সূর্য কেন্দ্রিক বিশ্ব ও তিন জ্যোতির্বিদের করুণ পরিনিতি

Image result for solar centric universeষোড়শ শতাব্দীতে যে তিন দার্শনিক তৎকালীন অ্যারিস্টটল ও টলেমির ভূ কেন্দ্রিক বিশ্বের পরিবর্তে সূর্য কেন্দ্রিক বিশ্বের নতুন তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের করুণ পরিণতির কথা আমাদের সকলেরই জানা। আমরা জানি কোপার্নিকাসের কথা, গ্যালিলিওর কথা, এছাড়াও আরও একজন ব্যতিক্রমী চরিত্রের দার্শনিক ছিলেন ব্রুনো। ব্যতিক্রমী এই কারণেই -যেখানে গ্যালিলিওকে চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে হয়েছে, কোপারনিকাসকে হতে হয়েছে সাবধানী, সেখানে এই ব্রুনো কিন্তু তার মতবাদ থেকে সরে আসেননি।এর ফলস্বরূপ ভয়ঙ্কর পরিণতি হয় তাঁর। ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ১৭ইফেব্রুয়ারি রোমের কেন্দ্রীয় বাজার কেম্প দ্য ফিওরি তে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় তাকে। তাইতো তিনি মুক্ত চিন্তা ও বিজ্ঞানের জন্য শহিদ।

Image result for giordano bruno

আমাদের প্রচলিত জ্ঞান কোপার্নিকাস প্রথম সূর্য কেন্দ্রিক- একথা পুরোপুরি ঠিক নয়। প্রাচীন গ্রিসের সামোস দ্বীপের অধিবাসী আরিস্টারকাস প্রথম একথা বলেন। কোপার্নিকাস তার গ্রন্থে একথা বহুবার উল্লেখ করেন।

কোপারনিকাসের লক্ষ্য ছিল টলেমির ভূ কেন্দ্রিক বিশ্বের পরিবর্তে সূর্য কেন্দ্রিক বিশ্বের জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠা করা বিশুদ্ধ গণিতের মাধ্যমে।এই কাজ করলেন খুব সাবধানে, কারণ তিনি জানতেন এ কাজ ধর্মসংস্থার রোষের মুখে পড়বেই। তাই তিনি ধীরে ধীরে লিপিবদ্ধ করেও প্রকাশ করলেন না। তার বন্ধু মহলে একথা চাউর হয়ে যায় তিনি এক নতুন জ্যোতির্বিজ্ঞানের মতবাদ নিয়ে কাজ করছেন এবং পৃথিবীর গতিই এর মূল বিষয়। অবশেষে বন্ধুদের পীড়াপিড়িতে তিনি তার মতবাদের সামান্য অংশ প্রকাশ করলেন, মূলত গণিতের অংশগুলো বাদ দিয়ে। ১৫২৯ সালে প্রকাশিত হয় commentariolus। এর সংক্ষিপ্তসার ইউরোপের প্রতিটি প্রধান ধর্মযাজকের নিকট পাঠালেন, প্রতিক্রিয়া জানার জন্য। তাদের মধ্যে অনেকেই মূল গ্রন্থ প্রকাশের অনুরোধ জানান। আসলে ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমদিকে সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদ নিয়ে ধর্মযাজকদের ততটা আপত্তি ছিল না। ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি প্রকাশের কোনো উদ্যোগ নেননি।হয়ত এই কাজ পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রকাশই পেত না যদি না রেটিকাস নামে এক গণিতের অধ্যাপক এই মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কোপার্নিকাসের সাথে কাজ করতে না আসতেন। এই রেটিকাস ত্রিকোণামিতিক টেবিলের জন্য বিখ্যাত। মূলত তাঁর উদ্যোগে De revolutionibus orbium coelestium. ১৫৪৩ খ্রিস্টাব্দে নুনবার্গ থেকে প্রকাশিত হয়। কথিত আছে যখনই পূর্ণাঙ্গ বই কোপার্নিকাসের কাছে এসে পৌঁছায় তখন তিনি মৃত্যুশয্যায়।

Image result for commentariolus

১৫৪৮ সালে ইতালির নেপলসের সন্নিকটে নোলা শহরে জন্মগ্রহণ করেন ব্রুনো। প্রকৃত নাম ফিলিপ্পো ব্রুনো। পরবর্তীতে ‘জিওর্দানো’ উপাধি লাভ করেন। প্রথমে অগাস্টিয়ান মঠে শিক্ষা গ্রহণ করেন, পরে ১৭ বছর বয়সে গেলেন নেপলসে “san domenico চার্চে। এখানেই অধিবিদ্যার শিক্ষককে সম্মান দেখিয়ে তিনি গ্রহণ করলেন ‘জিওর্দানো’ উপাধি। ১৫৭২ সালে মাত্র চব্বিশ বছর বয়সেই অসাধারণ স্মৃতি শক্তির জন্য পাদ্রী নির্বাচিত হলেন। একইসাথে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেলেন থিওলজি ওপর। তার অনুসন্ধানী মন বিকাশ ঘটালো মুক্তচিন্তার, বাধ্য করল তৎকালীন চার্চ কর্তৃক বাজেয়াপ্ত বইগুলি অধ্যয়ন করতে, ধরাও পড়ে গেলেন, জুটল তিরস্কার। ১৫৭৬ সাল থেকে তিনি ঘুরে বেড়ালেন ইতালির নানা শহর। শেষে ১৫৭৯ সালে পৌঁছালেন জেনেভা। কাজ নিলেন প্রুফ রিডিংএর। তাঁর ভিন্নমত পোষণ করার মানসিকতা প্রতিবাদ করে বসল এক অধ্যাপকের লেখার।প্রকাশ করলেন নিজস্ব মতামত। সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার হলেন। ক্ষমা চেয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পবিত্র হতে বলা হলো তাকে। কোনটাই তিনি করলেন না, জেনেভা ত্যাগ করলেন।
এবার গন্তব্য ফ্রান্স। লাভ করলেন ধর্মতত্ত্বের ওপর ডক্টরেট। ছাত্ররা তাকে দর্শন শাস্ত্রের লেকচারার হিসেবে মনোনীত করলেন। ১৫৮১ সালে গেলেন প্যারিস। ঈশ্বর ও ধর্মতত্ত্বের ওপর বক্তব্য রাখলেন। ১৫৮২ সালে তিনি প্রকাশ করলেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ – ১)De umbris idearum (On the shadows of Ideas) ২) Ars Memoriae(The Art of Memory) ৩) cantus circaeus(circe’s song)।

তৎকালীন প্রচলিত দার্শনিক ধারণা কে ব্যঙ্গ করে তিনি লিখলেন Il candelaio ( The Candlemaker)।
ধীরে ধীরে তার কাজ দারুণভাবে সাড়া ফেলল। এবার ডাক এল ইংল্যান্ড থেকে। রাজা তৃতীয় হেনরির আমন্ত্রণে তিনি গেলেন ইংল্যান্ড। বক্তৃতা দিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। কোপার্নিকাসের সূর্য কেন্দ্রিক বিশ্বের কথা তিনি আরো ভাবে তুলে ধরলেন, শুধু তাই নয় সেই সাথে পৃথিবীর ঘূর্ণনের তথ্য নিয়ে তিনি নতুন মতামত দিলেন। অক্সফোর্ডের বিশপ জর্জ এবটের সাথে ব্রুনোর ঝগড়া চরম পর্যায়ে বাঁধে। ‘এবট’ মহাশয় প্রায়ই ব্রুনোকে টিপ্পনী করতেন কারণ ব্রুনো বলতেন পৃথিবী গোল। আসলে সে যুগে ধারণা ছিল পৃথিবী সমতল।

Image result for Il candelaio
১৫৮৪-৮৫ এই দুই বছরে প্রকাশ করলেন ৬ টি ডায়লগ যার মধ্যে তিনটি ছিল কসমোলজিক্যাল।

প্রথমটি হল – Cena de le Ceneri (The Ash Wednesday Supper), সেখানে তিনি কোপার্নিকাসের সূর্য কেন্দ্রিক ধারণাকে স্পষ্টভাবে শুধু বললেন না তিনি আরো একধাপ এগিয়ে অসীম বিশ্বের কথা বললেন, তিনি বললেন সৌরজগতের মতন আরও সৌরজগৎ বর্তমান। এসব কথা বলতে গিয়ে তিনি সমালোচনা করে ফেললেন বাইবেলের।
দ্বিতীয় ডায়ালগ De la causa, principio e uno (Concerning the Cause, Principle, and One), যেখানে মহাবিশ্বের গঠনগত বিষয়ে একক সত্তা কথা বলেন।
তৃতীয়টি হল De l’infinito universo e mondi ( On the Infinite Universe and Worlds), যেখানে তিনি এরিস্টোটালিয়ান পদার্থবিজ্ঞানের তীব্র সমালোচনা করে তিনি তাঁর মহাজাগতিক তত্ত্বটি বিকাশ করেছিলেন; তিনি দর্শন এবং ধর্মের মধ্যে সম্পর্কের সম্পর্কে তার অ্যারোরিস্টিক দৃষ্টিভঙ্গিও তৈরি করেছিলেন।
তাঁর প্রথমটি ডায়ালগটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
১৫৮৫ সালে তিনি প্যারিসে ফিরে এলেন। ফ্রান্সে এসে গণিতবিদ ফিব্রিজোর সাথে ভয়ঙ্কর বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লেন।প্যারিস ত্যাগ করলেন।
এবারের যাত্রা জার্মানি। জার্মানিতে গিয়ে তার বক্তব্যে অ্যারিস্টটলের তত্ত্বের সাথে তিনি ভিন্ন মত পোষণ করলেন, ফলে আবারও হতে হলো সকলের বিরাগভাজন।
১৫৯১সালে ইতালি ফিরে এসে, জিওভাননি মচেনিগো নামে এক ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতায় ১৫৯২ সালে ২২মে গ্রেপ্তার করা হয়। কথিত আছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলি মধ্যে একটি হল হল এই মহাবিশ্বের মতো আরো আছে, পৃথিবী গোল, সূর্য এই মহাবিশ্বের কেন্দ্র নয়, এটি একটি নক্ষত্র ছাড়া আর কিছু নয় এই ধারণা পোষণ করা।
গ্রেফতারের পরে তাকে তুলে দেওয়া হয় রোমান ইনকুইজিশনের হাতে। অসাধারণ দক্ষতায় তার বক্তব্য রাখেন এবং যুক্তি দিয়ে অভিযোগগুলি খণ্ডন করেন। বেশ কয়েক মাস জেরা করার পর তাকে রোমে পাঠানো হয়। ১৬০০ সালে ২০ শে জানুয়ারি পোপ অষ্টম ক্লেমেন্ট ব্রুনোকে একজন ধর্মদ্রোহী ঘোষণা করে তাকে মৃত্যুদন্ড দেন। ১৭ ই ফেব্রুয়ারি জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হল । মৃত্যুর পর তার দেহভস্ম ছড়িয়ে দেওয়া হলো নদীতে।

Image result for giordano bruno

শেষে আসি গ্যালিলিওর কথায়- ১৫৬৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ব্রুনোর স্বদেশে জন্মগ্রহণ করা এই ব্যক্তি প্রথম দিকে পৃথিবীর ঘূর্ণন সম্পর্কিত সূর্য কেন্দ্রিক বিশ্বের বিষয় নিয়ে আগ্রহ দেখাননি। যদিও,তিনি প্রথম থেকেই কোপারনিকাসপন্থী। তিনি শুরুতে ব্যস্ত ছিলেন গির্জার অভ্যন্তরে ঝোলানো প্রদীপ দেখে দোলকের সূত্র আবিষ্কারে। একের পর এক কাজ করে চলেছেন বল বিদ্যার নানা বিষয়ের উপর। বলা যেতে পারে, তিনিই প্রথম হাতে-কলমে পরীক্ষার মাধ্যমে আধুনিক বিজ্ঞানের জন্ম দিয়েছেন। কোপার্নিকাসকে নিয়ে তিনি মাথা ঘামাতে শুরু করেন দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের পর। এই আবিষ্কারের কৃতিত্ব গ্যালিলিওকে এককভাবে দেওয়া যায় না। গ্যালিলিওর কাছে খবর ছিল ওলন্দাজ এক চশমা বিক্রেতা এমন কিছু একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন যাতে করে দূরের জিনিসকে খুব বড় এবং কাছে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। সেই শুনে তিনি আলোকবিজ্ঞানের নীতিগুলি অধ্যয়ন করেন এবং অনুরূপ একটি যন্ত্র বানিয়ে ফেলেন। তিনি এই যন্ত্র রাতের আকাশের দিকে তাক করতেই যা দেখলেন তাতে বিশ্বজগতে অ্যারিস্টটল কথিত প্রশান্ত ভেঙে তছনছ হয়ে যায়। তিনি দেখতে পেলেন কোপার্নিকাসের বলা জগত ব্যবস্থার প্রতিরূপ, যে কথা বলার জন্য ব্রুনো ছুটে বেড়িয়েছেন গোটা ইউরোপ। গ্যালিলিও দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে মাটিতে টেনে নামিয়ে আনলেন সেইসব “স্বর্গীয় গোলকদের”।পর্যবেক্ষণ করেন চন্দ্রপৃষ্ঠে অসমতা, বৃহস্পতির চাঁদ, সৌরকলঙ্ক সহ নানা বিষয়ে । লিপিবদ্ধ করেন sidereus Nuncius এই গ্রন্থে। গোঁড়া অ্যারিস্টটলপন্থীরা অবশ্য এই দুরবীক্ষণ চোখ রাখতে রাজি হননি। ১৬১৩ সালে সৌর কলঙ্কের পত্রাবলী প্রকাশিত হলে কোপারনিকাস বিরোধীদল এই গ্রন্থে সূর্য কেন্দ্রিক মতবাদের প্রতি সহানুভূতি সম্পর্কে পোপের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ১৬১৫ সালের পোপ পঞ্চম পল গ্যালিলিওকে সরকারিভাবে রোমে ডেকে পাঠান তার আবিষ্কার ও মতবাদ নিয়ে ব্যাখ্যা করার। এর ঠিক এক বছর পর অর্থাৎ ১৬১৬ সালে সংস্থা কর্তৃক পৃথিবীর গতি সম্পর্কে সমস্ত আলোচনা, রচনা নিষিদ্ধ হয়, নিষিদ্ধ হয় কোপার্নিকাসের সেই বিখ্যাত গ্রন্থ। গ্যালিলিওকে সাবধান করে দেওয়া হয় এ ব্যাপারে আর মুখ না খুলতে গেলে। তিনি প্রকাশ্যে আর এগোলেন না, কিন্তু গোপনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন কোপার্নিকাসের ও টলেমি মতবাদ সম্পর্কে বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে অবশেষে ১৬৩২ সালে তিনি প্রকাশ করেন Dialoge concerning the two Chief systems of the world,the ptolematic and the copernican।বইটি অভিনব উপায়ে রচনা।এখানে তিনি সরাসরি আলোচনা করার পরিবর্তে তিনটি চরিত্রের অবতারণা করেন যথাক্রমে স্যালভিয়াতি (কোপার্নিকাসপন্থী), সাগ্রেদো (আরিস্টটল), সিমপ্লিসিও(নিরপেক্ষ শ্রোতা তবে কোপার্নিকাস মতবাদে ঝোঁক)। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই অ্যারিস্টটলপন্থীরা তৎপর হয়ে ওঠে। তারা তৎকালীন পোপকেও বোঝাতে সক্ষম হলেন এতে গ্যালিলিও ১৬১৬ সালের নিষেধাজ্ঞা শুধু অমান্য করেননি, এতে তিনি সিমপ্লিসিও নামে চরিত্র অঙ্কন করেছেন সেটি আর কেউ নন স্বয়ং পোপ। ইতিমধ্যে তৎকালীন পোপের সাথে গ্যালিলিওর আগে থেকেই ছিল সৌর কলঙ্ক আবিষ্কার নিয়ে বসচা ছিল। সেই বচসাই পর্যবসিত হল প্রতিহিংসায়। ১৬৩৩ সালের জুন মাসে তার বিচার আরম্ভ হল। একদিকে বয়সের ভার ও অন্য দিকে চোখের সামনে ব্রুনোর পরিণতি দেখে শেষ অবধি তিনি নিজের অবস্থানের টিকে থাকতে পারলেন না। অপরাধ স্বীকার করে শপথ বাক্য লিখলেন যা পড়ে শোনানো হল প্রতিটি গির্জার। শেষ অবধি ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে নজরবন্দি হয়ে অন্ধত্ব অবস্থায় মারা যান।

Image result for galileo galilei

অ্যারিস্টটলের সৃষ্টিতত্ত্ব পূর্ণতা পেয়েছিল টলেমির জ্যোতির্বিদ্যা দ্বারা, যা মধ্যযুগের ধর্ম সংস্থার পক্ষে মানানসই ছিল। পরবর্তীতে কোপার্নিকাস প্রথম আঘাত সেই তত্বে আঘাত হানলেন এবং সেই কথা আরো বিস্তারিতভাবে প্রচার করেন ব্রুনো, ব্রুনো কোনো পরীক্ষা করেননি, কোন পর্যবেক্ষণ করেননি তবুও যুক্তির মাধ্যমে তিনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন নতুন মতবাদকে। তার শহিদত্ব যতটা না বিজ্ঞানের তার থেকে বেশি মুক্ত চিন্তার স্বাধীনতার। সমসাময়িককালে জন্মগ্রহণ করা গ্যালিলিও এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটান। দূরবীক্ষণ যন্ত্র একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে এই চিত্রনাট্যে। একদিকে যেমন ভিন্নমত পোষণ করার ক্ষমতা অর্জিত হয় অন্যদিকে হাতে কলমে পরীক্ষা নির্ভর বিজ্ঞানের জন্ম বলা যেতে যেতে পারে এই সময়েই।

Image result for galileo galilei

বর্তমান সময়ে আমাদের উপমহাদেশে বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের যে ভাবে মুক্ত চিন্তা ও বিজ্ঞানের প্রতি আক্রমণ নেমে আসছে তাতে করে আমাদেরকে আরো বেশি করে বিজ্ঞানের ইতিহাসের এই সমস্ত বিষয়গুলি তুলে নিয়ে কোপার্নিকাসের জন্মদিন(1১৯ ফেব্রুয়ারি), ব্রুনো মৃত্যু(১৭ ফেব্রুয়ারি) এবং গ্যালিলিওর জন্মদিন (১৫ ফেব্রুয়ারি)। এই তিনদিনকে কেন্দ্র করে আমরা জ্যোতির্বিজ্ঞান সপ্তাহ পালন করতে পারি।

শুভাশিস গড়াই
———————

Published by @

পরিবেশ, পরিবেশ আন্দোলন, দূষণ, গাছ, নদী, পাহাড়, সাগর

Leave a Reply

%d bloggers like this: