প্রাণী কোষের গঠন

 

প্রাণী কোষ ইউক্যারিয়টিক প্রকৃতির হয়। একটি প্রাণী কোষ গঠিত হয় নিম্নলিখিত অংশ গুলি নিয়ে —-

কোষ পর্দা (Plasma Membrane) এটি তৈরি দ্বি-স্তরীয় ফসফোলিপিড দিয়ে।

কাজ —- কোষের সীমা নির্দিষ্ট করা, সাইটোপ্লাজমকে ভিতরে ধরে রাখা, আংশিক ভেদ্য পর্দা হিসাবে কাজ করা, অভিস্রবনে সাহায্য করা।

সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm) কোষ পর্দার ভিতরের তরলটি হচ্ছে সাইটোপ্লাজম। এর মধ্যে ভেসে আছে পর্দা দিয়ে তৈরি কোষ অঙ্গানু (Cell organelle) এবং প্রোটিন তন্তু দিয়ে তৈরি সাইটোস্কেলিটন (Cytoskeleton)। সাইটোস্কেলিটন হল প্রোটিন তন্তুর একটি নেটওয়ার্ক যেটি সাইটোপ্লাজম জুড়ে ছড়িয়ে থাকে।

কাজ —- সাইটোস্কেলিটন সাইটোপ্লাজমের চলনে সাহায্য করে, কোষের আকার প্রদান করে, এটি কোষ বিভাজনে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে। সাইটোপ্লাজমে সংশ্লেষ, বিপাক ইত্যাদি প্রক্রিয়াগুলি সম্পন্ন হয়।

নিউক্লিয়াস (Nucleus) পর্দা ঘেরা নিউক্লিয়াসের মধ্যে জেনেটিক পদার্থ সুরক্ষিত থাকে।

কাজ —- জেনেটিক পদার্থ সুরক্ষিত রাখা, রাইবোজোমাল আর এন এ (RNA) সংশ্লেষ করা।

এন্ডোপ্লাসমিক রেটিকিউলাম (Endoplasmic Reticulum) দ্বি-স্তরীয় পর্দা ঘেরা নলাকার ও থলির মত অংশ দিয়ে তৈরি এন্ডোপ্লাসমিক রেটিকিউলাম। এটি দু রকমের হয়। দানাদার ও মসৃণ। দানাদারের গায়ে রাইবোজম লেগে থাকে।

দানাদার এন্ডোপ্লাসমিক রেটিকিউলাম (Rough Endoplasmic Reticulum)

কাজ —- এটি প্রোটিন পরিবহনের সাথে যুক্ত।

মসৃণ এন্ডোপ্লাসমিক রেটিকিউলাম (Smooth Endoplasmic Reticulum)

কাজ —- এটি লিপিড ও পর্দা তৈরির সাথে যুক্ত।

গলজি অ্যাপারেটাস (Golgi Apparatus) 4 থেকে 8 টি থলি (Cisternae), একটির উপর আরেকটি, এইভাবে সাজানো থেকে গলজি অ্যাপারেটাস তৈরি করে।

কাজ —- প্রোটিন পরিবহন।

রাইবোজম (Ribosome) ইউক্যারিয়টিক রাইবোজম 80 এস প্রকৃতির হয়। এর দুটি অংশ (Sub-unit) থাকে, একটি 60 এস, অন্যটি 40 এস।

কাজ —- প্রোটিন সংশ্লেষ।

মাইটোকনড্রিয়া (Mitochondria) কোষের শক্তি উৎপাদনের সাথে যুক্ত।

কাজ —- এটিপি (ATP) উৎপাদন।

পারঅক্সিজম (Peroxisome) এক স্তরীয় পর্দা ঘেরা অঙ্গানু।

কাজ —- ফ্যাটি অ্যাসিড অক্সিডেশন হয়।

ভ্যাকুওল (Vacuole) ছোট আকারের ভ্যাকুওল থাকে। ভ্যাকুওলের পর্দাকে বলে টোনোপ্লাসট।

কাজ —- অভিস্রবন চাপ বজায় রাখা, জলের সাম্য নিয়ন্ত্রণ করা, তাৎক্ষনিক সঞ্চয় করা, পরিবহনে সাহায্য করা।

সেন্ট্রিওল (Centriole) একজোড়া নলাকার অঙ্গানু।

কাজ —- কোষ বিভাজনে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে।

সিদ্ধার্থ গৌতম

Leave a Reply

%d bloggers like this: