ষাঁড় ক্ষেপেছে লাল সালুতে।

@
0
(0)

স্পেনে যাঁড়ের সঙ্গেমানুষের লড়াই বিখ্যাত।বুলফাইটার বা ম্যাটাডররা ষাঁড়ের সামনে লাল সালু
নাড়িয়ে তাকে ক্ষেপায়। খাঁটি বুর্জোয়া তথা পুঁজিপতিদের মতাে লাল কাপড় দেখলে ষাঁড় নাকি ভয়ানক ক্ষেপে যায়, কালাে রঙে মশারা আকৃষ্ট হয় ইত্যাদি অনেক ধারণা সাধারণের মধ্যে প্রচলিত।

Image result for bull fight

প্রশ্ন উঠবে, মানুষের মতাে মনুষ্যেতর প্রাণীদেরও কি সত্যিই রঙ চেনার ক্ষমতা আছে?

এই ব্যাপারটা বলতে গেলে, দেখার কারিগরিটা একটু ঝালিয়ে নেওয়া দরকার। আলাে বস্তুর ওপর ধপাস করে পড়ে। সেখান থেকে হাত-পা ঝেড়ে উঠে চলে আসে আমাদের চোখে। যাকে প্রতিফলন বলে। চোখের মধ্যে থাকে রেটিনা।রেটিনায় দু ধরনের সংগ্রহক (রিসেপ্টর) থাকে— রড কোষ আর কোন কোষ।
সাদা-কালাে বা রঙিন জিনিসের পার্থক্য এরাই ধরতে পারে। রড ও কোন কোষে আলােকসংবেদী রঞ্জক পদার্থ (পিগমেন্ট) থাকে। আলাে তার ওপর গিয়ে পড়লে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, যা মস্তিষ্কে এক ধরনের তরঙ্গ পাঠিয়ে বস্তুর প্রতিকৃতি সৃষ্টি করে। আমরা বুঝতে পারি, জিনিসটি কী। রড ও কোন কোষের মধ্যে কোন কোষ কাজ করে উজ্জ্বল আলােয় এবং রঙিন জিনিসের পার্থক্য এরাই পাকড়াও করে। রড কোষ কাজ করে স্বল্প আলােয়। যে সব জন্তু-জানােয়ার দিনেরবেলায় ঘােরাফেরা করে, তাদের রেটিনা উজ্জ্বল আলােয় কাজ করতে পারে। অর্থাৎ ওদের রেটিনা তৈরি মূলত কোন কোষ দিয়ে। যেমন, কাঠবেড়ালির রেটিনা। কোন কোষে ‘আয়ােডপসিন’ নামে এক ধরনের পিগমেন্ট থাকে। এটাই রঙ চিনিয়ে দেয়।

Image result for cone cell iodopsin pigment
এছাড়া রঙের পার্থক্য করতে উজ্জ্বল আলাের দরকার বলে সেখানেও মুখ্য ভূমিকা থাকে কোন কোষের।
সাদা-কালাে দৃশ্যের জন্য ‘রােডপসিন’ পিগমেন্ট কাজ করে। রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে যে প্রবাহ তৈরি হয়,তাই মস্তিষ্কে দৃশ্য ফুটিয়ে তােলে। রঙিন দৃশ্যের জন্য কোন কোষে নির্দিষ্ট তিনটি রঙের গ্রাহক থাকে- লাল, সবুজ, নীল।সংক্ষেপে বলে আরজিবি। বাইরের বহু রঙ এরা এই তিনে ভেঙে নিয়ে ধরে,তারপর যথারীতি মিলিয়ে মস্তিষ্কে পাঠালে অনুরূপ বর্ণময় চিত্র ফুটে ওঠে। রঙিন টেলিভিশনও এই পদ্ধতিতে কাজ করে। লাল সবুজ, নীল গ্রাহকেরা এক-একটা কোন কোষে আলাদা আলাদা থাকে। কোনােটায় লাল, কোনােটায় সবুজ এইভাবে। কারাে কোন কোষে কোনাে গ্রাহক অনুপস্থিত থাকলে সে সেই বিশেষ রঙটি দেখতে বা চিনতে পারে না। তাদের বলে ‘রঙকানা’।সাহেবরা বলে ‘কালার ব্লাইন্ড’। ঠিক সেরকমই ষাঁড় রা ‘কালার ব্লাইন্ড’ হয়। এরা কিছু রং চিনতে পারে, যেমন- কালো , নীল, সাদা এগুলো।

Image result for bulls are colour blind

ট্রেন-চালানাের মতাে বেশ কিছু কাজ আছে, যেখানে নিয়ােগের আগে প্রার্থী রঙকানা কিনা পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া হয়।মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীর রঙ চেনার ক্ষমতা নিয়ে প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
মৌমাছির ওপর প্রচুর কাজ হয়েছে। দেখা গিয়েছে, লাল রং মৌমাছিরা ভালাে চিনতে পারে না। কিন্তু অতিবেগুনি রং চেনে খুব ভালাে। যে কারণে ম্যাড়মেড়ে রঙের ফুল, যেগুলাে অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিফলিত করে বেশি, মৌমাছিদের আকর্ষণ করে বেশি।

Image result for bee

প্রাণীদের মধ্যে স্তন্যপায়ীরা প্রায় সবাই রঙকানা। বেড়াল বা কাঠবেড়ালি ব্যতিক্রম। তবে পাখি, টিকটিকি, কচ্ছপ, ব্যাঙ ও মাছ অবশ্য রঙের,পার্থক্য বুঝতে পারে।ষণ্ডামর্ক যণ্ড এসব তত্ত্বকথার ধার ধারে না। লাল রং চিনুক ছাই না চিনুক কাউকে সামনে সালু নেড়ে রং-বাজি করতে দেখলে শিংজিদের শিংয়ে খুন চেপে যায়।ধেয়ে যায় প্রবল বেগে। আর বাগে পেলে ম্যাটাডরবাবাজিকে শিংয়ের গুতােয় পপাত ভূম! একেই বােধহয় শিংভূম বলে!শুরু হয়েছিল লাল সালু নেড়ে ষাঁড় ক্ষেপানাে দিয়ে।
এ প্রসঙ্গে একটা বহুল প্রচলিত চুটকি মনে পড়ে গেল। নির্ঘাত সাম্রাজ্যবাদীদের রচনা। নিষ্ঠাবান বামপন্থীদের কাছে আগাম মাপ চেয়ে নিচ্ছি। এক ভদ্রলােকের ভয়ানক পেটখারাপ। বড় বড় ডাক্তার ফেল। শেষে আসরে নামে পাড়ার এক হাতুড়ে। সে এক টুকরাে লাল কাপড়ের কপনি এঁটে দেয়। তাতেই ম্যাজিক। বিস্মিত সবাই চেপে ধরে, রহস্য কী? হাতুড়ে জানায়, লাল কাপড় দিয়ে বড় বড় কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর দাস্ত বন্ধ হবে না!

সমীরকুমার ঘোষ

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

ফরেস্ট ম্যানদের উপাখ্যান

0 (0) মানঝি দি মাউনটেন ম্যান-এর সেই পাহাড় কাটার গল্প অনেকেরই জানা, আজ সেইসব মানুষের কথা বলব যাঁরা রীতিমতো মরুভূমিতে মরুদ্যান বানিয়ে ফেলেছেন। প্রথমে জানব মন্টুবাবুর কথা, সবুজের কোনো নিদর্শন ছিল না; ফাঁকা, পরিত্যক্ত জমি ছিল আবর্জনার আঁতুড় ঘর। হঠাৎ সেখানেই আসতে আসতে দেখা মিলল গাছের। পরিত্যক্ত এই জমি, যা […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: