বহু মােচা-যুক্ত কলাগাছ।

@
0
(0)
Image result for banana flowerঘটনা-১ঃ চব্বিশ পরগনা জেলার অশােকনগর ব্লকের গিলেপােল গ্রামের ধানের মাঠের আলে বেড়ে ওঠা এক কাচা কলাগাছের (M4Sa paradisiacal L.) কাদিতে একটির পরিবর্তে অনেক মােচা বেরিয়েছে।
কাদির যে জায়গা থেকে কলার ছড়া বেরনাের কথা সেখান থেকে তৈরি হওয়া দন্ডাকৃতি অংশে (পরিভাষায় যাকে বলে বিভাজিত inflorescence rachis) দেখা গেল এক বা একাধিক মােচা। সমগ্র কাদিটিতে মােচার সংখ্যা আঠাশটি। এ এক অদ্ভুত প্রকৃতির খেলা।স্থানীয় কিছু মানুষের চেষ্টায় তার ইতিমধ্যেই দেবত্ব প্রাপ্তি ঘটেছে।তবে কালবৈশাখির ঝড়ে গাছটি উৎপাটিত হওয়ায় যুক্তিবাদী মানুষেরা হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেও গাছটিতে কয়টি কলা হয় এবং কলার আকার আকৃতিই বা কেমন হয় তা জানা গেল না।
Image result for many flower in one banana tree
ঘটনা-২ঃ নদীয়া জেলার হরিণঘাটার কাষ্ঠডাঙ্গা অঞ্চলে আরও একটি এরকম উদাহরণ পাওয়া গেছে। ভােমরা বিলের পাশে নীচু ধানের জমি। জমির পাশে ছােট্ট একটি ডােবা। ডােবার ধারে অনাদরে
বেড়ে ওঠা কিছু গাছ-গাছালির মধ্যে রয়েছে একটি বিশেষ কলাগাছ (Musa paradisiacal L, বীজ-কলা প্রজাতির)। বিশেষ, কারণ সে অন্যদের থেকে ভিন্ন। তার গর্ভে একই সাথে বেড়ে উঠছে আটচল্লিশটি
সন্তান (পড়ুন ‘মােচা’)। তবে আগের ঘটনার সাথে এই ঘটনার কিছু প্রকৃতিগত পার্থক্য রয়েছে। এক্ষেত্রে কলাগাছের মঞ্জরিদন্ডটি বেরিয়ে একদম অগ্রভাগে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে। প্রতিটি ভাগ পুনরায়
বিভাজিত হয়ে এক বা একাধিক মােচা ধারণ করেছে। এখন দেখার বিষয় কলার সংখ্যা এবং প্রকৃতি কেমন হয়।
সম্ভাব্য কারণ ও ব্যাখ্যাঃ কলা গাছের পুষ্পমঞ্জরি হল প্যানিকুলেট বা মিশ্র স্প্যাডিক্স প্রকৃতির অর্থাৎ এক্ষেত্রে থােড়ের অগ্রভাগ মঞ্জরিদন্ড হিসাবে বেরিয়ে আসে এবং পুষ্প ধারণ করে। পুষ্পগুলি গুচ্ছাকারে
মঞ্জরিদন্ডের নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থেকে উদ্গত হয় এবং তা স্পেদ বা নৌকোকৃতি অংশ দ্বারা ঢাকা থাকে।
Image result for Musa paradisiacal L
কলার ছড়া ছাড়তে ছাড়তে মােচার ক্ষয়িত শেষাংশ মঞ্জরিদন্ডের অগ্রভাগে অবস্থান করে। এটাই সম্ভব।
কিন্তু প্রথম ঘটনার ক্ষেত্রে মঞ্জরিদন্ডের যে অংশ পুষ্প বের হওয়ার কথা সেখান থেকে মঞ্জরিদন্ডের শাখা উদগত হয়েছে। আমরা জানি,পুষ্প একপ্রকার পরিবর্তিত বিটপ। এক্ষেত্রে পুষ্প তৈরি হওয়ার সময় পরিবর্তন ছাড়াই বিটপ বা শাখা উৎপন্ন হয়েছে। এটি একপ্রকার বিকাশগত ত্রুটি। দ্বিতীয় ঘটনায়, অমুকুল থেকে মঞ্জরিদন্ডের বিকাশের সময় অমুকুলটি সম্ভবত কোন কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকতে
পারে। তাই খন্ডিত অমুকুল থেকে একাধিক শাখা উৎপন্ন হয়েছে।প্রতিটি শাখা পুনরায় বিভাজিত হয়েছে এবং প্রতিটি বিভাজিত শাখা এক বা একাধিক মােচা ধারণ করেছে।
উপরিউক্ত কলাগাছ দুটি একই প্রকৃতিগত অবস্থায় (মাঠে জলযুক্ত জমির পাশে) এবং একই ঋতুতে বহু মােচা যুক্ত কাদি উৎপন্ন করেছে।তাই কোন আবহাওয়াগত বিষয়ও এই অস্বাভাবিকত্বের জন্য দায়ী
থাকতে পারে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়ােজন। এবং তারপর…
গবেষণার মাধ্যমে যদি নিয়ন্ত্রিতভাবে বহু মােচা যুক্ত কলাগাছ উৎপাদন করা সম্ভব হয় এবং কলার সংখ্যা ও প্রকৃতি যদি স্বাভাবিক থাকে তাহলে চাষিদের লাভের অঙ্ক কয়েক গুণ বাড়বে এবং কলা চাষে নব দিগন্ত উন্মােচিত হবে।
ডঃ তুষার কান্তি নাথ।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

রাতের আনন্দের পর চির অন্ধকারে

0 (0) সেদিন সকালে হাসপাতালের আউটডােরে পেশেন্ট দেখছি। একটি  ২০-২২ বছরের ছেলেকে দুজনে দু’হাত ধরে নিয়ে এসে আমার সামনের চেয়ারে বসিয়ে দিল। স্বাস্থ্যবান যুবক। বিমর্ষ মুখ। এর কি এমন অসুবিধা হল যে ধরে আনতে হল। তবে কি দেখতে পাচ্ছে না ?কেমন একটা বিষগ্নভাব সবার মুখে। ভিতরের প্রশ্নগুলিকে বাইরে আনলাম। –বলুন […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: