তিথির গ্রহণ দেখা

poribes news
4.2
(30)

শীতের সকাল হলে কি হবে, আজ খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে গেছে অষ্টম শ্রেণির তিথি। এমনিতে গ্রামের দিকে খুব শীত পড়ে কিন্তু আজ তো সূর্য গ্রহণ। এই প্রথম সে চাক্ষুষ দেখবে। তাই তার আনন্দের সীমা ধরে না। তার দাদা শহরের কলেজে পড়াশোনা করে। তা,,কে পই পই করে বলে দিয়েছে এই সুযোগ যেন হাতছাড়া না করে। সেইসাথে গ্রহণ দেখার জন্য তাকে বিশেষ চশমাও পাঠিয়ে দিয়েছে। জানিয়ে দিয়েছে গ্রহণ দেখার খুঁটিনাটি। চশমার ব্যাপারে আগে থেকে কাউকে কিছুই বলেননি তিথি। সবাইকে চমকে দিতে চায় সে। কিন্তু ঘুম থেকে উঠেই মন খারাপ, তন্ন তন্ন করেও চশমাটা খুঁজে পাচ্ছেনা। এখন কি করবে সে ? ওদিকে যে গ্রহণের সময় প্রায় হয়ে এসেছে। মনের দুঃখে জানলায় বসে ভাবতে শুরু করল কী করা যায় এখন!

 

এমন সময় দেখলো রাস্তা দিয়ে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বাবাইদা যাচ্ছে।বাবাই দা তাদের স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে। তাকে এভাবে বসে থাকতে দেখে, বাবাই দা জিজ্ঞেস করল, কিরে তিথি বসে আছিস কেন? আজ কী হবে জানিস না? তোর দাদা তোকে কিছু বলেনি? সবই জানি গো কিন্তু সূর্যগ্রহণ দেখব কী করে? দাদা যে চশমাটা দিয়েছিল সেটা হারিয়ে ফেলেছি। ও বাবা! তো মন খারাপ করার কি আছে? চল আমার সাথে, তোকে সূর্যগ্রহণ দেখাব।

 

বাবাইদা ও তিথি দুজন মিলে পৌঁছে গেল গ্রামের একবারে শেষ প্রান্তের মাঠে। বটগাছটার নিচে গিয়ে বসল দুজন মিলে। মাটির দিকে দেখিয়ে বাবাইদা জিজ্ঞেস করল বলত তিথি,এগুলো কী? চিন্তা না করে তিথি বলল রোদ এসে পড়েছে তো। ভালো করে দেখ, এগুলো হল সূর্যের প্রতিকৃতি। বিজ্ঞান বইয়ে পিনহোল ক্যামেরার কথা পড়িসনি? ভুলে গেলি নাকি? এখানে গাছটা প্রাকৃতিক পিনহোল ক্যামেরার কাজ করছে। লাফিয়ে ওঠে তিথি বলতে শুরু করল তাহলেতো বাবাইদা আমরা এখানে গ্রহণ দেখতে পাবো, তাই না? একদম ঠিক। সেই জন্যই তো তোকে এখানে এনেছি। বাবাই দা পিনহোল ক্যামেরা ব্যাপারটা একটু মনে করিয়ে দাও তো । সে তো বলবোই সেইসঙ্গে সবকিছু নিয়ে এসেছি ব্যাগে করে, একটা বানাবও।

SOLAR ECLIPSE

 

ব্যাগ থেকে একটা জুতোর বাক্স বের করে বাবাইদা বলতে শুরু করল। প্রথমেই বাক্সটাকে কালো আর্ট পেপার দিয়ে মুড়ে দেব। এবার বাক্সের এক দিকের দেওয়ালের ঠিক মাঝখানে একটা সূচালো পিন দিয়ে ছোট্ট ছিদ্র করব। অন্যদিকে দেওয়ালে জানলা মতো কেটে একটা ট্রেসিং পেপার লাগিয়ে দেব। ব্যাস তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে আমাদের পিনহোল ক্যামেরা বাংলায় যাকে সূচিছিদ্র ক্যামেরা বলে। তবে ছিদ্র করা বিষয়টি খুব সতর্কতার সাথে করতে হবে। এর উপরই নির্ভর করছে সবকিছু। ছিদ্রটি যদি বড় হয়ে যায় তাহলে প্রতিকৃতিটি অস্পষ্ট হবে কারণ বড় ছিদ্রটি অনেকগুলো ছোট ছোট ছিদ্রের কাজ করে। ফলে প্রতিটি ছিদ্র দিয়ে তৈরি প্রতিকৃতি মিলে একটি অস্পষ্ট প্রতিকৃতি তৈরি করে। ছিদ্র যত ছোট হবে প্রতিকৃতি তত সূক্ষ্ম হবে।
ওই দেখো বাবাই দা, ওদিকে মাটিতে সূর্যের প্রতিকৃতিগুলি কেমন কাটা কাটা হতে শুরু করেছে। তাইতো তার মানে গ্রহণ শুরু হয়ে গেছে রে তিথি।চল তাড়াতাড়ি পিনহোল ক্যামেরা বানিয়ে ফেলি। ঠিক আছে তুমি বানাও, আমি গ্রামের সব ছেলেমেয়েদের ডেকে আনি। বেশ যা, সঙ্গে বিস্কুট, মুড়ি, চানাচুর নিয়ে আসবি। সবাই মিলে একসাথে গ্রহণ দেখতে দেখতে খাব বুঝলি ।

SOLAR ECLIPSE

 

লেখা ও ছবি – শুভাশিস গড়াই

 

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.2 / 5. Vote count: 30

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

ভেটনােই ভ্রমন

4.2 (30) বর্তমানে বহুল প্রচারিত এ নাম। কারােরই আর অজানা নয় যে ওড়িশার। গঞ্জাম জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম ভেটনােই কৃষ্ণসার হরিণের স্বাভাবিক বিচরণ ক্ষেত্র। তবে একবার গিয়ে পৌছালে অ্যানিমাল প্ল্যানেট বা ন্যাশানাল জিওগ্রাফির চলমান পর্দা বলেই মনে হবে বিশ্বাস হবে না নিজের দুই চোখকে। প্রকৃতির মুক্তাঙ্গনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পাল পাল […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: