ডায়াবেটিসে কোন খাবার খাবেন কোন খাবার খাবেন না

@ 2
4.2
(27687)

পছন্দের খাবারের ছবিতে click করুন

Arrow_Red_Left_PNG_Transparent_Clip_Art_Image

ডায়াবেটসে মেথি খাওয়া যাবে কি ? Fenugreek in diabetes control23

ডায়াবেটিসে কলা খাওয়া যাবে কি ? Banana in Diabetes controlডায়াবেটিস নিরাময়ে নারিকেলের জল কি পান করা উচিৎ ? Healthy drinks for diabetes control : Coconut waterডায়াবেটিস নিরাময়ে কফি পান করা কি উচিৎ ? Healthy drinks for diabetes control : Coffee

ডায়াবেটিসে লবন কতটা বিপজ্জনক ? Salt on Diabetes Controlডায়াবেটিসে ভাত খাওয়া যাবে কি ? Rice in Diabetes controlডায়াবেটিসে গুড়

উচ্ছে কি ডায়াবেটিস রোগ সারায় ?ডায়াবেটিসে বাদামডায়াবেটিসে কমলালেবু

ডায়াবেটিস নিরাময়ে চা কি পান করা উচিৎ ? Healthy drink for Diabetes control : Teaডায়াবেটিস নিরাময়ে মুড়ি কি খাওয়া যাবে ? Muri in diabetes controlডায়াবেটিসে ধূমপান করলে কি কি ক্ষতি হয় ? Smoking effects in Diabetes control

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় ঢেঁড়শ কি রাখা যাবে ? Okra in Diabetes control Dietডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে ডুমুর । Ficus in Diabetes control19) ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে শসা খাওয়া কি যাবে ? Cucumber in Diabetes control

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় আলুকে রাখা যাবে কি ? Potato in Diabetes controlডায়াবেটিসে টমেটো খাওয়া যাবে কি ? Tomato in Diabetes controlডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় লাউ রাখা যাবে কি ?

আগামিকাল আবার এই পৃষ্ঠায় ফিরে আসুন পরবর্তী খাবারের জন্য ।

ডায়াবেটিসহ যেকোন স্বাস্থ্যসচেতনতার আপডেট নিয়মিত ভাবে পেতে নিচের ফিঙ্গার প্রিন্টে নিজের আঙুল দিয়ে টিপুন

ডায়াবেটিস নিয়ে নতুন আপডেট পেতে আমাদের লিখুন

এই পৃষ্ঠাটি ডায়াবেটিস মুক্ত বাঙালির জন্য সৃষ্টি করেছে পরিবেশ ডট কম ও Dr Biswas প্রতিষ্ঠান । আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে , বা যদি চান , ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস না হোক , এই পৃষ্ঠাটি  হোক আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী । অন্যদেরও পৃষ্ঠাটি শেয়ার করে দিন – আর ডায়াবেটিস মুক্ত বাঙালি গড়ে তুলুন ।


ডায়াবেটিসে কোন খাবার খাবেন কোন খাবার খাবেন না ?

1) ডায়াবেটসে মেথি খাওয়া যাবে কি ? Fenugreek in diabetes control

মেথিকে আমরা উপকারিই বলে মনে করি । নানা সমস্যা দূর করতে কখনো মেথির বীজ ভেজানো জল খাই , কখনো মেথি শাক সব্জি হিসাবে খাই , আবার রান্নায়ও স্বাদ ও গন্ধের জন্য অল্প মাত্রা ব্যবহার করি । আবার আমাদের একটি স্বাভাবিক ধারনা হলো যা তেতো তা-ই ডায়াবেটিস নিরাময় করতে পারে । আবার মেথি নিয়ে খুব খারাপ কিছু তথ্য ও স্টাডিও পাওয়া যাচ্ছে । তাহলে ? তাহলে কি মেথি ডায়াবেটিসের জন্য উপকারি না অপকারি ! diabetes control এ বা মেথির ভুমিকা কি ? সবটুকু ভালোভাবে বুঝতে আলোচনাকে তিন ভাগে ভাগ করা হল ।

এক – ডায়াবেটিস নিরাময়ে মেথির ভূমিকা কি ? দুই – মেথির অপকারিতা । তিন – ডায়াবেটিসে মেথি কী খাওয়া উচিৎ ?

এক – ডায়াবেটিস নিরাময়ে মেথির ভূমিকা কি ?

আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে , blood sugar control এ মেথি বীজ বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে । মেথি বীজের ফাইবার ও অন্যান্য রাসায়নিক শরীরে কার্বোহাইড্রেট পরিপাক ও শোষণকে মন্থর করে । মেথি বীজ আপনার শরীরের সুগারের ব্যবহারকে বাড়িয়ে দিতে পারে , ইনসুলিনের ক্ষরণকেও বাড়িয়ে দেয় । ফলে আপনি যদি নিয়মিত মেথি খেতে পারেন বা তার বীজ ভেজানো জল খেতে পারেন আপনার diabetes control এ থাকবে । ২০০৯ এর দুটি স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে , নিয়মিত মেথির বীজ বা মেথির বীজ ভেজানো জল , type 2 diabetes control করে । অর্থাৎ মেথি ডায়াবেটস চিরতরে নিরাময় করতে পারে ।

দুই – মেথির অপকারিতাঃ

গর্ভবতী মহিলাদের মেথি না খাওয়া উচিৎ , কারন মেথি প্রসবে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে জরায়ুর সঙ্কোচনের মাধ্যমে ।
যে সব মহিলার Hormone sensitive cancer আছে , তাদের মেথি না খাওয়া উচিৎ ।
মেথি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে allergic reaction ঘটাতে পারে ।
মেথি কিছু মেডিসিনের সাথে , বিশেষ করে clotting disorder , diabetes এর মেডিসিনের সাথে ক্রিয়া করতে পারে । এছারা মেথি অনেক মেডিসিনের শরীরে শোষণকে কমিয়ে দেয় ।

তিন – ডায়াবেটিসে কি মেথি খাওয়া উচিৎ ?

মেথি ডায়াবেটিস প্রতিরোধে , নিয়ন্ত্রণে ও নিরাময়ে ভূমিকা নিতে পারে – তাই ডায়াবেটিস নিরাময়ে আপনার ব্যবহার করতে পারার কথা , তবে মেথির একাধিক অপকারিতার জন্য মেথি খাওয়ার বিষয়ে আপনাকে সচেতন হতে হবে । আপনি যদি নিয়মিত মেথি খেতে চান , ডায়াবেটিস নিরাময়ে মেথি ব্যবহার করতে চান , ডাক্তারবাবুর পরামর্শ অবশ্যই নিন । আর রান্নায় মাঝেসাজে স্বাদ ও গন্ধের জন্য যতটুকু মেথি ব্যবহার করা হয় , তাতে আপনার খুব একটা অসুবিধা হঅয়ার কথা নয় ।

2) ডায়াবেটি গাছ ডায়াবেটিস নিরাময় করতে পারে কি ? Diabetes plant Gynura procumbens in Diabetes control

ডায়াবেটিস গাছ । নামটি শুনলে অর্ধেক বাঙালি অবাক হবেন , ভাববেন ডায়াবেটিস আবার কোন গাছ হয়ে নাকি ! Diabetes তো একটি রোগের নাম । আবার বাকি অর্ধেক বাঙালির মনে মুহূর্তে বেশ কতগুলি কৌতুহলী প্রশ্নের উদয় হবে । সকল বাঙালির সুবিধার জন্য ডায়াবেটিস গাছ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো । আলোচনাটিকে তিন ভাগে ভাগ করা হলো ।

এক – ডায়াবেটিস গাছ আসলে কি গাছ ? দুই – ডায়াবেটিস গাছ কি ডায়াবেটিস নিরাময় করতে পারে ? ডায়াবেটিস গাছের পাতা খাওয়ার নিয়ম কি ? তিন – ডায়াবেটিস গাছ কোথায় পাওয়া যায় ? ডায়াবেটিস গাছের দামই কত ?

এক – ডায়াবেটিস গাছ আসলে কি গাছ ?

ডায়াবেটিস গাছ আসলে সাবুঙ্গা নামে পরিচিত । চিনে এটিকে জিয়ান ফেং উইই নামে ডাকা হয় । এর বিজ্ঞানসম্মত নাম Gynura procumbens ( গাইনুরা প্রোকাম্বেন্স) । বাংলাদেশে একে ডায়াবেটিস গাছ বলা হয় । গাইনুরা প্রোকাম্বেন্সকে ডায়াবেটিস গাছ নামকরন করা হয়েছে কারন মনে করা হয় এই গাছ ডায়াবেটিস নিরাময় করতে পারে । অনেকে একে ডায়াবেটিস ঔষধ গাছও বলে থাকেন । বাংলাদেশে অষুধ ছাড়া ডায়াবেটিস সারানোর বিষয়ে প্রচার বাড়ছে , পশ্চিম বাংলায়ও ডায়াবেটিস গাছের ব্যবহার হচ্ছে । ডায়াবেটিস গাছ মূলত পাওয়া যায় , চিন , দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকা ।

দুই – ডায়াবেটিস গাছ কি ডায়াবেটিস নিরাময় করতে পারে ?

ডায়াবেটিস গাছের পাতার extra-pancreatic action আছে – যা লিভারে গ্লাইকোলাইসিসকে বাড়ায় , গ্লাইকোজেনেসিস কমায় । ফলে লিভারের গ্লুকোজ ব্যবহার বেড়ে যায় , গ্লুকোজ উৎপাদন কমে যায় । মনে করা হয় , ডায়াবেটিস গাছ গাইনুরা প্রোকাম্বেন্সের পাতার মধ্যেকার ফ্লাভানয়েড যৌগের ইনসুলিনের মত ক্রিয়াই এর জন্য দায়ি । মালেশিয়া সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত Fundamental Research 2007 এর স্টাডি পেপার থেকে দেখা যাচ্ছে ইথানলমিশ্রিত ডায়াবেটিস গাছের পাতার নির্যাস অনেকটা ডায়াবেটিসের ঔষধ Metformin এর মত কাজ করে । অর্থাৎ ডায়াবেটিস যে Diabetes control করতে পারে তার প্রমান পাওয়া যাচ্ছে । গাছ নিয়ে নানা রকম গুজব ও টোটকা চারিদিকে ঘুরে বেড়ায় তাতে ডায়াবেটিস গাছের ডায়াবেটিস নিরাময়ের দাবিটির সত্যতা নিয়ে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হলেও , মালেশিয়ার বিজ্ঞানীদের স্টাডি থেকে সন্দেহের বেশ কিছুটা নিরসন সম্ভব হয়েছে ।

ডায়াবেটিস গাছের পাতা কতটা খাওয়া যাবে সেটা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনো আসেনি , তবে diabetes control এর জন্য আপনি দুই থেকে তিনটি পাতা দিনে খেতে পারেন ।

তিন – ডায়াবেটিস গাছ কোথায় পাওয়া যায় ? ডায়াবেটিস গাছের দাম কত ?

চিন , দক্ষিণ এশিয়া , আফ্রিকা হলো ডায়াবেটিস গাছ গায়নুরা প্রোকাম্বেন্সের দেশ । গায়নুরার কিছু প্রজাতি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গেও পাওয়া যাচ্ছে । আপনি ডায়াবেটিগাছ গাইনুরা প্রোকাম্বেন্স বাড়ীতে লাগাতে চাইলে নার্সারিতে খোঁজ করতে পারেন । একটি গাছের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে হবে – স্থানভেদে দাম বদলাতে পারে । আজকাল Gynura procumbens capsule ও পাওয়া যাচ্ছে , সংগ্রহ করতে পারেন ।

ডায়াবেটিস সত্যি সত্যি আপনার ডায়াবেটিস নিরাময় করতে পারে । তবে ডায়াবেটিস গাছ গাইনুরা প্রোকাম্বেন্স নিয়ে আরো স্টাডি দরকার – এই বিষয়ে Dr Biswas প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও চিন্তাভাবনা করছে । আপনারা সাথে থাকলে ডায়াবেটিস গাছ নিয়ে গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে – কে বলতে পারে ডায়াবেটিস গাছ আগামি দিনে ডায়াবেটিস নিরাময়ের অন্যতম হাতিয়ার হবে না ।

3) ডায়াবেটিসের খাবার তালিকায় মধু । Honey in diabetes control

মধু তো আমাদের সকলেরই প্রিয় । আর মধুর গুনাগুন নিয়ে অনেক কথাই প্রচলিত আছে , তার মধ্যে অনেকগুলিই myth , তবে মধুতে যে বেশ ভালো নিউট্রিয়েন্টস আছে তাতে কোন সন্দেহ নেই । সাম্প্রতিক অতীতের একটি তথ্য আপনাদের দিতে পারি , গঙ্গার অবিরল ও নির্মল ধারার দাবিতে ২০১৯ এ ভারতের উত্তরাখন্ডে মাতৃসদন আশ্রমের তরুন সন্ন্যাসী আত্মবোধানন্দ প্রায় ২০০ দিন অনশনে ছিলেন , অনশনের সময় তিনি শুধুমাত্র মধু-জল খেতে , অনশন শেষে তিনি সুস্থই ছিলেন । মধুর নিউট্রিয়েন্টস ভ্যালুর এটি একটি ভালো নির্দশন হতে পারে । মধুর এত গুন থাকা সত্বেও , মধুতে অত্যাধিক বেশি পরিমানে কার্বোহাইড্রেট থাকার জন্য ডায়াবেটিসের খাবার তালিকায় মধুকে রাখা যাবে কিনা তাতে সন্দেহ থাকার কথা । আসুন জানি ডায়াবেটিসের খাবার তালিকায় মধুকে রাখা যাবে কিনা ।

গবেষণা থেকে দেখা যাচ্ছে ডায়াবেটিস রোগিরা মধু খেলে , মধু খাওয়ার তিরিশ মিনিট পর blood sugar level বেড়ে যায় , এর পর মধু ইনসুলিনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে blood sugar আবার কমতে থাকে এবং দুই ঘন্টার মধ্যে blood sugar control এ চলে আসে । সম পরিমান চিনি থেকে সমপরিমান মধুতে বেশি গ্লুকোজ থাকলেও মধুর glycemic index চিনি থেকে কম । এছাড়া মধুর একটি ম্যাজিকাল গুন হলো মধু রক্তে C-peptide কে বাড়িয়ে দেয় যা ইনসুলিনের উতপাদন বাড়িয়ে blood sugar control এ রাখে । এছারাও মধুতে antioxidant থাকে যা diabetes এর সমস্যাগুলিকে কমানোর চেষ্টা করে ।

ডায়াবেটিসের খাবার তালিকায় আপনি মধুকে রাখতেই পারেন । আর যাদের Diabetes নেই তারা তো মধু খেতেই পারেন , তবে প্রতি বারে মধু খাওয়ার পরিমান যেন খুব বেশি না হয় । আর মধুর বিষয়ে আপনাকে সচেতন হতে হবে , কারন আপনি যে সব মধু কেনেন সবই প্রক্রিয়াজত ,তাতে প্রচুর পরিমানে চিনি যোগ করা থাকে । এর জন্য আপনাকে ১০০% বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক মধু খেতে হবে । আমরা আপনার সুবিধার জন্য একশ শতাংশ বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক মধু নিয়ে এসেছি যা আপনি কম মাত্রায় নিয়মিত খেলে আপনার diabetes control রাখতে আপনাকে সাহায্য করবে । description এ link click করে মধুটিকে অর্ডার দিয়ে ফেলুন । ডায়াবেটিসের খাবার তালিকায় থাকুক বিশুদ্ধ মধু ।

4) ডায়াবেটিসে কলা খাওয়া যাবে কি ? Banana in Diabetes control

যুগ যুগ ধরে কলাকে আমরা খুবই স্বাস্থ্যকর ফল হিসাবে ধরে এসেছি | কিন্তু diabetes control এ কলা কতটা নির্ভরযোগ্য ! কারন কলাতে কতগুলি বিপরীত মেরুর উপাদান থাকে যার মধ্যে কেউ কেউ blood sugar level খুব তাড়াতাড়ি বাড়াতে পারে , আবার কেউ কেউ কেউ blood sugar level সহজে বাড়তে দেয় না | কলাতে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট থাকে যা সহজেই blood sugar বাড়ায় , আবার কলাতে বেশ ভালো পরিমানে fiber থাকে – যা আবার সহজে blood sugar level বাড়তে দেয় না | কাঁচা কলাতে আবার একটি ম্যাজিকাল উপাদান থাকে – Resistant starch – যা blood sugar level কমাতে ভূমিকা নেয় | তা হলে কলা কি diabetes control এ খাওয়া যেতে পারে ? কলা কি ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে কোন ভূমিকা নিতে পারে ? আসুন জানি সবটাই ?
সমস্ত বিষয়টি যাতে পরিষ্কার হয় , আমরা জানব diabetes control এ কলার ভূমিকা | কোন কলা diabetes control এ সবচেয়ে ভালো ? Diabetes control এ কতটা কলা খাওয়া যেতে পারে ?

Blood sugar control এ কলার ভূমিকা :

একটি মিডিয়াম সাইজের কলা গড়ে প্রায় ২৭ গ্রাম ওজনের হয় | তার মধ্যে ১৪ গ্রামই হয় সুগার | কলার থেকে যে ক্যালরি আমরা পাই তার প্রায় ৯০% ই সুগার থেকে আসে – ফলে কলা খেলে blood sugar level সহজেই বেড়ে যাওয়ার কথা | কলাতে যেমন ১৪ গ্রাম সুগার থাকে তেমনি ৩ গ্রাম fiber ও থাকে | Fiber কিন্তু diabetes control এর জন্য দারুন | fiber সুগারের absorption যেমন কমিয়ে দেয় তেমনি digestion এর গতিকেও মন্থর করে | ফলে blood sugar level নিয়ন্ত্রণে থাকে | কাঁচাকলার ক্ষেত্রে diabetes control এর উপযোগি আর একটি উপাদান থাকে – Resistant starch | Resistant starch হলো long chain glucose , যা পৌষ্টিকতন্ত্রের উপরের অংশে পরিপাক হয় না | অর্থাৎ resistant starch পৌষ্টিকতন্ত্রের উপরের অংশে fiber এর মত আচরণ করে – যা blood sugar control করে | এছাড়া resistant starch পৌষ্টিকতন্ত্রের নিচের অংশের বন্ধু ব্যাক্টেরিয়াকে খাবারের জোগান দেয় – যা metabolic health এর দিকে নজর রাখে ও blood sugar control করে |

অর্থাৎ কলাতে ভালো মন্দ দুই রকম কার্বোহাইড্রেটই থাকে – সেই ক্ষেত্রে কলা diabetes control এ উপযোগি কিনা সেটা বুঝতে কলার glycemic index জানাটাই সবচেয়ে ভালো উপায় | কলার GI বা glycemic index 42 থেকে 62 – অর্থাৎ কম থেকে মাঝারি | এটা নির্ভর করে কলা কতটা পাকা তার উপর – কাঁচা কলার GI খুব কম – কলা যতো পাঁকতে থাকবে GI বাড়তে থাকবে | অর্থাৎ ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে কলা আপনার সহযোগি হতেই পারে |

কোন কলা Blood sugar control এ সবচেয়ে ভালো ?

কলার তিনটি উপাদান ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ভূমিকা নেয় | এক – সুগার | দুই – ফাইবার | তিন – resistant starch | প্রথম উপাদানটি ডায়াবেটিস বাড়ায় , শেষের দুটি ডায়াবেটিস কমায় | কলা যত কাঁচা হবে ফাইবার ও resistant starch ততো বেশি থাকবে – আর সুগার কম ; কলা যতো বেশি পাকা হবে ফাইবার ও resistant starch এর অনুপাত ততো কমবে সুগারের তুলনায় | অর্থাৎ খুব বেশি পাকা কলা না খাওয়াই ভালো যদি আপনি diabetes control চান বা ডায়াবিট চিরতরে নিরাময় চান | কাঁচা কলাকে সব্জি হিসাবে খান – আর পাকা কলা ফল হিসাবে খেলে অত্যাধিক পাকা কলা এড়িয়ে চলুন |

Blood sugar control এ কতটা কলা খাওয়া যেতে পারে ?

diabetes control এ কলা কতটা পাক শুধু এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় – সাথে কতটা কলা খেলেন সেটাও অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ | blood sugar control করতে চাইলে যে খাবারটি খাচ্ছেন তার glycemic index জানার সাথে সাথে তার glycemic load টিও জানা দরকার | কলা কতটা খেলেন সেই অনুযায়ী তার Glycemic load বাড়তে থাকে | কলা খুব ছোট থেকে খুব বড় অনেক রকম হয় | খুব ছোট কলার গড় ওজন ১৮ গ্রাম , মাঝারি সাইজের কলার ওজন ২৭ গ্রাম, খুব বড় কলার ওজন ৩৫ গ্রাম | কলার ওজন অনুযায়ী ছোট থেকে বড়তে কলার Glycemic load 11 থেকে 22 | Glycemic load 10 এর কম হলে তা diabetes control এর জন্য সবচেয়ে ভালো , 11 থেকে 19 এর মধ্যে হলে diabetes control এর জন্য মাঝারি , 20 এর উপরে হলে diabetes control এর জন্য খুব খারাপ | অর্থাৎ কলার Glycemic load মাঝারি থেকে খারাপ | আপনি যদি diabetes control করতে চান একবারে ছোট সাইজের একটির বেশি কলা আপনার খাওয়া উচিত না |
Diabetes control এ আপনি কলা খেতেই পারেন | কাঁচা কলা আপনার খাওয়াই উচিত | পাঁকা কলা খেতে চাইলে একবারে একটি ছোট কলা খান | আর শুধু কলা খাবেন না , কলার সাথে অন্য খাবারো খান – যেমন বাদাম , দই এসবও খান যা কলার কার্বোহাইড্রেট শোষণ ও পরিপাক কমিয়ে দেবে | আর আপনি যদি ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ের কথা ভাবেন , খুব বেশি পাঁকা কলা এড়িয়ে চলুন |

Dr Biswas চ্যানেলের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অভিন্দন | diabetes control নিয়ে আরো কিছু জানতে চাইলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানান |

5) ডায়াবেটিস নিরাময়ে নারিকেলের জল কি পান করা উচিৎ ? Healthy drinks for diabetes control : Coconut water

নারিকেল জল যেহেতু তাটক্ষনিকভাবে আপনার সহজ শক্তির উৎস হতে পারে , সাথে আপনাকে dehydration থেকে বাঁচাতে পারে , তাই একে nature’s sports beverage ও বলা হয়ে থাকে । কিন্তু ডায়াবেটিস নিরাময়ে নারিকেল জলের কি কোন ভূমিকা আছে ? diabetes control এ নারিকেল জলকে কি Healthy drinks হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে ? নারিকেল জলের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা বুঝতে আলোচনাটিকে দুইভাগে ভাগ করা হল ।

এক – নারকেল জলে কি blood sugar বাড়ানোর মত যথেষ্ট sugar থাকে ? দুই – ডায়াবেটিস নিরাময়ে কি নারিকেল জল খাওয়া উচিৎ ?

এক – নারিকেল জলে কি blood sugar বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট sugar থাকে ?

২৪০ মিলিলিটার নারিকেল জলে কার্বোহাইড্রেট থাকে ১০.৫ গ্রাম , সুগার থাকে ৯.৫ গ্রাম । ফাইবার একেবারেই থাকে না । পটাশিয়াম থাকে দৈনিক চাহিদার ৯% , ম্যাঙ্গানিজ থাকে ২৪% , vitamin C ২৭% । নারিকেল জলে সামায়িক blood sugar বাড়ানোর জন্য জন্য যথেষ্ট সুগার থাকে । থাকে তবে বাজারে কিনতে পাওয়া যাওয়া Drinks গুলি থেকেই নারিকেল জল অনেকটাই ভালো diabetes control এর জন্য ।

দুই – ডায়াবেটিস নিরাময়ে নারিকেল জল কি খাওয়া উচিৎ ?

Diabetes control এ , diabetes prevention এ নারিকেল জলের কোন কোন ভূমিকা আছে কিনা , এই বিষয়ে তেমন কোন সফল গবেষণা নেই । কিছু প্রাণী যেমন ইদুরের উপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে নারিকেল জল প্রাণীগুলিতে blood sugar level কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে । তবে মানুষের ক্ষেত্রে কিছু সিদ্ধান্তে আসার সময় আসেনি । অর্থাৎ আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে আর ডায়াবেটিস নিরাময়ের জন্য নারিকেল জল পান করা শুরু করেন , ভুল করবেন , শুধু শুধু ঝুকি নিয়ে লাভ নেই । তবে আপনার যদি ডায়াবেটিস না থাকে নিয়মিত নারিকেল জল আপনি খেতেই পারেন , তবে তা যেন একবারে একটি নারকেল থেকে বেশি না হয় ।

নারিকেল নিউট্রিয়েন্টসে পরিপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক পানিয় – অবশ্যই healthy drinks । তবে বোতল বা ক্যানেবন্দী বাজার থেকে কেনা নারিকেল জল আপনার জন্য অযাচিত বিপদ ডেকে আনবে কারন তাতে অতিরিক্ত সুগার যোগ করা থাকে । আর আপনার যদি ডায়াবটিস থাকে আপনার জন্য নারিকেল জল নিরাপদ নয় – নারিকেল জল ডায়াবেটিস নিরাময় করবে না ।

6) ডায়াবেটিস নিরাময়ে কফি পান করা কি উচিৎ ? Healthy drinks for diabetes control : Coffee

কফির উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে একাধিক মতামত ও বিজ্ঞানসম্মত প্রমান আছে ।তাই যতোই কনফিউসন থাকুক না কেন কফি পানীয় হিসাবে খুবই জনপ্রিয় । কিন্তু এই সময় যেহেতু diabetes control অন্যতম একটি বিষয় হয়ে উঠেছে তাই আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত হওয়া দরকার diabetes control করতে চাইলে কফি খাওয়া যাবে কিনা । ডায়াবেটিস নিরাময়ে কফি পান করা উচিৎ কিনা । ডায়াবেটিসে কফি healthy drik হিসাবে বিবেচিত হতে পারে কিনা ? বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে আলোচনাটিকে তিন ভাগে ভাগ করা যাক ।

এক –ডায়াবেটিসে কফির উপকারিতা । দুই – ডায়াবেটিসে কফির অপকারিতা । তিন – ডায়াবেটিসে কি কফি পান করা উচিৎ ?

এক – ডায়াবেটিসে কফির উপকারিতাঃ

হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪ গবেষণা পেপার থেকে দেখা যাচ্ছে যারা কুড়ি বছর ধরে এক কাপের বেশি কফি খেয়েছেন তাদের তাদের type 2 diabetes এর সম্ভাবনা কমে যায় ১১% , আর যারা কফি পান করা কমিয়ে দিয়েছেন তাদের ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা কমে গেছে প্রায় ১৭% । এছাড়া ২০১৮ এর একটি স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে কফি পান করলে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা কমে । তবে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা কফির কোন উপাদান কিভাবে কমায় সেটি নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি । স্টাডিগুলি থেকে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে কফি পান করলে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা কমে , অর্থাৎ diabetes prevention এ healthy drink হিসাবে আপনি কফি পান করার কথা ভাবতেও পারেন ।

দুই – ডায়াবেটিসে কফির অপকারিতাঃ

২০০৪ এর আর একটি গবেষণা থেকে বিপরীত ফল পাওয়া গেছে । চার সপ্তাহের স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে বেশি মাত্রায় কফি খেলে fasting blood insulin level ও fasting blood glucose level বেড়ে যায় । ২০০৮ এর একটি স্টাডি থেকেও একই ফল দেখা যাচ্ছে । অর্থাৎ কফি খেলে আপনার তাতক্ষনিক blood sugar level বেড়ে যাবে , আপনাকে blood sugar control এ বেগ পেতে হবে । এর কারন হিসাবে কফির caffeine কে দায়ি করা হচ্ছে ।

তিন – ডায়াবেটিসে কি কফি পান করা উচিৎ ?

আপনি যদি আগে থেকে কফি না খান , তাহলে আপনাকে বলব , ডায়াবেটিস নিরাময় করতে চাইলে আপনার কফি নতুন করে না ধরাই ভালো । আর যারা coffee lover , দীর্ঘদিন ধরে কফি পান করছেন , কফি না ছাড়াই ভালো – তবে কফি পান করার পরিমান প্লিজ আগে থেকে আর বাড়াবেন না , আর কফিতে যতটা সম্ভব কম দুধ ব ও চিনি খান । আসলে কফি ডায়াবেটিসের জন্য খুবই কনফিউসিং একটি পানিয় , কফিকে না রাখা যাচ্ছে healthy drink এর দলে , না রাখা যাচ্ছে Worst drink এর দলে । এটা অনেকটাই নির্ভর করছে আপনার উপর , আপনি যদি প্রতিদিন যথেষ্ট পরিশ্রম বা ব্যায়াম অথবা দুটিই করতে পারেন কফি অনেকটাই healthy drink হয়ে উঠতে পারে ।

7) ডায়াবেটিসে লবন কতটা বিপজ্জনক ? Salt on Diabetes Control

লবন ছাড়া কি আপনি খাবারের কথা ভাবতে পারবেন ? কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন অতিরিক্ত table salt আপনার diabetes control এর অন্যতম বাঁধা নয় তো ? আসুন এখন জানি খাবারের অতিরিক্ত লবন diabetes control এর বাঁধা কিনা ? খাবারে কতটা লবন diabetes control এর জন্য আদর্শ । কোন খাবারে লবন অত্যাধিক বেশি diabetes control এর পক্ষে । Diabetes control এর পক্ষে কোন খাবারে লবন ঠিকঠাক ।

Blood sugar control এ অত্যাধিক table saltt কতটা বাঁধা ?

সাধারন table salt এ সোডিয়াম থাকে , সোডিয়াম শরীরের তরলকে সাম্যে রাখতে সাহায্য করে , এছাড়াও রক্তের পরিমান ও blood pressure কে স্বাভাবিক রাখে । আপনি যদি খাবারের সাথে অত্যাধিক পরিমানে লবন খান আপনার blood pressure বাড়তে থাকবে , দেহতরলের সাম্যও নষ্ট হবে ফলে আপনার পায়ের পাতা ফুলে যাবে সাথে অন্যান্য শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হবে , যা ডায়াবেটিসের জন্য মারাত্মক হতে পারে , diabetes control এর সকল প্রচেষ্টাগুলি ব্যর্থ হতে থাকবে । কারন আপনার ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও High blood pressure এর সম্ভাবনা বাড়তে থাকে । এর ফল একদিকে অতিরিক্ত লবনের প্রভাব , অন্যদিকে ডায়াবেটিসের প্রভাব – যৌথভাবে HEART DISEASE, STROKE, KIDNEY DISEASE এর সম্ভাবনা ও তার থেকে মৃতুর সম্ভাবনা অনেকগুন বেড়ে যাবে । মানে আপনি যদি ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় চান অত্যাধিক লবন আপনার বাঁধা হতে পারে ।

Blood sugar control এ কতটা লবন আদর্শ ?

ভাবুন তো আপনি দিনে কতটা table salt খান ? আপনি লবন তিন ভাবে পেতে পারেন । এক – প্রতিটি খাবারেই কম বেশি লবন থাকে । দুই – প্রতি খাবার তৈরি করতে বা রান্না করতে আমরা কমবেশি লবন যোগ করি । তিন – খাবার খাওয়ার সময় অতিরিক্ত লবন খাবারে যোগ করি । আমরা মোটামুটি পাঁচ থেকে ছয় চামচ লবন খাই প্রতিদিন খাবারের সাথে ।
আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে প্রতিদিন ২৩০০ মিলিগ্রামের বেশি লবন আপনার খাওয়া ঊচিত না, অর্থাৎ আপনি যদি diabetes control করতে চান এক চামচের অর্ধেকের একটু বেশি লবন খেতে পারেন । আর আপনার যদি high blood pressure থাকে ১৫০০ মিলিগ্রামের বেশি লবন না খাওয়াই ভালো , অর্ধেক চামচ লবন আপনি খেতে পারেন । কিন্তু সমস্যা হলো লবনের হিসাবটা যতটা বলা সহজ ততটা মানা সহজ নয় । কারন প্রতিটি খাবারের লবন হিসাব করে diabetes diet plan ঠিক করা সত্যি খুব কঠিন । তবু প্যাকেটজত খাবার খাওয়ার আগে প্যাকেটের গায়ে লবনের পরিমান দেখে খেতে পারেন । যতটা সম্ভব বাইরের খাবার না খাওয়াই ভালো , কারন বাইরের খাবার লবন হিসাব করে খাওয়া প্রায় অসম্ভব বলতে পারেন , তাই যতটা সম্ভব বাড়ির খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন যদি ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় চান ।

Blood sugar control এর পক্ষে অত্যাধিক table salt যুক্ত খাবার কোনগুলি ?

প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত লবন থাকে । Restaurant ও fast food centre এর খাবারে অত্যাধিক লবন থাকে । যে সব প্যাকেটজাত খাবারে ৪০০ মিলিগ্রাম বা তার থেকে বেশি লবন থাকে তাদের এড়িয়ে চলুন । প্যাকেটের গায়ে সোডিয়ামের পরিমান দেখে নিন । অনেক খাবারে no sodium বা low sodium লিখে খাবারে অতিরিক্ত পটাশিয়ামের লবন মেশায় , সেক্ষেত্রেও আপনাকে সাবধান হতে হবে । অর্থাৎ আপনি যদি diabetes control চান বা ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় করতে চান লবনকে হিসাবের মধ্যে আনতেই হবে ।

Blood sugar control এর ক্ষেত্রে সঠিক লবনযুক্ত খাবার কোনগুলি ?

Low sodium আদর্শ diabetes control diet করতে গেলে সবচেয়ে ভালো উপায় ঘরের খাবার খান । বাজার থেকে টাটকা শাকসব্জি , মাছ মাংস কিনে বাড়িতে রান্না করে খান তবেই লবনকে নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হবে । রান্নায় কম table salt ব্যবহার করেও স্বাদ অক্ষুন্ন রাখতে রসুন , আদা, ধনে পাতা , পাতিলেবু, ভিনিগার , গোলমরিচও যোগ করতে পারেন ।
যদি প্যাকেটজাত খাবার খেতেই চান বা বাইরের খাবার খেতে চান , লক্ষয় রাখুন প্রতি meal এ লবন যেন ১৪০ মিলিগ্রামের বেশি না হয় ।

লবন সরাসরি আপনার Diabetes control এর বাঁধা না হলেও ডায়াবেটিসে লবন খুবই গুরুত্বপূর্ণ । তাই লবনকে হিসাবের মধ্যে আনাই বুদ্ধিমানের কাজ ।

8) ডায়াবেটিসে ভাত খাওয়া যাবে কি ? Rice in Diabetes control

ভাত ছাড়া বাঙালি ভাবাই যায় না । আবার ডায়াবেটিসও বাঙালিকে প্রতিদিন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছ। আচ্ছা ভাতই diabetes control এর বাঁধা নয় তো ! আসুন জানি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অর্থাৎ blood sugar control এ ভাতের কি ভূমিকা হতে পারে । আর এটাও জানাও দরকার দিনে সর্বাধিক কতটা ভাত আপনি খেতে পারেন , diabetes control এ ? Diabetes control এ কোন চাল সবচেয়ে ভালো ? তার সাথে জানি ভাতের বদলে diabetes diet হিসাবে কোন খাবারকে বেছে নিতে পারি ।

Blood sugar control এ ভাতের ভূমিকাঃ

ভাতে যেমন কার্বোহাইড্রেট খুব বেশি থাকে তেমনি তার GI অর্থাৎ গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্সও খুব বেশি ; মানে আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে আর আপনি যদি diabetes control করতে চান ভাত খাওয়ার ব্যাপারে আপনাকে ভাবতেই হবে । তবে blood sugar নিয়ন্ত্রণের diet এ আপনি ভাতকে রাখতেই পারেন যদি একবারে বেশি ভাত না খান আর দিনের প্রতি meal এ না খান । এছাড়া সব চালই যে সমান এমনও নয় । এমন অনেক চাল আছে যার GI তুলনামূলক কম , মানে diabetes control এ সেই চালের ভাত খেতেই পারেন ।

Blood sugar control এ সর্বাধিক কতটা ভাত খাওয়া যেতে পারে ?

১০০ গ্রাম চালে জল থাকে ৬৮.৪৪ গ্রাম ,কার্বোহাইড্রেট থাকে ২৮.১ গ্রাম , ফাইবার থাকে ০.৪ গ্রাম, ফ্যাট থাকে ০.২৮ গ্রাম , প্রোটিন থাকে ২.৬৯ গ্রাম । Diabetes control করতে চাইলে প্রতি meal এ আপনার চাই ৬০ গ্রামের কম কার্বোহাইড্রেট । তাই কতটা চালের ভাত খাবেন সেটিকে ঠিক করতে পারেন meal এ অন্যান্য খাবারে কতটা কার্বোহাইড্রেট আছে সেটি জানলে । এছাড়াও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনার meal এর সামগ্রিক খাবারের দিকে আপনাকে নজর দিতে হবে । আপনার diabetes diet meal এ প্রোটিন থাকা উচিৎ ২৫% , ২৫% দানাশস্য ও স্টার্চ , ৫০% শাকসব্জি । এছাড়াও diabetes diet meal এ ফল থাকা দরকার । একটি meal এ ১৫ গ্রামের বেশি চালের ভাত না খাওয়াই ভালো ।

Blood sugar control এ কোন চাল সবচেয়ে ভালো ?

সাধারন চালের GI ৭০ বা তার থেকে বেশি সাথে এতে ফাইবার ও নিউট্রিয়েন্টস খুব কম থাকে । যাদের blood sugar level বেশ বেশি তাদের সাধারন চালের ভাত না খাওয়াই ভালো । আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো ৫৬ থেকে ৫৯ GI এর বাসমতি, ব্রাউন ও ওয়াইল্ড রাইস । তবে চাল বেশিসময় ধরে ফোটাবেন না , বেশি সময় ধরে ফোটালে ভাতের GI বেড়ে যাবে । সবচেয়ে ভালো Brown rice আপনি পাবেন online এ । আপনার সুবিধার জন্য best anti-diabetic brown rice কেনার link টি description এ দেওয়া হল । click করে brown rice order দিতে পারেন ।

Blood sugar control এ ভাতের বদলে আপনি কি খেতে পারেন ?

ভতের বদলে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত দানাশস্য খেতে পারেন diabetes control এর জন্য । ভাতের ভালো বিকল্প হতে পারে ওট , বার্লি , মিলেট , আটা ।

আশা করি এতক্ষনে বুঝে গেছেন ভাতের সাথে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক কি । ভাত বাঙালির পরিচয় , তাই ভাত ছাড়ার কথা কখনই বলব না , তবে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার নামই আধুনিকতা , তাই ভাত খান , তবে বুঝেশুনে , পরিমান ও প্রকার বুঝে ডায়াবেটিস নিয়ে আর কোন কনফিউসন থাকলে অবশ্যই কমেণ্ট করে জানান ।

9) ডায়াবেটিসে গুড়

সব বাঙালির গুড়ের নাম শুনলেই জিভে জল আসবেই | প্রায় হাফ ডজন প্রকার গুড় সারা বছর দুই বাংলার বাঙালিদের রসনার তৃপ্তি মেটাতে ব্যস্ত থাকে | – আখের গুড় , তালের গুড়, খেঁজুর গুড় , গোলপাতার গুড় – একটা একটা গুড় আর স্বাদও এক এক রকম |

গুড়কে অনেকে চিনির বিকল্প ভাবেন – ডায়াবেটিসের রোগীদের চিনির বদলে গুড় খাওয়ার রীতি আছে | কিন্তু সত্যিই কী ডায়াবেটিক পেশেন্টদের গুড় খাওয়া উচিত ? গুড় কি ব্লাড সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে ?

গুড় নিয়ে নানা রকম টোটকা আছে – সোসাল মিডিয়াতে – কিছু অনলাইন পোর্টালে – youtube তে বটেই – গুড় আর ডায়াবেটিস নিয়ে নানা মনগড়া গল্প ফাঁদা আছে – সে সবের ফাঁদে না পড়ে আসুন জানি গুড়ে anitdiabetic কোন উপাদান আছে কিনা |

অনেকেই বিশ্বাস করেন গুড়ে বিশেষ উপাদান আছে যা রক্তের ইনসুলিনকে সক্রিয় করে ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে কাজ করে | কিন্তু এটা বিশ্বাসই গুড়ে antidiabetic কোন উপাদান আছে – এমন প্রমান কেউই করতে পারেনি – কোন সার্ভেই এখনও প্রমানের জন্য যথেষ্ট নয় সে গুড় ডায়াবেটিস কমায় |

গুড় ডায়াবেটিস কমায় না – কিন্তু বাড়ায় কি ?

গুড়ের সবচেয়ে বড় উপাদান হলো – সুক্রোজ – ৬০% র বেশি সুক্রোজ থাকে | রক্তে সুক্রোজ ভাঙতে একটু সময় লাগলেও বেশি সময় লাগে না – আর একবার ভাঙা শুরু হয়ে গেলে খুব কম সময়ে অনেক সুগার দিতে পারে রক্তকে – সেক্ষেত্রে চিনি থেকে এক ফোঁটা কম বিপদের না গুড় |

যে সব ডায়েবেটিক পেশেন্টরা চিনির বিকল্প হিসাবে গুড়কে ব্যবহার করে চলেছেন তাদের বলব আজ থেকে এই অভ্যাসটি বন্ধ করাই আপনার পক্ষে সুখকর হবে | তবে এক ফোঁটাও গুড় যে খাওয়া যাবে না এমন নয় – একটু আধটু গুড় খেতেই পারেন – তবে তা যেন একটু আধটুই হয় |

নলেন গুড়ের গন্ধে বাড়ি ম ম করলেই যে গুড়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তেই হবে তা তো নয় – গুড়ের গন্ধটাই আপনার কাছে বেশি সুখকর হবে – মনের সুখে গুড়ের গন্ধ নিন আর কালেভদ্রে একটু আধটু চেকে দেখতেই পারেন |

10) উচ্ছে কি ডায়াবেটিস রোগ সারায় ?

উচ্ছে যাকে অনেকে করলাও বলে থাকেন – ইংরেজরা যাকে bitter melon বা bitter gourd ও বলে থাকেন – এশিয়া মহাদেশের অনেক দেশে যুগ যুগ ধরে ডায়াবেটিসের মহৌষধীও হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে | এখন তো online এ আপনি উচ্ছের রস অর্ডারও করতে পারেন – bitter melon soda , bitter melon tea ও অনেকে খেয়ে থাকেন উচ্চ রক্তচাপের প্রতিরোধক হিসাবে | উচ্ছে কি আসলেই ডায়াবেটিস সারাতে পারে | আসুন উচ্ছের ডায়াবেটিসে সারানোর কথা কতটা myth আর কতটা মিথ্যা জানার চেষ্টা করি |

100 গ্রাম উচ্ছেতে জলই থাকে 93.95 গ্রাম , ফাইবার থাকে 2 gm | Glycemic index এ উচ্ছে বেশ নিচেই হবে – ফলে উচ্ছে খেলে আপনার রক্তের সুগার তেমন বাড়বে না – এটা নিচ্ছিত – কিন্তু উচ্ছেতে কি এমন কোন উপাদান আছে যা ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে ?

বিজ্ঞানীরা মোট তিনটি উপাদান পেয়েছেন যাদের hypoglycemic ক্রিয়া আছে – এই তিনটি উপাদান হলো – Charantin (চারনটিন)
– Vicine ( ভিসিনি)
– Polypeptide-p ( পলিপেপটাইড-পি)

এদের মধ্যে charantin এর খুব ভালো গ্লাইসেমিক এফেক্ট আছে | এছাড়া করলাতে lectin( লেসটিন) নামে একটি উপাদান পাওয়া যায় যা রক্তের blood glucose ঘনত্ব কমিয়ে দেয় |

অর্থাৎ আপনি নিয়মিত উচ্ছে খেলে type 1 diabetes ও type 2 কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে | কিন্তু মজার বিষয় হলো রক্তের সুগারকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অনেক সব্জি , ফল ও খাবারেরই আছে – এখন যদি আপনি উচ্ছেকে মেডিসিন ভেবে ফেলেন তাহলে খুব ভুল করবেন | আর বেশি মাত্রায় উচ্ছে বা করলা খেলে হিতে বিপরীতই হবে – পেট ব্যথা , diarrhoea সহ অনেক রকম সমস্যাই হতে পারে |

Dr Biswas চ্যানেলের পক্ষ থেকে আপনাকে সাজেশন – নিয়মিত উচ্ছেকে সব্জি হিসাবে আপনি ব্যবহার করতেই পারেন – উচ্ছে খেলে আপনি নানারকম উপকারই পাবেন – কিন্ত উচ্ছেকে ডায়াবেটিসের মহৌষধী ভাবা ছেড়ে দিন – উচ্ছের জুস , উচ্ছে চা, উচ্ছের নানারকম কবিরাজি টোটকা কোনটিই রক্তের গ্লুকোজকে উল্লেখযোগ্য ভাবে কমাতে পারবে না |

11) ডায়াবেটিসে বাদাম

আপনার কি ডায়াবেটিস আছে ? যদি উত্তর হয় হ্যাঁ – তবে আপনার জীবনে রক্তের সুগারের কতটা গুরুত্ব তা তো বোঝাই যাচ্ছে | কোন কিছু খেতে গেলেই মনে হয় আচ্ছা এটা তো খাচ্ছি – সুগার বাড়বে না তো ! জানি বাদামের মত এত জনপ্রিয় , সুস্বাদু ও সহজলভ্য উপাদানটির ক্ষেত্রেও আপনি এটিই ভাবেন | আচ্ছা বাদাম খেলে সুগার বাড়বে না তো !

প্রথমেই বলে রাখি বাদাম খেলে সহজে আপনার রক্তের সুগার বাড়বে না কারন বাদামের GI অর্থাৎ Glycemic index খুবই কম , বাদামে অর্ধেকের বেশি ফ্যাট , 10% এর উপরে ফাইবার – ফলে আপনি বাদাম খেতে থাকলে আপনার রক্তে সুগার খুবই ধীরে ধীরে বাড়বে | কিন্তু সমস্যা অন্যত্র | বাদামে প্রচুর ক্যালোরি থাকে – আপনি যদি বাদামের ঝুড়ি নিয়ে TV দেখতে বা আড্ডা দিতে বসে যান তাহলে কিছুক্ষণের মধ্যে হাজার কালরির জোগান শরীরকে দিয়ে ফেলবেন – আর লাভের গুড় পিপড়েতে খাবে | তাই বাদামের লাভ পেতে গেলে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বাদাম খান – রক্তের সুগার বাড়বে না |

তবে বাদামের আসল ম্যাজিকটি আছে অন্যত্র | আপনার যদি type 2 diabetes থাকে তাহলে বাদাম আপনার জন্য মেডিসিনের মত কাজ করবে | গবেষণা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে যারা নিয়মিত বাদাম খান তাদের type 2 diabetes অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে |

এখন প্রশ্ন হলো আপনি কোন বাদাম খাবেন ? চীনাবাদাম , আমন্ড , পেস্তা , আখরোট , কাঁজু , যেকোন বাদামই আপনি নিয়মিত খেতে পারেন type 1 diabetes এর ক্ষেত্রে | তবে type 2 diabetes এর ক্ষেত্রে চীনাবাদাম নিয়ে কোন গবেষণা করা হয়নি – ফলে চীনাবাদাম type 2 diabetes এর ক্ষেত্রে উপকারি এর কোন প্রমান নেই – আমন্ড , পেস্তা , আখরোট , কাঁজুবাদাম নিশ্চিন্তে খেতে পারেন | চীনাবাদাম নিয়ে গবেষণা হয়নি তারমানে এটি যে type 2 diabetes জন্য খারাপ এটার কোন প্রমান নেই |

অর্থাৎ আপনার যদি সুগার থাকে – সে type 1 diabetes হোক কি type 2 diabetes – নিশ্চিন্তে বাদাম খান – উপকার পাবেন |

12) ডায়াবেটিসে কমলালেবু

শীতে চোখ বন্ধ করে মিষ্টি কিছু খাওয়ার কথ মনে করলে প্রথমেই কাকে দেখতে পান চোখের সামনে ? জানি ইনিই হবেন শীতের সেই বিশেষ অতিথি | কমলালেবু এই সময় এতটাই সুলভ যে , দিনে দুই চারটি মিষ্টি কমলালেবু ঠিক খাওয়া হয়েই যায় | অথচ শীত ফুরালেই খাওয়ার অঙ্ক দাড়ায় শূণ্য – তাহলে শীতে কমলালেবুর মত এতো বেশি মিষ্টি রসে কী কোন বিপদ হতে পারে – বিশেষ করে যাদের সুগার আছে ?

আসুন তবে কমলালেবুর উপাদানগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যাক – তাতে ডায়াবেটিসে বিপদের কিছু আছে কিনা | কমলালেবুর মিষ্টি রসের পিছনে আছে যে সব কার্বোহাইড্রেট তাদের GI অর্থাৎ Glycemic index অনেক কম – মানে 31 থেকে 51 এর মধ্যে | কমলালেবুর Glycemic index এতো কম হওয়ার পিছনে দুটি উপাদান দায়ি মূলত |

এক | Fiber – কমলালেবুতে প্রচুর পরিমান ফাইবার থাকে – একটি প্রমান সাইজের বড় orange এ প্রতিদিনের ফাইবার চাহিদার 18% পূর্ণ করতে পারে | কমলালেবুর fiber গুলো হলো pectin , cellulose hemicellulose ও lignin |

দুই | flavonoid যৌগ – Hesperidin ও Anthocyanin |

কোন কার্বোহাইড্রেটের GI 55 বা তার কম মানে তা ভালো কার্বোহাইড্রেট – অর্থাৎ আপনার ভালো সুগার | সেখানে কমলালেবুর GI মাত্র 38 থেকে 44 | কমলালেবু খেলে কমলালেবুর রস খুব ধীরে ধীরে digest , abosrbed ও metabolised হবে | ফলে রক্তে গ্লুকোজ বা সুগার লেভেলে ধীরে ধীরে বাড়বে | সাথে আমাদের শরীরকে অনেকক্ষণ ধরে শক্তি জোগাবে | অর্থাৎ শীতে orange বা orange juice আপনি নিশ্চিন্তে খেতে পারেন – এতে আপনার সুগার লেভেল তো বাড়বেই না বরং যাদের High blood sugar এর সমস্যা আছে তাদের নিয়মিত কমলালেবু খাওয়া উচিত – তাতে ডায়াবেটিসে নিয়ন্ত্রণে থাকবে |

13) ডায়াবেটিস নিরাময়ে চা কি পান করা উচিৎ ? Healthy drink for Diabetes control : Tea

ডায়াবেটিস নিরাময়ে আপনাকে blood sugar control এ যথেষ্ট যত্নবান হওয়া দরকার । অনেকেই মনে করেন Diabetes control এ চা বিশেষ করে green tea এর বিশেষ ভূমিকা আছেন । আসুন জানি ডায়াবেটিস চিরাতরে নিরাময়ে চায়ের কোন ভূমিকা আছে কিনা । ডায়াবেটিস নিরাময়ে চায়ের ভূমিকা বুঝতে সমগ্র আলোচনাকে আমরা তিন ভাগে ভাগ করেছি ।

এক – ডায়াবেটিস প্রতিরোধে চায়ের ভূমিকা কি ? দুই – Diabetres control এ চায়ের কি ভূমিকা ? তিন – কোন চা ডায়াবেটিস নিরাময়ে সবচেয়ে ভাল ?

এক – ডায়াবেটিস প্রতিরোধে চায়ের ভূমিকা কি ?

বেশ কিছু গবেষণা থেকে দেখা যাচ্ছে চা Diabetes prevention এ ভূমিকা নিতে পারে । জাপানের একটি স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে যারা প্রতিদিন ৬ বা তার থেকে বেশি কাপ চা খান , তাদের type 2 diabetes এর সম্ভাবনা ৩৩% কমে যায় ত্যাদের থেকে যারা দিনে এক কাপ চা খান । আর একটা স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে যারা দশ বছরের বেশি সময় ধরে চা পান করছেন তাদের obesity র সম্ভাবনা কম সাথে সম্ভাবনা কম ডায়াবেটিসের । অর্থাৎ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে চা বেশ ভালো ভূমিকা নিতে পারে ।

দুই – Diabetes control এ চায়ের ভূমিকা কি ?

চা শুধু ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে না , যাদের ডায়াবেটিস আছে চা তাদের blood sugar control ও করতে পারে । কিছু স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে নিয়মিত চা পান করলে fasting glucose level ও fasting insulin level কমে যায় – Diabetes control এ থাকে । প্যাসিফিক কলেজ অফ ওরিয়েন্টাল মেডিসিন এর বিজ্ঞানীদের মতে চায়ের Polyphenol Catechin , Polysaccharides Diabetes control এ ভূমিকা নেয় ।

তিন – কোন চা ডায়াবেটিস নিরাময়ে সবচেয়ে ভালো ?

ডায়াবেটিস নিরাময় চাইলে চায়ের সাথে দুধ চিনি না মেশালে সবচেয়ে ভালো । আপনার Blood sugar level ওতটাও বেশি না হলে চায়ে পরিমিত চিনি ও দুধ মেশাতে পারেন । আর চায়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো Green tea । তবে যদি সম্ভব হয় , Anti Diabetic tea পান করতে পারেন । যারা চা ভালোবাসেন কিন্তু ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য Anti Diabetic Tea এর কোন বিকল্প নেই । আপনি online এ Anti Diabetic Tea চা অর্ডার করতে পারেন , Description এর link click করে ।

তাহলে আর কি আজ থেকে চা কে আর একটু বেশি গুরুত্ব দিন , যদি আপনি সত্যি সত্যি ডায়াবেটিস নিরাময় চান । তবে চিনি ছাড়া যা খাওয়ার অভ্যাস রপ্ত করতে পারলেই ভালো – আর Anti Diabetic Tea নিয়মিত পান করতে পারলে তো আর কথাই নেই ।

14) ডায়াবেটিস নিরাময়ে মুড়ি কি খাওয়া যাবে ? Muri in diabetes control

বাঙালি মুড়ি বলতে অজ্ঞান । দুই বাংলার বাঙালিই জেলা বিশেষে মুড়ি খাওয়াকে প্রায় একটা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে নিয়ে এসেছে । কেউ শুধু মুড়ি ভালোবাসেন , কেউ বা মুড়ির সাথে বাতাসা থেকে নানারকম মিষ্টি , কেউ আবার পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা সহযোগে , কেউ আবার চপের সাথে । জেলা বদলে গেলেই খাওয়ার পদ্ধতি বদলে যাবে । কিন্তু কেউ কি মুড়িকে ডায়াবেটিস নিরাময়ের জন্য খাওয়ার কথা ভেবেছেন ? কখনো কি ভেবেছেন diabetes control এ বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মুড়ি কোন ভূমিকা নিতে পারে কিনা ? ডায়াবেটিসে মুড়ির ভূমিকা বুঝতে আলোচনাটিকে তিন ভাগে ভাগ করা যাক ।

এক – মুড়ি কি ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে পারে ? দুই – মুড়ি কি ডায়াবেটিস নিরাময় করে ? তিন – Blood sugar control এ কতটা মুড়ি খাওয়া যেতে পারে ?

এক – মুড়ি কি ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে পারে ?

১০০ গ্রাম মুড়িতে কার্বোহাইড্রেট থাকে ৯০ গ্রাম, ফাইবার ১.৭ গ্রাম । মানে মুড়ি খেলে blood sugar level সহজেই বেড়ে যাবে । তাছাড়া মুড়ির গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও বেশি । ফলে আপনি নিয়মিত বেশি মাত্রায় মুড়ি খেলে আপনার ডায়াবেটিস প্রতিরোধতো হবেই না বরং ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা কমে বেড়ে যাবে ।

দুই – মুড়ি কি ডায়াবেটিস কমায় ?

মুড়ি যে ডায়াবেটিস কমায় তার তেমন কোন স্টাডি নেই । তবে যেহেতু মুড়ির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশ বেশি তাই অনেকটাই নিশ্চিত হওয় যেতে পারে মুড়ি diabetes control করতে পারে না । এছাড়া Dr Biswas প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মুড়ির ডায়াবেটিস রোগিদের উপর প্রভাব নিয়ে একটি স্টাডি শুরু করা হয়েছে , প্রাথমিকভাবে যেটুকু তথ্য পাওয়া গেছে তাতেও বোঝা যাচ্ছে মুড়ি ডায়াবেটিস নিরাময়ে কোন ভূমিকা নিতে পারে না , বরং আপনি যদি নিয়মিত বেশি মুড়ি খান ডায়াবেটিসের সমস্যা বাড়বে । মুড়ি নিয়ে Dr Biswas প্রতিষ্ঠানের স্টাডি শেষ হলে অবশ্যই চ্যানেলে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে , স্টাডিটি মিস না করতে চাইলে এখনই চ্যানেলটি সাবসক্রাইব করে রাখুন ।

তিন – Blood sugar control এ কতটা মুড়ি আপনি খেতে পারেন ?

আপনার যদি diabetes না থাকে , আপনি এক বারে সর্বাধিক ৫০ গ্রাম মুড়ি খেতে পারেন , তবে সাথে শশা , পেঁয়াজ , কাঁচা লঙ্কা বা অন্য সব্জি খাবেন । তবে আপনি যদি মাঝেসাজে খান মুড়ি খান , তাহলে শুধু মুড়িও খেতেই পারেন । আপনার যদি diabetes থাকে মুড়ি খাওয়ার ব্যাপারে সাবধান হতে পারে , মুড়ির সাথে শাক-সব্জি থাকা বাধ্যতামূলক , যতটা মুড়ি তার অন্তত দুইগুন সব্জি চাই । আর মুড়ির পরিমান ৫০ গ্রাম থেকে নামিয়ে আনতে হবে ।

অর্থাৎ যদি প্রশ্ন করেন মুড়ি কী ডায়াবেটিস নিরাময় করতে পারে ? এক কথায় উত্তর হবে , না ; মুড়ি ডায়াবেটিস নিরাময় করতে পারে না , শুধু নিরাময় নয় ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও মুড়ির কোন ভূমিকা নেই – সাথে নিয়ন্ত্রিতমাত্রায় নিয়ম মেনে না খেলে মুড়ি ডায়াবেটিস সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে । তাই মুড়ি খান , তবে Dr Biswas চ্যানেলের পরামর্শ অনুযায়ী খান ।

15) ডায়াবেটিসে ধূমপান করলে কি কি ক্ষতি হয় ? Smoking effects in Diabetes control

আমরা প্রত্যেকেই চাই যাতে আমাদের ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় হয়ে যায় । প্রত্যেকেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায়গুলি খুজতে থাকি , তারপরও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো দূরের কথা blood sugar level বাড়তেই থাকে । এরই মাঝে ধূমপানের মত খারাপ অভ্যাস ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণের বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় । আপনি এইটুকু জেনেই হয়ত ভাবছেন , আমি তো সিগারেট খাই না , বিড়িও খাই না – আমি তবে নিরাপদ – কিন্তু sir or madam জানেন তো Active smoking থেকে Passive smoking সবসময়ই বেশি ক্ষতিকর । তাই আসুন সকলেই জেনে নিই – ডায়াবেটিসে ধূমপান করলে কি কি ক্ষতি হয় ? ধূমপান কি Diabetes বাড়ায় ?

এক – ধূমপান কি ডায়াবেটিস বাড়ায় ?

ধূমপান blood sugar level বাড়ায় কিনা , ডায়াবেটিসকে আরো মারাত্মক করে তোলে কিনা , এই বিষয়ে সমস্ত পৃথিবীতে অনেক গবেষণা হয়েছে । আমেরিকা , চিন , কোরিয়া , জাপান এই চারটি দেশের চারটি গবেষণা থেকে প্রায়ই একই ফল পাওয়া যাচ্ছে । দেখা যাচ্ছে যারা দীর্ঘদিন ধরে সিগারেট খান তাদের type 2 diabetes এর সম্ভাবনা অনেক বেশি যারা ধূমপান করেন না , তাদের থেকে । যারা সিগারেট পান করা ছেড়ে দিয়েছেন , দশ বছর পর তাদের diabetes এর সম্ভাবনা , যারা ধূমপান করেন না তাদের মতই কম । ধূমপানে blood sugar control নির্ভর করে আপনি কতগুলি সিগারেট খাচ্ছেন তার সংখ্যার উপরও – আপই যত বেশি সিগারেট খাবেন , ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ের সম্ভাবনাও তত কমতে থাকবে ।

কিভাবে smoking ডায়াবেটিসকে বাড়ায় , সেটি এখনও বোঝা না গেলে এটা অন্তত নিশ্চিত যে , ধূমপান কোষের insulin resistance বাড়ায় । যারা নিয়মিত ধূমপান করেন , তাদের ইনসুলিনের প্রভাবে কোষের গ্লুকোজ গ্রহণ করার ক্ষমতা , ১০% থেকে ৪০% কমে যায় ফলে blood sugar control এ থাকে না । অর্থাৎ আপনি যদি নিয়মিত ধূমপান করেন নিয়ন্ত্রণ করা খুব মুস্কিল , আর ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় করাও অসম্ভব ।

২। ডায়াবেটিসে ধূমপান করলে কি কি ক্ষত হয় ?

i) ধূমপান ও হৃদরোগঃ

smoking করলে Dyslipidemia দেখা যায় , এর ফলে যেমন atherosclerosis এর সম্ভাবনা বহুগুন বেড়ে যায় তেমনি এর ফলে হৃদপিন্ডে চাপ বাড়ার সাথে সাথে হৃদরোগও বাড়ে । স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে , যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের heart attcck , stroke ও অন্যান্য হৃদরোগের সম্ভাবনা ২ থেকে ৪ গুন বাড়ে । অর্থাৎ আপনি যদি নিয়মিত ধূমপান করে blood sugar control এর সাথে সাথে ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ের কথা তো ভুলে যেতেই হবে , তার সাথে আপনার হৃদরোগের ঝুঁকিও বহুগুন বেড়ে যাবে ।

ii) ধূমপান ও ফুসফুসতন্ত্রের সমস্যাঃ

ধূমপান করলে কি কি ক্ষতি হওয়ার তালিকায় পরবর্তী সংযোজন হলো ফুসফুসতন্ত্রের ক্ষতি । আপনি বেশি বেশি ধূমপান করলে ফুসফুসের উপর প্রভাব পড়বে । ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণগুলি ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকবে । আপনি যতই ফুসফুস পরিস্কার করার উপায় , ফুসফুস ভালো রাখার উপায়, ফুসফুস ভালো রাখার ব্যায়াম খুঁজতে থাকুন না কেন , ফুসফুস তন্ত্রের সমস্যাগুলি বাড়তেই থাকবে যদি আপনি ধূমপান করতেই থাকেন – সাথে ডায়াবেটিস থাকলে তো একেবারে সোনায় সোহাগা – Chronic bronchitis, emphysema ও অন্যান্য ফুস্ফুসতন্ত্রের সমস্যা মারাত্মক আকার নেবে । ডায়াবেটিসে ধূমপান করতে থাকলে নিউমোনিয়া রোগের লক্ষনগুলোও প্রায়ই দেখতে পাবেন – নিউমোনিয়া রোগের ঘরোয়া চিকিতসায় তো কাজ হবে না – আধুনিক পদ্ধতিও নিউমোনিয়া রোগের চিকিতসা করে আশানুরূপ ফল পেতে সময় লাগবে । Centres for Disease Control and Prevention এর স্টাডি অনুসারে , ধূমপায়ীরা নিউমোনিয়ায় তিনগুন বেশি মরে । অর্থাৎ ধূমপান করলে ডায়াবেটিস চিরতরে যেমন সম্ভব না তেমনি ফুসফুসতন্ত্রের সমস্যা থেকে মৃত্যুর সম্ভাবনাও বেড়ে যায় ।

iii) ধূমপান ও চোখের সমস্যাঃ

ডায়াবেটিসে ধূমপান করলে কি কি ক্ষতি হয়ের তালিকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো চোখের সমস্যা । আপনি একদিকে চোখের সমস্যা দূর করার উপায় খুজছেন আর অন্যদিকে সিগারেট , খেয়েই চলেছেন তাহলে কিন্তু আপনি ভাবের ঘরে চুরিই করছেন – চোখের সমস্যা সমাধানের উপায় হাজারবার খুঁজেও লাভ হবে না , যদি আপনি ধূমপায়ী হন । ডায়াবেটিসে ধূমপান করলে চোখে ছানির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় , ধূমপায়িদের চোখের অপারেশনের সাফল্য কম । ধূমপান করলে চোখের ছানি দূর করার উপায়গুলিও কম কাজে আসে । ডায়াবেটিসে ধূমপান করলে , গ্লুকোমা রোগের লক্ষণগুলিও সহজে প্রকটি হতে থাকে – ধূমপায়ীদের গ্লুকোমা অপারেশনের সাফল্যও কম । ধূপপায়িদের ভিতর diabetic retinopathy র সম্ভাবনাও বেশি । অর্থাৎ আপনি নিয়মিত ধূমপান করলে ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় যেমন হবে না , তেমন অন্ধত্বও নেমে আসতে পারে ।

আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে আর , ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় চান , আপনাকে ধূমপাণ কমাতেই হবে – সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি ধূমপান একেবারে বন্ধ করতে পারেন । না হলে blood sugar control তো করতেই পারবেন না – সাথে ধূমপান করলে কি কি ক্ষতি হয় এর লিস্ট বাড়তেই থাকবে ।

16) ডায়াবেটিস ভেষজ চিকিৎসায় আকন্দ পাতা । Calotropis Gignata in Diabetes Control

ওষুধ ছাড়াই ডায়াবেটিস নিরাময়ের চেষ্টার আমাদের কোন অন্ত নেই । ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায় উপায় , ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া চিকিৎসা , বিশেষ করে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় গাছ নিয়ে আমাদের ভাবনা চিন্তার চেষ নেই ; এখন আমরা তেমনই একটি গাছ নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করব , ডায়াবেটিস নিরাময়ে যার ব্যবহার নিয়ে অন্তত নেট দুনিয়ায় বেশ হইচই আছে । গাছটি হলো আকন্দ , আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে , শ্বেত আকন্দ । আসুন জানি ডায়াবেটিস ভেষজ চিকিৎসায় আকন্দের ব্যবহার নিয়ে । সমগ্র আলোচনাকে তিন ভাগে ভাগ করা হলো ।

এক – ডায়াবেটিসের ভেষজ চিকিৎসা আকন্দ পাতার ব্যবহার নিয়ে প্রচলতি ধারনা । দুই – ডায়াবেটিস নিরাময়ে আকন্দের ব্যবহার নিয়ে বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান কি বলছে । তিন – ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় শ্বেত আকন্দ ব্যবহার করা যাবে কি ?

এক – ডায়াবাটিসের ভেষজ চিকিৎসায় আকন্দ পাতার ব্যবহার নিয়ে প্রচলিত ধারনা কি ?

Diabetes control এ আকন্দ পাতা ও ফুলের ব্যবহারের ধারনা থাকলেও মূলত আকন্দ পাতাকেই ব্যবহার করা হয় । প্রচলিত মত অনুযায়ী একটি করে আকন্দ পাতা পায়ের পাতার নিচে দিয়ে তার উপর দিয়ে মোজা পরতে হবে । আকন্দ পাতাসহ মোজা নিয়মিত পড়লে আপনার blood sugar control এ চলে আসবে । ডায়াবেটিসের ভেষজ চিকিৎসায় আকন্দ পাতা ব্যবহার করে ডায়াবেটিস নিরাময়ের দাবিটির কোন বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারে , ফলে diabetes control এ শ্বেত আকন্দের ব্যবহার নিয়ে যথেষ্ট কনফিউসন আছে ।

দুই – ডায়াবেটিস নিরাময়ে আকন্দের ব্যবহার নিয়ে বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান কি বলছে ?

ডায়াবেটিস নিরাময়ে আকন্দের ব্যবহার নিয়ে খুব সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা হয়েছে । diabetes control এ আকন্দের ব্যবহার নিয়ে গবেষণা থেকে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে । আকন্দ পাতার নির্জাসের free radical scavenging activity ও antioxidant effect আছে , যা gluconeogenic enzyme, glucose-6-phosphatase এর ক্রিয়াকে ব্যহত করে । আকন্দ পাতা ও ফুলের নির্জাস কোষের গ্লুকোজ গ্রহণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় ফলে blood sugar level control এ আসে । অর্থাৎ ডায়াবেটিস নিরাময়ে আকন্দের ব্যবহার নিয়ে বর্তমান বিজ্ঞান কিছুটা হলেও এগিয়েছে – কিন্তু আকন্দের নির্জাস দিয়ে ডায়াবেটিস মেডিসিন তৈরির বিষয়ে আরো অনেক গবেষণার দরকার আছে ।

তিন – ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় শ্বেত আকন্দ ব্যবহার করা যাবে কি ?

প্রথমেই বলে রাখি ডায়াবেটিসের ভেষজ চিকিৎসায় আকন্দ পাতার প্রচলিত পদ্ধতি , মানে আকন্দ পাতার মোজা আপনার diabetes control করতে পারবে না , তারপরও যদি আপনি blood sugar control করতে , ডায়াবেটিস নিরাময় করতে শ্বেত আকন্দ পাতার মোজা পায়ে পড়েন , সেটা আপনার দায়িত্ব , কারন আকন্দ পাতা ডায়াবেটি নিরাময় তো করবেই না , উলটে আপনার পায়ের ক্ষতি করতে পারে ।
তাহলে কি আপনি ডায়াবেটিস চিকিৎসায় আকন্দ পাতা খেতে পারেন ? এখানে আপনাকে প্রথমেই উত্তরটি এক কথায় দিয়ে রাখি , না । Diabetes control এ , ডায়াবেটিস নিরাময় করার জন্য কখনোই আকন্দ পাতা বা ফুল খাবেন না । আকন্দ পাতা ও আকন্দ ফুলের বিষক্রিয়া আপনার জন্য মারাত্মক হতে পারে । যতদিন না ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে আকন্দ পাতা ও ফূলের ব্যবহার নিয়ে একশ শতাংশ নিশ্চয়তা আসছে , ততদিন ডায়াবেটিসের ভেষজ চিকিৎসায় কখনোই আকন্দ ব্যবহার করবেন না । আপনি আকন্দ পাতা ব্যবহার না করে ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় করতে পারেন । diabetes control নিয়ে অনেক ভিডিও আছে dr Biswas চ্যানেলে – দেখতে থাকুন – কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানান ।

17) ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় ঢেঁড়শ কি রাখা যাবে ? Okra in Diabetes control Diet

এই শতাব্দীকে আপনি ডায়াবেটিসের শতাব্দী বললে খুব খারাপ বলা হবে না । আমরা অনেকেই চিন্তিত ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ের উপায় নিয়ে । আর এখানে বাংলার একটি চেনা সব্জি ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে বেশ আলোচিত – সেটি হলো ঢেঁড়শ । Diabetes control এ ঢেঁড়শের ভূমিকা নিয়ে বেশ বিতর্ক আছে – ঢেঁড়শ ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় করে কি ? না উলটে ডায়াবেটিস বাড়িয়ে দেয় ? ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় ঢেঁড়শ কি রাখা যাবে ? না ডায়াবেটিসে ঢেঁড়শ খাওয়াই উচিৎ না ? ঢেঁড়শের ডায়াবেটিসের উপর ভূমিকা বুঝতে আলোচনাটকে দুই ভাগে ভাগ করা হলো ।

এক – ডায়াবেটিসের ভেষজ চিকিৎসায় ঢেঁড়শ । দুই – ডায়াবেটিসের আধুনিক চিকিৎসায় ঢেঁড়শ । তিন – ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ঢেঁড়শ বিপদ । চার – ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় ঢেঁড়শ কি রাখা যাবে ?

এক – ডায়াবেটিসের ভেষজ চিকিৎসায় ঢেঁড়সঃ

diabetes control এ জন্য ডায়াবেটিসের ভেষজ চিকিৎসায় ঢেঁড়স-জল এর ব্যবহার আছে । ঢেঁড়স-জল তৈরি করার উপায় খুব সহজ । এক গ্লাস জলে একটি সম্পূর্ন বা কাটা ঢেঁড়শকে সমস্ত রাত ভিজিয়ে রাখা হয় । সকালে ঘুম থেকে উঠে ঢেঁড়শ ভেজানো জল খেতে হয় । মনে করা হয় ঢেঁড়শ থেকে মূল্যবান নিউট্রিয়েন্টেস জলে মেশে – যা ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় করে । অনেকে ডায়াবেটিসের ভেষজ চিকিৎসায় ঢেঁড়শের পাউডার ব্যবহার করেন । ডায়াবেটিসের ভেষজ চিকিৎসায় আপনি ঢেঁড়শকে ব্যবহার করতেই পারেন – তবে ঢেঁড়শ-জল দিয়ে যে ডায়াবেটস চিরতরে নিরাময় করতে পারবেন – এমন কোন প্রমান নেই । বরং বেশি ঢেঁড়শ আপনার ডায়াবেটিসের আধুনিক চিকিৎসায় বাঁধা হতে পারে । কি ভাবে ? জানতে হলে শেষ পর্যন্ত দেখতে থাকুন ।

দুই – ডায়াবেটিসের আধুনিক চিকিৎসায় ঢেঁড়শঃ

একশ গ্রামে ঢেঁড়শে জল থাকে ৮৯.৬ গ্রাম , কার্বোহাইড্রেট থাকে মোটামুটি ৯ গ্রাম মত আর ফাইবার থাকে ৩.৩ গ্রাম । ঢেঁড়শে যেহেতু যথেষ্ট ফাইবার থাকে , ঢেঁড়শ খেলে আপনার blood sugar control এ রাখা সহজ হবে কারন ফাইবার কোষে কার্বোহাইড্রেট শোষন ও পরিপাক কমিয়ে দেয় । এছাড়া ঢেঁড়শের গ্লাইসেমিক ইনদডেক্স কম , ফলে ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় ঢেঁড়শকে রাখতে পারেন ।

এখন ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে যদি ঢেঁড়শের কথা ভাবেন , যদি ঢেঁড়শকে ডায়াবেটিসের আধুনিক চিকিৎসায় ব্যবহারের কথা ভাবেন , তবে বলব ভুল করছেন । ডায়াবেটিসে ঢেঁড়শের উপকারিতা থাকলেও ঢেঁড়শকে মেডিসিনে বিকল্প হিসাবে ভাবার এখনও সময় আসেনি । 2011 তে ভারতীয় গবেষকদের একটি স্টাডি প্রকাশিত হয় Journal of PHARMACY & BioAllied Sciences এ । স্টাডিতে দেখা যায় ডায়াবেটিক ইঁদুরদের উপর ঢেঁড়শ নির্জাস ব্যবহার করলে তাদের blood sugar control সহজ হয় । কিন্তু এখনো মানুষের উপর ডায়াবেটিসে ঢেঁড়শ নিয়ে তেমন কোন গবেষণা হয়নি । ফলে আধুনিক চিকিতসা বিজ্ঞান ঢেঁড়শ দিয়ে ডায়াবেটিস চিকিৎসকে মান্যতা দেয় না । ফলে ঢেঁড়শ দিয়ে ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ের আশা ছেড়েই দিন ।

৩। ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ঢেঁড়শ বিপদঃ

আপনি যদি ইতিমধ্যেই ডায়াবেটিসের ট্রিটমেন্ট শুরু করে থাকেন তাহলে আপনাকে বলব ঢেঁড়শের ভেষজ চিকিৎসা না করাই ভালো । স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে , আপনি যদি ডায়াবেটিসের মেডিসিন Metformin ব্যবহার করেন , ঢেঁড়শ Metformin এর কার্যকারিতাকে কমিয়ে দিতে পারে । ঢেঁড়শ কোষের metformin এর শোষনকে ব্লক করে দেয় । ফলে আপনি যদি diabetes control এর জন্য metformin ব্যবহার করেন তখন ঢেঁড়শ না খাওয়াই ভালো ।

৪। ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় কি ঢেঁড়শ রাখা যাবেঃ ঢেঁড়শে fiber বেশি ও কার্বোহাইড্রেট কম থাকে এছাড়া ঢেঁড়শের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স ও কম ফলে , আপনি খাদ্যতালিকায় ঢেঁড়শ রাখলে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে । অর্থাৎ আপনি ডায়াবেটিসের খাদ্যতালিকায় ঢেঁড়শকে রাখতে পারেন , কিন্তু যদি ডায়াবেটিসের অষুধ metformin খান ঢেঁড়শকে এড়িয়েই চলুন ।

18) ডায়াবেটিসে বেগুন খাওয়া যাবে কি ? Eggplant in Diabetes control

অনেকদিন আগে থেকেই বিভিন্ন দেশে blood sugar control এর জন্য ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় বেগুনকে রাখার কথা বলা হয়ে আসছে – অনেকে ডায়াবেটিসের ভেষজ চিকিৎসায়ও বেগুনকে ব্যবহারের কথা বলছেন । তাহলে কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেগুন খাওয়া যেতে পারে ? বেগুন জলে কি ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় হবে ? বিষয়গুলি ভালোভাবে বোঝার জন্য আর জানার জন্য যে – ডায়াবেটিসে বেগুন খাওয়া যাবে কি ? আলোচনাকে তিন ভাগে ভাগ করা হলো ।

এক – বেগুনে কি ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় হবে ? দুই – বেগুন জল কি ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় করে ? তিন – ডায়াবেটিসে বেগুন খাওয়া যাবে কি ?

এক – বেগুনে কি ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় হবে ?

একশ গ্রাম বেগুনে কার্বোহাইড্রেট থাকে মাত্র ৬ গ্রাম , ফাইবার থেকে ৩ গ্রাম , মানে কার্বোহাইড্রেট তুলনামূলকভাবে বেশ কম আর ফাইবার তুলনামূলকভাবে বেশ বেশি । বেগুনের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাত্র ১৫ । অর্থাৎ বেগুন blood sugar control এর জন্য একেবারে আদর্শ । বেগুনে ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় না হলেও DIABETES control এর জন্য ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় বেগুন আদর্শ ।

বেশ কিছু স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে বেগুন type 2 diabetes চিরতরে নিরাময়ে ভালো ভুমিকা নিতে পারে । বেগুনে বিশেষ ঊপাদান থাকে যা stach থেকে sugar এ রূপান্তরিত হতে বাঁধা দেয় । ফলে blood sugar control এ থাকে । বেগুনে ফেনল জাতিয় Antioxidant থাকে , যা কার্বোহাইড্রেট বিপাকে ভূমিকা নেয় ফলে রক্তে সুগার ধীরে ধীরে বাড়ে । এছাড়া বেগুনে quercetin , beta-carotene থাকে যা blood sugar control এ সাহায্য করে ।
বেগুনকে ডায়াবেটিসের মেডিসিন ভাবলে ভুল হবে , বেগুন তো বেগুনই – তবে ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় চাইলে ডায়াবেটিস রোগির খাদ্যতালিকায় বেগুনকে রাখা উচিৎ ।

২। বেগুন জল কি ডায়াবেটিস নিরাময় করেঃ

অনেকে ডায়াবেটিসের ভেষজ চিকিৎসা হিসাবে বেগুন জল খেতে বলেন । একটি পাত্রের জলে সমস্ত রাত বেগুন ভিজিয়ে রেখে বেগুন জল তৈরি হয় । বেগুন জলে ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় হয় এমন কোন স্টাডি বা গবেষণা নেই । ফলে বেগুন জল খেয়ে ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ের ফাঁদে পা দেবেন না । বেগুন জল ডায়াবেটিস চিরাতরে নিরাময় করে না ।

৩। ডায়াবেটিসে বেগুন খাওয়া যাবে কি ?

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় বেগুন যথেষ্ট ভালো একটি খাবার । বাঙ্গালিদের ভিতর বেগুন কে নানাভাবে খাওয়ার চল আছে – বেগুন সিদ্ধ থেকে ভাঁজা, বেগুন পোড়া – যেকোন ভাবে আপনি বেগুন খেতে পারেন – বেগুনের ফাইবার ও Antioxidant আপনার ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপনার পাশে থাকবে ।

19) ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে শসা খাওয়া কি যাবে ? Cucumber in Diabetes control

শসা কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে ? দেখতে সাধারন ফল – থুরি সব্জি – না ফল ! – আমরা তো কনফিউসড আপনি কি জানেন শসা সব্জি না ফল ? আপনি জানলে কমেন্ট করে জানান । আসুন ততক্ষনে জেনে নিই ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে শসা খাওয়া যাবে কিনা ? শসা diabetes control করতে পারে কিনা ? ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় শসাকে রাখা যাবে কিনা ? সমগ্র বিষয়টি বুঝতে আলোচনাটিকে তিন ভাগ করা হল ।

এক – শসা কি ডায়াবেটিস বাড়ায় ? দুই – শসা কি ডায়াবেটিস কমায় ? তিন – দিনে কতগুলি শসা খাওয়া যেতে পারে diabetes control এ ? চার – ডায়াবেটিস নিরাময়ে শসা বীজের ম্যাজিক ।

এক – শসা কি ডায়াবেটিস বাড়ায় ?

একটি শশা গড়ে ১৮০ গ্রাম হতে পারে ? ১৮০ গ্রাম শশাতে কার্বোহাইড্রেট থাকে ৬.৫ গ্রাম , সুগার থাকে ৩ গ্রাম , ফাইবার থাকে ১ গ্রাম । অর্থাৎ শশাতে কার্বোহাইড্রেট যথেষ্ট কম থাকে ,তুলনামূলক ভাবে Fiber ভালোই থাকে । শশার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশ কম – ১৫ এর কম । ফলে শশা খেলে সহজে Blood sugar level বাড়বে না – ধীরে ধীরে বাড়বে । অর্থাৎ আপনি যত ইচ্ছা শসা খেতে পারেন , blood sugar level বাড়বে না ।

দুই – শসা কি ডায়াবেটিস কমায় ?

বেশ কয়েকটি স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে , নিয়মিত শসা খেলে blood sugar control এ থাকে – অর্থাৎ আপনি শসা আপনার diabetes control করবে । আপনি যদি ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় চান , শসা মুখে না মেখে পেটে খান । ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় শসা রাখুন । Low glycemic index এর সাথে সাথে শসাতে flavonoid , lignan, triterpene ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস থাকে যা diabetes control এ রাখে । অর্থাৎ এক কথায় বলা যেতেই পারে শসা ডায়াবেটিস কমায় ।

তিন – দিনে কতগুলি শসা খাওয়া যেতে পারে diabetes control এ ?

শসাতে যথেষ্ট কম কার্বোহাইড্রেট থাকে , ফলে শসা একটু বেশি খেলেও Blood sugar তেমন বাড়বে না । তবে কোন কিছু বাড়াবাড়ি ভালো না , একবারে একটার বেশি শসা না খাওয়াই ভালো ।

চার – ডায়াবেটিস নিরাময়ে শসা বীজের ম্যাজিক –

অনেকেই অনেক ফলের বীজ পছন্দ করেন না – তবে শসা বীজ কিন্তু নির্ভইয়ে খাওয়া যেতে পারে । স্টাডি আবার শশা বীজকে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে । ২০১১ এর একটি স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে ডায়াবেটিক ইঁদুরে ৯ দিনের ডায়েটে শশা ব্যবহার করে , blood sugar কমে যাচ্ছে । যাদের ডায়াবেটিস আছে বা ডায়াবেটিস নেই , তারা শসার সাথে শশার বীজও খান –Diabetes control এ থাকবে ।

20) ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে ডুমুর । Ficus in Diabetes control

ডুমুরের ফুল যতটা না চর্চিত , ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় ডূমুরের ভূমিকা অতটা চর্চিত না হলেও , Diabetes control এ ডুমুরের ভূমিকা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে । আমাদের খাদ্যতালিকায় ডুমুর জায়গা পেলেও ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় ডুমুরকে রাখা হবে কিনা তা নিয়েও বেশ কনফিউসন আছে । বোঝার সুবিধার জন্য আলোচনাকে তিন ভাগে ভাগ করা হলো ।

এক – ডুমুর কি diabetes control করতে পারে ? দুই – ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ডুমুর । তিন – ডুমুরের পাতার anti diabetic গুন । চার – ডুমুরের সাপ্লিমেন্ট ।

এক – ডুমুর কি Diabetes control করতে পারে ?

ডুমুর বলতে আমরা কাঁচা ডুমুরকেই বিবেচনার মধ্যে আনব যা আপনি সব্জি হিসাবে খেতে পারেন । কাঁচা ডুমুরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মোটামুটি ১৭ – মানে বেশ কম । অর্থাৎ আপনি নিশ্চিতে ডুমুর খেতে পারেন – আপনার blood sugar control এ থাকবে । তবে পাকা ডুমুর থেকে দূরে থাকাই ভালো , কারন পাকা ডুমুরের glycemic index বেড়ে যায় , সহজে Blood sugar বাড়িয়ে দেয় ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে না । অর্থাৎ আপনি যদি diabetes control |

দুই – ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ডুমুরঃ

ডুমুর তো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনবে , blood sugar control এ এনে diabetes control এ আনবে । কিন্তু ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ডুমুর কি খাওয়া যাবে ? ডুমুর কি ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় করতে পারে ? ডুমুরের নির্জাসের নিউট্রিয়েন্টসগুলি অগ্নাশয়ের বিটা কোষকে উদ্দীপিত করে – ফলে ইনসুলিনের ক্ষরণ তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায় ফলে blood sugar কোষে প্রবেশের হার বেড়ে যায় , diabetes control এ আসে ।

৩। ডুমুরের পাতার anti diabetic গুনঃ

শুধু ডুমুর ফল নয় , ডুমুর পাতায়ও Anti diabetic properties পাওয়া গেছে । অনেকি জায়গায় ডুমুর পাতা রান্না করে খাওয়ার রীতি আছে – যদি সম্ভব হয়, ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় ডুমুর পাতা রাখতেই পারেন । তবে বাঙ্গালিদের মধ্যে ডুমুর পাতা রান্নায় ব্যবহারের রীতি কম – সেক্ষেত্রে কাচা ডুমুরই খান নিয়মিত – ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে আপনাকে সাহায্য করবে ।

৪। ডুমুরের সাপ্লিমেন্টঃ

কাঁচা ডুমুরই ডায়াবেটিসের জন্য বেস্ট , তবে সবসময় কাঁচা ডুমুর আপনি পাবেনই এমন নাও হতে পারে সেক্ষেত্রে ডুমুরের নির্জাসের সাপ্লিমেন্টও খেতে পারেন ।

ডুমুর উপকারি সেটা সকলেরই জানা , তবে ডুমুরের নির্জাসের anti diabetic ক্ষমতা সত্যিই সকলের জন্য আশার আলো হতে পারে , যারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ চান । Diabetes control এ ও ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে ডুমুর হোক আপনার নিত্যদিনের সঙ্গী ।

 

 

21) ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় আলুকে রাখা যাবে কি ? Potato in Diabetes control

 

আলু খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার , কিন্তু আলুতে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি গ্লুকোজ থাকে আবার ফাইবারও বেশ কম – গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশ বেশি – ৬৩ থেকে ৮৫ এর মধ্যে । তার মানে আলু খেলে blood sugar control এ রাখা খুবই মুস্কিল । তাই ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় আলুকে রাখতে গেলে আপনাকে অনেক কাঠ-কয়লা পোড়াতে হবে । তারপরও আপনি যদি আলু-প্রেমি হন , ডায়াবেটিসে আপনি যাতে আলু খেতে পারেন , তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে – তাও Diabetes control এ রেখে ।
আসুন এখন জানি আলু খাদ্যতালিকায় রাখার পরও কিভাবে diabetes control এ থাকবে । আপনি যদি আলু খাওয়ার নিয়ম জানেন তাহলে তাহলে ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে এমন কোন বাঁধা হবে না ।

আপনি যদি আলু খেতে চান আবার diabetes control ও করতে চান তাহলে আলুর Glycemic index ও Glycemic load কমাতে হবে । আসুন প্রথমে জানি diabetes control এর জন্য আপনি কিভাবে আলুর Glycemic index কমাবেন ? তারপর জানব ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনি কি ভাবে আলুর Glycemic Load কমাবেন ?

 

এক – Diabetes control এর জন্য কিভাবে আলুর Glycemic index কমাবেন ?

কাঁচা আলুতে কার্বোহাইড্রেট তুলনামূলকভাবে কম , ফাইবার বেশি – ফলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও কম । সেকা আলুতে কার্বোহাইড্রেট আর একটূ বেশি – সিদ্ধ আলুতে কার্বোহাইড্রেট আরো বেশি , সিদ্ধ যত বেশি কার্বোহাইড্রেট ততো বাড়তে থাকবে । মাইক্রোওয়েভের আলুতে কার্বোহাইড্রেট সাধারন সিদ্ধ আলু থেকে বেশি । উনুনে সেকে ফ্রাই করা আলুর কার্বোহাইড্রেট প্রায় মাইক্রোওয়েভের আলুর মতই । সবচেয়ে বেশি কার্বোহাইড্রেট থাকে আলু ভাজাতে – ভাঁজা যতো বেশি হবে কার্বস ততো বাড়তে থাকবে । মনে রাখবেন খুব বেশি ভাঁজা আলুতে কার্বোহাইড্রেট কাঁচা আলুর প্রায় তিনগুন আর সিদ্ধ আলুর প্রায় দুই গুন । অর্থাৎ আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কমাতে গেলে – আলু ভাঁজা একেবারেই খাওয়া যাবে না , উনুনে সেকা ফ্রাই , মাইক্রোওয়েভের আলুও বাদ । Bake করা অর্থাৎ সেকা আলু ও কম সিদ্ধ আলো সবচেয়ে ভালো ।

আপনার যদি ডায়াবেটিস না থাকে আর যদি blood sugar contro এ রাখতে চান , ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকা জীবন চান তাহলে ডায়াবেটিসের খাদ্যতালিকা থেকে প্রথমেই ভাঁজা আলু , মাইক্রোওয়েভের আলুকে বাদ দিন – সিদ্ধ ও সেকা আলু খান । তবে খোসাসহ আলু খেতে পারলে বেশি ভালো – কারন খোসাতে অতিরিক্ত ফাইবার থাকে যা আলুর গ্লাইসেমিক index বাড়িয়ে দেয় ।

সিদ্ধ আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কমানোর আর একটা দারুণ উপায় হলো – সিদ্ধ আলুকে গরম অবস্থায় খাবেন না , আলুকে ঠাণ্ডা হতে দিন । আলুকে ঠাণ্ডা হতে দিলে আলুর resistanant starch বাড়তে থাকবে যা সহজে Blood sugar বাড়তে দেয় না – Diabetes control এ রাখতে সাহায্য করে ।
Wait – এইটুকু জেনে এখনই আলু খাওয়া শুরু করে দিলে DIABETES control এর ইচ্ছা , ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ের ইচ্ছা – চিরদিন ইচ্ছার পর্যায়ে থেকে যাবে – blood sugar control এ রাখতে চাইলে আপনাকে আলুর Glycemic load ও কমাতে হবে ।

 

দুই – Diabetes control এর জন্য আপনি কিভাবে আলুর Glycemic load কমাবেন ?

 

অনেক রকম আলু পাওয়া যায় – এক এক রকম আলুর Glycemic LOAD এক এক রকম । বাজারে যে সব আলু পাওয়া যায় তাদের প্রত্যেকের glycemic load নিয়ে এখনও তেমন স্টাডি নেই – ফলে কম Glycemic load যুক্ত আলুকে আপনার পক্ষে মুস্কিল । তবে আলুর গ্লাইসেমিক লোড আপনি কমাতে পারেন – কতটা আলু খাবেন সেটা ঠিক করে । আপনার যদি ডায়াবেটিস না থাকে আর চাইছেন যাতে blood sugar control এ থাকে , কোনদিন যেনো ডায়াবেটিস না হয় তাহলে দিনে একটি ছোট আলুর বেশি খাবেন না – আপনার blood sugar control এ থাকবে । আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে একেবারে আলু খেতে না বলব না , আপনি দিনে একটি ছোট আলুর চার ভাগের একভাগ খেতেই পারেন ।
অর্থাৎ যতোই আলুর কার্বোহাইড্রেট বেশি হোক না কেন , আলুকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই , আলুকে ডায়াবেটিসের খাদ্যতালিকায় রাখতেই পারেন , তবে নিয়ম মেনে , তাতে আপনার ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ের স্বপ্ন বাস্তবে পরিনত করতে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না – Diabetes control এ থাকবে ।

 

 

22) ডায়াবেটিসে টমেটো খাওয়া যাবে কি ? Tomato in Diabetes control

 

আচ্ছা টমেটো সব্জি না ফল ? জানি মাথা চুলকাচ্ছেন । মাথা চুলকানো শেষ হলে কমেন্ট করে মতামত জানান – তার মাঝে আসুন জেনে নিই ডায়াবেটিসে টমেটো খাওয়া যাবে কিনা – Diabetes control এ টমেটো কতটা ছূপারুস্তম – ডায়াবেটিসের খাদ্যতালিকায় টমেটোকে রাখা যাবে কিন । আর টমেটো নিয়ে জানাটা জরুরী কারন সবচেয়ে বেশি যে ফলটি খাওয়া হয় পৃথিবীতে তা হলো টমেটো ।

Diabetes control এ ট্মোটো কতটা নির্ভরযোগ্য সেটি নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে – কারন টমেটোতে দুটি বিপরীত মেরুর উপাদান থাকে যার মধ্যে কেউ কেউ blood sugar level বাড়ায় আবার কেউ কেউ blood sugar level বাড়তে দেয় না – blood sugar level কমায় । টমেটোতে কার্বোহাইড্রেট থাকে যা blood sugar বাড়ায় , আবার fiber থাকে যা blood sugar কমায় । টমেটো আবার বেশ ভালো পরিমানে antioxidant থাকে – যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে । তাহলে ? ট্মেটোকে ডায়াবেটিসের খাদ্যতালিকায় রাখবেন কিনা , টমেটো ডায়াবেটিসের জন্য মারাত্মক বিপদ কিনা ভালো ভাবে বূঝতে আলোচনাকে চার ভাগে ভাগ করা হলো ।

 

এক – টমেটো কি ডায়াবেটিস বাড়ায় ? দুই – কাঁচা টমেটো , পাকা টমেটো – কোন টমেটো সবচেয়ে ভালো ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে ? তিন – স্যালাড টমেটো , সব্জি হিসাবে রান্না করা টমেটো , টমেটো সস , টমেটো জ্যুস- কোনটি সবচেয়ে ভালো Diabetes control এর জন্য ? চার – Diabetes control এ কটা টমেটো খাওয়া নিরাপদ ?

 

এক – টমেটো কি ডায়াবেটিস বাড়ায় ?

একটি মিডিয়াম সাইজের ট্মেটোর ওজন ১৫০ গ্রাম । এর মধ্যে প্রায় ৮ গ্রাম গ্লুকোজ – ৮ গ্রাম গ্লুকোজ আপনার blood sugar কে বাড়িয়ে দেবে । Blood sugar বাড়ানোর জন্য গ্লুকোজ থাকে তেমনি ২ গ্রাম ফাইবার থাকে । Fiber blood sugar control এ দারুণ । ফাইবার সুগারের বিপাক ও শোষণ কমিয়ে দেয় , ফলে টমেটো খেলে তার ফাইবারের জন্য blood sugar ধীরে ধীরে বাড়ে – ফলে blood sugar control এ থাকে । সব মিলিয়ে ট্মেটোর গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও বেশ কম – ১৫ এর কম , ফলে ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে টমেটো খাওয়ার কথা ভাবতে পারেন ।

টমেটোতে Lycopene নামে Antioxidant থাকে , মনে করা হয় Lycopene diabetes control এ ভূমিকা নিতে পারে । স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে টমেটোতে P3 নামে একটি উপাদান পাওয়া যায় যা blood clotting এ বাঁধা দেয় , ফলে রক্তসরবরাহে তন্ত্রে প্ল্যাক সৃষ্টি হয়ে রক্ত সরবরাহে বাঁধা দেয় না – এতে ডায়াবেটিসের ক্ষতিকর প্রভাব কমে , সাথে blood sugar level কিছুটা সাম্যে থাকে ।

অর্থাৎ টমেটো ডায়াবেটিস তো বাড়ায়ই না – উলটে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে । তাই ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় টমেটোকে আপনি রাখতেই পারেন । ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে টমেটো আপনার পাশে থাকবে ।

 

দুই – কাঁচা টমেটো , পাকা টমেটো –Diabetes control এ কোনটি বেশি ভালো?

 

পাকা টমেটোতে তুলনামূলকভাবে বেশি গ্লুকোজ থাকে , ফাইবার কম থাকে – ফলে blood sugar control করতে সাধারনভাবে পাকা টমেটো থেকে কাঁচা টমেটো বেশি ভালো । কিন্তু কিছু স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে LYCOPENE ও P3 ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা নেয় – Lycopene আর P3 আবার পাকা টমেটোতে বেশি মাত্রায় থাকে – ফলে পাকা টমেটোও Diabetes control এ বেশ গুরুত্বপূর্ন হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে । সব দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে কাঁচা টমেটোতে diabetes control এ লাভ একটু কম পাবেন , কিন্তু অনেক বেশি নিরাপদ । তাই ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় চাইলে ডায়াবেটিসের খাদ্যতালিকায় কাঁচা টমেটো রাখা সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমানের কাজ । তবে পাকা টমেটোও খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন ।

 

তিন – স্যালাড টমেটো , সব্জি হিসাবে রান্না করা টমেটো , টমেটো সস, টমেটো জ্যুস – ডায়াবেটিস নিরাময়ে কোনটি সবচেয়ে ভালো ?

 

টমেটো স্যালাড হিসাবে সবচেয়ে ভালো – কারন টমেটো স্যালাড হিসাবে খেলে তার থেকে তুলনামূলক কম সুগার, আর বেশি ফাইবার থাকে – antioxidant অক্ষত অবস্থায় থাকে । রান্না করা টমেটো স্যালাড থেকে মন্দ diabetes control এর জন্য । টমেটো জ্যুসও আপনার জন্য বেশ ভালো হতে পারে । তবে জ্যুস নিজে করে খাবেন , বীজ বাদে ট্মেটোর আর কিছু ফেলবেন না –তাহলে মূল্যবান ফাইবারের অভাব দেখা যাবে blood sugar control এ অপরিহার্য্য । টমেটো সস ডায়াবেটিসের জন্য অতটাও ভালো না – তাই diabetes control এ সস বাদে সবরকম ভাবে টমেটো খেতে পারেন ।

 

চার – ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে কটা টমেটো খাওয়া নিরাপদ ?

স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন ২০০ গ্রাম টমটো খেলে TYPE 2 diabetes control এ থাকে । অর্থাৎ দিনে দুটি ছোট টমেটো বা দেড় খানা বড় টমেটো খেতে পারেন । তবে অবশ্যই টাটকা টমেটো ।

সমস্ত আলোচনায় উঠে এলো – ডায়াবেটিসে টমেটো খাওয়া যাবে । আর আপনি যদি নিয়ম মেনে টমেটো খেতে পারেন diabetes control এ টমেটো আপনার সহায়ক হবে । ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে পরামর্শ অনুযায়ী টমেটো খান – ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় টমেটো জায়গা পাক । আর আশা করি এতক্ষণ কমেন্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন – টমেটো সব্জি ? না ফল ?

 

 

23) ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় লাউ রাখা যাবে কি ?

 

লাউ ভালোবাসেন না এমন বাঙালি কেউ আছে কি ! সে ঘটি হোক কি বাঙাল – লাউ সকলেরই প্রিয় । আচ্ছা ডায়াবেটিসে কি লাউ খাওয়া যাবে ? লাউ কি blood sugar control করতে পারে ? Diabetes control এ লাউ এর কি কোন ভূমিকা আছে ? ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ে লাউ কি সাহায্য করে ? ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় লাউকে কি রাখা যাবে ? সবটা ভালো করে আলোচনার জন্য সমগ্র আলোচনাকে তিন ভাগে ভাগ করা হল ।

এক – লাউ কি Blood sugar বাড়ায় ? দুই – লাউ কি Diabetes control করতে পারে ? তিন – লাউ এর রস বা জ্যুস কি ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ের জন্য খাওয়া যেতে পারে ?

 

এক – লাউ কি blood sugar বাড়ায় ?

লাউতে জলই থাকে প্রায় ৯২% । কার্বোহাইড্রেট থাকে ৪ শতাংশ থেকে কম । আর ফাইবার প্রায় দেড় শতাংশ । অর্থাৎ লাউয়ে কার্বোহাইড্রেট থাকে তুলনামূলকভাবে বেশ কম , ফাইবার বেশ বেশি । লাউয়ের গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও বেশ কম । ফলে আপনি লাউ খেলে blood sugar level ধীরে ধীরে বাড়বে , অর্থাৎ যাদের ডায়াবেটিস নেই , তারা নিশ্চিন্তে লাউ খেতে পারেন , লাউ আপনার blood sugar বাড়াবে না – ডায়াবেটিস হবে না ।

 

দুই । লাউ কি Diabetes control করতে পারে ?

বেশ কিছু স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে লাউয়ে বিশেষ ফাইটোকেমিক্যাল থাকে যা আগ্নাশয়ের বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয় , ফলে blood sugar control এ থাকে । এছাড়া লাউয়ের গ্লুকোজ , ফাইবারের অনুপাত ও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা লাউ খেতে পারেন , diabetes control এ থাকবে । অর্থাৎ ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময়ের প্রক্রিয়ায় লাউ আপনাকে সাহায্য করবে । ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় লাউকে আপনি লাউকে রাখতেই পারেন । তবে অবশ্যই খুব বেশি লাউ একবারে খাবেন না ।

 

তিন – লাউয়ের জ্যুস কি ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় করে ?

লাউ সব্জি হিসাবে খাওয়ার সাথে সাথে , লাউয়ের জ্যুসকে খাওয়ায় কথা বলা হয় ডায়াবেটিসের ভেষজ চিকিৎসায় । স্টাডি থেকে দেখা যাচ্ছে , নিয়মিত লাউয়ের জ্যুস খেলে diabetes control এ রাখা সহজ হয় – এর পিছনে লাউয়ের ফাইটোকেমিক্যাল ও ফাইবার আছে বলে মনে করা হয় । লাউয়ের জ্যুস খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় breakfast এর সময় ।

অর্থাৎ আপনার যদি ডায়াবেটিস না থাকে লাউ খেতে পারেন , একটু বেশি খেলেও সমস্যা নেই । আর যদি ডায়াবেটিস থাকে , তাতেও লাউ বারণ নয় – লাউকে ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন নিশ্চিন্তে ।


তথ্যসূত্রঃ

  1. Glycemic index of Tomatohttp://www.livestrong.com
  2. Tomato juice reduces cloting in Diabetes – Diabetes in Control
  3. Are Tomatoes Good for Diabetes  – www.naturalwaystolowerbloodsugar.com
  4. Can tomatoes raise blood sugar in diabetes -Healthfully
  5. Tomato – Wikipedia
  6. Cucumber -Defeat Diabetes Foundation
  7. Does eating cucumber help lower blood sugar -LIVESTRONG.COM
  8. Cucumber – WIKIPEDIA
  9. Glycemic Index – Harvard Medical School
  10. Glycemic Index -SELFNutritionDATA
  11. লাউ – WIKIPEDIA
  12. 9 wonder foods for diabetes – PRACTO 
  13. Bottle gourd – lauki – 6 amazing facts- LYBRATE
  14. Bottle gourd for diabetes – Miss KYRA
  15. Calabash fruit – PHILIPINE COUNCIL FOR HEALTH RESEARCH AND DEVELOPMENT
  16. Effect of ED90 dose of Calabash by Genevieve Tupas – Davao Medical School foundation
  17. calabash – EVOLVED
  18. BEAN & Glycemic index – THE BEAN INSTITUTE
  19. শিম – WIKIPEDIA
  20. Bean and Diabetes – MEDICAL NEWS TODAY
  21. Pumpkin -Shiraz- E medical Journal
  22. Pumpkin – Journal Of Formosan Medical Association
  23. Pumpkin – PHARMACOGNOSY
  24. Watermelon- Nigerian Medical Journal
  25. Papaya – Diabetes in Control
  26. Papaya – Netmed dot com
  27. Papaya – THE HEALTH SITE DOT COM
  28. Papaya – TARLADALAL DOT COM
  29. Jackfruit – THE HINDU
  30. Jackfruit – NDTV FOOD
  31. Jackfruit -NATURELOC DOT COM
  32. POINTED GOURD -H B TIMES DOT COM
  33. Pointed Gourd – e HOW REMEDIES
  34. Pointed GOURD – TOI
  35. POINTED GOURD – WIKIPEDIA
  36. Banana flower – NUTRITIONix
  37. Banana Flower – MSN LIFESTYLE
  38. Banana Flower – PMC – US National Library of Medicine – National Institute of Health
  39. Banana Flower – Journal of Biothechnology & Biometrials
  40. Banana Flower – RESEARCHGATE
  41. Banana Flower – NMCD
  42. Spinach – NDTV
  43. Spinach – OD
  44. Spinach – DMP
  45. পালং – MILLION HEALTH TIPS
  46. পালং – STYLECRAZE
  47. পালং শাক – CS
  48. পাতা কপি – NDTV
  49. পাতা শাক – MEDICAL NEWS TODAY
  50. পাতা শাক – NDTV FOODS
  51. পাতা শাক – WC
  52. পুঁই শাক – RESEARCHGATE
  53. পুঁই শাক – African JOURNAL OF BIOTECHNOLOGY
  54. পুঁই শাক – NCBI
  55. পুঁই শাক – SEMANTIC SCHOLAR
  56. কচু

আগামিকাল আবার এই পৃষ্ঠায় ফিরে আসুন পরবর্তী খাবারের জন্য ।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.2 / 5. Vote count: 27687

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

2 thoughts on “ডায়াবেটিসে কোন খাবার খাবেন কোন খাবার খাবেন না

Leave a Reply

Next Post

আগুন কাঠি

4.2 (27687) মানুষ কবে আগুন আবিষ্কার করেছিল তা জানা নেই। তবে আগুন ব্যবহারের প্রথম পাঠ যে সে প্রকৃতির কাছ থেকে নিয়েছিল সেটা ধরে নেওয়া যায়। সম্ভবত দাবানল থেকেই আগুনের সঙ্গে মানুষের প্রথম পরিচয়। দাবানল শুরু হলে পশু, পাখিরা প্রাণভয়ে পালাতে শুরু করে মাইলের পর মাইল বনভূমি পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: