয়ে যাবে। অতএব চারপাশ ঘুরে দেখি। একটু একটু করে ট্যুরিষ্ট পাচ্ছে শাদাব। নিজেই এগিয়ে এসে পরিচয় করল। একটা টেন্টে তার নিজের সংসার – দু’বছরের ছোট্ট মেয়ে আর রাশিয়ান বউ নিয়ে। অনর্গল ইংরেজি, হিন্দি আর রুশ ভাষায় কথা বলতে পারে। শাদাবের স্ত্রী ততটাই নির্বাক। আমি তাঁর কন্ঠস্বর একবার কি দুবার শুনেছি।

শাদাব খুব খুশি আমাদের সঙ্গে দশ বছরের পুত্রকে নিয়ে এসেছি বলে। সচরাচর এখানে লোকে একা বা পরিবার-বর্জিত হয়ে আসে। অনেকে বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে আসে। ডাইনিং-এর গায়ে গোটাগোটা হরফে লিখেছে “আপনার পার্টনারের সঙ্গে আপনার কী সম্পর্ক তা জানতে আমরা মোটেও আগ্রহী নই।“ টেন্টে অ্যাটাচ টয়লেট নেই একটু দূরে জঙ্গলের গায়ে পাঁচটা ‘টয়লেট-কাম-বাথরুম’ একসাথে। টেন্টের ভেতর দুটো সাদামাটা চৌকি ছাড়া কিছু নেই। আমাদের তিনজনের জন্য তাই স্পেশাল বন্দোবস্ত। টেন্টের মেঝেতে দুটো তোষক দিয়ে আমার ভূমিশয্যা তৈরি করে দিল শাদাব।

উত্তরাখন্ডে পাখি দেখা
টেন্টের আন্দরমহলে

বেশ কিছুদিন পর শাদাব পাখি দেখার লোক পেয়েছে। তার আক্ষেপ যে দিল্লি-নয়ডা অঞ্চলের জুলফি-বিহীন, দাড়িশোভিত নব্য কস্‌মোপলিটান যুবারাই তার গত দুবছর যা ব্যাবসা দিয়েছে। নামেই তার বার্ডিং ক্যাম্প। সেই যুবক ট্যুরিষ্টগণ একরাতের বেশি থাকেননা। কারণ তাদের ছুটিই সপ্তাহে একদিনের। তারা বারো ঘন্টার এলিট শ্রমিক। ক্যাম্পে আসলেও প্রকৃতির এই স্থির নিস্তব্ধতা কিছুই তারা অনুভব করেননা, দেখতে পাননা, কেননা মদ এবং আনুষাঙ্গিক নেশার বস্তু ক্যাম্পে আসার কিছুক্ষনের মধ্যেই তাদের জিম-চর্চিত দেহগুলিকে অনুভূমিক করে ফেলে। বেশিরাতে চ্যাংদোলা করে টেন্টে ঢোকাতে হয়। সূর্য ডুবতেই আগুন জ্বালিয়ে উচ্চগ্রামে মোবাইল বাজিয়ে ডিস্কোথেক বসে। শহরের পাব-এর হুল্লোড় শান্ত প্রকৃতির কোলে আমদানি করে। শাদাবের আপত্তিতে সেই যুবারা ক্ষেপে যায়। তারা আর ফেরত আসে না। দিল্লি-নয়ডা-আগ্রা এই সব অঞ্চলের যুবকদের ওপর তাই শাদাবের খুব রাগ। বুকিং দিতে চায়না। এমতাবস্থায়, এই অজ পাহাড়ি গ্রামে, সুদুর কলকাতা থেকে গেছি বলে শাদাব প্রচন্ড খুশি। সে আমাদের সঙ্গে সপরিবারে ডিনার করতে চায়। একটা ছেলেকে সঙ্গে দিয়ে দিতে চায় পরদিন ভোরবেলা পাখি দেখার রাস্তা চেনাতে। কথাও দিয়ে দিল যে শেষ রাতে আমাদের নিজে হাতে বারবিকিউ বানিয়ে খাওয়াবে বলে।

পাখি আমি একলা দেখতেই বেশি পছন্দ করি। সম্পর্কিত হয়ে যেতে সুবিধা হয়। ভালো ভাবে দেখার বা ছবি তোলার জেদ, ঝোঁক নিজের একান্ত সেই সম্পর্ক থেকেই উঠে আসে। যার বিচার বা নিঃসৃত আনন্দ শুধু নিজের। আমার শিল্পীসত্ত্বা সেই নিভৃত, অনুচ্চারিত-আনন্দটুকু পেয়ে সুখী হয়। আমাকে হাত ধরে পাহাড়ি রাস্তায়, গাছপালায় মিশিয়ে দেয়। শাদাবের পাঠানো ছেলেটিকে সবিনয়ে ফিরিয়ে দিই। উপরে উঠে যাই। প্রচুর লাফিংথ্রাশের ডাক ভেসে আসে। দূরে পাহাড়ের ঢালে দেখি একদল হোয়াইট ক্রেস্টেড লাফিংথ্রাস। শুধু লাফিংথ্রাশ? হাজার পাখির ডাক। একটু নিচে ভোরের জমানো ঠান্ডায় গ্রে-হুডেড ওয়ার্বলার ঝোপের মধ্যে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে।

উত্তরাখন্ডে পাখি দেখা
গ্রে-হুডেড ওয়ার্বলার

ব্ল্যাক-হেডেড জে-দের একটা দল উড়ে এসে একেবারে কাছের গাছগুলোতে বসে পড়ল। আমি ওদের প্রথম দেখছি। মানে বার্ড-ওয়াচারদের ভাষায় ‘লাইফার’। তাই আহ্লাদের শেষ নেই।

উত্তরাখন্ডে পাখি দেখা
ব্ল্যাক-হেডেড জে

চারপাশে এত উঁচু পাহাড় যে এই জায়গাটায় রোদ্দুর আসেনি। আমি পথ ধরে এগিয়ে যেতে থাকি। সামনেই একটা পাকা বাড়ি। একটাই বাড়ি। গৃহকর্তা অনেকক্ষণ ধরে আমাকে দেখছেন। ছবি তুলছি। কী ব্যাপার – এতো বড় এটা ক্যামেরা না দূরবিন – অচেনা উটকো লোক বাড়ির কাছে সাতসকালে ইলেকশনের সময় দূরবিন নিয়ে কেন – এসব কোনো প্রশ্ন, হাঁকডাক নেই। বাড়ির সামনের একচিলতে উঠোনের মধ্যে গরু, ভেড়া মুরগি। তার মধ্যে আমাকে ডেকে হাসিমুখে দেখিয়ে দিলেন নীচে নদীর দিকে নেমে যাওয়ার পথ। বলে দিলেন নদীর ধারে অনেক পাখি। আমি নদীর ধারে নেমে আসতেই পায়ের শব্দে কোনো ফর্কটেইল উড়ে গেল। ভদ্রলোকের কথা যে এভাবে মিলে যাবে ভাবিনি। শয়ে শয়ে স্লেটি-হেডেড প্যারাকিট উড়ে উড়ে এপাহাড় থেকে ওপাহাড়ে মিশে যাচ্ছে, ডাকছে। গাছের উঁচু ডালে বসছে আবার পরক্ষণেই সিদ্ধান্ত বদলে ঝাঁক ধরে উড়ে যাচ্ছে। রাস্টি-চিকড্‌ স্কিমিচার ব্যাবলার উঁকি দিচ্ছে ঝোপের আড়ালে। নদীর ওপারে ল্যান্টানা ঝোপে ভেসে উঠল প্রচন্ড লাজুক চেষ্টনাট-ক্রাউনড্‌ লাফিংথ্রাশ।

উত্তরাখন্ডে পাখি দেখা
চেষ্টনাট-ক্রাউনড্‌ লাফিংথ্রাশ

নদীর জলে তাকাতেই দেখি এক ভার্ডিটার ফ্লাইক্যাচার নির্ভয়ে আমার থেকে দশ ফুট দুরত্বে বরফ-ঠান্ডা জলে ভোরবেলার স্নান সেরে ফেলছে। এই কন্‌কনে ঠান্ডায় সে কেনোই বা স্নান করছে কে যানে। পাখিদের রহস্যের শেষ নেই।

উত্তরাখন্ডে পাখি দেখা
ভার্ডিটার ফ্লাইক্যাচার

ব্রেকফাস্টের সময় হয়ে আসছে। ফিরতে ফিরতে প্রচুর স্লেটি-হেডেড প্যারাকিট দেখলাম।

উত্তরাখন্ডে পাখি দেখা
স্লেটি-হেডেড প্যারাকিট

ক্যাম্পে ফিরে এসে শাদাবকে ছবিগুলো দেখালাম। সে হতবাক এত পাখি আছে ওপরে – নদীর ধারে! তার কর্মচারীদের ডেকে দেখায়। সব ব্যাপারে বেশি করে আন্তরিক হয়ে পড়ে। বিকেলে কিছুদূরে সাততাল লেক বেড়াতে গেলাম। বোটিং হল বিস্তর। পাখি দেখার বিখ্যাত ট্রেইল আছে একটা। হাঁটলাম। ছবি তোলার ইচ্ছে খুব একটা ছিল না। ছিল তাড়াহুড়ো। আকাশের অবস্থা ভালো না। টেন্টে ফিরতে হবে। অত্যন্ত ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে সরু রাস্তা। জোঁক আছে। পাহাড়ের গায়ের ক্লাইম্বিং-এর ট্রেনিং চলছে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে।

পরের দিনটা কিভাবে পাখি দেখতে দেখতে কেটে গেলো জানিনা। ভোরবেলা একদল ব্লু-ম্যাগপাই টেন্টের রান্নাঘর তল্লাশিতে এসেছে। এঁটোকাঁটা মিলতে পারে জানে। আর জানে মানিয়ে নিতে – উচ্ছেদের পরেও বেঁচে থাকার জন্য নিগোশিয়েট করতে। সেই খাবারের লোভে ভোরের অন্ধকারে এসেছে একদল হোয়াইট ক্রেস্টেড লাফিংথ্রাস।

উত্তরাখন্ডে পাখি দেখা
হোয়াইট ক্রেস্টেড লাফিংথ্রাস

ব্রেকফাস্টের পর দুটো নতুন ট্রেইল দিয়ে হাঁটলাম। দেখলাম ব্ল্যাক-চিনড্‌ ব্যাবলার।

রাতে শাদাব কথা রেখেছিল। তার হতের বারবিকিউ খুব সুন্দর। প্রকৃতির প্রধান দোষ মায়ায় বেঁধে ফেলে। মায়ায় জড়িয়ে নেয় মানুষও। শাদাব আর তার টেন্ট-সংসার। ফিরে আসা হয় না কোথাও। স্মৃতি বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় এবং টপকে যেতে হয়। না হলে নতুনকে দেখব কি করে। লটবহর নিয়ে আবার ব্রিজ পেরিয়ে ফাঁকা জায়গাটায় এসেছি। প্রথম দিনের সেই বাড়িটির মালিক ও তার ছেলে তিনটে গরু নিয়ে নেমে এসেছে। উল্টো দিকের পাহাড়ে গরু বেঁধে আসবে। এ পাথর, সে পাথর ভেঙে অনায়াসে উপরে উঠে যাচ্ছে। হাত নাড়ছে। এই পাহাড়টা পেরোলে একটা গ্রাম আছে। সন্ধ্যায় রামলীলা হবে সেখানে। সেই গ্রামে তাদের আত্মীয় আছে। রামলীলা দেখে গরু নিয়ে ফিরতে রাত। আর দেখা হবে না হয়তো এজীবনে। এইসব মায়া টপকে যেতে হয়। মুখ ফিরিয়ে গাড়িতে লাগেজ তোলায় মন দিই। নতুন গন্তব্য পাংগট। নৈনিতাল থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে।… (চলবে)

উত্তরাখন্ডে পাখি দেখা
হিমালয়ান বুলবুল

চলবে…

লেখা ও ছবি – সম্রাট সরকার

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 3.9 / 5. Vote count: 27

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

শালগ্রাম শিলা - বুজরুকি ও বিজ্ঞান

shalgram-shila

error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: