টাকি ভ্রমন

0
(0)

টাকি ভ্রমন

ইছামতির পাড়ে টাকি। আকাশে যখন মেঘের ঘনঘটা, অহরহ রােদ-বৃষ্টির খেলা। ভ্রমণ উপযােগী জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘরের কাছে টাকি ভ্রমণ সেক্ষেত্রে অনন্য। টাকি অতিথি নিবাসের অবস্থানটি মনােরম। বর্ষার ঘনঘটায় টাকি। মিউনিসিপ্যালিটি লজ (নৃপেন্দ্র অতিথিশালার)-এর নদীমুখী দোতলা বা তিনতলার সামনের দুটি ঘর লা-জবাব। নদীর কোলেই বাংলােটির অবস্থান হওয়াই সর্বক্ষণ বিশুদ্ধ বাতাস। যা শরীর মনে নিয়ে আসে এক অনাবিল শান্তি। চেয়ার টেনে নদীর দিকে চেয়ে সহজেই কাটিয়ে দেওয়া যায় অখণ্ড অবসর। টাকি খুবই পুরাতন শহর। শিল্প-সংস্কৃতির পীঠস্থান। অতীতে বেশকিছু প্রবল পরিক্রমশালী জমিদার এই অঞ্চলে বসবাস করতেন। ফলে সর্বত্র পুরাতনী ছাপ । থাকলেও শিক্ষা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে টাকি জেলা বেশ পরিচিত নাম। টাকি ভ্রমণে লঞ্চ বা ভটভটিতে মনােরম নৌ ভ্রমণ ছাড়াও স্থলপথে ভ্যান বা রিক্সাতে ঘণ্টা তিনেকের সফরে ঘরে আসা যায় শঙ্কর রায়চৌধুরী (প্রাক্তন সেনাপ্রধান) এর পারিবারিক এস্টেট। যা সত্যিই দর্শনীয়। এছাড়া সুন্দরবনের আদলে গাছালিতে ভরা জল-জঙ্গলের মাঝে তৈরি এক সুন্দর বনানী। ভালাে লাগে, চেনা যায় সুন্দরবনকে একটু দূর থেকে। সুন্দরী, গরান, গেওয়ার সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়। সন্ধ্যায় টাকি রামকৃষ্ণ মিশনের সুসজ্জিত ভাবগম্ভীর পরিবেশের সন্ধ্যা আরতি এক বিশেষ স্তরে মনকে টেনে নিয়ে যায়। এছাড়া দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের দিন টাকির এই ইছামতীর পাড় হয়ে ওঠে দুই বঙ্গের মিলন উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। নদীর মাঝে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের মাঝেই কিছু সময়ের জন্য এপার বাংলা-ওপার বাংলার বন্ধন ঘুচে যায়। পারাপারে থাকে না নিষেধ। তবে বর্ষায় টাকি ভ্রমণে নদীপাড়ের পৌর প্রতিষ্ঠানের সামনের দুটি ঘর কিন্তু চাই-ই-চাই।
টাকি ভ্রমন
কিভাবে যাবেন?
শিয়ালদহ স্টেশন থেকে বারাসাত জংশন হয়ে হাসনাবাদের পথে টাকি রােড স্টেশন। প্রায় ২ ঘণ্টার পথ। বাবুঘাট থেকে প্রচুর বাসও যায় টাকির পথে।
কোথায় থাকবেন?
যােগাযােগ ও নৃপেন্দ্র অতিথিশালা ও ফোন (০৩২১৭) ২৩৩২৩৮, বেসরকারি সুহাসিনী গেস্ট হাউস:- (০৩২১৭) ৩২৫৪৯৩।
কাছে দূরে অচিনপুরে (ভ্রমন গাইড)
লেখক – প্রবীর বসু

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

ধ্বংসের কবলে অরণ্য সম্পদ

0 (0)   ছয়শাে কোটি গাছ প্রতি বছর কেটে ফেলা হচ্ছে। পৃথিবীর যেকোনো দেশের সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশ অরণ্য সম্পদ থাকা প্রয়ােজন। ভারতে অরণ্যের পরিমাণ ২২.৮ শতাংশ। যদিও পৃথিবীর বহুদেশের চেয়ে অনেক বেশী। বিগত বেশ কয়েক বছরের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে অরণ্য সম্পদ তথা বনাঞ্চল […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: