কোষঃভূমিকা;-

@
5
(2)

আমি ভালো, পরিষ্কার একটুকরো কর্ক নিলাম আর একটি ক্ষুরের মত ধারালো পেন্সিল কাটা ছুরি দিয়ে, কর্ক থেকে এমনভাবে একটি টুকরো কেটে নিলাম, যে অবশিষ্ট কর্কের উপরের তল মসৃণ হয়ে গেল… আমি ঐ মসৃণ তল থেকে ছুরি দিয়ে ভীষণ পাতলা একটি টুকরো কেটে নিলাম এবং সেটিকে কালো অবজেক্ট প্লেটের উপর রেখে… সমত্তল কাঁচের মাধ্যমে আলো ফেলে… পরিষ্কার সছিদ্রতা বুঝতে পারলাম, অনেকটা মৌমাছির চাকের কুঠুরির মতই দেখতে, কিন্তু কুঠুরিগুলো অসমান…এই কুঠুরি বা সেলগুলো খুব একটা গভীর নয়… (আমার প্রথম দেখা আণুবীক্ষণিক ছিদ্র এবং সম্ভবত পৃথিবীতেই প্রথম কারণ আমি এমন কোন লেখক বা মানুষকে জানি না, যে এই বিষয়ে এর আগে কোথাও উল্লেখ করেছে)

রবার্ট হুক

WhatsApp Image 2020-01-23 at 1.50.56 PM

১৬৬৫ সালে রবার্ট হুক মাইক্রোস্কোপের নিচে কর্কের সূক্ষ্মছেদ পর্যবেক্ষণ করে, কুঠুরির মত দেখতে একেকটি কোষকে সেল (cell) বলে অভিহিত করেন। এগুলো ছিল মৃত উদ্ভিদ কোষ। সেল শব্দটি তিনিই প্রথম ব্যবহার করেছিলেন।

WhatsApp Image 2020-01-23 at 1.50.39 PM

১৬৭৪ সালে ডাচ পর্যবেক্ষক অ্যানটনি ভ্যান লিউভেনহুক (Antonie van Leeuwenhoek) প্রথম প্রোটোজোয়া এবং ১৬৮৩ সালে প্রথম ব্যাকটেরিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর মাইক্রোস্কোপটির বর্ধিতকরণ ক্ষমতা ছিল প্রায় ৩০০ গুণ। তিনি মাইক্রোবায়োলজির জনক নামেও খ্যাত।

এরপর মাইক্রোস্কোপ উন্নত থেকে উন্নততর হয়েছে। আলোক অণুবীক্ষণযন্ত্রের পর ইলেকট্রন অণুবীক্ষণযন্ত্র এসেছে। যদিও লাইট মাইক্রোস্কোপ, কোষ পর্যবেক্ষণের প্রথম ও প্রধান হাতিয়ার কিন্তু এর রেসোলিউশন সর্বাধিক মাত্র ০.২ মাইক্রোমিটার। সেখানে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের রেসোলিউশন ০.৫ ন্যানো মিটার।

লাইট মাইক্রোস্কোপ ও ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের পার্থক্য :

লাইট মাইক্রোস্কোপ

১) ম্যাগনিফিকেশন ১,৫০০ গুণ সর্বাধিক।

২) আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর শীল।

৩) কাঁচ লেন্স

ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ

১) ম্যাগনিফিকেশন ১,০০,০০০ গুণের বেশি।

২) ইলেকট্রন রেডিয়েশনের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভরশীল।

৩) ইলেক্ট্রোম্যাগনেট লেন্স

বর্তমান পৃথিবীতে কোষ দুইরকম। প্রোক্যারিয়টিক আর ইউক্যারিয়টিক কোষ। প্রোক্যারিয়টিক ও ইউক্যারিয়টিক কোষের প্রধান পার্থক্য :

Image result for প্রোক্যারিওটিক কোষ

প্রোক্যারিয়টিক কোষ

১) পর্দা ঘেরা কোন কোষ অঙ্গাণু নেই

২) জেনেটিক বস্তু পর্দা বিহীন নিউক্লিয়ড

৩) সাধারণত আকারে ছোট হয়

৪) রাইবোজোম ৭০এস প্রকৃতির

ইউক্যারিয়টিক কোষ

১) পর্দা ঘেরা কোষ অঙ্গাণু আছে

২) জেনেটিক বস্তু পর্দা ঘেরা নিউক্লিয়াস

৩) সাধারণত আকারে বড় হয়

৪) রাইবোজোম ৮০এস প্রকৃতির

বিবর্তন নিয়ে বিবাদ আছে :

অনুমান করা হয় আজ থেকে ৩৮০ কোটি বছর আগে প্রথম কোষ তৈরি হয়েছিল। আদিম পৃথিবীর সেই প্রথম একককোষ থেকে, আজকের পৃথিবীর বিচিত্র, বিশালদেহী, বহুকোষী জীব সৃষ্টি হয়েছে, বিবর্তনের মাধ্যমে। এককোষী সরলকোষ থেকে বহুকোষী জটিল জীব হয়ে ওঠার রহস্য সমাধানে সব বিজ্ঞানীরা এখনও একমত হয়ে উঠতে পারেননি, তারা বিভিন্ন শিবিরে বিভক্ত। কোন শিবির দুটি ডোমেন, কেউ তিনটি ডোমেন আবার কোন দল ছয়টি ডোমেনের পক্ষেও তথ্য ও যুক্তি দিয়েছেন।

একটি শিবির মনে করে ব্যাকটেরিয়া কোষ, আর্কিয়া কোষ ও ইউক্যারিয়টিক কোষ তিনটি আলাদা পথে বিবর্তিত হয়েছে।arkiya

অন্য দলটির ধারণা ব্যাকটেরিয়া আর আর্কিয়া দুটি প্রধান ভাগ। ইউক্যারিয়টিক কোষ, আর্কিয়া কোষ থেকে বিবর্তনের ফলে সৃষ্টি।Arkiya image1

আবার অন্য একটি বিবর্তন ধারার সমর্থকরা বলছেন কোন প্রাচীন আর্কিয়া কোষ এন্ডোসিমবায়সিস পধতিতে কোন প্রাচীন ব্যাকটেরিয়া কোষ গিলে ফেলে। এইভাবে ব্যাকটেরিয়া কোষ ও আর্কিয়া কোষ উভয়ে মিলিত হয়ে ইউক্যারিয়টিক কোষ তৈরি করেছে।arkiya2

তবে সম্প্রতি কিছু প্রাচীন আর্কিয়া আবিষ্কৃত হয়েছে গ্ৰিনল্যান্ডের কাছে সমুদ্রের নিচের কাদামাটি থেকে। তার নামকরণ হয়েছে লোকিআর্কিয়া এবং গ্রুপের নামকরণ হয়েছে আসগার্ড । লোকির DNA তে ইউক্যারিয়টের কিছু জেনেটিক বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে। ইউক্যারিয়টিক কোষের সাইটোপ্লাজমে সাইটোস্কেলিটন থাকে কিন্তু প্রোক্যারিয়টিক কোষে সাইটোস্কেলিটন থাকে না। সাইটোস্কেলিটন গঠিত অ্যাকটিন প্রোটিন দিয়ে। সুতরাং প্রোক্যারিয়টিক কোষের DNA তে অ্যাকটিন প্রোটিন তৈরির জিন থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। আশ্চর্য ঘটনা, লোকি নামক নতুন আবিষ্কৃত আর্কিয়ার DNA তে অ্যাকটিন প্রোটিন তৈরির জিন পাওয়া গেছে। তাই অনুমান করা হচ্ছে ইউক্যারিয়টিক কোষ লোকি আর্কিয়া থেকেই এসেছে।Arkiya image

জীব জগতের সবথেকে বড় ভাগ ডোমেন। তারপর আসে কিংডম। তিন ডোমেন সিস্টেমকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে নিয়ে বলা যায় ইউক্যারিয়াটিক ডোমেনের মধ্যে পড়ছে কিংডম প্রোটিস্টা, কিংডম ফানজি, কিংডম প্ল্যানটি আর কিংডম অ্যানিমালিয়া। এদের সবার কোষ ইউক্যারিয়ট প্রকৃতির। ডোমেন ব্যাকটেরিয়া আর ডোমেন আর্কিয়ার কোষ প্রোক্যারিয়ট প্রকৃতির।

পরের পর্বে আমরা ব্যাকটেরিয়া কোষ সম্বন্ধে জানব।

AddText_11-08-11.14.50.PNG

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 2

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

ছােট্ট পাখি টুনটুনি

5 (2) ‘পাখি সব করে রব রাতি পােহাইল’, ‘তারা পাখির ডাকে ঘুমিয়ে পড়ে পাখির ডাকে জাগে।’ বাঙালির জীবনে সংস্কৃতিতে পাখির উজ্জ্বল উপস্থিতি বহুবর্ণে রঞ্জিত। জীবন রসের হাজারাে বৈচিত্রে পাখি আমাদের পরম আদরের। প্রকৃতির গহনে ভালবাসার অকৃত্রিম সঙ্গী। আমাদের দেশে প্রায় ১২৫০ প্রজাতির পাখি আছে। আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশকে এক অপার […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: