হল ঘরে বা পাহাড়ের উপর আওয়াজ করলে প্রতিধ্বনি শােনা যায় কেন?

একবার শব্দ করার অল্প কিছুক্ষণ পর একই আওয়াজ যদি আবার
শােনা যায়, তাকে বলা হয় প্রথম শব্দের প্রতিধ্বনি। শব্দের প্রতিফলনের
জন্য এমনটা ঘটে থাকে। কোন শব্দের অনুভূতির রেশ আমাদের
মস্তিষ্কে ১ সেকেন্ডের ১০ ভাগের ১ ভাগ সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
সুতরাং প্রতিধ্বনি শুনতে হলে উৎস থেকে তৈরি হওয়া ও প্রতিফলিত
শব্দ, এই দুয়ের মধ্যে কমপক্ষে ০.১ সেকেন্ড সময়ের ব্যবধান থাকতে
হবে। বাতাসে শব্দের গতিবেগ সেকেন্ডে ৩৪৪ মিটার (২২°C
উষ্ণতায়)। অর্থাৎ উৎস থেকে বেরােনাের পর শব্দ ০.১ সেকেন্ডে
৩৪.৪ মিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। ফলে ঠিকঠাক প্রতিধ্বনি
শুনতে হলে উৎস থেকে শব্দ সৃষ্টি হয়ে যে বস্তুতে বাঁধা পাচ্ছে তার
দূরত্ব হতে হবে অন্ততপক্ষে ৩৩.৪/২ = ১৭.২ মিটার বা ৫৬ ফুট।
Image result for echoing on room
তাই হল ঘরের দুই দেওয়ালের দূরত্ব ৫৬ ফুট না হলে প্রতিধ্বনি
শােনা যাবে না। এই দূরত্ব অবশ্য তাপমাত্রা ভেদে পরিবর্তিত হয়।
প্রতিধ্বনি একাধিক বারও শােনা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে শব্দ যে
বস্তুতে প্রতিফলিত হবে তার সংখ্যাও একাধিক হবে। বজ্রপাতের সময়
এবং পাহাড়ের চূড়ায় আওয়াজ করলে আমরা এমনটা শুনি। প্রতিধ্বনির
সাহায্যে অংক কষে শব্দের উৎস থেকে প্রতিফলনকারী বস্তুর দূরত্ব।
নির্ণয় করা যায়। সূত্রটি হবে এইরকম- শব্দের গতিবেগ x সময়/২।
বিজয় সরকার

Published by @

পরিবেশ, পরিবেশ আন্দোলন, দূষণ, গাছ, নদী, পাহাড়, সাগর

Leave a Reply

%d bloggers like this: