আত্মকের আগন্তুক…করোনা ভাইরাস

@
5
(4)

চায়নার জিনিস বেশি দিন যায়না, ক্রেতা বাঙালির এই প্রবাদ মিথ্যে প্রমান করে! সারা পৃথিবী জুড়ে বেশ আত্মকের ব্যাটিং করছে করোনা ভাইরাস । যার আর এক নাম ২০১৯-এনসিওভি।বাতাসের বিস্তার লাভ করে এই ভাইরাস স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিরা এর দ্বারা সরাসরি আক্রান্ত হয়।বিজ্ঞানীরা বলছেন, চিনের উহান বাজারের কোনো একটি প্রাণী এর উৎস ছিল, কিন্তু বর্তমানে করোনা মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে ছড়াচ্ছে । এর জন্মস্থান যে চিন সে বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে না। গত সপ্তাহে মালেশিয়া নিবাসী এক ২৪ বছর বয়সি ভারতীয়ের আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া গেছে,ভারতেও কেরলে ৩১শে জানুয়ারি এক ছাত্রের করোনা আক্রান্ত হবার খবর সামনে এসেছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে এটিই প্রথম করোনা আক্রান্তের ঘটনা।করোনার কোনো প্রতিষেধক বা টিকা নেই, এই পরিস্থিতিতে চিনের বিরুদ্ধে এক দাবি উঠেছে।
জৈব রাসায়নিক অস্ত্র এবং জেনেটিক‌্যাল মিউটেশন কীভাবে মানব সভ‌্যতার ধ্বংস ডেকে আনবে তা দুর্দান্তভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে একাধিক বিখ‌্যাত সায়েন্স ফিকশন এবং হরর থ্রিলার ছবিতে। রেসিডেন্ট ইভিলে দেখানো হয়েছে, গোপন গবেষণাগারে তৈরি ‘টি’ ভাইরাস ও ক্লোনিং প্রক্রিয়া বিভিন্ন নিরীহ প্রাণী ও মানুষের উপর প্রয়োগ করে প্রথমে তাদের জিনগত অভিযোজন ঘটাচ্ছে। তারপর তাদের হিংস্র দানবে পরিণত করে সাম্রাজ‌্য বিস্তারের চক্রান্ত করছে একটি বেসরকারি সংস্থা। কিন্তু দুর্ঘটনাবশত এই গবেষণা বুমেরাং হয়ে যায়। কোটি কোটি মানুষ ‘টি’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জম্বিতে পরিণত হয় এবং গবেষকদের দোষেই মানব সভ‌্যতা প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় দুনিয়া থেকে। আমাদের বলিউডও পিছিয়ে থাকেনি, ক্রিস৩ ছবিটির মূল বিষয়বস্তুই তো এই রকমই এক প্রাণঘাতি ভাইরাস।

Image result for coronavirus"

চিন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস ক্রমেই মহামারির আকার নিচ্ছে। লাফিয়ে বাড়ছে মৃত ও আক্রান্তের সংখ‌্যা। আক্রান্ত হতে বাদ নেই ইউরোপ, আমেরিকাও। বিমানযাত্রীদের মাধ‌্যমে ছড়াচ্ছে ভাইরাস। আতঙ্ক ছড়িয়েছে সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাতেও। এই ঘটনায় রেসিডেন্ট ইভিল সিনেমার ভয়ানক প্রতিফলনই দেখতে পাচ্ছেন অনেকে। কারণ, দুটি দাবি ঘিরে চাঞ্চল‌্য ছড়িয়েছে দুনিয়া জুড়ে। প্রথমটি হল ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সন্দেহ করেছে, রহস্যময় ‘নোভেল করোনা ভাইরাসের’ চাষ করেছে চিনের গোপন সামরিক গবেষণাগার। দ্বিতীয় দাবি, মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট এই দাবিকেই সমর্থন করেছে।

ইজরায়েলের জীবাণু অস্ত্রের বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন, এই ভাইরাসের জন্মদাতা ইউহানের জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র তৈরির কারখানা বায়ো-সেফটি লেভেল ৪ ল্যাবোরেটরি। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, অসাবধানতাবশত এই গবেষণাগার থেকেই ছড়িয়েছে ভাইরাসের সংক্রমণ। আসলে জৈব রাসায়নিক অস্ত্রের উপর গবেষণা করতে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন চিনের বিজ্ঞানীরা। ইজরায়েলের সেনা গোয়েন্দাদের উদ্ধৃত করে সে দেশের দুটি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর ব‌্যাপক আধুনিকীকরণ, ছাঁটাই প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিগত মানোন্নয়ন করছে চিন। চলছে জীবাণু অস্ত্র ও রাসায়নিক অস্ত্র নিয়েও গবেষণা। এরই অঙ্গ হিসাবে সার্স জাতীয় ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছে চিনের সামরিক বাহিনীর গবেষণাগার।

Image result for coronavirus effect to human"

সার্সের পুরো নাম, সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম। জ্বর, হাঁচি, কাশি, শরীরে অসহ‌্য ব‌্যথার মতো উপসর্গ থাকে এই রোগে। পরিণতি ভয়ংকর মৃত্যু। সার্সের মতোই আরেকটি নয়া ভাইরাস হল নোভেল করোনা ভাইরাস। এটি আরও মারাত্মক এবং শক্তিশালী। মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইজরায়েলের মোসাদের দাবি, শত্রুদেশ দখল করতে, বিনা রক্তপাতে শত্রু সেনাদের খতম করতে অনেকদিন ধরেই জীবাণু অস্ত্র নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে চিনের লাল ফৌজ। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশেই এই গবেষণা চলছে। কিন্তু এই গবেষণা যে দুর্ঘটনাবশত বুমেরাং হয়ে যাবে এবং দেশজুড়ে মহামারির আকার নেবে তা ভাবতে পারেননি গবেষকরা। ভাইরাসের দাপটে চিনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

নানা মহলের দাবি, রহস‌্যময় এই ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তা ছড়িয়ে পড়েছে উহান প্রদেশের গোপন গবেষণাগার থেকেই। কোনও কোনও মহল থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, নাশকতা বা অন্তর্ঘাত করেই চিনের কোনও বিজ্ঞানী বা গুপ্তচর এই ভাইরাস ছড়িয়েছেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানিয়েছে, এই আরএনএ ভাইরাসকে চিন তৈরি করেছে মারণাস্ত্র হিসেবেই। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ছোবলে হাজার হাজার মানুষকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলা সম্ভব। উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বিএসএল-৪ ল্যাবরেটরিতে অতি গোপনে এই জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র তৈরির কাজ চলছিল অনেকদিন ধরেই।

ইজরায়েলের দাবি, বিশ্বের সব দেশকে জব্দ করতে, চাপে রাখতে সবচেয়ে শক্তিশালী জীবাণু অস্ত্র বানাচ্ছে চিন। এজন‌্যই জিনগত অভিযোজন ঘটিয়ে করোনা ভাইরাসের মতো অনেক ভাইরাস তৈরি করছেন চিনের সামরিক বাহিনীর গবেষকরা। ইজরায়েলি সেনা গোয়েন্দা দপ্তরের প্রাক্তন প্রধান লেফটেন্যান্ট ড্যানি শোহাম জানিয়েছেন, ‘বায়ো-ওয়ারফেয়ার বা জীবাণু যুদ্ধের জন্য তৈরি হচ্ছে চিন। জিনের কারসাজিতে এমন ভাইরাস তৈরি করা হচ্ছে যা মিসাইল, ড্রোন, বোমা বা সামান‌্য একটি পেন অথবা ঘড়ির মধ্যে দিয়েই ছড়িয়ে দেওয়া যায় শত্রুর ভূখণ্ডে। সেই ভাইরাসের দাপটে ২৫ দিনের মধ্যেই মৃত্যু মিছিলে উজাড় হয়ে যেতে পারে একটি বড় শহর বা একটি জেলা।’ মার্কিন সংবাদমাধ‌্যম ও ইজরায়েলের গোয়েন্দাদের দাবি ভিত্তিহীন জল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছে চিন। কিন্তু ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসাবে কোনও টিকা, ওষুধ বা ইঞ্জেকশন কাজ না করায় সন্দেহ তির রয়েছে চিনা গবেষণাগারের উপরেই।
চিনে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৩০ জনের বেশি মারা গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০০ ছাড়িয়েছে, এ নিয়ে বিবিসির এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোগীদের শরীরে নিউমোনিয়া তৈরি করছে, এমন একটি ভাইরাস সবসময়েই উদ্বেগজনক। চিনের স্বাস্থ্যদপ্তর নিশ্চিত করেছেন যে, করোনা ভাইরাসের কারণে সেখানে অসুস্থতা বা মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে।করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায় নি। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ছয়টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে নতুন ধরণের ভাইরাসের কারণে সেই সংখ্যা এখন থেকে হবে সাতটি।Image result for coronavirus"

২০০২ সাল থেকে চিনে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া সার্স (পুরো নাম সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৭৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল আর ৮০৯৮ জন সংক্রমিত হয়েছিল। সেটিও ছিল এক ধরণের করোনাভাইরাস। সার্সের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনো চিন ভুলতে পারেনি, ফলে নতুন ভাইরাসের প্রচণ্ড ভীতির তৈরি হয়েছে।
জ্বর দিয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়, এরপরে শুকনো কাশি দেখা দিতে পারে। প্রায় এক সপ্তাহ পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। অনেক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়। প্রচন্ড জ্বর, পেট ব্যাথ্যা, নিউমোনিয়া এমন কি রোগীর অঙ্গবিকল পর্যন্ত হয়ে যায় l সংক্রমণের লক্ষণ প্রকাশ পেতে ৫দিন সময় লাগে l প্রতি চারজনের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা মারাত্মক পর্যায়ে যায় বলে মনে করা হয়।আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ২ শতাংশ রোগীর মৃত্যু হয়েছে ।করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে হালকা ঠাণ্ডা লাগা থেকে শুরু করে মৃত্যুর সব উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশ্ব জুড়ে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারির কথা ভাবছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যেমনটি তারা করেছিল সোয়াইন ফ্লু এবং ইবোলার সময়।

Image result for সোয়াইন ফ্লু এবং ইবোলা"

ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এই পর্যন্ত ৩৩০ জনের কিছু বেশি সংখ্যক মারা গেছে বলে জানা যাচ্ছে। রোগের প্রকোপের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কম বলে মনে হলেও, এই পরিসংখ্যান নির্ভরযোগ্য নয়। কিন্তু যেহেতু সংক্রমণ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বেশ খানিকটা সময় লাগে, ফলে আরো অনেক রোগী মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হল, রোগে আক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু হাসপাতাল বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়নি, এমন রোগীদের সংখ্যা আসলে কত, সেই তথ্য কারো জানা নেই।
সবসময়েই নিত্য নতুন ভাইরাস সনাক্ত হয়ে থাকে। কোন একটি প্রাণী থেকে এসে এসব ভাইরাস মানব শরীরে বাসা বাঁধতে শুরু করে।নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ জোনাথন বল বলছেন, ‘’আমরা যদি অতীতে মহামারিগুলোর দিকে তাকাই, এমনকি এটা যদি নতুন করোনাভাইরাসও হয়, এটা কোন একটা প্রাণীর শরীর থেকে এসেছে।‘’ সার্স ভাইরাস প্রথমে বাদুরের শরীর থেকে খট্টাশের শরীরে, এরপরে সেটা মানব শরীরে চলে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের ফুসফুসের রোগ মার্স (পুরো নাম : মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম, যাতে ২৪৯৪জন সংক্রান্ত রোগীর মধ্যে ৮৫৮ মারা গিয়েছিলেন, রোগটি নিয়মিতভাবে এক কুঁজওয়ালা উট থেকে মানব শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।একবার যদি ভাইরাসের উৎস প্রাণীটি সনাক্ত করা সম্ভব হয়, তাহলে রোগটি মোকাবেলা করা অনেক সহজ হয়। করোনা ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্ক আছে চিনের উহানের দক্ষিণ সমুদ্রের খাবারের পাইকারি বাজারের সঙ্গে। যদিও বেশ কিছু সামুদ্রিক প্রাণী করোনা ভাইরাস বহন করতে পারে (যেমন বেলুগা তিমি), ওই বাজারটিতে অনেক জীবন্ত প্রাণীও থাকে, যেমন মুরগি, বাদুর, খরগোশ, সাপ- এসব প্রাণী করোনা ভাইরাসের উৎস হতে পারে। গবেষকরা বলছেন, চিনের হর্সশু নামের একপ্রকার বাদুরের সঙ্গে এই ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। চিনের বিশাল আকৃতি এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং যেসব প্রাণী ভাইরাসটি বহন করে, সেগুলোর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কযুক্ত ।

Image result for coronavirus effected animal"
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এক জন সংক্রমিত ব্যক্তি রোগটি গড়ে ১.৪ থেকে ২.৫ জন ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।এই সংখ্যাকে বলা হয় ‘বেসিক রিপ্রোডাকশন নাম্বার অথবা মৌলিক প্রজনন সংখ্যা’- যা একের বেশি হওয়া মানে হল রোগটি স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে। এটি এমন একটি ভাইরাস যা নিজে থেকে বিনষ্ট বা বিলুপ্ত হয়ে যাবে না। শুধুমাত্র চিনে গৃহীত সিদ্ধান্ত – যেমন শহরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার মতো কড়া পদক্ষেপের ফলেই শুধুমাত্র রোগটির বিস্তার ঠেকানো যেতে পারে। যদিও এসব সংখ্যা এখনো প্রাথমিক হিসাব, তারপরেও তারা করোনাভাইরাসকে সার্স ভাইরাসের সঙ্গে তুলনা করছে।এখানে আরো উদ্বেগের ব্যাপার হল, রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোন লক্ষণ ছাড়া ব্যক্তিরাও ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিতে পারেন। তবে কত তাড়াতাড়ি বা কত সহজে সেটা ঘটতে পারে, তা এখনো পরিষ্কার নয়, কিন্তু এর ফলে ভাইরাসটি সংক্রমণ ঠেকানো আরো কঠিন হয়ে পড়ছে ।রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সপ্তাহে প্রায় ৪০ থেকে ৮০০ জন আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু এই পরিসংখ্যানের মধ্যেও বিভ্রান্তি আছে। বেশিরভাগ নতুন রোগী আগে থেকেই চীনে ছিল, শুধুমাত্র চিন তাদের নজরদারি বাড়ানোর পর সনাক্ত হয়েছে। ফলে মহামারিটির বিস্তার সম্পর্কে খুবই কম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সম্ভবত সরকারি তথ্যের চেয়ে বেশি মানুষ রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। চিনের বাইরেও যেভাবে রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে, তাই ধারণা করা হচ্ছে চিনের সরকার আক্রান্তের যে সংখ্যা বলছে (প্রায় ৪০০০ রোগী), আসল রোগীদের সংখ্যা তার দ্বিগুণ। তবে তার মানে এই নয় যে, মহামারিটি দ্বিগুণ আকৃতির হয়ে গেছে। যদিও এখনো রোগটির প্রাদুর্ভাব উহান কেন্দ্রিক, কিন্তু থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, নেপাল এবং যুক্তরাষ্ট্রে রোগী পাওয়া গেছে।ভাইরাসটি মিউটেট করে নিজের আকৃতির পরিবর্তন ঘটতে পারে l করোনা ভাইরাস এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এটা হয়তো একজন ব্যক্তি থেকে আরেকজন ব্যক্তিতে ছড়ানোর জন্য পরিবর্তিত হতে পারে কিংবা আরো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
ভাইরাসটি নিজে থেকে ধ্বংস হবে না। শুধুমাত্র চিনের কর্তৃপক্ষে নেওয়া পদক্ষেপই এই মহামারির অবসান ঘটাতে পারে। ভাইরাস প্রতিরোধক করতে কোন ভ্যাকসিন বা টিকা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। এই রোগ থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় হল অন্যদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ হতে না দেওয়া।
মানুষজনের চলাচল সীমিত করে দেওয়া।

Image result for coronavirus effected animal"
হাত-পা ধোয়া এবং ব্যাক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় করা।
স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পড়ে রোগীদের আলাদা আলাদা করে চিকিৎসা সেবা দেওয়া।
রোগীদের ভাইরাস রয়েছে কিনা তা জানতে এবং রোগীদের সংস্পর্শে আসা লোকদের সনাক্ত করার জন্যও সতর্কতা বা নজরদারি ব্যবস্থার প্রয়োজন।
বিশ্বের অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় নজিরবিহীন কিছু কাজ করেছে চিন – বিশেষ করে উহান অঞ্চলটিকে একেবারে আলাদা করে দিয়ে। আরো প্রায় এক ডজন শহরের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে পড়েছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ। অনেক এলাকায় বড় জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অনেক পর্যটন এলাকা, যার মধ্যে চিনের গ্রেট ওয়াল রয়েছে, বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্রস্থল – উহানে নতুন একটি হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে ১০০০ শয্যা হবে।
উহান থেকে আসা ভ্রমণকারীদের পরীক্ষানিরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ। রোগটির প্রাদুর্ভাবের ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুতি নিতে বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। উহান থেকে আসা বিমানযাত্রীদের পরীক্ষানিরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে সিঙ্গাপুর এবং হংকং। একই ধরণের ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য।

Image result for coronavirus effect to human"
রোগের লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে যদি পাঁচদিন লাগে, তাহলে কেউ একজন সহজেই অর্ধেক পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে ফেলতে পারবে এবং অসুস্থ বোধ করার আগেই এসব পরীক্ষানিরীক্ষা পার হয়ে যাবে। এই মুহূর্তে বলা কঠিন যে আমাদের আসলে কতটা উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।যতক্ষণ পর্যন্ত উৎস সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত হতে না পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত এটা সহজ হবে না। মানব শরীরের প্রথমবারের মতো ছড়িয়ে পড়ছে, এমন যেকোনো ভাইরাস নিয়েই আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত, কারণ এটা প্রথম সারির বাধা অতিক্রম করেই ছড়িয়েছে। একবার মানব কোষের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ার এবং প্রতিলিপি তৈরির পরে এটা দ্রুত রূপান্তরিত হতে শুরু করে। ফলে এটা আরো ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।রোগের কোন প্রতিষেধক অথবা চিকিৎসা নেই। শুধু লক্ষণ গুলির সাময়িক উপশম এখন করা হচ্ছে , তবে রোগটির প্রতিষেধক আবিষ্কারের কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে মার্স ভাইরাসের(সেটিও একটি করোনাভাইরাস) প্রতিষেধক আবিষ্কারে যে গবেষণাটি চলছিল, সেটির কারণে এই কাজ অনেক এগিয়ে যাবে।

লেখকঃ সৌভিক রায়

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 4

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

অলৌকিক নয় আছে বিজ্ঞান

5 (4) আগুনের উপর হাঁটাঃ- আগুনকে ভয় পায় না এমন কোনাে প্রাণী পৃথিবীতে আছে বলে জানা নেই। অথচ বহু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেখা যায় কিছু সন্ন্যাস ও ভক্তের দল গনগনে আগুনের উপর দিব্যি নির্ভয়ে হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে। আগুন তাদের স্পর্শও করছে না। এ রকম অকল্পনীয় ঘটনা দেখে সাধারণ মানুষ সহজেই বিশ্বাস […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: