প্রফুল্লচন্দ্র রায় এবং বেঙ্গল কেমিক্যাল

১৯০১ সালের জুলাই মাসের প্রথম দিক। প্রেসিডেন্সি কলেজে তৃতীয় বার্ষিক শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে। দুপুর ১২টা থেকে সেই বহুশ্রুত অধ্যাপকের ক্লাস। ছাত্রেরা উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছে। দ্বিতীয় ঘণ্টা পড়ল, বেয়ারা রেজিস্টার খাতা টেবিলে রেখে পাশে সরে দাঁড়াল।
স্মিত-মুখে দরজা দিয়ে ঢুকলেন অধ্যাপক মশাই। বিলাত ফেরৎ, অথচ টাই বাধা নেই, গলাবন্ধ একটা কোট পরা। কোটটা সুতির, সাদা-কালাে চৌখুপিওয়ালা ছিটের। রেজিস্টার খাতা খুলে নাম ডাকলেন ছাত্রদের,
একটু-আধটু পরিচয় নিলেন। কিন্তু একটা বিষয় সবাইকে অবাক করল, অধ্যাপক মশায়ের গায়ে যেমন কোট অবিকল সেই রকমের কোট ওই বেয়ারার গায়ে। বিকেলবেলা ছাত্ররা বিষয়টা প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের স্যার গুপীবাবুর কাছে জানতে চাইল। হাসতে হাসতে গুপীবাবু বললেন, ‘হ্যা একটা থান কিনে চারটা কোট করিয়েছিলেন, দুটো বেয়ারাকে দিয়েছেন আর দুটো নিজে পরেন।
Image result for profulla chandra royহ্যা, আমরা আলােচনা করছি স্যার প্রফুল্লচন্দ্র রায়কে নিয়ে। বিশিষ্ট চরিত্রদের নিয়ে আলাপ আলােচনার সময়ে আমাদের স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে মানুষটির দোষ ত্রুটি ভুলে গিয়ে একটা মহত্ত্বের আরােপিত গাউন তার গায়ে পরিয়ে দেওয়া। কিন্তু পি. সি. রায় এমন একজন মানুষ যার গায়ে ওইরূপ পােষাক পরানাে মানে সােনাকে গিল্টি করা। তার মতাে একজন মানুষের আবির্ভাবের জন্য শুধু বিজ্ঞানজগত নয় একটা গােটা সমাজ, একাধিক প্রজন্ম এবং মানবিকতা যুগের পর যুগ অপেক্ষা করে থাকে।তার স্নেহ, ভালােবাসা ও আদরে পরবর্তী কয়েক প্রজন্মের ভূত-ভবিষ্যৎ সুনির্দিষ্ট হয়।
১৮৬১ সালের ২ আগস্ট খুলনা জেলার রাড়ুলী গ্রামে এক সন্ত্রান্ত কায়স্থ পরিবারে প্রফুল্লচন্দ্র রায় ওরফে ফুলু’র জন্ম হয়। আত্মচরিতে তিনি লিখেছেন ‘আমি জন্মেছিলাম সেই কালে যখন বাঙালির ছিল গােলা ভরা ধান, দেহ-জোড়া স্বাস্থ্য, গােয়াল-ভরা গরু, পুকুর-ভরা মাছ। কামার, কুমার, ধােপা, নাপিত সব ছিল বাঙালি। গ্রামে গ্রামে কত বারােয়ারি উৎসব আর বার মাসে তের পার্বণ। কপােতাক্ষদের এক পারে রাড়ুলী আর অপর পারে মধুসূদনের স্মৃতিধন্য সাগরদাঁড়ি।
এই রাড়ুলী গ্রামে বাবা হরিশচন্দ্র রায়চৌধুরী ও মা ভুবনমােহিনী দেবীর ছয় সন্তানের অন্যতম প্রফুল্ল ছােটবেলা থেকেই পড়াশুনার প্রতি বিশেষ অনুরক্ত ছিল। ন’বছর বয়স পর্যন্ত গ্রামের মাইনর স্কুলে পড়াশুনা করে তিনি ১৮৭০ সালে কলকাতার হেয়ার স্কুলে ভর্তি হন। সেখানে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় পেটের সমস্যায় বছরখানেক অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরে যান। আবার ফিরে এসে অ্যালবার্ট স্কুলে ভর্তি হন। প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করে বিদ্যাসাগরের মেট্রোপলিটন কলেজে এফ. এ.কাসে ভর্তি হলেন প্রফুল্ল। কিন্তু মেট্রোপলিটন কলেজে রসায়ন পড়ানাে হত না বলে তিনি রসায়নের পাঠ নিতেন প্রেসিডেন্সী কলেজে।
সেখানে পেডলার সাহেবের পড়ানাে তাকে রসায়ন শাস্ত্রে বিশেষ আকৃষ্ট করে তােলে। যদিও বাংলা সাহিত্যের প্রতিও তার বিশেষ ভালােবাসা ছিল। তবু এসময়েই বিজ্ঞানের প্রতি তার আত্মনিবেদন সুনির্দিষ্ট হয়। তিনি লিখেছেন, “আমি সাহিত্যের মায়া কাটিয়ে বিজ্ঞানেরই আনুগত্য স্বীকার করলাম এবং ক্রমে বিজ্ঞানেরই একজন একনিষ্ঠ সেবক হলাম।”
Image result for professor pedler at presidency college
পরবর্তীকালে নিজের পরিশ্রমে প্রতিযােগিতা মূলক পরীক্ষায় সফল হয়ে ‘গিলক্রাইস্ট স্কলারশিপ পেয়ে ১৮৮২ সালে প্রফুল্লচন্দ্র চড়ে বসলেন ইংল্যান্ডের জাহাজে। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন, পদার্থবিদ্যা ও প্রাণিবিদ্যা নিয়ে বি.এস.সি. পাঠে ভর্তি হলেন। ১৮৮৭ সালে পেলেন ডি.এস.সি. উপাধি। এ সময়ে তাঁর
গবেষণা-নিবন্ধ উচ্চ প্রশংসিত হয় এবং তার জন্য প্রফুল্লচন্দ্র ‘হােপ পুরস্কার’-এ ভূষিত হন। এমত সময়ে তার লেখা ‘India before and after the Mutiny’ গ্রন্থটি সে দেশে বিশেষ প্রশংসা লাভ করে। দেশে ফিরে ১৮৮৯ সালে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়ন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক রূপে যােগ দেন। শিক্ষাদানের পাশাপাশি চলে গবেষণার কাজ।১৮৯৪ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়ন বিভাগে আধুনিক মানের ল্যাবরেটরি চালুর সঙ্গে সঙ্গে প্রফুল্লচন্দ্রের গবেষণার কাজে যেন জোয়ার এল। এই সময়ে ঘটল
সেই অভূতপূর্ব ঘটনা। প্রফুল্লচন্দ্রের ভাষায়, ‘মার্কিউরাস নাইট্রাইট আবিষ্কার করার পর আমার জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূত্রপাত হল।
Image result for marcuras nitrite
একদিন ল্যাবরেটরিতে পারদের ওপর অ্যাসিডের ক্রিয়ার দ্বারা মার্কিউরাস নাইট্রাইট তৈরি করতে গিয়ে আমি কাচের পাত্রটির নীচে হলদে রঙের দানা (crystal) পড়তে দেখে একটু অবাক হলাম। প্রথমে মনে হয়েছিল এ কোনাে basic salt; কিন্তু ওই রকম প্রক্রিয়া দ্বারা ওই শ্রেণির সল্টের উৎপত্তি সাধারণ অভিজ্ঞতার বাইরে। যাইহােক প্রাথমিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হল যে এটা মার্কিউরাস সল্ট ও নাইট্রাইট-দুইই।’ এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক পেডলার বলেন  ‘P. C. Roy by his discovery of the method of preparation of the compound (Mercurous Nitrite) has filled up a blank in our knowledge of the Mercury series.’ এশিয়াটিক সােসাইটির জার্নালে এই আবিষ্কারের কথা প্রকাশ পাওয়ার পর ইউরােপের বৈজ্ঞানিক সমাজে তা বিশেষ আলােড়ন তুলল। পরবর্তীকালে প্রফুল্লচন্দ্র তার গবেষণায় তেরটি বা তার অধিক নতুন পারদ ঘটিত যৌগ আবিষ্কার করেন। নাইট্রাইট ও হাইপাে নাইট্রাইট বিষয়ে তার বৈচিত্র্যময় গবেষণাকর্মের জন্য তাকে *Master of Nitrites’ বলা হয়।।
বিশিষ্ট ফরাসী রসায়নবিদ বার্থেলাের সঙ্গে মতবিনিময় করার সময়  রসায়ণ জগতে প্রাচীন সংস্কৃত রসায়ন বিষয়ক বইগুলি যেমন অষ্টাঙ্গ  হৃদয়, রসেসার সংগ্রহ, রমেন্দ্র চিন্তামণি, শার্ধর সংহিতা, চক্রদত্ত  সংগ্রহ, রসরত্নাকর ইত্যাদি তিনি যত্ন সহকারে পাঠ করেন এবং ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে থাকেন। অবশেষে  এই সকল অভিজ্ঞতা ১৯০২ সালে প্রকাশিত যুগান্তকারী গ্রন্থ ‘A  History of Hindu Chemistry-র জন্ম দেয়। এই বইতে তিনি  প্রমাণ করেন যে প্রাচীন হিন্দুরা বিজ্ঞান তথা রসায়ন শাস্ত্রে ছিল  আত্মনির্ভর, উন্নত এবং অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্বের পথ প্রদর্শক।
প্রফুল্লচন্দ্র শুধুমাত্র একজন শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক কিংবা ল্যাবরেটরীর চার দেওয়ালের মধ্যে দক্ষ গবেষক ছিলেন না। তিনি ছিলেন ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নিবেদিত প্রাণ। তার অর্থে, তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হত কত দরিদ্র মেধাবী ছাত্রেরা। তিনি ছিলেন বাঙালির অন্যতম টা অভিভাবক। বন্যায়, দুর্ভিক্ষে তাই বার বার প্রফুল্লচন্দ্র তার ছাত্রদের নিয়ে ভিক্ষার ঝুলি হাতে কলকাতার পথে নেমেছেন। বাঙালির সমাজ জীবনকে পণপ্রথা, অস্পৃশ্যতা, জাতিভেদ এইসব কুসংস্কারের আগল থেকে মুক্ত করে তুলতে তিনি আমরণ চেষ্টা করেছেন। বাঙালির শিল্পোদ্যোগের ইতিহাসে প্রফুল্লচন্দ্রের কীর্তি চিরস্মরণীয়।
১৯৯২ সালে প্রফুল্লচন্দ্র তখন ৯১নং আপার সার্কুলার রােডে ভাড়া রয়েছেন। সেই বাড়িতে ওই সালেই প্রতিষ্ঠা পেল ‘বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস্। রীতিমতাে মার্কেট রিসার্চ করে কি ধরনের রাসায়নিক ও ঔষধপত্রের বাজারে চাহিদা রয়েছে তা বুঝে নিয়েছিলেন প্রফুল্লচন্দ্র। উৎপন্ন দ্রব্যের মান যাচাই করা হত প্রেসিডেন্সি কলেজের ল্যাবরেটরিতে।
সাইট্রিক অ্যাসিড, সালফিউরিক অ্যাসিড ইত্যাদি তৈরির পরিকল্পনা পেরিয়ে তিনি নজর দিলেন ক্যালসিয়াম সুপার ফসফেট উৎপাদনের দিকে। রাজাবাজারের কসাইদের কাছ থেকে কয়েক বস্তা কাঁচা হাড়গােড় কিনে শুকোতে দিলেন বাড়ির ছাদে। টানা কদিনের বৃষ্টিতে হাড়ে লেগে থাকা মাংস পচে যেমন দুর্গন্ধ ছড়ালাে তেমনি কাক প্রভৃতির দ্বারা পশুর হাড় পৌছতে লাগল প্রতিবেশী বাড়িগুলিতে।
তাদের হাত থেকে নিস্তার পেতে হাড়গােড় নিয়ে রাখা হল এক বন্ধুর ফাঁকা জমিতে। ভালােভাবে শুকিয়ে গেলে সেই হাড় পােড়াতে গেলে আর এক বিভ্রাট। আগুন দেখে ছুটে এল পুলিশ। সব সমস্যার শেষে
হাড়পােড়া ছাই থেকে গবেষণাগারে যখন ফসফেট অফ সােডার ক্রিস্টাল তৈরি হতে লাগল তার এক দলা মুখে দিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসলেন প্রফুল্লচন্দ্র। এভাবে স্বল্পমূল্যে বিপুল পরিমাণ স্নায়ু বলবর্ধক ওষুধ তৈরি হতে লাগল। ধীরে ধীরে সিরাপ-ফেরি-আয়ােডাইড,লাইকার বিসমাথ, লাইকার আর্সেনিক্যালিস, স্পিরিট ইত্যাদিও উৎপাদন।
Image result for calcium superphosphate
calcium superphosphate
শুরু করল বেঙ্গল কেমিক্যাল। কিন্তু বিদেশি ওযুধকে সরিয়ে নিজের জায়গা করে নিতে বেঙ্গল কেমিক্যালকে অনেক বেগ পেতে হল।প্রফুল্লচন্দ্রের আন্তরিক ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে জন সাধারণের মনে স্থায়ী আসন তৈরি করল বাঙালি প্রতিষ্ঠানটি।
‘ ১৮৯২ সালের ৮০০ টাকা মূলধন বেড়ে ১৮৯৪ সালে ৩০০০ টাকা এবং ১৯০১ সালে ২৩৫০০ টাকায় পৌছল। ১৯০৫ সালে বাগমারীতে মানিকতলা খালের কাছে একটি ১০ বিঘা জমি কেনা হল এবং কারখানা উঠে এল নতুন স্থানে। ইতিমধ্যে ১৯০৪ সালে বেঙ্গল কেমিক্যালে যােগ দিয়েছেন রাজশেখর বসু। তারও আগে মূলধনের প্রয়ােজন বুঝে প্রফুল্লচন্দ্র ১৯০১ সালে বেঙ্গল কেমিক্যালকে ‘পাবলিক লিমিটেড’ করে দিয়েছিলেন। সংস্থাটি দেশী গাছগাছড়া থেকেও ওষুধ তৈরি শুরু করেছিল। বাসকের সিরাপ, যােয়ানের আরক জনপ্রিয় হল বাজারে। সালফিউরিক অ্যাসিড, চা-পাতা থেকে ক্যাফেন, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, রাসায়নিক তুলা, ন্যাপথালিন, ব্লিচিং পাউডার এবং অন্যান্য বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি হত। পানিহাটিতে ১৩৩ বিঘা জমির ওপর নতুন শাখা খােলা হল। অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে আলকাতরা পাতনের মধ্যদিয়ে রঙ, নানাবিধ ওষুধ ও রাসায়নিক তৈরি হতে লাগল। প্রচুর পরিমাণে ফটকিরি উৎপাদন শুরু হল। ১৯৩৪ সালে মুম্বাইতে স্থাপিত হল একটি শাখা কারখানা। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যাপক পরিমাণে রাসায়নিক দ্রব্যের চাহিদা বেঙ্গল কেমিক্যালের উন্নতির পথ অনেকাংশে সুগম করে দিল। সব মিলিয়ে পূর্ব ভারতে সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়ােজনীয় দ্রব্যাদির অন্যতম উৎস হয়ে দাঁড়াল বেঙ্গল কেমিক্যাল।।
Image result for bengal chemical
এক সময়ে বেঙ্গল কেমিক্যালের গৌরবময় একটি দিক ছিল অ্যান্টিভেনাম সিরামের ভায়াল তৈরি। ২০০৫ সালেও সেখানে প্রায় ৫১ হাজারের বেশি ভায়াল তৈরি হয়েছিল। ২০০৬ সাল থেকে পরিকাঠামাের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় এই প্রকল্প। আজ তাই পশ্চিমবঙ্গকে সর্প দংশন প্রতিষেধকের জন্য গুজরাটের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে হয়। মানিকতলায় আজও অপ্রয়ােজনীয় হয়ে অকারণে পড়ে থাকে একসময়ে এই কাজে ব্যবহৃত ৩০টি ঘােড়া। পরিকাঠামাে গত অগ্রগতি আজও সহজেই এই রাজ্যকে অ্যান্টিভেনাস উৎপাদনে স্বনির্ভর করে তুলতে পারে। শুধু চাই একটু দূরদৃষ্টি, তৎপরতা এবং আন্তরিকতা।
‘ রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘প্রেম রসায়নে ওগাে সর্বজন প্রিয়,/ করিলে বিশ্বের জনে আপন আত্মীয়।’ একথা সত্য। একসময়ে সমগ্র বাঙালি সমাজ ছিল প্রফুল্লচন্দ্রের আত্মীয়। যে মানুষটির যাত্রা একদিন শুরু হয়েছিল রসায়নের রহস্যভেদের মধ্য দিয়ে, তিনিই রচনা করেছিলেন ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে এক নতুন মাত্রা, শিল্পায়নে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন বাঙালি মানসকে, জাতপাত-অস্পৃশ্যতার ভ্রুকুটি দূর করে বাঙালি
সমাজকে করতে চেয়েছিলেন কলুষমুক্ত। ১৯৪৩ সালের ১৬ জুন প্রফুল্লচন্দ্রের মৃত্যুর পরে সত্তর অধিক বছর কেটে গেছে। কিন্তু সেই মহাপ্রাণ মানুষটির স্মৃতিকে সঠিকভাবে ধরে রাখতে আমরা কি করে উঠতে পেরেছি? জগদীশচন্দ্র ও মেঘনাদ সাহার নামে তবু দুটি গবেষণা ক্ষেত্র রয়েছে। কিন্তু প্রফুল্লচন্দ্রের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতাে তেমন কোনাে উদ্যোগ কেন্দ্র বা রাজ্যস্তরে আমরা দেখিনি। উল্টে তার স্বপ্নের বেঙ্গল কেমিক্যাল যা প্রফুল্লচন্দ্রের অনেক আত্মত্যাগ ও দূরদর্শীতার ফসল তাও হারিয়ে যেতে চলেছে কালের গর্ভে।
ভুললে চলবে না, বেঙ্গল কেমিক্যাল শুধু প্রফুল্লচন্দ্রের স্বপ্ন ছিল না, এ ছিল একটি পরাধীন জাতির স্বপ্ন, এক মহান উত্তরণের ইতিহাস।ইদানিংকালে সংস্থাটির আর্থিক অবস্থা ভালাে যাচ্ছিল না। বিগত কয়েক দশক ধরে লাগাতার লােকসানে চলার পর ২০১৬-১৭ সালে সংস্থাটি প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা লাভের মুখ দেখে। অথচ সংস্থাটির ঋণের বােঝা কমানাের জন্য ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর এর অপ্রয়ােজনীয় সম্পত্তি বিক্রির একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। যাইহােক সেই বিক্রয়কে ঠেকাতে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে সেখানকার শ্রমিক সংগঠন। তাই বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিতাদেশ পেয়েছে।
আজ যখন আমরা বাংলাকে বিশ্ববাংলা করে তােলার কথা ভাবছি,বাঙালির এগিয়ে চলার স্বপ্ন দেখছি তখন প্রফুল্লচন্দ্রের ভাবনা ও ভাবধারাকে ভুলে গেলে চলবে না। সঙ্গে সঙ্গে তার স্বপ্নের ‘বেঙ্গল কেমিক্যাল’কেও ফিরিয়ে আনতে হবে স্বমহিমায়। এক্ষেত্রে সংস্থাটির বাড়তি জমিতে যদি প্রফুল্লচন্দ্রের আদর্শকে অনুসরণ করে কোনাে গবেষণা ক্ষেত্র তার নামে গড়ে তােলা যায় তাহলে সেই পরম শ্রদ্ধেয় মানুষটির প্রতি কিছুটা সুবিচার করা হবে।
রাজদীপ ভট্টাচার্য

Published by @

পরিবেশ, পরিবেশ আন্দোলন, দূষণ, গাছ, নদী, পাহাড়, সাগর

Leave a Reply

%d bloggers like this: