বজ্রপাতে মৃত্যু—বাঁচব কী ভাবে!

@
5
(1)
গত কয়েক বছর বাজ পড়ে মারা যাওয়ার খবর বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে শিরােনামে উঠে আসছে। প্রতি গ্রীষ্মে
তীব্র থেকে তীব্রতর বাজ পড়ার ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করছি। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। বাজ পড়ে মানুষ মারা যাওয়ার সাথে সাথে ঘরের ভেতরে থাকা সিলিং ফ্যান,ফ্রিজ, টিভি, এসি, ইনভারটার প্রভৃতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে?
একে কী ভাবে প্রতিহত করা যায় বা আদৌ প্রতিহত করা যায় কী না এই সব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন
মহলে। সাম্প্রতিক বছরগুলির তুলনায় ২০১৮ সালে বজ্রপাতের ঘটনা যে অনেকটা বেড়েছে সেটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। এই সব কারণ অনুসন্ধান করার আগে এটা জেনে নেওয়া ভাল।
Image result for death in thunderstorm

বজ্রপাত কি ?

সহজ ভাবে বললে বজ্রপাত যাকে ইংরাজীতে Lightning বলে তা হল মেঘের মধ্যে জমতে থাকা বিপুল পরিমাণের তড়িৎ শক্তি মেঘের ভেতর থেকে বের হয়ে আসা। সেই সঙ্গে আমরা দেখতে পাই চোখ ঝলসানাে আলাের ঝলক ও শুনতে পাই প্রচণ্ড জোরে শব্দ। এই আলাের ঝলককে আমরা কাব্য করে বলি বিজুরি বা দামিনী আর শব্দকে বলি মেঘগর্জন।
এই বিপুল পরিমাণ তড়িৎ শক্তি মেঘ থেকে বেরিয়ে ৮ কিলােমিটার দূরত্ব পর্যন্ত ছুটে আসতে পারে। বাতাসের তাপমাত্র ২৭৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ও জমে থাকা বিদ্যুতের পরিমাণ ১০০ মিলিয়ন ভােল্ট পর্যন্ত হতে পারে।
প্রতি বছর বাজ পড়ে গােটা পৃথিবীতে আহত হন প্রায় দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার মানুষ তার ১০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় চব্বিশ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। বজ্রাহত মানুষের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ দীর্ঘ দিন অসুস্থ থাকেন। বাকি ২০ শতাংশের আঘাত তেমন গুরুতর হয় না। ভারতে বজ্রাঘাতে মৃত্যুর গড় বছরে ১৭৫৫ জন।
Image result for death in thunderstorm
কম তাপমাত্রার জন্য অতিশীতল (super-cooled) মেঘ কণা, ক্ষুদ্র বরফ কণা উপরের দিকে উঠতে থাকে। অপেক্ষাকৃত ভারী ও ঘন নরম শিলা নীচের দিকে নামতে চেষ্টা করে। ফলে মেঘ ও বরফ কণার
সাথে নরম শিলার ঘর্ষণ হয়। উপরে উঠতে থাকা বরফ কণা ধনাত্মক ও নীচের দিকে নামতে থাকা নরম শিলা ঋণাত্মক বিদ্যুৎ কণায় পরিণত হয়।
বজ্ৰমেঘের নীচের স্তরে ঋণাত্মক ও উপরের স্তরে ধনাত্মক বিদ্যুৎ কণা জমা হয়ে বিপুল পরিমানের বিদ্যুৎশক্তিতে পরিণত হয়। এই বিদ্যুৎশক্তি কখনও মেঘের মধ্যে, কখনও একটি মেঘ থেকে অন্য মেঘের মধ্য পরিচালিত হয়।
আবার মাঝে মাঝেই মেঘ থেকে মাটিতে নেমে আসে। মেঘ থেকে মাটিতে নেমে আসা বিদ্যুৎশক্তির আঘাতেই জীবন ও সম্পত্তি হানি হয়। মেঘ থেকে মাটিতে নেমে আসা বিদ্যুৎশক্তি যত তীব্র হয় তার মারণ ক্ষমতাও তত বেশি হয়।
বিগত কয়েক বছর থেকে আমরা ঘনঘন ও তীব্র বজ্রপাতের ঘটনা প্রত্যক্ষ করছি। এটা নিশ্চিতভাবে
জানা গেছে যে বড় বড় গাছ, সুউচ্চ বাড়িঘর, জলাভূমি, খােলামাঠ, উঁচু টিলা ইত্যাদির উপরেই বজ্রপাত বেশি হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ করার যে ব্যবস্থা রয়েছে তা বজ্রপাতকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। তাই বজ্রপাতের হাত থেকে জীবন ও সম্পত্তিহানি রক্ষা করার জন্য কিছু নিয়ম পালন করতেই
হবে।
দক্ষিণবঙ্গে অধিকাংশ সময়েই অনেকগুলি বজ্রমেঘ একসাথে মিলিত হয়ে ১৫০ থেকে ২০০
কিলােমিটার দীর্ঘ মেঘের সারি তৈরি করে এবং উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ পূর্বের দিকে সরে আসে। উপগ্রহ ও রাডার চিত্র বিশ্লেষণ করে কখন ও কোন কোন এলাকায় বজ্রপাত হতে পারে তা আবহাওয়া
দপ্তর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়।তা গণমাধ্যমে প্রচারিতও হয়।সেইদিকে নজর রাখতে হবে।

বজ্রপাতে বাঁচব কী ভাবে !

বজ্রপাত শুরু হলে খােলা জায়গা ছেড়ে পাকাবাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিতে হবে। মােবাইল ফোনের ব্যবহার
বন্ধ রাখতে হবে। চার্জ দেওয়াও চলবে না।
Image result for dont use mobile in thunderstorm
ঘরে যতরকমের বৈদ্যুতিক ও বৈদ্যুতিন যন্ত্র আছে যেমন ফ্রিজ, টিভি, টেলিফোন, এসি কম্পিউটার ইত্যাদি সবকিছুর প্লাগ খুলে রাখতে হবে।
সেটটপ বক্স ও ইন্টারনেট ব্যবস্থার কেবল সহ সমস্ত রকমের সংযােগ খুলে রাখতে হবে। বড়গাছ ,বাড়ি ও জলাভূমি থেকে দূরে থাকতে হবে। খােলামাঠে থাকলে দাড়িয়ে বা শুয়ে থাকা যাবে না। অনেক মানুষ একসাথে থাকলে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। দুর্যোগ মােকাবিলা দপ্তর থেকে বজ্রপাত সম্পর্কে যে সব বিজ্ঞপ্তি জারী করা হয় সেগুলি মেনে চলতে হবে।
Image result for dont use mobile in thunderstorm

অজয় নাথ

 

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

নরেন্দ্র দাভােলকর : ব্ল্যাক ম্যাজিক আইন

5 (1) সময় : ২০১৩ সালের আগস্ট মাস, সকালঃ৭ টা ২০ মি। স্থান : পুনে শহরে ওমকারেশ্বর মন্দিরের অদূরে একটি ব্রিজ। প্রথম দৃশ্য : সাতষট্টি বছরের এক প্রৌঢ় মর্নিং ওয়াক সেরে হেঁটে বাড়ি ফিরছেন। এমন সময়ে এক বন্দুকধারীর আকস্মিক উপস্থিতি। পরপর চারটি গুলি। তীক্ষ্ণ শব্দে দূরে উড়ে  যাচ্ছে পাখিরা। নির্জন […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: