মিষ্টি নয় ডায়াবেটিস

@
5
(3)

14ই নভেম্বর সারা পৃথিবীতে ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ডে, আর বাংলায় রসগোল্লা দিবস, এই কন্ট্রাডিকশন শুধু বাংলাতেই সম্ভব ! ভারত এখন মধুমেহের দেশ, আপনি সারা দেশ ঘুরে এমন একটি পরিবার পাবেন না যেখানে অন্তত একজনও ব্লাড সুগার-এর রোগী নেই! কথায় বলে, “জেনেটিকস লোড দি গান, এন্ড লাইফস্টাইল পুলস দি ট্রিগার”, ব্লাড সুগার অনেকটাই জেনেটিক্যাল  ।একে অন্তঃক্ষরাতন্ত্রের ডিসঅর্ডার বলা যেতে পারে ।

ডায়াবেটিস প্রধানত দু প্রকার – (i) ডায়াবেটিস মেলিটাস অর্থাৎ মধুমেহ এবং (ii) ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস বা বহু মূত্র ।
বৃক্ক-এর গঠনগত ও কার্যগত একক হল নেফ্রন এবং যার একটি অংশ হলো সংগ্রাহক নালী ।এই অংশটিতেই ঘটে জলের পুনঃশোষণ যার ফলে আমাদের ঘনসারক মূত্র উৎপন্ন হয়, পিটুইটারি নিঃসৃত ADH বা এন্টি ডাইইউরেটিক হরমোন এই সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ADH এর কম ক্ষরণ হলে জল শোষণ হয় না, তার ফলে লঘু মূত্র উৎপন্ন হয় এবং বার বার মূত্র ত্যাগ করতে হয় ।একে ডাক্তারি পরিভাষায়, ‘বহু মূত্র’ বা ‘ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস’ বলা হয় ।
kidney
ডায়াবেটিস প্রধানত দুই রকমের হয় – টাইপ 1 এবং টাইপ 2। অন্য ধরনের ডায়াবেটিসগুলি হল জুভেনাইল, জেসটেশানাল এবং প্রিডায়াবেটিস। ডায়াবেটিসের (মধুমেহ) কারণে প্রায়শই অন্যান্য গুরুতর এবং জটিল স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে, যেমন অন্ধত্ব, হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির অসুখ এবং অঙ্গচ্ছেদ। তাই চিকিৎসা সংক্রান্ত গবেষকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ডায়াবেটিসকে (মধুমেহ) সম্পূর্ণ নিরাময় করার উপায় বার করার জন্য। এটা অবশ্য লক্ষ্য করা গিয়েছে যে জীবনধারার পরিবর্তন, খাদ্য, ঔষধ, ব্যায়াম এবং কয়েক ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা ডায়াবেটিসের প্রথম স্তরে এই রোগকে আটকাতে এবং কার্যকর ভাবে ডায়াবেটিসকে (মধুমেহ) নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

Image result for ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

রক্তে শর্করার (চিনি) মাত্রা অত্যধিক বৃদ্ধি পেলে যে পরিস্থিতিগুলির উদ্ভব হয় সেগুলিকে এক কথায় ডায়াবেটিস (মধুমেহ)বলা হয়। এই বিশ্বে ডায়াবেটিস (মধুমেহ) একটি দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়া মহামারী। ভারতবর্ষে 73 মিলিয়ন মানুষ এর শিকার। এই রোগ দীর্ঘস্থায়ী এবং যদি সময় মত এর চিকিৎসা এবং একে নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা না করা যায় তাহলে এর ফলে অন্যান্য গুরুতর অসুখ হতে পারে। আগে মনে করা হত যে বয়স বাড়লে এই রোগ হয়। আসলে ডায়াবেটিস (মধুমেহ) স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোন বয়সে হতে পারে। তবে কয়েকটি চিকিৎসা সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে 40 বছরের বয়সের পর ডায়াবেটিস (মধুমেহ)এর সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ডায়াবেটিস (মধুমেহ) বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। তবে, শুরুতে আমরা দুইটি প্রধান ধরনকে ব্যাখ্যা করব, যেমন টাইপ 1 এবং টাইপ 2 ডায়াবেটিস (মধুমেহ)।

• প্রিডায়াবেটিস –

এটি একটি ইঙ্গিতকারী ধরণের এবং একে প্রায়শই “সীমান্তবর্তী ডায়াবেটিস (মধুমেহ)” আখ্যাও দেওয়া হয়। একজন ব্যক্তি যদি উপবাস করে থাকেন এবং তখন তার রক্তে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শর্করা থাকে এবং উপবাস ভঙ্গ করে খাওয়ার পর আবার তার রক্তে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শর্করা পাওয়া যায়, তখন ডাক্তারবাবু সেই ব্যক্তিকে ডায়াবেটিক বলে চিহ্নিত করেন। গবেষণা দৃঢ়ভাবে সুপারিশ করে যে প্রিডায়াবেটিক স্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে, যেমন কার্বোহাইড্রেট জাতিয় খাবার, পরিস্রুত চিনি, ফ্যাক্টরিতে তৈরি খাদ্য, বেকারির পণ্য জাতিয় খাবার কম খেলে, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা পালন করলে, শারীরিক পরিশ্রম যেমন সাঁতার কাটা, জগিং করা, জিম’এ গিয়ে ব্যায়াম করা, সাইকেল চালান এবং 45 মিনিট দ্রুত হাঁটলে টাইপ 2 ধরণের ডায়াবেটিসের (মধুমেহ) শুরুকে অনেকটা দেরি করিয়ে দেওয়া যায়।

Related image

• টাইপ 1 –

টাইপ 1 ডায়াবেটিস (মধুমেহ) ইনসুলিনের উপর নির্ভরশীল, এটি শিশু এবং 30 বছরের কমবয়সিদের হতে পারে এবং মনে করা হয় যে পৃথিবীর সমস্ত ডায়াবেটিসের (মধুমেহ)রোগীদের মধ্যে 10 শতাংশ এই ধরনের ডায়াবেটিসে (মধুমেহ) আক্রান্ত। একজন মানুষের অগ্ন্যাশয়ের অন্তর্গত বিটা কোষগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে ইনসুলিনের উৎপাদন কম বা বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থায় ইনসুলিনের অভাবে টাইপ 1 ডায়াবেটিস (মধুমেহ) দেখে দেয়। তখন দেহ সঞ্চিত গ্লুকোজকে ব্যবহার করে শক্তি উৎপন্ন করতে পারে না। ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়তে থাকে।

টাইপ 1 ডায়াবেটিসের (মধুমেহ) আবার দুইটি প্রকার আছে : –
* জুভেনাইল ডায়াবেটিস (মধুমেহ): জুভেনাইল ডায়াবেটিস (মধুমেহ) টাইপ 1 এর অন্তর্গত ইনসুলিন নির্ভরশীল (সারা জীবনের জন্য) ডায়াবেটিস (মধুমেহ) যা 19 বছরের কম বয়সীদের হয়। ছোট বাচ্চাদের ইনসুলিন দেওয়ার কাজটির দেখভাল তাদের বাবা-মা, আয়া বা নার্সরা করেন। যারা টিনেজার, তারা তাদের ডাক্তারবাবুর পরামর্শ অনুযায়ী নিজেরাই নিতে পারে।

Image result for ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

*লাডা : টাইপ 1এর অন্তর্গত একটি বিশেষ শ্রেণির মানুষ আছেন যাদের টাইপ 2 আছে কিন্তু দেখে মনে হয় যে এদের টাইপ 1 হয়েছে। এর কারণ এদের অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষগুলি থেকে ইনসুলিনের নির্গমন কম বা একেবারেই হয় না। এই শ্রেণির রোগীদের বলা হয় লাডা (লেটেন্ট অটোইমিউন ডায়াবেটিস এডাল্টহুড)।

• টাইপ 2 –
গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে যে টাইপ 2 হল সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রধানতম ডায়াবেটিস (মধুমেহ)। এই অবস্থার সৃষ্টি হয় যখন শরীর প্রয়োজনের তুলনায় কম ইনসুলিন তৈরি করে, অথবা, ইনসুলিন সেন্সিটিভিটির কারণে তৈরি হওয়া ইনসুলিন শরীর ব্যবহার করতে পারে না। এই ত্রুটির জন্য অতিরিক্ত পরিমাণ গ্লুকোজ (চিনি) জমে গিয়ে রক্তে চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি হয়। সাধারণত 30 বছরের বেশি বয়সীদের টাইপ 2 ডায়াবেটিস (মধুমেহ) হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে এটি অল্পবয়সি শিশুদেরও হতে পারে। টাইপ 2 প্রায়ই বংশগত হয় এবং এটি এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মের হতে পারে। বিশ্বে টাইপ 2 বেড়ে যাওয়ার কারণ হল অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা, শূন্য অথবা খুব কম শারীরিক কাজ, মানসিক চাপ এবং ভুল খাদ্যাভ্যাস।

• গর্ভাবস্থা কালীন ডায়াবেটিস (মধুমেহ) –

Related image
নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে গর্ভাবস্থার সময় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গবেষণাতে দেখা গিয়েছে যে সাধারণত গর্ভাবস্থার শেষ দিকে মায়েদের এই অসুখ হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের (চিনি) মাত্রা বৃদ্ধি পায়। দেখা গিয়েছে যে প্রসবের পরে এই অবস্থা আর থাকে না। এর অর্থ এই নয় যে একে হালকা ভাবে নেওয়া যাবে। যদি সময় মত ধরা না পড়ে এবং কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে গর্ভাবস্থাকালীন ডায়াবেটিস (মধুমেহ) মা এবং শিশুর ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। দৃঢ় ভাবে সাথে সুপারিশ করা হচ্ছে যে নিজে থেকে কোন ওষুধ নেবেন না। ডাক্তারবাবুর পরামর্শ অনুযায়ী সাবধানতা অবলম্বন করুন এবং বিধি-ব্যবস্থা নিন।
ডায়াবেটিস (মধুমেহ) এর লক্ষণ :-

যদি আপনি শারীরিক কিছু সংকেতের দিয়ে নজর দেন তাহলে তাড়াতাড়ি ডায়াবেটিসের (মধুমেহ) লক্ষণগুলি চিহ্নিত করতে পারবেন।

• হঠাৎ তীব্র ক্ষুধা (খাওয়ার ইচ্ছা)।

• স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বার প্রস্রাবের বেগ, বিশেষত রাত্রিবেলা।

• সর্বদা তৃষ্ণা থাকা।

• হঠাৎ বিনা কারনে ওজন হ্রাস।

• বিকৃত, ঝাপসা দৃষ্টি বা একটি জিনিস কে দু’টি দেখা।

• সহজেই ক্লান্ত বোধ করা।

• বার বার সংক্রমণ হওয়া বিশেষত মাড়ি, ত্বক এবং ব্লাডারে।

• ক্ষত এবং কাটা সারতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগা।

• মেজাজ ক্রমাগত বদল হতে থাকে এবং খিটখিটে থাকে।

• ঝিঁঝিঁ ধরা বা জ্বালা করা, বিশেষত হাতের তালুতে এবং পায়ের পাতাতে।

• পুরুষ যৌন অসুবিধা হতে পারে ।

• একটি বা দুইটি চোখেই হঠাৎ দৃষ্টি শক্তি হারান বা ঝাপসা দেখা।

• ক্ষত সারছে না বরং সাময়িক ওষুধ (ক্রিম এবং এন্টিসেপটিক) প্রয়োগ করেও সত্যেও আরও খারাপ হচ্ছে।

• আপনার গর্ভাবস্থায় রক্তে উচ্চ শর্করার মাত্রা।

• হঠাৎ অনুভূতি কমে যাওয়া, বিশেষত হাতের তালু এবং পায়ের পাতায়

• হাত, চোয়াল, বুক এবং গোড়ালি হঠাৎ ফুলে যাওয়া।

• ত্বকের তীব্র সংক্রমণ এবং তার সাথে দাগ হওয়া(ত্বকের রঙ নষ্ট হয়ে যাওয়া)।
ডায়াবেটিস (মধুমেহ) এর চিকিৎসা :-

ডায়াবেটিস (মধুমেহ) একটি দীর্ঘস্থায়ী অসুখ। তাই ভুল করে মনে করা হয় যে এর চিকিৎসা খুবই কষ্টকর এবং কঠিন। কিন্তু বিপরীতে সত্যিটা হচ্ছে যে সঠিক ভাবে এগোলে আমরা একে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

• চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে বৈচিত্র্য
প্রত্যেকের ক্ষেত্রে চিকিৎসার পদ্ধতি এক হবে না। ডায়াবেটিসের (মধুমেহ) টাইপের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ব্যক্তির চিকিৎসা আলাদা রকমের হবে। উদাহরণ স্বরূপ টাইপ 1, টাইপ 2 এবং জেসটেশানাল।

• তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করুন
ডায়াবেটিস(মধুমেহ) একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। সুতরাং চিকিৎসা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুরু করতে হবে। ওষুধ খাবেন না, খেলে জটিলতা বৃদ্ধি পাবে – এটা শুধুই একটা মিথ্যে গুজব। অপরদিকে ডাক্তারবাবুরা বলেন যে যত তাড়াতাড়ি ওষুধ শুরু করবেন তত অসুখের প্রভাবকে আটকে রেখে এর ঝুঁকি এবং জটিলতা পরিহার করতে পারবেন।

ওষুধ :-

প্রতিদিন সঠিক পরিমাণ, সঠিক সময়ে ওষুধ খেলে ডায়াবেটিস (মধুমেহ) নিয়ন্ত্রণে বিপুল তফাত এনে দেবে। যদি সঠিক সময়ে ও সঠিক পরিমাণে ওষুধ খাওয়া না হয় তাহলে ডায়াবেটিস(মধুমেহ) একেবারেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এতে হাইপোগ্লাসেমিয়া (রক্তে চিনির পরিমাণ হঠাৎ কমে যাওয়া) হতে পারে।

• খাদ্য পরিবর্তন
বার বার হাল্কাখাবার, যাতে চিনি এবং শর্করা কম এবং ফাইবার বেশি থাকে, হচ্ছে ডায়াবেটিস (মধুমেহ) নিয়ন্ত্রণে “অক্সিজেন নেওয়া”র সমতুল।

• শারীরিক কার্যকলাপ
গবেষণা দৃঢ় ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শারীরিক পরিশ্রম হীন ও অলস জীবনধারার কারণে ডায়াবেটিস (মধুমেহ) বৃদ্ধি পায়। প্রমাণিত হয়েছে যে সাঁতার কাটা, জগিং, সাইকেল চালনা, যোগ করা এবং জিম’এ গিয়ে ব্যায়াম করার মত কার্যকলাপগুলির রক্তের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

টাইপ 1 ডায়াবেটিসের (মধুমেহ) চিকিৎসা –
টাইপ 1 এর শর্ত চিকিৎসা একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াতে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা সাধারণত বিভিন্ন সময়ের ব্যবধানে মাপা হয় (আদর্শগত ভাবে একটি চার্ট বানানো হয়)। গ্লুকোজের মাত্রা অনুসারে প্রয়োজনমত কয়েকবার ইনসুলিন ইনজেকশন দেওয়া হয়। অধিকন্তু নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ করা এবং বিধিবদ্ধ ব্যায়াম বিশেষভাবে অনুশীলন করা টাইপ 1 ডায়াবেটিস (মধুমেহ) নিয়ন্ত্রণের অঙ্গ। যেহেতু টাইপ 1 ডায়াবেটিস (মধুমেহ) সাধারণত শিশু এবং টিনএজারদের মধ্যে পাওয়া যায় [জুভেনাইল ডায়াবেটিস (মধুমেহ) বলা হয়], তাই ডাক্তারবাবুরা পরামর্শ দেন যাতে বাবা-মা, আয়া বা নার্সরা যাতে শিখে নেন যে সাবধানতার সাথে এবং কম ব্যথা দিয়ে “কি ভাবে ইনজেকশন দিতে হবে”। এতে বাচ্চারা ইনজেকশন দেখলে প্রতি কম ভয় পাবে এবং সঠিক চিকিৎসা হবে।
টাইপ 2 ডায়াবেটিস (মধুমেহ)
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে, ব্যায়াম করে এবং ওষুধ খেয়ে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য টাইপ 2 ডায়াবেটিক রোগীদের প্রায়শই পরামর্শ দেওয়া হয়। দেখা গিয়েছে যে রোগ যখন পুরানো হয় তখন ডাক্তারবাবুর পরামর্শে টাইপ 2 ডায়াবেটিকদেরও ইনসুলিন নিতে হতে পারে। কাজেই প্রাথমিক স্তরে টাইপ 2 রোগ ধরা পড়লে রোগীকে সক্রিয় ভাবে চেষ্টা করে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে এবং শারীরিক ব্যায়াম যেমন জগিং, সাইকেল চালনা, সাঁতার কাটার অভ্যাস করতে হবে। নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ মেপে নিশ্চিত হতে হবে যে অসুখটিকে বাধা দেওয়া গিয়েছে এবং এটি আর আগে যাচ্ছে না।রোগীকে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করাটা বাধ্যতামূলক করতে হবে l ডায়াবেটিস আনুষাঙ্গিক অঙ্গ তন্ত্রকে আক্রমণ করে যেমন বৃক্ক,হৃদপিন্ড এবং চোখ,সেগুলির দিকেও নজর রাখা উচিত l টাইপ -2 এর ক্ষেত্রে রোগীদের অনেকেই লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হন,বর্তমানে এই একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে ।চিন্তা বা উৎকণ্ঠাও ব্লাড সুগারের অন্যতম একটি কারণ।

Image result for stress and diabetes

তবু একটু নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন, পরিমিত খাদ্যাভাস ডায়াবেটিসকে সোজা ব্যাটে বাপি বাড়ি যা করে দিতে পারে ।তাই সুগার হয়েছে বলে টেনসন ছাড়ুন, আনন্দে থাকুন দেখবেন মাঝেসাঝে দু-একটা রসগোল্লাও মহাঔষধের মতো কাজ করবে আফ্টার অল বাঙালি বলে কথা!

Image result for ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

লেখকঃ সৌভিক রায়

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 3

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

বৃষ্টি ভেজা ইয়াংসুম

5 (3) এ যাত্রায় সফর রিনচেনপং, পেলিং। উত্তরবঙ্গে এবার এপ্রিল থেকেই বৃষ্টি শুর হয়ে গেছে। যখন তখন বৃষ্টি হচ্ছে। মে মাসের শেষে আমার বন্ধুদের দল মােটামুটি চারদিন এ অঞ্চলে হােটেল বন্দী ছিল।           যাইহােক, বেশ কিছুদিন আগে টিকিট কেটে ফেলেছি কাজেই অগত্যা জুনের মাঝামাঝি বেরিয়ে পড়েছি তিস্তা-তাের্সা এক্সপ্রেস এ। শিলিগুড়ি-জোড়থাং-কালুক […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: