বিবর্তনের বাইবেলের পিতা

@
3.3
(10)

Portrait of Charles Darwin

It is so easy to hide our ignorance under such expressions as the plan of creation or unity of design, etc., and to think that we give an explanation when we only restate a fact.

যিনি বিবর্তনের বাইবেল লিখেছিলেন আজ তাঁর জন্মদিন। তিনি ছিলেন মুক্ত চিন্তক পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা ছিলেন ডাক্তার আর মা ছিলেন শিল্পপতির মেয়ে। তাঁর ঠাকুরদাদা ছিলেন মুক্ত চিন্তক ডাক্তার ও কবি । চার্লস রবার্ট ডারউইন (Charles Robert Darwin) জন্মেছিলেন আজকের দিনে, 12 ই ফেব্রুয়ারী, 1809 সালে, স্রুসবারি, ইংল্যান্ডে। এটি তাঁর 211 তম জন্মবার্ষিকী।

শিক্ষিত সচ্ছল পরিবারের সন্তান চার্লসকে প্রথমে এডিনবরা ইউনিভারসিটিতে পাঠানো হয় মেডিসিন পড়তে, 1825 সালে। সেখানেই তিনি আরো বেশি করে মুক্ত বৈপ্লবিক চিন্তা ভাবনার সংস্পর্শে আসেন। সেখানে তিনি ফরাসি প্রকৃতিবিদ ল্যামার্কের শিষ্য গ্রান্ট এর সান্নিধ্যে আসেন। কিন্তু শল্যচিকিৎসার রক্তপাত, অ্যানাস্থেটিক ছাড়া সার্জারি আর অ্যান্টিসেপ্টিক এর অভাবে মৃত্যু, এসব তাঁর সহ্য হল না। তাই ডাক্তারি পড়া মাঝপথে বন্ধ করে দিলেন। এবার তার বাবা তাকে পাঠিয়ে দিলেন সম্পূর্ণ বিপরীত পরিবেশে। তিনি ভর্তি হলেন কেমব্রিজ ইউনিভারসিটিতে থিয়লজি পড়তে, 1828 সালে। সেখানে ঠিক উল্টো কথাবার্তা, বিপরীত শিক্ষা।

এরপর 1831 সালে কেমব্রিজের এক প্রফেসরের প্রস্তাবে এইচ এম এস বিগল জাহাজে চড়ে পাড়ি দেন সাউথ আমেরিকায়। প্রকৃতিবিদ হিসাবে তাঁর ভ্রমণের সমস্ত খরচ বহন করেছিলেন জাহাজের ক্যাপ্টেন রবার্ট ফিট্জরয় (Robert Fitzroy)। কারণটা অদভুত। ফিট্জরয় মনে করতেন তিনি একা থাকলে ডিপ্রেশনে আত্মহত্যা করবেন তাই তার এক ভদ্র পরিবারের শিক্ষিত সঙ্গী প্রয়োজন। পাঁচ বছর পর 1836 সালে ওরা ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন।

ডারউইন ও ওয়ালেস এর যুগ্ম ত্বত্ত সর্বসমক্ষে আসে ১৮৫৮ সালের পয়লা জুলাই , লিনিয়ান সোসাইটি এর অধিবেশনে। ওয়ালেসের পর্যবেক্ষণ ন্যাচারাল সিলেকশন ডারউইনের থিয়োরি কে মজবুত করেছিল। অ্যালফ্রেড ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace) এর মাথাতেই প্রথম ন্যাচারাল সিলেকশনের ত্বত্ত এসেছিল। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ওয়ালেস ভেবে বের করেছিলেন পৃথিবীতে সবথেকে স্বাস্থ্যবান প্রাণীটিই সবথেকে বেশিদিন বেঁচে থাকবে এবং কালক্রমে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি করবে।

ডারউইন ধৈর্য ধরে থিয়োরি গঠন করেছিলেন। তথ্য প্রমাণ তো আগেই জোগাড় করেছিলেন, তারপর 15 বছর ধরে বিভিন্ন তথ্য প্রমান সাজিয়ে তাঁর মতবাদ শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাড় করালেন। প্রথমে 35 পাতার একটি খসড়া তৈরি করেন, পরে সেটাকেই বাড়িয়ে 230 পাতার পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেন। শেষ পর্যন্ত 1859 সালে তাঁর থিয়োরি একটি সম্পূর্ণ বইয়ের আকারে সাধারণ পাঠকের সামনে আসে The Origin of Species by Means of Natural Selection of the Preservation of Favoured Races in the Struggle for Life নামে। যেটি সারা পশ্চিম পৃথিবীর মানব সৃষ্টি সম্বন্ধীয় ধর্মীয় মতবাদের মূলে আঘাত করল। ব্লাসফামি দোষে দুষ্ট বইটি সঙ্গে সঙ্গে বেস্টসেলার হয়ে গেল।

ফরাসি বিপ্লবের পরবর্তী যুগের মানুষ বলেই হয়ত তাঁকে ততটা বিরোধীতার সম্মুখীন হতে হয়নি যত তাঁর আগেকার বিজ্ঞানী ও মুক্ত চিন্তকদের হতে হয়েছিল। বরং তিনি অনেক সমর্থনকারী পেয়েছিলেন যেমন হুকার, লায়ল, হাক্সলে। বিজ্ঞান ইতিমধ্যেই তার জয়ধ্বজা ওড়াতে শুরু করে দিয়েছিল চার্চের উপরে বা বলা ভালো ধর্মের উপরে। তাতে অবশ্য চার্লস রবার্ট ডারউইনের কৃতিত্ব কম হয় না বরং সমস্ত তথ্য প্রমান একত্রিত করে একটি বইয়ের আকারে, যখন অরিজিন অফ স্পিসিস সামনে এল তখন এটি আরওই অপ্রতিরোধ্য, অনস্বীকার্য, অকাট্য হয়ে দাড়াল। ধর্ম ব্যাবসায়ীদের পক্ষে শুধু বাকি রইল তাঁকে ব্যাঙ্গ করা। 73 বছর বয়সে এই ব্রিটিশ অজ্ঞেয়বাদী (Agnostic) প্রকৃতিবিদ মারা যান।

উৎপন্ন তেল না খেয়ে শরীর তাৎক্ষনিক ভাবে বেঁচে যাবে কিন্তু পৃথিবী বাঁচবে কি? খাদ্য সংক্রান্ত ব্যবসা ছাড়াও অন্য ব্যবসায় এই তেলের বহুল ব্যবহারের ফলে এর উৎপাদন বন্ধ করা সম্ভব নয়। বাস্তবে আফ্রিকান অয়েল পাম উদ্ভিদ প্রজাতিটি সবথেকে কম খরচে, কম সময়ে, কম জায়গায় সবথেকে বেশি তেল উৎপাদনে সক্ষম। সুতরাং একরের পর একর জঙ্গল কেটে পাম তেলের গাছের এক ফসলি চাষ অর্থাৎ মোনোকালচার হচ্ছে। মোনোকালচার একটি ভয়ঙ্কর প্রবণতা। এতে প্রাকৃতিক, স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র ধবংস হয়ে যায় এবং তার বদলে জন্ম নেয় একটি অস্বাভাবিক, কৃত্রিম বাস্তুতন্ত্র। কৃত্রিম বাস্তুতন্ত্রে স্থানীয় প্রজাতির প্রাণীদের খাদ্য থাকে না, সঠিক বাসস্থানও থাকে না ফলে স্থানীয় প্রজাতির মৃত্যু অবধারিত হয়। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রেনফরেস্টে যে সব এন্ডেমিক (endemic) এবং বিপদগ্রস্থ (endangered) প্রাণীরা আছে, খাদ্য ও বাসস্থান হারিয়ে, তারা (যেমন বাঘ, গণ্ডার, হাতি ইত্যাদি প্রাণীরা) আরো বিপদে পড়ছে। যাদের সংরক্ষণ দরকার উল্টে তারাই প্রায় বিলুপ্তির সম্মুখীন। আর জঙ্গল পুড়িয়ে ফেলার ফলে বাতাসে গ্রিন হাউস গ্যাস আরও বেড়ে যাচ্ছে। বাতাসে ভাসমান কণার (particulate matter) পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। জল ও মৃত্তিকা দূষণ হচ্ছে সে তো বলাই বাহুল্য। যখন যখন জঙ্গল পোড়ান হচ্ছে তখন ওখানে কৃত্রিম কুয়াশার বা হেজের সৃষ্টি হচ্ছে। একে “হেজ এপিসোড” বলা হচ্ছে। এই কৃত্রিম কুয়াশা কিন্তু এক জায়গাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। হেজ এপিসোডের সবথেকে বেশি প্রভাব পড়ছে গর্ভস্থ ভ্রূণ, সদ্যজাত শিশু আর ছোট ছোট বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের উপর। পরিণত বয়সের মানুষও নিস্তার পাচ্ছে না। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৫ সালে ঐ অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ লোকের অকাল মৃত্যু হয়েছে যার কারণ বাতাসের দূষণ এবং তার ফলে হওয়া শ্বাসযন্ত্রের অসুখ, চোখ আর ত্বকের রোগ আর হার্টের অসুখ। পাম তেল আমাদের স্বাস্থ্যের এবং যে পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে তা পৃথিবীর স্বাস্থ্যের ভয়ানক ক্ষতি ডেকে আনছে। ভারত সরকার পাম তেল আমদানির উপর অতিরিক্ত শুল্ক ধার্য করলে আমরা এই বিশেষ তেলের ব্যবহার বন্ধ করার দিকে এক ধাপ এগোব।

মৌমিতা হীরা

darwin, charles, theory of evolution, charles darwin, darwin day, darwin day 2019, on the origin of species, darwin's doubt, darwinian, darwin's theory of evolution, was darwin wrong

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 3.3 / 5. Vote count: 10

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

আবহাওয়ার পূর্বাভাস।

3.3 (10) আজ আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার কথা। আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়ে লিখতে হবে। যে কোনো বিষয়ে আগাম কিছু বলতে হলে সবার প্রথমে সেই বিষয় সম্পর্কে বিশদে জানতে হবে। যেহেতু আমাদের বিষয় আবহাওয়া তাই সবার আগে জানতে হবে আবহাওয়া বলতে আমরা কী বুঝি। তার একটা সাধারণ সংজ্ঞা আছে। আমাদেরকে অর্থাৎ পৃথিবীকে […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: