ভালােপাহাড়

0
(0)
কাছে দূরে অচিনপুরে (ভ্রমন গাইড)
ভালাে পাহাড় নামটা শুনে মনে হতে পারে পাহাড়ে ঘেরা বা পাহাড়ের উপর এর অবস্থান। না, ভালােপাহাড় কোনাে পাহাড় নয়, পুরুলিয়ার দুয়ারসিনী রেঞ্জের ডাঙ্গ। রজুড়ি গ্রামে ভালাে পাহাড় একটি সােসাইটি। পুরুলিয়ার রুক্ষ কৃষিজমিকে বশে এনে। লাগিয়েছেন লক্ষাধিক গাছ। বৃষ্টির জল ধরে রাখার জন্য কেটেছেন পুকুর, আদিবাসী।
শিশুদের জন্য চালাচ্ছেন স্কুল। দূষণমুক্ত পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে গড়ে উঠেছে ইকো
ট্যুরিজম স্পট।
pahar1
| আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম্য পরিবেশকে অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে উন্নয়নের
লক্ষ্য নিয়েই এর পথচলা। কর্ণধার কমল চক্রবর্তী একজন কবি, সাহিত্যিক, পরিবেশ
সচেতন নাগরিক এবং তারই তত্ত্বাবধানে এবং সােসাইটির অন্যান্য সদস্যদের ঐকান্তিক
প্রচেষ্টায় ভালােপাহাড় এখন আদিবাসী কল্যাণ এবং দূষণমুক্ত গ্রামীণ পরিবেশ রক্ষার
এক বিশাল কর্মযজ্ঞের নাম।
pahar2
গালুডি স্টেশনে নেমে অটো ভাড়া করে ধীরে ধীরে অরণ্য পথে সাতগুড়ং নদীকে
সঙ্গে করে এগিয়ে চলা। মাঝে আরণ্যক দুয়ারসিনী। নেকড়ে ডুংরি পাহাড়ের অপরূপ
নিসর্গ। কালাে পিচ রাস্তা ধরে শাল-পিয়ালের সারি পেরিয়ে পৌঁছে যেতে হবে রাস্তার
পাশেই এক বৃহৎ সবুজ ফটকের সামনে। হ্যা, এই সেই ভালােপাহাড়।ভালােপাহাড়ের অন্দরে প্রবেশ পথের বাঁদিকে অফিসঘর। সাথে কিছু সদস্য থাকবার জায়গা পাশেইনতুন করে তৈরি হচ্ছে অতিথিদের জন্য দোতালা পাশাপাশি হেঁসেল রান্না হয় কাঠের জ্বালানে।
 মাঝে খড়ে ছাওয়া ছােট্ট গােলাকার আড্র ঘর  আরও এগিয়ে একতলা অতিথি নিবাস।

 সব শেষে স্কুল, স্কুলের পাশেই রয়েছে খেলার মাঠ। সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ। স্কুলে ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন। এখন চলেছে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত। তবে এখনও এফিলিয়েশন নেই, অন্য কোনাে পর্ষদ স্বীকৃত।স্কুল থেকে পরীক্ষায় বসতে হয় ছাত্র-ছাত্রীদের।

pahar3

তবে একথা মানতেই হবে প্রকৃতির

প্রথম পাঠের এ যেন উপযুক্ত শিক্ষাঙ্গন।
ভালােপাহাড় চত্বর জুড়ে চেনা-অচেনা অসংখ্য গাছের সহবস্থান। পাতাবাহার
থেকে মরসুমী ফুলে চতুর্দিকে সেজে আছে। আবার ফটক পেরিয়ে বাইরের পিচ ঢালা
রাস্তাটি পেরােলেই চোখে পড়বে লক্ষ লক্ষ গাছ স্বর্ণচাপা, কাষ্ঠচাপা, তুত, রঙ্গন,এলাচ, দারুচিনি, লেবু, জবা, পেয়ারা, আমলকি, হিমঝড়ি আরও কত কত গাছ।
আসলে এই কর্ণধারের দেবতাই হচ্ছে বৃক্ষ, আর তার স্লোগান ‘জয় বৃক্ষরাজ।
ভালােপাহাড় বসন্তে পলাশ-শিমুলে লাল-লাল, মহুয়া ফুলের নেশায় মাতােয়ারা।
আর প্রকৃতির পাশাপাশি ভালােমানুষের আন্তরিকতা। লাল চালের মিষ্টি ভাত, টাটকা
সবজি, দুধ, দই আরও কত কী? গালুডি ভালােপাহাড়ে দুটি দিন কাটালে দেখে নেওয়া
যায় গালুডি ড্যামের সূর্যাস্ত, দুয়ারসিনীর পথে সাতগুড়ং নদীর আঁকাবাঁকা জঙ্গল পথে
হারিয়ে যাওয়া, নেকড়ে ডুংরীর পাহাড়ের উপর থেকে ঝাড়খণ্ডের অপরূপ নৈসর্গ।
উপভােগ করা যায় গ্রামীণ হাটের অনাবিল আনন্দ।
আর পূর্ণিমার রাত দেখে ভালােপাহাড়ে একটি দিন কাটালে পাওয়া যাবে শুধুই
আকাশ, এক থালা চাঁদ আর কোটি কোটি তারা
কীভাবে যাবেন?
গালুড়ি স্টেশন থেকে ভালােপাহাড় ১৮ কিমি। স্টেশনের গায়েই অটো স্ট্যান্ড
রয়েছে ভাড়া মােটামুটি ৪০০ টাকা। আগাম বলে রাখলে ভালােপাহাড়ের নিজস্ব গাডি
গালুডি স্টেশনে নিতে আসে।
pahar4
কোথায় থাকবেন?
ভালােপাহাড়ে অতিথিদের জন্য চারটি দ্বিশয্যার বাথরুম সংলগ্ন ঘর আছে। এছাড়াও দোতলায় আরও ঘর প্রস্তুতির পথে। ফোনে যােগাযােগ করে বর্তমানে ঘর ভাড়ার বিষয়ে জেনে নিতে পারেন।
pahar5
সরাসরি বুকিং – ০৩২৫২-২৮৮১৯৫ / ৯৪৩১১৮৬২৫০, ৯৪৭৪৪৬২২৩৮
লেখকঃ প্রবীর বসু
probir bosu

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

গােপালপুর - অন-সি

0 (0) কাছে দূরে অচিনপুরে (ভ্রমন গাইড)  এ সমুদ্র শহরের নাম শােনেননি এমন পর্যটক বিরল। দীঘার তীব্র ভিড়,হইচই অনেকেরই অপছন্দ বলে বেছে নেন এ শান্ত, তুলনামূলক অনেক নির্জন গােপালপুরকে। গােপালপুর ওড়িশায় হলেও অন্ধ্রের সীমানায় অবস্থিত। তাই এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র সংস্কৃতির প্রভাব আছে। নিজেদের মধ্যে তেলুগু ভাষায় কথা বলেন […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: