ক্যান্সার থেকে বাঁচতে কি খাব ? আর কি খাব না? ক্যান্সার প্রতিরোধক খাবার

@ 4
4.1
(8)

খাদ্যের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্যান্সারের যােগাযােগ বেশ প্রগাঢ়।বেশ কিছু খাদ্য যেমন ক্যান্সার উৎপাদনে সাহায্য করে, তেমনই এমন অনেক খাদ্যই রয়েছে যা, ক্যান্সার প্রতিরােধক।
আজ আমরা টাটকা সঞ্জীব শাকসবজী, টাটকা মাছ, স্বাস্থ্যসম্মত পানীয় জল পাই না বললেই চলে। শস্যদানা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বহুল পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে মারাত্মক সব রাসায়নিক সার, যার মধ্যে প্রায়
সবগুলিই ক্যান্সার-উৎপাদক পদার্থ, বহু খাদ্যবস্তুই নানান পরিবেশদূষণকারী পদার্থ দ্বারা দূষিত থাকে, সেগুলি খাওয়ার আগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধােওয়া হয় না। পানীয় জলও নানা ক্যান্সার-উৎপাদক পদার্থের (Carcinogen) উপস্থিতিতে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সর্বোপরি রয়েছে গরিব দেশে সুষম খাদ্য গ্রহণের অভাব। ফলস্বরূপ সঠিক মাত্রায় প্রােটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, খনিজ লবণ এবং ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণের
অভাবে মানুষের স্বাভাবিক প্রতিরােধ ক্ষমতার হ্রাসপ্রাপ্তি ঘটে। যার ফলে, প্রতিনিয়ত ভােজ্য হিসাবে গ্রহণ করা নানান কারসিনােজেনের বিরুদ্ধে লড়াই করা মানুষের পক্ষে সম্ভব হয় না।।

Image result for carcinogenic foods"

কারসিনােজেন (Carcinogen) বা ক্যান্সার উৎপাদক পদার্থ কী?

কারসিনােজেন নানা ধরনের যৌগ বা পদার্থ, যা আমাদের শরীরে ক্রিয়া করে সুস্থ কোষকলাকে ক্যান্সার কোষকলায় পরিণত করতে সাহায্য করে। এমন শয়ে শয়ে কারসিনােজেনকে প্রতিহত করা কিংবা এর থেকে দূরে থাকা অথবা এগুলির সৃষ্টিতে বাধা দেওয়ার কাজটা আমরা যথাযথভাবে করতে পারলে ক্যান্সারকে যে প্রতিরােধ করতে পারব, তাতে সন্দেহ নেই।
খাদ্যের মাধ্যমে ক্যান্সার প্রতিরােধ করতে গেলে আমাদের দুভাবেভাবতে হবে :

(১) খাদ্য যখন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় এবং (২) খাদ্য যখন ক্যান্সার প্রতিরােধ করে।

১. যে যে খাদ্য ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়

চর্বিজাতীয় খাদ্য : আফ্রিকার প্রত্যন্ত গ্রামের বান্টু উপজাতিদের মধ্যে, শিল্পাঞ্চলের মানুষদের চেয়ে ক্যান্সারের প্রকোপ কম। আসলে দেখা গেছে, এই বান্টু উপজাতি সমাজে অতি অল্প Fat বা চর্বিযুক্ত খাদ্য এবং প্রচুর Fiber বা আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করবার রীতি রয়েছে। জাপান এবং ফিনল্যান্ডকে বাদ দিলে দেখা যাচ্ছে, যে দেশ যত বেশি শিল্পে উন্নত, সে-দেশে খাদ্য থেকে ক্যান্সারের ঝুঁকি তত বেশি। এই ক্যান্সারগুলি সাধারণত Colon বা বৃহদন্ত্র, Rectum বা মলাশয়, Breast বা স্তন, Uterus বা জরায়ু এবং Prostate বা প্রস্টেট গ্রন্থির ক্যান্সার। শিল্পোন্নত দেশগুলির মানুষ বেশি পরিমাণে চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে থাকে, যা শিল্পে অনুন্নত দেশের মানুষেরা করে না।।Image result for cancer"

নুন এবং নুনে সংরক্ষিত খাদ্য : নুন বা লবণকে অনেকে মনে করেন ক্যান্সার সৃষ্টির ক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। লবণ দ্বারা সংরক্ষিত খাদ্য দিনের পর দিন খেলে পাকস্থলী এবং খাদ্যনালীতে ক্যান্সার সৃষ্টি হচ্ছে।

ফাস্ট ফুড (Fast Food) : ফাস্ট ফুডে সাধারণত চর্বি জাতীয় খাদ্য বেশি থাকে, পরিমাণে সােডিয়াম লবণও বেশি থাকে, কিন্তু আঁশযুক্ত খাবার থাকে পরিমাণে অতি অল্প, এমনকী অল্প থাকে ক্যালসিয়াম লবণও। তাই শুধু ক্যান্সার নয়, ঝুঁকি বাড়ে হৃদরােগের,ঝুঁকি বাড়ে হাড়ক্ষয়জনিত রােগেরও।

Image result for carcinogenic foods"

রেড মিট : পাঁঠা, খাসি, গরু, শূকর ইত্যাদির মাংসকে সাধারণভাবে রেড মিট বলা হয়। নিয়মিত রেড মিট গ্রহণে বৃহদন্ত্র এবং মলাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি বুদ্ধি পাচ্ছে।

খাদ্যে সংরক্ষক বা সংযােজক মিশ্রণ : নাইট্রেট দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা অনেক দিনের। সাধারণত সােডিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হয়। এই যৌগটি মাংসের সঙ্গে মেশালে মাংসকে বহুক্ষণ টাটকা রাখা যায়- রন্ধন করা মাংসও অনেক বেশি সজীব লাগে।অন্যান্য অনেক খাদ্যবস্তুই নাইট্রেট দ্বারা সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে।নাইট্রেট যৌগটি নাইট্রাইটে পরিণত হয় এবং সেটা চূড়ান্তভাবে পাকস্থলীতে নাইট্রোসামাইন যৌগে পরিবর্তিত হয়, যেটি একটি কারসিনােজেন বা ক্যান্সার উৎপাদক পদার্থ। এর থেকেই পাকস্থলীতে ক্যান্সার হচ্ছে।
ছাতা (Fungus) পড়া খাদ্য : অনেক সময় বাদাম জাতীয় খাদ্যদ্রব্যগুলির উপর ছাতা পড়ে যায়, এর নাম অ্যাসপারগিলা ফ্লেভাস(Aspergillus flavus)। এই ছাতার মধ্যে থাকে আফলাটক্সিন (Aflatoxin) নামে একটি শক্তিশালী কারসিনােজেন ,যা লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

Image result for fungus on food"

কীটনাশক পদার্থ থেকে : বিভিন্ন কীটনাশক পদার্থ, যেমন DDT,Aldrin, CCl, Arsenic, Vinyl Chloride ইত্যাদির যথেচ্ছ ব্যবহারে খাদ্যবস্তু দূষিত হচ্ছে, আর যার ফলস্বরূপ ক্যান্সার রােগের ঝুঁকি
অনেকটাই বেড়ে গেছে।

খাদ্যে সংযােজকের (Additive) মিশ্রণ : সংযােজক হিসেবে খাদ্যে মিশ্রিত বস্তুর কিছু কিছু সাংঘাতিক কারসিনােজেন বলে মনে করা হচ্ছে। খাদ্যবস্তুকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করার জন্য বেশ কিছু সংযােজক মেশানাে হয়, যার অধিকাংশই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। এগুলি হল, বিভিন্ন রঙ, যেমন মদ্যপান (বোঁদে,বিরিয়ানী, জিলিপি, কমলাভােগ বা ঘুগনিতে কখনাে কখনাে মেশানাে
হয়), আয়রণ অক্সাইড, লেড ব্রোমেট ইত্যাদি। এসব থেকে পাকস্থলী বা বৃহদন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে। এখন আবার বাজার ছেয়ে গেছে চাওমিন নামে এক ধরনের খাবারে। অতি আকর্ষণীয় এবং সুস্বাদু করার
জন্য এর মধ্যে প্রায়ই মেশানাে হচ্ছে জনপ্রিয় একটি পদার্থ। এর নাম আজিনাে মটো (মনােসােডিয়াম গ্লুটামেট)। জেনে রাখুন, এই পদার্থটি একটি সক্রিয় কারসিনােজেন।

Image result for আজিনাে মটো"

আগুনে ঝলসানাে খাদ্য(Smoked Food) : অনেক সময় আমরা মাছ, মাংস বা অন্যান্য সবজীযুক্ত খাবারকে আগুনে ঝলসে নিয়ে অর্থাৎ খাদ্যবস্তুকে ঝলসে বাদামী রঙে বা প্রায় পুড়িয়ে নিয়ে খেতে পছন্দ করি। এই ক্ষেত্রে কারসিনােজেন হল পলিসাইক্লিক অ্যারােমেটিক হাইড্রোকার্বন,যা, ওই খাদ্যবস্তুর উপরিতলে জমা হয়।

Image result for Smoked Food"

পানীয় : অত্যধিক মদ্যপান যে, মুখগহ্বরের, কণ্ঠনালীর, খাদ্যনালীর,অগ্ন্যাশয় গ্রন্থি কিংবা লিভার ইত্যাদির ক্যান্সার সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে,তা আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। মহিলাদের মধ্যে যারা খুব বেশি মদ্য পান করে থাকেন, তাদের স্তন ক্যান্সারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।কফি খুবই জনপ্রিয় পানীয়। কিন্তু এই পানীয় থেকে মূত্রথলির
ক্যান্সার হতে পারে বলে গবেষকগণ মনে করছেন।

Image result for drinking alcohol"

জল : জলে কখনাে কখনাে কিছু কিছু কারসিনােজেনের উপস্থিতি বেশ কিছু ক্যান্সার সৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি করে। দেখা গেছে, জলে মিশ্রিত ট্রাইহ্যালােমিথেন, পরিপাকতন্ত্র এবং মূত্রথলির ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
আবার, জলে যখন আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম, নিকেল, অ্যাসবেসটস ইত্যাদি দূষিত পদার্থ মিশ্রিত থাকে (যেগুলি সবই পরিচিত কারসিনােজেন), তখন সেই জল থেকে ক্যান্সারের প্রবণতা যে বাড়ে, তাতে সন্দেহ নেই। খুব গরম পানীয় খাওয়ার অভ্যেস থেকে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকির কথাও বলা হচ্ছে বেশি কিছু গবেষণায়।

২. খাদ্য যখন ক্যান্সার প্রতিরােধ করে

ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই সহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থযুক্ত, বিশেষ করে সেলেনিয়ামযুক্ত ফলমূল, শাকসবজী ও অন্যান্য খাদ্যবস্তু ক্যান্সার প্রতিরােধ করছে বিভিন্নভাবে।

ক্যান্সার প্রতিরােধী কিছু খাদ্যবস্তু : লেবু জাতীয় ফল,আলু,পেয়ারা, আমলকি (ভিটামিন-সি-এর ভাণ্ডার), টমেটো, দুধ, ডিম,সবুজ শাকসবজী, আম, অন্য শাকসবজী, লাল গাজর, নটে শাক, মূলাে (সবই ভিটামিন-এ-তে সমৃদ্ধ); বেশ কিছু শাকপাতা, উদ্ভিজ্জ তেল, শস্যদানা, মায়ের দুধ,বাদাম (এসবে ভিটামিন-ই রয়েছে)।
টমেটোর মধ্যে উপস্থিত লাল রঞ্জক পদার্থ লাইকোপিন (Lycopene), সুস্থ কোষকে ক্যান্সার কোষে পরিণত হতে বাধা দেয়।অন্যান্য সবজীর মধ্যে বাঁধাকপি,ফুলকপি, সবুজ ফুলকপি ইত্যাদির মধ্যে রয়েছে ইনডােল-3 কারবিনল (Indole-3-Carbinol), যা স্তন ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে।
যারা প্রচুর মাছ খেয়ে থাকেন,বিশেষ করে মাছের তেল, তাদের মধ্যে মুখগহুর, কণ্ঠনালী, পাকস্থলী, মলাশয়, স্তন, বৃহদন্ত্র, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয় এবং প্রস্টেস্ট গ্রন্থির ক্যান্সার হবার প্রবণতা কমে যায়। মাছের মধ্যে পাওয়া যায় ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড (Omega-3 fatty acids), যা এইসব ক্যান্সার থেকে মানুষকে রক্ষা করে।

Image result for Omega-3 fatty acids"

শিম-এর মধ্যে থাকে আইসােফ্লেভােন (Isoflavones), যা কিছু কিছু ক্যান্সার জিনকে ধ্বংস করতে পারে, যে-জিন সুস্থ কোষকে ক্যান্সার কোষে পরিবর্তনের বার্তা বহন করেন। সােয়াবিনের মধ্যে থাকে প্রােটিয়েজ ইনহিবিটার (Protease In-hibitors), যা ক্যান্সার সৃষ্টির শুরু দিকে সুস্থ কোষকে ক্যান্সার কোষে পরিবর্তন হওয়া বন্ধ করে। সােয়াবিন থেকে বৃহদন্ত্র, স্তন, প্রসেস ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। শসার মধ্যে, বিশেষ করে শসার ছালে, পাওয়া যায় স্টেরল (Sterols) যেটি গ্রহণ করলে শরীরের কোলেস্টেরল কম, ফলে চর্বিও কমে এবং এই কারণে ঝুঁকি কমে বৃহদন্ত্র, মলাশয়, স্তন, প্রস্টেস্ট,জরায়ুর ক্যান্সারের। সুতরাং শসা খেতে হবে ছাল সমেত।
রসুন এবং পেয়াজ গ্রহণে পাকস্থলী এবং পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন জায়গায় ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। পাকস্থলীতে সাধারণভাবে পরিপাকের কারণে নাইট্রোসামিন নামক যে-কারসিনােজেন উৎপন্ন হয়ে থাকে, সেগুলিকে নষ্ট করে দেয় পেঁয়াজ এবং রসুন।হলুদের মধ্যেও রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরােধক যৌগ, যার নাম
কারকিউমিন প্রতিরােধ করে। সবুজ চায়ের মধ্যে পাই ক্যাটেচিস্,(Catechis) নামক ক্যান্সার প্রতিরােধক পদার্থ। আঙুরের মধ্যেও থাকে ক্যান্সার প্রতিরােধক রাসায়নিক, নাম রেসভেরাট্রল (Resveratrol),যা লসিকাগ্রন্থি, পাকস্থলী এবং স্তন ক্যান্সার সৃষ্টিতে বাধা দেয়।

Image result for green tea"

আঁশ বা ছিবড়েযুক্ত খাদ্য : 1960 সালে জর্জ ওয়েটেল (George 0ettle) নামক একজন গবেষক প্রথম আমাদের জানালেন যে,আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণের সঙ্গে বৃহদন্ত্র (Colon) ক্যান্সার কমে যাবার এক অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক রয়েছে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামে বান্টু উপজাতির উপর গবেষণা করছিলেন। এরা প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাদ্য খেয়ে থাকে।চিকিৎসক ভেনিস বার্কিট(Denis P. Burkitt) উগান্ডায় দেখলেন যে, সেখানকার মানুষ প্রচুর পরিমাণে আঁশ আছে এমন খাদ্য খায় বেশি। এদের খাদ্য তালিকায় চীনাবাদাম(ground mut), মিষ্টি আলু (Sweet potato), রাঙা আলু (Yarns),কলা, ছালসহ প্রচুর শাকসবজি ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় প্রতিদিন আঁশ বা তস্তুর পরিমাণ থাকতে 50 থেকে 250 গ্রামের মতো। লক্ষ্য করলেন, এদের বৃহদন্ত্রের ক্যান্সার হয় না বললেই চলে। প্রচুর আঁশযুক্ত খাদ্য খওয়ার কারণে এদের খাদ্য গলাধঃকরণ করা থেকে পায়খানা ,করার মধ্যে সময়ের ব্যবধানও অনেক কমে যায়। আর এই কাল
পরিপাকতন্ত্রের মধ্যে শক্ত বর্জ্য পদার্থ খুব বেশিক্ষণ অবস্থান করার সুযােগ পায় না। খাদ্যের মধ্যে অবস্থিত কিছু পদার্থ, যা শরীরে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে, সেগুলি খুব তাড়াতাড়িই শরীর থেকে নির্গত হয়ে যায়।
খাদ্যে অবস্থিত চর্বিজাতীয় পদার্থের সহায়তায় পৌষ্টিক নালীতে অবস্থিত জীবাণুগুলি পৌষ্টিক নালীর ভিতরে প্রচুর ক্যান্সার উৎপাদক পদার্থ বা কারসিনােজেন তৈরি করে ফেলে। এই কারসিনােজেন এবং
শরীরের পিত্তরসের Bile acids উভয় মিলেই বৃহদন্ত্রে সৃষ্টিতে প্রধান ভূমিকা নেয়। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় ওই উপজাতি মানুষগুলির ক্ষেত্রে এই ক্ষতিকারক পদার্থগুলি খুব তাড়াতাড়ি শরীর থেকে নির্গত হয়ে যাচ্ছে তাে বটেই, এমনকী পায়খানার পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে এগুলি অনেকটাই লঘু হয়ে যাচ্ছে।Image result for sweet potato"

ক্যান্সার রোধে কি করবেন আর কি করবেন না ?

(১) খাদ্যবস্তু বেশি জলে ডুবিয়ে রান্না করবেন না। যত কম জলে  রাঁধবেন, ভিটামিন-সি তত বেশি খাদ্যে ধরে রাখা সম্ভব হবে। এই কারণে ভিটামিন-সি যুক্ত খাদ্যবস্তু যেমন, আলু, বাঁধাকপি, সবুজ ফুলকপি, পালং শাক ইত্যাদি খুব অল্প জলে, অল্প সময় ধরে রাধতে হবে। এছাড়া ভিটামিন-সি বাতাসে খুলে রাখলেই বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া ঘটিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।।

(২) চেষ্টা করুন খাদ্যবস্তুকে না কেটে গােটা রেখে রাঁধতে। রাঙা আলু গােটা রাঁধলে ৪9% ভিটামিন-সি ধরে রাখা যায়।

 

Image result for vegetables"

ক্যান্সার প্রতিরােধী খাদ্য নির্দেশাবলী :

(১) এমন সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন যাতে শরীরের ওজন স্বাভাবিক থাকে। (২) অতিরিক্ত ক্যালােরি প্রতিদিন কমিয়ে স্বাভাবিক করুন। (৩)চর্বিজাতীয় খাদ্য কম করে খান। (৪) বেশি করে মাছের তেলসহ মাছ খান, যেখানে প্রচুর ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। (৫) পােলট্রির মাংস খান চর্বি ছাড়া। (৬) রেডমিট খাওয়া কমিয়ে ফেলুন। (৭) প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাদ্য খান। প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবে ক্যান্সার
প্রতিরােধের জন্য প্রয়ােজন হয় 25 থেকে 35 গ্রাম আঁশ বা ছিবড়ে।(৮) প্রতিদিনকার খাবারে রাখবেন ফল, মূল, শাকসবজী, শস্য, খাবার,যাতে অবশ্যই থাকবে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ। (১) অত্যধিক
লবণ এবং খাদ্য সংরক্ষক ও সংযােজক ত্যাগ করুন। (১০) অতিরিক্ত ঝলসানাে খাদ্য খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। (১১) কফি কম খান,চা খেতে পারেন। (১২) মদ্যপান একেবারে কমিয়ে ফেলুন। (১৩)।অত্যাধিক গরম অবস্থায় কোনাে খাদ্য গ্রহণ করবেন না।

ডাঃ শঙ্কর কুমার নাথ    WhatsApp Image 2020-06-14 at 15.45.23

পেশায় চিকিৎসক,   ক্যানসার বিশেষজ্ঞ

লেখাটি’ক্যান্সার থেকে মুক্তি পাবার উপায় (ক্যান্সার প্রতিরোধ)’ বই তে জানুরারি ২০১৭ সালে প্রকাশ।

WhatsApp Image 2020-06-14 at 15.32.24

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.1 / 5. Vote count: 8

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

4 thoughts on “ক্যান্সার থেকে বাঁচতে কি খাব ? আর কি খাব না? ক্যান্সার প্রতিরোধক খাবার

Leave a Reply

Next Post

ডার্ক এনার্জিঃ কতটা প্রাসঙ্গিক?

4.1 (8) অনেক অনেক কাল আগে মানবসভ্যতার শুরুতে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ব্যাপ্তি ছিল খুবই ছােট। উপরে আকাশ আর নীচে পৃথিবী এই নিয়েই ছিল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। সময়ের গতিতে জ্ঞানের পরিধি যত বেড়েছে ব্রহ্মাণ্ডের ব্যাপ্তিও বেড়েছে তত। ওপরের আকাশে ধরা পড়েছে মহাজাগতিক বস্তু। পৃথিবীর স্থান হয়েছে ব্রহ্মাণ্ডের এক ছােট্ট পরিসরে, সৌরজগতের ছােট এক অংশ হিসাবে। […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: