১০০০ কোটি মানুষের পুষ্টি যোগাতে পারবে

poribes news
3.4
(5)

ফোরবস ম্যাগাজিন বলছে ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর জনসংখ্যা ১০০০ কোটি হয়ে যাবে। আর ইউনাইটেড নেশনস বলছে খাদ্য উৎপাদন ৭০ শতাংশ না বাড়ালে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দেওয়া সম্ভব হবে না। তাছাড়া শুধু খাদ্য যোগালেই তো হবে না। খাদ্যে যথাযথ পুষ্টিগুণ না থাকলে শরীরের সঠিক বৃদ্ধি হবে কী করে?

al1

 

১০০০ কোটি লোকের খাদ্য যোগাতে হলে কি করতে হবে? আরও জঙ্গল কাটতে হবে; সেখানে হবে চাষের জমি, পশুপালন পশুচারণ ভূমি। তাতেও কুলাবে না। তারপর আছে সেচের জন্য মিষ্টি জল; মাটির উপরের বা নিচের জল যাই হোক না কেন! এইভাবে মিষ্টি জলও শেষ! নোনা জলে তো আর ফসল চাষ হয় না!

তবে নোনা জলে একটা ফসল ফলবে, অ্যালজি (algae)। এই একজনই অল্প জায়গায়, অল্প সময়ে, এমনকি নোনা জলেও জন্মাবে, সালোকসংশ্লেষ করবে, অক্সিজেন দেবে; আর দেবে খাদ্য, সবার জন্য প্রচুর,পুষ্টিকর খাদ্য। অ্যালজি অন্য ফসলের থেকে ১০ গুণ তাড়াতাড়ি বাড়ে। আর একটি অ্যালজি ফার্ম দাবি করছে পৃথিবীর অক্সিজেনের ৫০ শতাংশই আসে অ্যালজি থাকে

alage2

ঐতিহাসিক কাল থেকেই মানুষ, বিশেষ করে সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশের মানুষ অ্যালজিকে বিভিন্ন ভাবে খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করছে। প্রায় ৭০০ বছর আগের অ্যাজটেক সভ্যতার লোকেদের রোজকার খাবারের একটি প্রধান আইটেম ছিল স্পাইরুলিনা (Spirulina Sp.)। অনেকটা আমাদের আমসত্ত্বের মত রোদে শুকিয়ে, আমসত্ত্বের মতই কিউব করে কাটা হত, ওরা বলত টেকুইটলাটল (teocuitlahuatl), তারপর মেনুতে আর যা যা আছে তার সাথে খাওয়া হত।

এবার এক ঝলকে অ্যালজির পুষ্টিগুণ দেখে নেওয়া যাক। কী নেই এর ভেতরে? সবকটা প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রোটিন, ভিটামিন এ, বি১, বি২, বি১২ আর ডি আর প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সাধারণভাবে বলতে গেলে অ্যালজি খেলে ইমিউন সিস্টেম মজবুত হবে, কোলেস্টেরল কমবে, অ্যামিনো অ্যাসিডের জন্য শরীরের সঠিক বৃদ্ধি হবে, অর্থাৎ সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য ভাল হবে।

জাপানের রোজকার খাবারের ২৫ শতাংশই হচ্ছে অ্যালজি থেকে তৈরি ট্র্যাডিশনাল খাবার। যেমন নরি, কম্বু ইত্যাদি। এগুলো দিয়ে সুসি তৈরি হয়, সালাদ বানিয়ে খাওয়া হয়। এছাড়াও অ্যালজি থেকে আজকাল নানারকম মুখরোচক খাবার তৈরি হচ্ছে, যেগুলো অ্যালজি খেতে যারা অভ্যস্ত নয় তাদেরও ভাল লাগবে। যেমন ন্যুডল তৈরি হচ্ছে, চিপস, পাস্তা, পাউরুটি, সালাড স্যস তৈরি হচ্ছে। অ্যালজি মেশানো চকলেটও বাজারে এসে গেছে। অ্যালজি আমাদের আরো অনেক কিছু দিচ্ছে যেমন রান্নার তেল। অ্যালজি থেকে নানা রঙের পিগমেনট পাওয়া যায় যেগুলো ফুড কালারিং এ ব্যবহার হয়।

alage1

এটাও দেখা গেছে আমরা যে প্রাণীজ প্রোটিন খাই সেই সব প্রাণীদের অর্থাৎ পোলট্রির পাখি, ভেড়ির মাছ এদেরকে অ্যালজি খাওয়ালে ওজন বাড়ছে তাড়াতাড়ি, বেশি ডিম পাড়ছে, ডিমের কুসুমে বেশি আয়োডিন আর ক্যারোটিন থাকছে; মানে আমাদের প্রাণীজ খাদ্যের মান উন্নত হচ্ছে। আর গোরুকে পেল্ভেসিয়া (Pelvetia Sp.) খাওয়ালে বেশি দুধ দিচ্ছে্‌

সারা পৃথিবী জুড়েই চাষ হচ্ছে, এমনকি আমাদের পশ্চিমবঙ্গও পিছিয়ে নেই। সুন্দরবনের অনেক জায়গায়, যেখানে নোনাজলে ধান চাষের জমি ডুবে গেছে, সেখানে এখন অ্যালজির চাষ হচ্ছে।

alage3.jpg

কোথায় পাবেন অ্যালজির চিপস, নুডলস, ফ্লেক্স, ট্যাবলেট? যেকোন অনলাইন শপিং ওয়েবসাইটে সার্চ করলেই প্রচুর প্রডাক্ট দেখতে পাবেন। এর মধ্যে থেকে পছন্দ মত বেছে নিন স্পাইরুলিনা পাউডার বা ক্লোরেলা (Chorella Sp.) ট্যাবলেট অথবা ডলস (dulse) ফ্লেক্স আর এখন থেকেই অ্যালজি খাওয়ার অভ্যাস শুরু করে দিন।

মৌমিতা হীরা

উৎপন্ন তেল না খেয়ে শরীর তাৎক্ষনিক ভাবে বেঁচে যাবে কিন্তু পৃথিবী বাঁচবে কি? খাদ্য সংক্রান্ত ব্যবসা ছাড়াও অন্য ব্যবসায় এই তেলের বহুল ব্যবহারের ফলে এর উৎপাদন বন্ধ করা সম্ভব নয়। বাস্তবে আফ্রিকান অয়েল পাম উদ্ভিদ প্রজাতিটি সবথেকে কম খরচে, কম সময়ে, কম জায়গায় সবথেকে বেশি তেল উৎপাদনে সক্ষম। সুতরাং একরের পর একর জঙ্গল কেটে পাম তেলের গাছের এক ফসলি চাষ অর্থাৎ মোনোকালচার হচ্ছে। মোনোকালচার একটি ভয়ঙ্কর প্রবণতা। এতে প্রাকৃতিক, স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র ধবংস হয়ে যায় এবং তার বদলে জন্ম নেয় একটি অস্বাভাবিক, কৃত্রিম বাস্তুতন্ত্র। কৃত্রিম বাস্তুতন্ত্রে স্থানীয় প্রজাতির প্রাণীদের খাদ্য থাকে না, সঠিক বাসস্থানও থাকে না ফলে স্থানীয় প্রজাতির মৃত্যু অবধারিত হয়। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রেনফরেস্টে যে সব এন্ডেমিক (endemic) এবং বিপদগ্রস্থ (endangered) প্রাণীরা আছে, খাদ্য ও বাসস্থান হারিয়ে, তারা (যেমন বাঘ, গণ্ডার, হাতি ইত্যাদি প্রাণীরা) আরো বিপদে পড়ছে। যাদের সংরক্ষণ দরকার উল্টে তারাই প্রায় বিলুপ্তির সম্মুখীন।  আর জঙ্গল পুড়িয়ে ফেলার ফলে বাতাসে গ্রিন হাউস গ্যাস আরও বেড়ে যাচ্ছে। বাতাসে ভাসমান কণার (particulate matter) পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। জল ও মৃত্তিকা দূষণ হচ্ছে সে তো বলাই বাহুল্য। যখন যখন জঙ্গল পোড়ান হচ্ছে তখন ওখানে কৃত্রিম কুয়াশার বা হেজের সৃষ্টি হচ্ছে। একে “হেজ এপিসোড” বলা হচ্ছে। এই কৃত্রিম কুয়াশা কিন্তু এক জায়গাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। হেজ এপিসোডের সবথেকে বেশি প্রভাব পড়ছে গর্ভস্থ ভ্রূণ, সদ্যজাত শিশু আর ছোট ছোট বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের উপর। পরিণত বয়সের মানুষও নিস্তার পাচ্ছে না। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৫ সালে ঐ অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ লোকের অকাল মৃত্যু হয়েছে যার কারণ বাতাসের দূষণ এবং তার ফলে হওয়া শ্বাসযন্ত্রের অসুখ, চোখ আর ত্বকের রোগ আর হার্টের অসুখ।  পাম তেল আমাদের স্বাস্থ্যের এবং যে পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে তা পৃথিবীর স্বাস্থ্যের ভয়ানক ক্ষতি ডেকে আনছে। ভারত সরকার পাম তেল আমদানির উপর অতিরিক্ত শুল্ক ধার্য করলে আমরা এই বিশেষ তেলের ব্যবহার বন্ধ করার দিকে এক ধাপ এগোব।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 3.4 / 5. Vote count: 5

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

তিথির গ্রহণ দেখা

3.4 (5) শীতের সকাল হলে কি হবে, আজ খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে গেছে অষ্টম শ্রেণির তিথি। এমনিতে গ্রামের দিকে খুব শীত পড়ে কিন্তু আজ তো সূর্য গ্রহণ। এই প্রথম সে চাক্ষুষ দেখবে। তাই তার আনন্দের সীমা ধরে না। তার দাদা শহরের কলেজে পড়াশোনা করে। তা,,কে পই পই করে বলে […]
SOLAR ECLIPSE
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: