কাছে দূরে অচিনপুরে (ভ্রমন গাইড)

মংপু

“ঘন ছায়াচ্ছন্ন পথ দিয়ে মেঘ কুয়াশার রাজ্য ছড়িয়ে মংপুতে যখন নামলুম তখন রােদ। চারিদিকের ধোঁয়া সবুজের উপর ঝিলমিল করছে। শেষ বেলাকার রােদের সুন্দর হাসি।”– মংপুতে পা দিয়ে রবীন্দ্রনাথের অনুভূতি।
হয়তাে একথা সত্যি রবীন্দ্রনাথ যেদিন প্রথম এসেছিলেন সে দিনের গাছগুলি ছিল আরাে নিবিড়, প্রকৃতি ছিল অরণ্যবেষ্টিত। সেদিনের রবীন্দ্রনাথের কাছে আজকের ছবি হয়তাে অসহনীয় কিন্তু রবীন্দ্রনাথময় মংপু। তাই মধুর মধু মংপু। না হয় লাগলাে তাতে নাগরিক ছোঁয়া।
কাছে দূরে অচিনপুরে (ভ্রমন গাইড)
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি শহরের নিরিখে মংপুর কৌলিন্য বা পর্যটক আকর্ষণী ক্ষমতা তেমন উল্লেখযােগ্য নয়। শিলিগুড়ি থেকে শুধুমাত্র রবীন্দ্র অনুরাগী কিছু মানুষ নিজ প্রচেষ্টায় গাড়ি ভাড়া করে আসেন রবীন্দ্র স্মৃতিধন্য এই শহরে। অথচ মংপুর অরণ্য নিসর্গ, সবুজ পাহাড়ি ঢলে ছবির মত ছােট ছােট ঘর,বাড়ি, মংপুর রঙবাহারী ফুল এবং সর্বোপরি তার নির্জনতা যে কোন পর্যটক প্রিয় পাহাড়ি অঞ্চলের সমতুল্য। কিন্তু মংপুকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তােলার কোনও প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়নি। রবীন্দ্রনাথের বড় প্রিয় ছিল উত্তরবঙ্গের এই মংপু। তিনি ১৯৩৮ থেকে ১৯৪০-এর মধ্যে চারবার ছুটি কাটাতে এসেছেন মংপুতে। চতুর্থবারের তিনি কিছু জিনিসপত্রও রেখে গিয়েছিলেন আবার আসবেন বলে, কিন্তু আর আসা হয়নি।
মংপুর রবীন্দ্র সংগ্রহশালা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সাধারণভাবেখােলা থাকে। সিঙ্কোনা ফ্যাক্টরীর ঠিক পাশেই সুন্দর পাহাড়ে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে এর অবস্থান। সামনেই সবুজ ঘাসের লন। চতুর্দিকে সাজানাে পাহাড়ি ফুল। লন পেরিয়ে সামনেই বিশাল বারান্দা। ঐ বারান্দাতেই একটি আরাম কেদারায় সাদা চাদরের উপর বিশ্বকবির ছবি। সামনে সাজানাে কিছু ফুল, সুগন্ধী ধূপ। রবীন্দ্র অনুরাগী নেপালি কেয়ারটেকার শ্রী রাউতের পর্যটকদের কবির ছবির সামনে নিয়ে যাওয়া, দুচার কথার পর পাশের ঘরে চিঠিপত্র দেখানাে তার সময়কাল বর্ণনা,কখনও চোখ বুজে নীচুস্বরে দু’চার কলি রবীন্দ্র কবিতা আবৃত্তি। কাচের মধ্যে সাজানাে চিঠির দুচার পংক্তি পড়ে শােনানাে অদ্ভুত মানুষ শ্ৰী শিশির রাউত। রবীন্দ্রনাথ মংপুর প্রাকৃতিক নিসর্গের পাশাপাশি এ অঞ্চলকে স্বাস্থ্যোদ্ধারের সর্বোত্তম স্থান বলেও বিবেচনা করতেন। আজও রয়েছে কবির ব্যবহৃত খাটটি।সেটি আধশােয়া বা শােয়া দু অবস্থাতেই ব্যবহার করা যেত। রয়েছে অসংখ্য আলােকচিত্র, পাণ্ডুলিপির প্রতিচিত্র – সেগুলি মংপুতে বসেই লেখা।তবে সব কিছুর ওপরে মংপু রবীতীর্থ। পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্রগুলি ঘুরে মংপুতে এক রাত কাটিয়ে যাওয়া এক বিশেষ প্রাপ্তি। কবির কথায় বিদায় বেলার পথে অবশ্যই মনে পড়বে তােমাদের এই বনটি কিন্তু অপূর্ব। লম্বা লম্বা গাছ উর্ধ্বমুখে দাঁড়িয়ে আছে। নিচে ঘন ছায়ায় কালাে কালাে অন্ধকার। একেই তাে বলে অরণ্য। সেই অরণ্যেও ম্লান রােদুর অসংখ্য আলােছায়ার ছবি আঁকছে গাছের তলায় তলায়। সােজা সােজা দীর্ঘ গাছের শ্রেণি উৰ্দ্ধমুখে উঠেছে, আলাের প্রত্যাশী আমাদের মতই।
কাছে দূরে অচিনপুরে (ভ্রমন গাইড)
কীভাবে যাবেন ?
শিলিগুড়ি থেকে রম্ভি হয়ে মংপু যাওয়ার জিপ সার্ভিস আছে। সময় লাগে ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টা।
আবার দার্জিলিং জিপ স্ট্যান্ড থেকেও মংপু পৌছানাের জিপ সার্ভিস রয়েছে দুপুরের দিকে।
কোথায় থাকবেন?
মংপুতে পি.ডব্লু.ডি বাংলাে আছে।
কাছে দূরে অচিনপুরে (ভ্রমন গাইড)
এছাড়া সম্প্রতি বাজারের কাছে একটি দু’কামরার প্রাইভেট লজ চালু হয়েছে।
যােগাযােগ – শুকদেব লামা, মােঃ ৯৭৩৩০০৭৯৬৩।
লেখক – প্রবীর বসু

Leave a Reply

%d bloggers like this: