গজল ডােবা

@
0
(0)

প্রকৃতিপ্রেমীদের চোখে নতুন ঠেকলেও, পক্ষী প্রেমীদের স্বর্গরাজ্য এ স্থান। ভরের
আলাে ফোটার সঙ্গে সঙ্গে মুখরিত হয় পাখির কুজনে। মুখ্যমন্ত্রী তাই বােধহয় নতুন
নামকরণও করেছেন ভােরের আলাে। গজল ডােবা কোনও ডােবা বা জলাশয় নয়।
তিস্তার বুকে তৈরি কৃত্রিম একটি ব্যারেজ। শীতে এখানেই সাইবেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া
থেকে উড়ে আসে হাজারাে পাখির দল। জলে নৌবিহার করতে করতে দেখা মিলবে
পরিযায়ী পাখিদের। আকাশ ঝকঝকে থাকলে চোখের সামনে উদ্ভাসিত হবে কাঞ্চনজঙ্ঘা
প্রতিচ্ছবি এসে পড়বে ড্যামের জলে।

Image result for kanchanjunga against dam view

একদিকে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল। কপাল জোরে পাখি ও হাতির দর্শন একই সঙ্গে হতে পারে।

elephant

এখান থেকে সামান্য দূরেই বােদা গঞ্জের জঙ্গল।

Image result for বােদা গঞ্জের জঙ্গল

সেখানে রয়েছেন মাতা ভ্রামরী দেবী। মার্কণ্ডেয় পুরানাে মাতা ভ্রামরী
শত শত ভ্রমরের রূপ ধরে অরুণাসুরকে ধ্বংস করেন। উত্তরবঙ্গের অতি জাগ্রত
মন্দির এই ভ্রামরী মায়ের মন্দির। স্থানীয় মানুষদের মুখে ভামরী দেবী মন্দির নামেই
খ্যাত। দুপাশে জঙ্গল, সামনে পাহাড় আর সুবিস্তীর্ণ জলরাশি দেখে মন না ভরলে
চলে যাওয়া উত্তরবঙ্গ পর্যটনের মুকুটে নতুন পালক সালুগাড়ার জঙ্গলে গড়ে ওঠা
নর্থবেঙ্গল সাফারি পার্কে।

Image result for উত্তরবঙ্গের জঙ্গল

এখানে হাতির পিঠে চেপে জঙ্গলে ঘােরা যাবে। ঘােরা যাবে
আধুনিক শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কেমােফ্লেজ রঙা ছােট বাসেও। এখানে আছে টাইগার
সাফারি, লেপার্ড সাফারি বার্ড,
লেপার্ড সাফারি, বার্ড সাফারি, হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার সাফারি, ক্রোকোডাইল
ব্রিডিং সেন্টার, টার্টল পার্ক সহ আরও অনেক কিছু।

Image result for উত্তরবঙ্গের জঙ্গল

গাছ-গাছালির ঘন ছায়াঘেরা পরিবেশ
অসাধারণ। ইকো-ফ্রেন্ডলি ফুড পার্কে বসে ডান হাতের কাজও সেরে নেওয়া যেতে
পারে দারুণভাবে। কোনও প্রকার সাফারিতে উৎসাহ না থাকলে শুধু পায়ে হেঁটে ঘুরলেই
সময় কেটে যাবে। প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নির্মিত হয়েছে বিশ্রামস্থল। দু-দণ্ড
জিরােনাের জন্য বসলে আর উঠতে ইচ্ছা করবে না। এখানে গাছপালার সংরক্ষণ
সত্যিই প্রশংসার যােগ্য। এপ্রিল-মে মাসেও গরম অনুভূত হয় না শুধুমাত্র সবুজের
আধিক্যের কারণে। ওই দূরের পাহাড়ি পথ মহানন্দ স্যাংচুয়ারি, রােহিনী পার করে
চলে গেছে কুয়াশা ঘেরা কার্শিয়াঙের দিকে। হাতে সময় থাকলে আরও দুটো দিন জুড়ে
নিলেই কেল্লাফতে।

Related image

যাতায়াত এবং আশ্রয় :
উত্তরবঙ্গগামী যে কোনও ট্রেনে এনজেপি। রেল স্টেশন থেকে গাড়ি বা অটো
ধরে পুরাতন গজলডােবা যা বর্তমানে ভােরের আলাে। মিনিট ৪০ সময় নেবে। ২০৮
একর জমির উপর এই পর্যটন কেন্দ্র। ল্যান্ডস্কেপ ভিউ অতুলনীয়। রয়েছে পরিবেশ
বান্ধব কটেজ ও পার্ক। আছে তিনটি টেন্ট। অনলাইন বুকিং-এর ব্যবস্থা আছে। এছাড়া
নিউ জলপাইগুড়িতে আছে অজস্র হােটেল। সেখানে থেকেও ঘুরে নেওয়া সম্ভব।
তিস্তা ব্যারেজের ধারে তৈরি হচ্ছে বিলাসবহুল হােটেল উচ্চবিত্ত পর্যকদের কথা ভেবে।
চিন্তার বিষয় হােটেল তৈরি হলে আর কটা পাখি আসবে আর পরিবেশেরই বা কী
করুণ পরিণতি হবে? উন্নয়ন যদি প্রকৃতি ধ্বংসেরই অন্য নাম হয়, তাহলে বলবাে থাক
সব কিছুই আদি-অকৃত্রিম হয়ে।

অমিত কুমার দাস

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

 মােহময় মহলদিরাম

0 (0) তােমাদের বিখ্যাত হলদিরামের দোকান, এই হলদিরামকে মনে রেখে, তার আগে। একটা ‘ম’ বসিয়ে নিও। তাহলে যে কথাটি হল সেই মহলদিরাম থেকে আমরা ঘুরে আসছি। তােমরা অবশ্যই যাবে, ঠিকানা। যােগাযােগ সব আমি বলে দেব। বলেছিলেন। শ্রদ্ধেয় শ্রী গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য। নতুন, নতুন বেড়ানাের জায়গা, বিভিন্ন ধরনের পাখিদের নিয়ে যার লেখা […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: