ভেটনােই ভ্রমন

বর্তমানে বহুল প্রচারিত এ নাম। কারােরই আর অজানা নয় যে ওড়িশার।
গঞ্জাম জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম ভেটনােই কৃষ্ণসার হরিণের স্বাভাবিক বিচরণ
ক্ষেত্র। তবে একবার গিয়ে পৌছালে অ্যানিমাল প্ল্যানেট বা ন্যাশানাল জিওগ্রাফির
চলমান পর্দা বলেই মনে হবে
vet1
বিশ্বাস হবে না নিজের দুই চোখকে। প্রকৃতির
মুক্তাঙ্গনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পাল পাল কৃষ্ণসার। আলাদা করে সংরক্ষিত এলাকা
বলে কিছু নেই। চর্তুদিকে গঞ্চমের অনুচ্চ টিলা – পাহাড়সারি। তার মধ্যে আদিগন্ত
বিস্তৃত ধূ ধূ বিস্তীর্ণ প্রান্তর ক্ষেত। তার বুক চিরে চলে গেছে কালাে পিচ ঢালা
রাস্তা। মাঝে মাঝে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত কাটা ঝােপের জঙ্গল।
vet2
দেড়শাে থেকে দুশাে
মিটার দূরে যে প্রাণীগুলিকে দেখে আপনার গরু বা ছাগল বলে ভ্রম হচ্ছে, চোখে
বাইনােকুলার বা লেন্স ক্যামেরা লাগালে বুঝবেন আপনি এতক্ষণ কী ভুল
ভাবছিলেন। বাকরুদ্ধ হয়ে দেখবেন রােদ পিছলানাে কালাে রঙের বাহার, বিদ্যুতবাহী
তারের মতাে প্যাচানাে শিং আর সামান্য শব্দে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে পালানাে। এহেন
কসারদের ছবি তােলা যথেষ্ট পরিশ্রম সাধ্য। গুটি গুটি পায়ে আপনাকে লকোতে।
হবে কোনাে বাবলা বা ফণিমনসার আড়ালে। বৃষ্টির জলে ভরে থাকা ছোট।
ডােবায় জল খেতে আসে ঐ হরিণের দল। কাচ স্বচ্ছ জলে তাদের প্রতিচ্ছবিও
এক অনুপম দৃশ্য সুষমা তৈরি করে। গ্রামের মানুষের কাছে কৃষ্ণসার দেবী-দেবতার
প্রতীক, শুভ শক্তির প্রতীক। ফলে কোনাে কঠোর সরকারি আইনের বা বন্দকের
নল উঁচিয়ে নয়, গ্রামবাসীরা হরিণের রক্ষক শুধু বিশ্বাস আর ভালােবাসার জোরে।
চরবেন কষ্ণসারদের জীবনচরিত। কোথাও বলশালী জ্যেষ্ঠ
পুরুষ হরিণটি কচি ঘাস-পাতা চিবােচ্ছে সপরিবারে, কোথাও সন্ত্রস্ত হরিণীর ভীত
চাহনি, কোথাও মা হরিণের স্নেহচ্ছায়ায় শাবকের স্তন্যপান, তাে কোথাও জায়গা
দখল বা সঙ্গিনীর ওপর অধিকারের লড়াই দুই পুরুষে। যুদ্ধরত দুই সৈনিকের
অস্ত্রের ঝনঝনানির মতাে দুই হরিণের কঠিন শিংয়ের সংঘর্ষের ধ্বনি অনননি
বাতাসে। সর্বশেষে ক্ষরের চাপে ধুলাে উড়িয়ে উল্কা বেগে বিলীন হবে ঐ দূরে আরাে দুরের সবুজে ঢাকা গাছ-গাছালির অভ্যন্তরে। ত
এক অদ্ভুত মধুর মাদকতায়।
vet3
যাতায়াত:
| দক্ষিণ ভারতগামী ট্রেনে চেপে বালুগাঁও স্টেশন। সেখান থেকে গাড়ি,
অটোতে রম্ভা এবং রম্ভা থেকে ভেটনােই। বালুগাঁও থেকে রম্ভা ৩৫ কিমি। ২
থেকে ভেটনােই ৬৫ কিমি। ভেটনােইয়ের প্রবেশদ্বার আজকা বা আজকা মোেড়।
সামনেই বিশাল সাইনবাের্ড আছে কৃষ্ণসারের ছবি দেওয়া, লেখা আছে কী করতে।
আর কী করবেন না তার নির্দেশিকা। যা অতি অবশ্যই পালনীয়।
থাকা-খাওয়া :
vetnoi5
রম্ভায় থেকে ভেটনােই ঘুরে নিতে পারেন। ভেটনােইতে রাত্রিবাস করতে।
চাইলে একমাত্র সহায় ভেটনােই গ্রামের প্রাণপুরুষ, হরিণপ্রেমী অমূল্য উপাধ্যায়
মহাশয়, ০৯৪৩৭২৬৩০৩৩। গাইডের ব্যবস্থাও উনিই করে দেবেন, শুধু নিজেরা
ঘুরলে নিরাশ হােতে হবে হরিণ অদর্শনে।

কাছে দূরে অচিনপুরে : ভ্রমন গাইড

লেখকঃ  প্রবীর বসু

probir bosu.jpg

Leave a Reply

%d bloggers like this: