হাঁটাপথে উত্তরবঙ্গের গ্রামে গ্রামে

@
5
(1)

 

উত্তরবঙ্গের নিভৃতে জলজঙ্গলে ঘােরবার আকর্ষণ দীর্ঘদিনের কিন্তু সেভাবে
উত্তরবঙ্গের গ্রাম্য প্রকৃতির রূপ উপভােগ করার সুযােগ হয়ে ওঠেনি। উত্তরবঙ্গ বলতে
কিছু অধিক ব্যস্ত শহুরে অঞ্চল আর অধুনা কিছু নির্জন হােমস্টে। কিন্তু হােমস্টে
নির্জনতা আজ আর খুঁজে পাওয়া যায় না। যে গ্রামে হােমস্টে চালু হয়েছে কিছুদিনের
মধ্যেই সে গ্রামে হােমস্টের ছয়লাপ, নির্জনতা উধাও । জঙ্গলের প্রতি ভালােবাসা যেন
দিন দিন বাড়ছে। Related image

আবার সেই জঙ্গলের গা-ঘেষে যদি নদী বা খােলা থাকে, তবে
সেতাে আরও উত্তম। জল-জঙ্গল-পাহাড়ের মনােরম প্রকৃতির মাঝে তাবু খাটিয়ে প্রকৃতির
আলাের রােশনাইতে গল্প-গুজবে যদি অবসরে কটা দিন কাটিয়ে ফেরা যায় তবে সেতাে
স্মৃতির মণিকোঠায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। যাইহােক, এসব একরাশ কল্পনা মাথায় নিয়ে
আলিপুর দুয়ারের সঞ্জিত থাপার ব্যবস্থাপনায় শুধুমাত্র রুকস্যাক কঁাধে ৫ রাত্রি ৬ দিনের
জন্য বেরিয়ে পড়া ভূটান সীমান্ত ঘেষা উত্তরবঙ্গের গ্রামে গ্রামে।

Image result for উত্তরবঙ্গের গ্রাম
শীতের আমেজ গায়ে মেখে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে আমরা বেরিয়ে পড়েছি।
কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে আলিপুর দুয়ার থেকে কালচিনি বাজারে এসে পৌছেছি। তখন
বেলা বারােটা ছুইছুই। সেখানে আমাদের গাইড সঞ্জিত আমাদের জন্য খাবার দাবার,
টেন্ট, স্লিপিং ব্যাগ এবং ম্যাট্রেস নিয়ে অপেক্ষা করছিল। আমরা পৌছতেই যাত্রা শুরু
হল। কালচিনি নদীর বুক চিরে ঘন-জঙ্গল মহলে প্রবেশ করলাম। দুপাশে ঘন জঙ্গল
মাঝে একটি জিপ চলবার মত সঙ্কীর্ণ পথ। এ পথ দিয়ে কিমি দশেক এগিয়ে একটু
প্রশস্ত জায়গায় গাড়ি ঘুরে আমাদেরকে নামিয়ে দিয়ে জিপ ফিরে গেল। আমাদের আজ
মাত্র দু কিলােমিটার হাঁটা। গাড়ি থেকে নেমে আমরা হাঁটতে শুরু করলাম।

Related image
রাস্তাটা যেন ক্রমে উপরে উঠছে। হঠাৎ উপরে ঘন জঙ্গলের মধ্যে দু-চারটে
কাঠের সুসজ্জিত বাড়ি-ঘর নজরে এল। এখানে প্রত্যেক বাড়িতেই প্রচুর সুপারি বাগান।
সেই সুপারি বাগানের মধ্য দিয়ে পথ ক্রমশ নিচের দিকে নেমে চলেছে। অবশেষে
গামের খানিকটা নিচে এসে আমরা টেন্ট খাটালাম। আমাদের টেন্ট-এর বাঁদিকে বেশ
খানিকটা উঁচু রাস্তা। সেই রাস্তা শেষে কয়েকটি ঘর। তবে বেশির ভাগই ফাকা। চতুর্দিকে
চায় আবাদ হয়েছে। গ্রামের পরিবেশ বেশ সুন্দর। আমরা বেশ কিছুক্ষণ ওপরের গ্রামে
ঘরে ধীরে ধীরে নিচে নেমে এলাম। এদিকে খাবার প্রস্তুত। ডাল, ভাত, ভাজা, ডিমের
ঝােল, এবং মাছভাজা দিয়ে দুপুরের খাবার সারা হল। আজ অপরাহ্নে আমরা যাব
ডিমা পােখরি দর্শনে। গভীর জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সঙ্কীর্ণ রাস্তা ক্রমাগত নেমে গেছে। এ
পােখরীর পাশাপাশি অঞ্চল হাতির বড় প্রিয়। চতুর্দিকে হাতির বিষ্ঠা ইতস্তত ছড়িয়ে আছে।

Image result for উত্তরবঙ্গের জঙ্গল

আমরা জঙ্গল ঘেরা পােখরিতে বেশ কিছু সময় কাটিয়ে বড় বড় মাগুর মাছেদের
মড়ি খাইয়ে তাদের বিভিন্নরকম কলাকৌশল দেখে ধীরে ধীরে সন্ধ্যার আগেই টেন্টে
ফিরে এলাম। সন্ধ্যায় টেন্ট-এ চা-পকোড়া চলে এল। চা-পকোড়া খেয়ে অল্প আলােতে।
রান্নার জায়গার পাশে গােল করে বসে গল্প-গুজব চলছে। হঠাৎ এক জোড়ালাে বাজির
শব্দে সকলেই আতঙ্কিত। আমরা সঞ্জিতের কাছে জানতে চাইলাম এ কিসের আওয়াজ ?
সঞ্জিত দু-জনকে সঙ্গে করে বাজির শব্দ লক্ষ্য করে এগিয়ে গেল। পরে জানলাম, শহর।
থেকে ফেরার পথে গ্রামে ঢােকবার মুখে কিছু গ্রামবাসীর সঙ্গে হাতির সাক্ষাৎ হয়।
গ্রামের মানুষ বাজি ফাটিয়ে হাতিদের গ্রামের পথ থেকে জঙ্গল পথে ফিরিয়ে দেয়। এ
সেই বাজির আওয়াজ। যাইহােক, এর মধ্যেই রাতের রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া সেরে
টেন্টে ঢুকলাম। কিন্তু ঘুম আসছে না, হাতির ভয় যেন মনে ঢুকে গেছে।
কিছুতেই ঘুম আসছে না, আবার জোড়ালাে কুকুরের ডাকে যেন মনে হচ্ছে।
হাতির দল বােধহয় এদিকেই আসছে। গ্রামের লােকের সঙ্গে কথাবার্তায় ওরাও বলেছিল,
হাতির দলকে প্রায়ই রাতের দিকে এ গ্রামের পথে দেখা যায়। শেষপর্যন্ত ভয়ে, চিন্তায়,
কোনওরকমে রাত ভাের হল। ভাের হতেই আমরা পরবর্তী দিনের গন্তব্যের পথের
প্রস্তুতি শুরু করলাম।

Related image
সুন্দর পাহাড়ি পথ তবে মাঝে মাঝে ধসের জন্য রাস্তার পরিসর বেশ সঙ্কীর্ণ।
এই পথ ধরে জঙ্গল পেরিয়ে ছােট-খাটো ২-৪টি গ্রাম পেরিয়ে এবার অপেক্ষাকৃত
বড়গ্রামের পথে এগিয়ে চলেছি। বেশ বড় বড় পাকা বাড়ি মাঝে কিছু কাঠের সুসজ্জিত
ঘরবাড়ি আর পাশেই সবুজ পাহাড়ের হাতছানি। এবার গ্রামে পৌছে সকলেই একটু
চা-পানের জন্য উৎসাহ প্রকাশ করল। কিন্তু এখানে কোনও চা-এর দোকান নেই।
আমরা সঞ্জিতকে চা-এর কথা বলতেই ও কাছেই একটি বাড়িতে প্রবেশ করে চা-এর
অর্ডার দিল। গৃহকর্ত্তী নিজেই আমাদের চা-এর ব্যবস্থা করলেন। আসলে এটিই আমাদের আকাঙ্খিত আদমা গ্রাম। বেশ বর্ধিষ্ণু গ্রাম। বাড়ির পাশেই আনাজ ক্ষেত। প্রত্যেক
বাড়িতে গরু, মুরগি, ছাগল, ভেড়া, শুয়াের পালন হচ্ছে। গ্রামের সামনেই এক বিশা
সবুজ ঘাসে ঢাকা পাহাড় যেন গ্রামটিকে এক ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছে। বড় সুন্দর প্রকৃতি।
আমরা সকলেই উচ্ছসিত, আনন্দিত। আমরা সকাল ৮-৩০ থেকে ঘণ্টা চারেক
হেটে এসেছি। এবার একটু বিশ্রাম সেরে আমরা ধীরে ধীরে বেরিয়ে পড়লাম। সামনেই
সুসজ্জিত পরিবেশে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরিচ্ছন্ন খেলার মাঠ। আর খানিকটা
এগােতেই গ্রামের শেষে নদী বা খােলা। সুন্দর জঙ্গলময় পরিবেশে পাহাড় ঘেরা অঞ্চলে
আজ আমরা টেষ্ট খাটালাম। নদী পেরােতেই বেশ উঁচু পাহাড়। কাল ভােরে ওই
পাহাড় পেরিয়ে দীর্ঘসময় হেঁটে আমাদেরকে পৌছতে হবে বক্সা পাহাড়ে। একেবারে
নদীর ধার ঘেষে টেন্ট খাটানাে হল। নদীর ওপরে বড় বড় পাথরের উপরেই রান্নার
ব্যবস্থা হল। রাতে তারায় ভরা আকাশের নীচে মাথার হেড টর্চ আর গােটা দুয়েক ছােট
এমারজেন্সি লাইটের আলােয় পাথরের উপরে বসে নদীর বুকে রাতের আহার সাঙ্গ
হল বহুদিনের ইচ্ছা গ্রামের শেষে নদীর পাড়ে উন্মুক্ত পরিবেশে একটি রাত কাটাব।
আজ সেই সুযােগের সদব্যবহার হল। জ্যোৎস্না ভরা রাতে বিশাল উঁচু পাহাড়ের কোলে
ঘন জঙ্গলময় পরিবেশে গল্পগুজবে প্রকৃতিকে যেন আরও নিবিড়ভাবে উপলব্ধি করলাম।
বুকভরা আনন্দে বেশ রাতে টেন্টে ঢুকলাম।।Image result for উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি টেন্ট

ঘুম ভাঙতেই টেন্টে বসে চা পান পর্ব সারা হল। এবার যাত্রা পথের প্রস্তুতি।
আজ আমরা মােটামুটি ৭-৮ কিমি হেঁটে অরণ্যে ঘেরা পাহাড়ের মাথায় মনাষ্টির
ঠিক নিচে এক সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে টেন্ট খাটাব। যাইহােক, আমরা প্রথমেই
খােলা পেরিয়ে বেশ চড়াই পথে পাহাড় পেরিয়ে এগিয়ে চলেছি। দীর্ঘ পাহাড়ী পথ
অতিক্রম করে মাঝে মাঝে ছােট ছােট দু-চারটি গ্রাম পেরিয়ে আমরা পৌছলাম বক্সা
পাহাড়ে। সেখানে তখন ভারত-ভূটান তীরন্দাজি প্রতিযােগিতা চলছে। আমরা বক্সায়
কিছুক্ষণ প্রতিযােগিতা উপভােগ করে ধীরে ধীরে বক্সা ফোর্ট, বক্সা বনবাংলাে দেখে
প্যাকড লাঞ্চ খেয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চললাম আজকের গন্তব্য তাসিগাঁও-এর পথে।
মােটামুটি ২ থেকে আড়াই কিমি উর্ধ্বৰ্মখী চড়াই পথে ধীরে এগিয়ে বিকেল ৪-৩০।
মিনিট নাগাদ পৌঁছে গেলাম জঙ্গলে ঘেরা গ্রামের শেষে মনাস্ট্রির ঠিক নিচে। সেখানে
সুন্দর পরিবেশে টেন্ট খাটানাে হল। পাশেই একটি সাজানাে গােছানাে বাড়ি পাওয়া
গেল। গৃহকর্তার ব্যবহারও খুব ভাল। সেখানেই বসে সুন্দর পরিবেশে চা-পান পর্ব
সেরে একটু এদিক-ওদিক ঘুরতেই সন্ধ্যা নেমে এল। সান্ধ্য আসরে আজ উত্তরবঙ্গের
পরিস্থিতি আমাদের অবশিষ্ট আগামী দুদিনের ভ্রমণ এসব আলােচনা সঙ্গে চা-পকোড়া
পর্ব শেষ হতেই রাতের খাবারের আমন্ত্রণ। সত্যিই উপভােগ্য একটি সন্ধ্যা কাটিয়ে
রাতের খাবার খেয়ে টেন্ট-এ বসে গল্পগুজব শেষে ঘুমের জগতে হারিয়ে গেলাম।

পরদিন সকালে আমাদের যাত্রা কিছুটা ব্যহত হল আমাদের সদস্য ভাইদার গতকাল
উৎরাই পথে পায়ে বেশ কিছুটা চোট হয়েছে ভাইদা আজ সকালে হাঁটা পথে যেতে
পারবে না। কাজেই সকালের যাত্রা বাতিল করে আমরা কয়েকজন কিমি পাঁচেক হেঁটে
রােভার্স পয়েন্টের পথে এগিয়ে গেলাম। প্রথমেই মনাষ্ট্রি ঘুরে ধীরে ধীরে পাহাড়ের
মাথায় উঠে খুব সুন্দর একটা জায়গা থেকে পাহাড়ের বিভিন্ন গ্রাম, বিভিন্ন পথ ঘাট,
আমরা এরপর কোথায় যাব সমস্ত পথের সুলুক সন্ধান সেরে ধীরে ধীরে ক্যাম্পে ফিরে
এলাম। পরে ঠিক হল দুপুরের খাবার সেরে আমরা ৩-৪ কিমি দূরে ওছুলাম গ্রামের
পথে এগিয়ে যাব। সেখানে আজ রাত কাটিয়ে সকালে লেপচাখা গ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা
করব।

lepchakha (2)সেইমত দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সেরে আমাদের টেন্ট-এর পেছন দিকে জঙ্গল
পথ ধরে ক্রমাগত নেমে চললাম। বেশ খানিকটা প্রায় ঘণ্টা দেড়েক নেমে আমরা ঐ
দূরে জঙ্গলের মধ্যে একটা গ্রাম দেখতে পেলাম। ধীরে ধীরে নেমে এসে রাত কাটাবার
উপযােগী জায়গার খোঁজ করতে লাগলাম। কিন্তু উপযুক্ত জায়গা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত
অনেকটা নিচে নদীর দিকে একটি গ্রামের মাঝে একটি নির্মীয়মান কাঠের বাড়িতে জায়গা
পেলাম। পেছনে রান্নার জায়গার ব্যবস্থা হল। তবে এখানে তাবু খাটানাে গেল না।
আমরা একটি দোতলা বাড়ির দরজা-জানালা খােলা একটি বড় ঘরে রাত কাটাবার
ব্যবস্থা করলাম। তবে এতদিনের নিঃস্তব্ধ সুন্দর পরিবেশ আজ যেন প্রতিমুহর্তে বিঘ্নিত।
চিৎকার, চেঁচামেচি, কান্নাকটি, হাসাহাসি– সে যেন এক অন্য পরিবেশ। বড় বেশি
চিৎকার হৈ-হট্টগােল। অল্প জায়গাতে বহু মানুষের সমাগম । যাইহােক কোনক্রমে রাত
কাটিয়ে পরদিন ভােরে সুন্দর পথ ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে চললাম এক মনােরম পরিবেশে
লেপচাখা গ্রামের পথে। বড় সুন্দর পাহাড়ি পথ প্রশস্ত পথের দুপাশে নানা রঙের
ফুলে সাজানাে বাড়িঘর। হঠাৎই নজরে পড়ল ওয়েলকাম টু লেপচাখা ভিলেজ। আমরা
ধীরে ধীরে লেপচাখা গ্রামে প্রবেশ করলাম। হঠাৎই আমাদের পাখির ছবিতে আগ্রহী
বন্ধুরা ছুটে একটি গাছের নিচে গিয়ে পরপর বেশ কিছু ছবি সংগ্রহ করল। পরে দেখলাম
লাল, সবুজ, হলুদ নানা রঙের ছােট ছােট বেশ কিছু সুন্দর পাখির ছবি। গ্রামে ঢুকতেই
এক দারুণ অভিজ্ঞতা। গ্রামে ঢােকার মুখেই সুসজ্জিত মনাস্ট্রি। মনাস্ট্রির পাশ দিয়ে
সুন্দর একটি পথ পৌছেছে এক সবুজ মাঠের মাঝে। সেই মাঠের প্রান্ত ঘেষে বেশ
কিছু হােমস্টে। গ্রামে প্রবেশই লেপচাখার সৌন্দর্যে আমরা সত্যিই খুশি। তবে লেপচাখাতে
টেন্ট খাটানাে গেল না। লেপচাখা গ্রামের অনেক নিচে নদীর পথ। তাছাড়া বেশ পরিচ্ছন্ন
গ্রাম। সেইজন্যই সেখানে টেন্ট খাটানাে সম্ভব নয়। এখানে আমরা হােমস্টেতে উঠলাম।
তবে রান্নাবান্না হােমস্টে লাগােয়া উঠানেই ব্যবস্থা হল। বড় সুন্দর পরিবেশ। আমরা
চা-এর কাপ নিয়ে মাঠের মধ্যে ম্যাট্রেস পেতে লেপচাখাকে উপভােগ করলাম। আসলে
বক্সা থেকে ৪-৫ কিমি হেঁটে লেপচাখা পৌছতে হবে, তাই লেপচাখার প্রকৃতি এখনও
অমলিন। যাইহােক দুপুরের খাওয়ার পর লেপচাখা গ্রামকে ঘুরে দেখলাম। অবশেষে
শেষ দিনের গন্তব্য নদীপথের উদ্দেশ্যে বেশ কিছুটা হেঁটে ফিরে এলাম। নদী অনেক
নিচে। সন্ধ্যায় লেপচাখার সেই উন্মুক্ত প্রাঙ্গন থেকে অসাধারণ সুন্দর সানসেট উপতে
করলাম। বেশ কিছু সুন্দর ছবিও পেলাম। রাতে অনেক রাত পর্যন্ত গল্প গুজব সেরে
হােমস্টেতে ফিরে এলাম। কালই আমাদের শেষদিন। কাল ভােরে আমরা লেপচা
গ্রাম থেকে সরাসরি নদীপথে নেমে কখনও দীর্ঘ রিভার বেড বা সংলগ্ন জঙ্গল পথে
হেঁটে পৌছব মহাকাল অঞ্চলে।
যাইহােক, বেশ ভােরে কখনও নদীপথে কখনও ঘন জঙ্গল পথ ধরে হেঁটে চলেছি।
দীর্ঘ পাথুরে কষ্টকর পথ পেরিয়ে আমরা মহাকালের কাছে এসে পৌছেছি।’

মহাকালে পৌছে নদীপথের পট পরিবর্তন। পাহাড়ের গা বেয়ে তীব্র জলধারা
যেন সবুকিছু ভেঙে ফেলে দিতে চাইছে। আমরা হঠাৎ এই জলস্রোতে আতঙ্কিত এবং
সন্ত্রস্ত। কিছুক্ষণ এই রুদ্ররূপ দর্শন সেরে ধীরে ধীরে বেশ কিছু লােহার রেলিং কখনও
মই-এর মাধ্যমে বেশ সহকর্তার সঙ্গে বিপদসঙ্কুল অঞ্চল পেরিয়ে পৌছে গেলাম ভুটানী
মহাকাল মন্দিরের পাহাড়ী প্রবেশ পথের দোরগােড়ায়।

Related image                                সকলেই মন্দিরে প্রবেশ পথে দাঁড়িয়ে মহাকাল মন্দিরের উদ্দেশ্যে প্রণাম জানিয়ে ধীরে ধীরে                 জিপ চলাচলের উপযােগী  আর ২ কিমি দূরে পাথুরে নুড়ি বিছানাে পথে জঙ্গল ঘেরা জয়ন্তী                 নদীর ধারে অপেক্ষা করতে লাগলাম।

মহাকাল মন্দিরে ওই পাহাড়ি সিড়ি ভেঙে ঠাকুর দর্শন সেরে ফিরে
আসতে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক সময়ের প্রয়ােজন। আমাদের আজকেই বিকেল ৪টার সময়
ফেরবার ট্রেন। কাজেই আমরা জিপে জয়ন্তী হয়ে আলিপুর দুয়ারের উদ্দেশ্যে দুপুর
১টা নাগাদ যাত্রা শুরু করলাম। দুপুর ২-৩০ মিনিট নাগাদ আলিপুর দুয়ার স্টেশনে
পৌছে গেলাম। আমাদের গাইড সঞ্জিত গতকাল সন্ধ্যায় বিশেষ প্রয়ােজনে বাড়ি ফিরে
আসে। সে আজ আজ স্টেশনে আমাদের সঙ্গে দেখা করে কেক, কোল্ডড্রিঙ্কস-এর
ব্যবস্থা করে। আমরা খাওয়া-দাওয়া সেরে ট্রেনে বসলাম। সঞ্জিতকে আবার কোনও
ট্যুর-এর প্রােগ্রাম পাঠাতে অনুরােধ করে ফিরে চললাম পরিচিত আঙ্গিনায়।

প্রবীর বসু

probir bosu

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

মিষ্টি নয় ডায়াবেটিস

5 (1) 14ই নভেম্বর সারা পৃথিবীতে ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ডে, আর বাংলায় রসগোল্লা দিবস, এই কন্ট্রাডিকশন শুধু বাংলাতেই সম্ভব ! ভারত এখন মধুমেহের দেশ, আপনি সারা দেশ ঘুরে এমন একটি পরিবার পাবেন না যেখানে অন্তত একজনও ব্লাড সুগার-এর রোগী নেই! কথায় বলে, “জেনেটিকস লোড দি গান, এন্ড লাইফস্টাইল পুলস দি ট্রিগার”, […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: