ডার্ক এনার্জিঃ কতটা প্রাসঙ্গিক?

অনেক অনেক কাল আগে মানবসভ্যতার শুরুতে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ব্যাপ্তি ছিল খুবই ছােট। উপরে আকাশ আর নীচে পৃথিবী এই নিয়েই ছিল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। সময়ের গতিতে জ্ঞানের পরিধি যত বেড়েছে ব্রহ্মাণ্ডের ব্যাপ্তিও বেড়েছে তত। ওপরের আকাশে ধরা পড়েছে মহাজাগতিক বস্তু। পৃথিবীর স্থান হয়েছে ব্রহ্মাণ্ডের এক ছােট্ট পরিসরে, সৌরজগতের ছােট এক অংশ হিসাবে। সৌরজগতও তার আধিপত্য হারিয়ে স্থান পেয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির নগন্য সদস্য হিসাবে। আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির মতাে লক্ষ লক্ষ গ্যালাক্সি নিয়েই আজকের ব্রহ্মাণ্ড।

Image result for মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি"
ক্রমপ্রসারমানতা ব্রহ্মাণ্ডের এক স্বতস্ফূর্ত স্বপ্রণােদিত বিষয়।১৯২৯ সালে এডুইন হাল ব্রহ্মাণ্ডের ক্রমপ্রসারমানতার বিষয়টি পরীক্ষালব্ধ ভাবে প্রমাণ করে দেখান। ব্রহ্মাণ্ডের ক্রমপ্রসারমানতা।
বিষয়টি কেমন? ব্যাপারটা এরকম : একটা চুপসানাে রবারের বেলুনের গায়ে কালাে কালি দিয়ে কতকগুলাে বিন্দু এঁকে বেলুনটিকে ফোলানাে হতে থাকলে দেখা যাবে বিন্দুগুলাে পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।বেলুনটিকে যতই ফোলানাে হবে বিন্দুগুলাের পারস্পরিক দূরত্ব ততই বাড়তে থাকবে। ব্রহ্মাণ্ডের ক্রমপ্রসারমানতা বিষয়টিও ঠিক এ রকম।ব্রহ্মাণ্ডেও গ্যালাক্সিগুলাে পরস্পর থেকে দুরে সরে যাচ্ছে। ব্রহ্মাণ্ডকে করে তুলছে ক্রমপ্রসারমান। এডুইন হাবলের আগে বিষয়টিকে তাত্ত্বিক ভাবে উপস্থাপিত করেছিলেন বিজ্ঞানী এ এ ফ্রীডম্যান। আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বকে অবলম্বন করে ফ্রিডম্যান দাঁড় করিয়েছিলেন ব্রহ্মাণ্ডের এমন এক মডেল যেখানে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছিল ব্রহ্মাণ্ডের সতত অস্থিরতার। ফ্রীডম্যানের মডেল থেকে এটাও দেখা গেছে যে গ্যালাক্সি সমূহের পরস্পর থেকে দূরে সরে যাওয়ার বেগ তাদের মধ্যেকার দূরত্বের সমানুপাতিক হবে অর্থাৎ পারস্পরিক দুরত্ব যত বাড়বে তাদের বেগও বাড়বে সমহারে। পরীক্ষামূলক ভাবে সেটা দেখানাে গেছে হাবলের পরীক্ষায়।

Image result for হাবলের পরীক্ষা"
১৯২৯ সালে এডুইন হাবল নক্ষত্রের বিস্ফোরন বা সুপারনােভা থেকে ব্রহ্মাণ্ডের ক্রমপ্রসারমানতা সম্বন্ধে স্থির সিদ্ধান্তে আসার পর থেকেই জ্যোতিঃপদার্থবিদেরা একটা ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন যে ঠিক কতটা বেগে গ্যালাক্সিগুলাে পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
তাদের ধারনা ছিল মহাকর্ষীয় বল অর্থাৎ যে বলে গ্যালাক্সিগুলাে পরস্পরকে আকর্ষণ করছে তার প্রভাবে গ্যালাক্সিগুলাের পারস্পরিক বেগে ভাটা পড়ার কথা। ১৯৯০ সাল। সত্যিই বেগে ভাটা পড়ছে।
কিনা তা পরখ করে দেখতে নেমে পড়লেন দুটি স্বতন্ত্র জ্যোতিঃপদার্থবিদের দল। নজর রাখলেন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের দিকে।আশ্চর্যজনক ভাবে তারা দেখলেন ক্রমপ্রসারন বেগ তাে কমছেই না বরং বেড়েই চলেছ। সিদ্ধান্ত করলেন, নিশ্চয়ই মহাকর্ষ বলের প্রভাবকে কাটিয়ে বেগ বাড়িয়ে তুলছে নতুন কোন শক্তি। জ্যোতিঃপদার্থবিদেরা সেই শক্তির নাম দিলেন ‘ডার্ক এনার্জি’।

Image result for dark energy"
ক্রমপ্রসারমান ব্রহ্মাণ্ডের ক্রমবর্ধমান বেগের নিয়ন্ত্রক হিসাবে ডার্ক এনার্জি কে ঢাল করে সমস্যার সাময়িক সমাধান তাে হল। কিন্তু বিজ্ঞান গবেষণা থেমে থাকে না। আর কোন বৈজ্ঞানিক সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে বার বার চলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ডার্ক এনার্জিও তার ব্যতিক্রম নয়।সাম্প্রতিক গবেষণায় ডার্ক এনার্জিকে তেমন আমল দিচ্ছেন না জ্যোতিঃর্বিজ্ঞানী মহল। ক্রমপ্রসারমান ব্রহ্মাণ্ডের নিরন্তর বেড়ে যাওয়া বেগের কারণ হিসাবে ব্রহ্মাণ্ডের ঘনত্বের অসম বণ্টনের কথাই ভাবছেন বিজ্ঞানীর দল। ডার্ক এনার্জি তাহলে কি শুধই হেঁয়ালি?Image result for dark energy"

রতন দেবনাথ

Published by @

পরিবেশ, পরিবেশ আন্দোলন, দূষণ, গাছ, নদী, পাহাড়, সাগর

Leave a Reply

%d bloggers like this: