দৌড়বাজ গাড়ি শােরগােলকারী

পর্দায় দৌড়বাজ গাড়ি বা মােটরবাইকের প্রতিযােগিতা মাঝে মধ্যে দেখা যায়। বাপ রে, যেমন প্রচণ্ড জোরে ছুটছে, তেমন শব্দদূষণ বিধির তােয়াক্কা না করে ছুটে-চলা গাড়িগুলাে শব্দও করছে কর্ণবিদারী। শব্দই যেন
জানান দিচ্ছে গাড়িগুলাে কত জোরে ছুটছে। এই শব্দ যে শুধু জোরে ছােটার জন্য বাতাসের সঙ্গে সঙ্ঘর্ষের কারণে তৈরি শব্দ তা নয়— এই ধরনের দৌড়বাজ গাড়িতে (রেসিং কার) শব্দ-জব্দ নল অর্থাৎ সাইলেন্সার পাইপই লাগানাে থাকে না! দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের হম্বিতম্বি মেনে সাইলেন্সার পাইপ লাগালে, এই গাড়ির গতিই যাবে কমে।

Image result for racing bike
কথাটা বেমক্কা ঠেকতে পারে। চন্দ্রের আকর্ষণে জোয়ার হওয়ার সঙ্গে অমাবস্যা পূর্ণিমায় বাতের ব্যথা বেড়ে যাওয়ার উদ্ভট আত্মীয়তা খোঁজার চেষ্টাও মনে হতে পারে! ইংরেজি সাইলেন্স’ মানে নীরবতা বা কোনাে আওয়াজ নয়। সাইলেন্সার যে বা যা নীরব করায়। সাইলেন্সার না থাকলে গাড়ি জোরে শব্দ করে ছুটবে,এর মধ্যে কোনাে অস্বাভাবিকতা নেই। কিন্তু গাড়ির গতির সঙ্গে সাইলেন্সারের সম্পর্ক কী? ‘যত গর্জায় তত বর্ষায় না’ বলে একটা প্রবাদ আছে। দৌড়বাজ গাড়ির ক্ষেত্রে সে প্রবাদ বাদ। এর গর্জন এবং বর্ষণ অর্থাৎ গতি সমানুপাতি,গর্জন বেশি তাে গতিও বেশি।

Image result for silencer bike
একটু খােলসা করি– সাধারণ গাড়ির ইঞ্জিনের সঙ্গে শব্দ-জব্দ নল লাগনো থাকে। তাহলে গােলমাল করে কে? গাড়ির ইঞ্জিন। ইঞ্জিন জ্বালানি-খাদাকে অক্সিজেন দিয়ে পরিপাক করে। পরিপাকের ফলে তৈরি হয় কিছু বায়বী বর্জ্যপদার্থ। যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনাে-অক্সাইড ইত্যাদি। পােড়া আধপােড়া এই বর্জ গ্যাসেরা (এক্সহস্ট গ্যাস) প্রচণ্ড চাপ ও গতিতে নিকাশি নালি (এক্সহষ্ট পাইপ) দিয়ে বেরিয়ে আসে। বেরিয়ে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড শব্দ তুলে জানান দিয়ে যায় তারা চলল।
ইঞ্জিনের এই শােরগােল থামানাের জন্য সাইলেন্সার পাইপের মধ্যে কিছু কারিকুরি করা হয়। সারি সারি কুঠরি থাকে এর মধ্যে। প্রত্যেকটার মধ্যে থাকে ধাতব দেওয়াল। যদিও দেয়ালগুলাের মধ্যে গর্ত থাকে। সজোরে বেরিয়ে-আসা গ্যাসকে এই কুঠরির মধ্যে আটকে দেওয়া হয়। কালকুঠরি থেকে যখন তারা বাইরে আসে, তখন তারা নিতান্তই হীনবল। গর্জন গরহাজির।

Image result for racing car
সাইলেন্সার পাইপ দিয়ে বেরিয়ে-যাওয়া গ্যাসের গতি আটকে শােরগােল তাে কমছে কিন্তু তারাও ছেড়ে দেওয়ার বান্দা নয়। নিউটনের তৃতীয় সূত্র জানা না থাকলেও আটকে-যাওয়া গ্যাস উল্টোমুখে ইঞ্জিনকে দেয় গুতাে। এই বিপরীত গুতাের ফলে ইঞ্জিনের ক্ষমতা কিছুটা খর্ব হয়; যার দরুন গাড়ির গতিও কমে।
রেসিং কারের ক্ষেত্রে গতিই মূল ব্যাপার। ডেসিবেলের বেল-এ কর্ণপাত না করে এই গাড়িতে সাইলেন্সার পাইপ ব্যাপারটাকেই রাখা হয় না। কালিদাসের ‘নেই তাই খাচ্ছাে, থাকলে কোথায় পেতে!’ হেঁয়ালির মতাে, সাইলেন্সর পাইপ নেই বলেই গতি মেলে, থাকলে কি আর মিলত?

সমীরকুমার ঘোষ

Leave a Reply

%d bloggers like this: