পরিবেশ দূষণ

 দেশে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হচ্ছে আজ

                    চাই দূষণ মুক্ত পৃথিবী

৫জুন : বিশ্ব পরিবেশ দিবস কি ও কেন ?

১৯৭২ সালের জুন মাসের ১ম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত মানব পরিবেশ শীর্ষক আন্তর্জাতিক স্টকহােম কনভেনশন থেকে ৫ জুন দিনটি বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে স্বীকৃত।

ঐ কনভেনশনে ২৬টি অনুচ্ছেদের প্রত্যেকটিতে মানুষের জীবন, জীবিকা ও সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার প্রশ্নে পৃথিবীর জল, বায়ু, মাটি, খনিজ উৎস ও বনাঞ্চল প্রভৃতি প্রাকৃতিক সম্পদ তথা পরিবেশের উপর প্রতিটি মানুষের সম-অধিকারকে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছে।

অংশগ্রহণকারী পৃথিবীর প্রায় সবদেশই নিজ নিজ দেশে এই অঙ্গীকার করেছিল। অথচ ১৯৭২ এর ৩৭ বছর পরও পরিবেশ সমস্যাগুলি ক্রমশ বেড়েই চলেছে, অথচ সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে ভাবনা যে হয়নি, একথা বলা যাবে না, গবেষণাপত্র থেকে শুরু করে বড় বড় সেমিনার কনফারেন্স আরাে কত না কি।

পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ুর পরিবর্তন নিয়ে ভারতীয় এক বিজ্ঞানী রাজেন্দ্র পচৌরী তাে নােবেল পুরস্কার পেয়ে গেলেন। অথচ পরিবেশের তাপমাত্রা কি কমছে? বা কার্যকরী কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশ দূষণ সমস্যা ও সমাধানের জন্য কয়েকটি দিক উল্লেখ করছি।

জলদূষণ ও তার প্রতিকার

                  পানীয় জলে আর্সেনিক দূষণ
                 জলাভূমি সংরক্ষণের প্রয়ােজনীয়তা
                 প্লাস্টিকের বিপদ ও বিকল্প
                মৃত্তিকা ও বায়ু দূষণ
                  খরা বন্যা সমস্যা।
                   ওজোন স্তরের ক্ষয় ও তেজস্ক্রিয় দূষণ
                   অ্যাসিড বৃষ্টি
                   তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ুর পরিবর্তন

বিষয়গুলি নিয়ে এখানে আলােকপাত করা হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস
সর্বস্তরের মানুষ এই বিজ্ঞান মনস্কতা প্রসার প্রবন্ধটি থেকে পরিবেশ সমস্যাগুলি বুঝতে পারবেন।

জলদূষণ ও তার প্রতিকার
                          

  • পানীয় জলের গুণাগুণ

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আন্তর্জাতিক স্তরে নিম্নলিখিতভাবে পানীয় জলের গুণাগুণ নির্দিষ্ট করেছেন।

  • ক) বর্ণহীন
  • স্বচ্ছ গন্ধমুক্ত,
  • pH6.5 থেকে 7.5 ক্ষারতা
  • সর্বোচ্চ 600p.p.m,
  • লােহা1p.p.m,
  • ক্লোরাইড1000p.p.m.,
  • কলিফর্ম টোটাল কাউন্ট প্রতি 100 মিলি মিটারে সর্বোচ্চ10।Water quality criteria/ Parameter of water quality - Online ...
  • খ) দ্রবীভূত কঠিন (পদার্থ সর্বোচ্চ)
  • ক্যালসিয়াম 200p.p.m.,
  • ম্যাগনেসিয়াম 30p.p.m,
  • জিঙ্ক 15p.p.m,
  • কপার 1.5p.p.m,
  • ম্যাঙ্গানিজ 0.3p.p.m,
  • অ্যালুমিনিয়াম 0.2p.p.m,
  • (ক্রোমিয়াম, সীসা, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম 0.01 p.p.m.),
  • পারদ 0.001p.p.m,
  • সালফেট, নাইট্রেট, ফ্লোরাইড যথাক্রমে এবং 10 p.p.m.।
  • সায়ানাইড, খনিজতেল ও ফেনল জাতীয় পদার্থ না থাকাই কাম্য।
  • গ) ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য মুক্ত ক্লোরিন 0.5 মি.গ্রা/লিটার থাকতে পারে।
    ঘ) নিরাপদ পানীয় জলে মােট কলিফর্ম কাউন্ট 0 হবে।
  • শরীরে জলের প্রয়ােজনীয়তা

  • আমাদের শরীরের অন্যতম উপাদান হল জল। জল আমাদের শরীরের ভিতরের অংশগুলি ভিজে রাখে। দেহের তাপমাত্রা ও বিভিন্ন তরল (রক্ত ও লসিকা)সান্দ্রতা বজায় রাখে। জল মূত্র ও নিশ্বাসের সাহায্যে বিষ ও বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে বার করে।
  • 8 Health Benefits Of Drinking Water - YouTube
  • জলের উৎসঃ

  • প্রকৃতির জলের উৎস তিন রকমের-
  • ভূপৃষ্ঠস্থ,
  • ভূগর্ভস্থ
  • বৃষ্টির জল।
  • গঙ্গানদীঃ গঙ্গা নদীগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রতিদিন এই নদীতে ৩২ কোটি লি, নােংরা জল, ৬০ লক্ষ টন রাসায়নিক সার, ৯ হাজার টন কীটনাশক পড়ছে। ফলে গঙ্গা হয়ে পরছে বিষাক্ত।
    জলবাহিত রােগঃ জলে মিশ্রিত বিভিন্ন রােগ জীবাণু বা রাসায়নিক পদার্থ পান করলে জলবাহিত রােগ হয়।
  • জলবাহিত রােগ জীবাণুঃ

  • ই. কোলাই,
  • সালমােনেলা টাইফি ও প্যারাটাইফি,
  • শিগেলা,
  • ভিব্রিও কলেরি,
  • এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা,
  • জিয়ারডিয়া,
  • পােলিওমাইলেটিস,
  • হেপাটাইটিস এ,বি,সি,ডি ও ই,
  • গিনি ওয়ার্ম,
  • বিভিন্ন ভাইরাস এবং প্রােটোজোয়া।
  • জলবাহিত জীবাণু ঘটিত রােগঃ
  • ডায়ারিয়া, টাইফয়েড, প্যারা টাইফয়েড, জিয়ারডিয়াসিস,
    আমাশয়, জন্ডিস-এ এবং ই, কলেরা, গিনি ওয়ার্ম, ডিসেন্ট্রি পােলিও মাইলেটিস।
                         Central Pollution Control Board on Twitter: "Today, Water-borne ...    সমাধান কোন পথেঃ জনগণকে দূষণমুক্ত নিরাপদ জল পৌঁছে দিতে পারলেই জলবাহিত রােগের মােকাবিলা করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জলবাহিত রােগ প্রতিরােধের
    বিষয়ে বলেছেন – যথেষ্ট পরিমাণ নিরাপদ জল সবসময়ের জন্য বাড়ীতে পৌঁছে দেওয়া প্রয়ােজন।
    আর্থিক সমীক্ষায় দেখা গেছে ৫ বছরে জলবাহিত রােগ যতটা আর্থিক ক্ষতি করে সেই টাকায়
    সকলের জন্য নিরাপদ জল পৌঁছে দেওয়া যায়।
  • পানীয় জলে আর্সেনিক দূষণ

পশ্চিমবঙ্গের ১০ টি জেলার ৭৯টি ব্লকের ৫৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ আর্সেনিক জনিত রােগে আক্রান্ত।

৫৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ আর্সেনিক যুক্ত জল নিয়মিত পান
করে চলেছেন।

সমীক্ষার কাজ যতই এগিয়ে চলেছে ততই সমস্যাটির গভীরতা
আরাে ব্যাপকভাবে বােঝা যাচ্ছে।

আর্সেনিক কিঃ

আর্সেনিক-এর ইলেকট্রন বিন্যাসঃ 1S2/2S2p6/3Sp63d/4S²4p পর্যায়ে সারণীর ৪র্থ পর্যায়ে এবং ৫ম শেণীতে (VB) অন্তর্ভুক্ত একটি মৌল।ধাতু এবং অধাতু উভয়ের ধর্ম-এর মধ্যে বর্তমান। একে ধাতুকল্পে বলা হয়।পারমাণবিক সংখ্যা-৩৩, পাঃ গুরুত্ব-৭৪,৯২, প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না।

খনিজ হিসেবে যেমন- নিকেলাইন (NIAs), কোবালটাইট (CoAsS),
অলটাইট (CoAs., এরিথ্রাইট Co(AsO),8H2O আর্সেনাে পাইরাইট,আর্সেনেট, আর্সেনাইট প্রভৃতি।

আর্সেনিক দূষণের উৎসঃ

আর্সেনিক দূষণের সমস্যাটি মূলত প্রাকৃতিক। আরাে বিশেষভাবে বলা যায় ভূতাত্ত্বিক। বিজ্ঞানীরা আর্সেনিক দূষণের উৎস হিসেবে যে কারণগুলির কথা বলেছেন সেগুলি হলঃ

(১) ভূতাত্ত্বিকঃ ভূগর্ভস্থ জলকে অপরিকল্পিত ও অতিরিক্ত পরিমাণে পানীয় জল ,জল সেচের জন্য তুলে আনাটাই আমাদের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভূগর্ভের আর্সেনিক ঘটিত খনিজগুলিতে অক্সিজেনের সংযােগ ঘটে এবং রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, ফলে আর্সেনিক জলে দ্রবীভূত হয়ে পড়ে।

 

বর্ষাকালে ভূগর্ভস্থ জলস্তর বেড়ে গেলে ধাতব আর্সেনেট এবং আর্সেনাইট যৌথগুলি জারিত হয়ে জলের মধ্যে মিশে যায় এবং এভাবেই পানীয় জলে আর্সেনিক সমস্যাটি ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে(FeS,+2H,O+702 >2Fe+2+4HSO4)।

Indo-Pak study reveals extensive arsenic problem in Punjab groundwater

(২) কৃষিকাজে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারঃ কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের মাধ্যমে ভূগর্ভে আর্সেনিক প্রবেশ করে ভূতাত্ত্বিক উপায়ে জারিত হয়ে আর্সেনিক দূষণ ঘটাতে পারে। যেমন ফসফেট সার বেশি পরিমাণে ব্যবহারে মাটিতে (ভূগর্ভে) আর্সেনেট স্খলিত হয়ে ভূগর্ভের জলে মিশে যায়।Pesticides Gone Wild - Responsible Business

৩) রাসায়নিক শিল্প কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য পদার্থঃ যেসব শিল্প কারখানায়(যেমন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ওষুধ কারখানা, রঙ ও কীটনাশক উৎপাদন কেন্দ্র)আর্সেনিক যৌগ বা ধাতু হিসেবে ব্যবহৃত হয় সেসব শিল্প কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য পদার্থ থেকে আর্সেনিক দূষণ ঘটতে পারে। নির্দিষ্ট ভাবে শিম্পাঞ্চলেই এই দূষণ ঘটার সম্ভাবনা থাকে।Industrial water and water pollution. Industry is a huge source of ...

প্রাথমিক লক্ষণঃ কালাে বা বাদামী দাগ সারা শরীরে ছড়িয়ে থাকে, চামড়া (হাত পা) পুরু বা খসখসে হয়, গুটি দেখা যায়। শারীরিক দুর্বলতা, পেটের বিভিন্ন উপসর্গ,লিভারের অসুখ, হাত পা ঝিঝিন, অবশভাব, ফুলে যাওয়া ইত্যাদি দেখা যায়।কাশি, হাঁপানি, যকৃতে স্ফীতি , প্লীহা স্ফীতি, উদারী, রক্তাল্পতা, পেশী প্রদাহ, পেশীর ক্ষীণতা, হাতে বা পায়ের তলায় ছােট-ছােট মাংসপিন্ড বা কেরাটোসিস, শ্বাসকষ্ট,সিরােসিস বা ক্যান্সার (ত্বক, লিভার, ফুসফুস ও কিডনি) হতে পারে।  How painting hand pumps red could save thousands from poisoning in ...

  • কি ভাবে বাঁচবেন
  • ক) যদি আর্সেনিক প্রবণ এলাকা হয়, তবে প্রথমেই
    জল পরীক্ষা করান। সর্বদা আর্সেনিক মুক্ত জলপান করুন।
  • খ) প্রয়ােজনে নদী,পুকুর, খাল, কুয়াের জল পরিশুদ্ধ করে খাওয়া যেতে পারে।
  • গ) আর্সেনিক যুক্ত জলহলে ফটকিরি বা অ্যালাম মিশিয়ে ৫-৬ ঘন্টা রেখে পরিশ্রত করলে শতকরা ৭০-৮০ ভাগ আর্সেনিক দূর করা যেতে পারে।
  • ঘ) দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে বলা যায় ভূপৃষ্ঠস্থ জলসম্পদকে (খাল, বিল, নদী, পুকুর) বা বৃষ্টির জলকে ধরে রেখে ব্যবহার করা প্রয়ােজন। নদী বা জলাশয়ের গভীরতা বৃদ্ধি, পলি দূরীকরণ, মজা নদী পুনরুদ্ধার, বৃক্ষরােপণ, ভূগর্ভস্থ জলের পরিমাণগত ও গুণগত মান বজায়
    রাখার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  • আর্সেনিক কেন এত বিপজ্জনকঃ
  • (১) কোষের মাইটোকনড্রিয়ায় অক্সিডেটিভ ফসফেট অন্তর্ভুক্তিকে আর্সেনিক বাধা দেয়। ফসফেটকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। বিভিন্ন এনজাইমের ক্রিয়াকেও নষ্ট করে দেয়।
  • ফলে কোষের পুষ্টিতে ব্যাঘাত ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে কোষে আর্সেনিক জমতে থাকলে কোষের স্বাভাবিক কাজ
    ব্যাহত হয়।
  • Arsenic Poisoning of Water and Rampant Cancer Outbreaks in North ...
  • (২) আর্সেনিক জলের মাধ্যমে সারা শরীরে ঢুকে প্রথমেই যকৃৎকে
    আক্রমণ করে।
  • (৩) যকৃৎ থেকে রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে শরীরের বিভিন্ন অংশে কালাে ছিট, রুক্ষ ত্বক, গুটিদানা দেখা যায়, একে মেলানােসিস বলে। নখ, চুল ও ত্বকের খােসা পরীক্ষা করে আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরা যায়।Chronic arsenic poisoning to human. | Download Scientific Diagram
  • (৪)শরীরে নানা উপসর্গ দেখা দেয় যেমন কাশি, হাঁপানি, পেটের রােগ, জনডিস, যকৃৎ বা প্লীহাস্ফীতি, পেশী ক্ষীণ, ত্বকে ঘা, হাঁটতে না পারা, হাতের বা পায়ের তলা / তালু ফেটে যাওয়া (একে কেরাটোসি বা ক্যানসার বলে)। দীর্ঘদিন ধরে রােগে ভুগে মৃত্যু হয়।
      আর্সেনিক দূরীকরণের চারটি সহজ পদ্ধতিঃ পানীয় জলে আর্সেনিক দূর।
    করার জন্য যে চারটি পদ্ধতির কথা জানা গেছে সেগুলির মূল সরঞ্জাম গুলি হল-
    (১) আর্সেনিক জল ধারণের জন্য ঢাকনা দেওয়া একটি বালতি বা পাত্র (১৫-২৫
    লিটার জল যাতে ধরে) (২) ২-৮ টি ক্যান্ডেল (সাধারণ ফিল্টার যা বাজারে পাওয়া
    যায়)। (৩) একটি জল সংগ্রাহক পাত্র। (৪) জল নাড়ার জন্য একটি বাঁশের দেড়
    ফুট লম্বা, আধ ইঞ্চি ব্যাসের লাঠি। (৫) তলানি রাখার জন্য একটি পুরােনাে পাত্র।
  •                             জলাভূমি সংরক্ষণের প্রয়ােজনীয়তা

Wetland a resource with different interests with conflicting uses ...

জলাভূমি সংরক্ষণের প্রয়ােজনীয়তা কতখানি ও
১) জলাভূমি থেকে প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি পাওয়া যায়।Wetlands, Maine Department of Environmental Protection

২) তাজা খাদ্য, শাক-সবজির মােট উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ জলাভূমি থেকে পাওয়া যায়।

৩) জলাশয় থেকে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন পাওয়া যায়। একটি জলাভূমিতে যে পরিমাণ অক্সিজেন পাওয়া যায়, তা ওই জলাভূমির দুগুণ বড় আয়তনের জঙ্গলে উৎপন্ন অক্সিজেনের সমান।

৪) শহরে বায়ু দূষণের ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনাে-অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইডের মতাে যেসব বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে ভেসে বেড়ায়, সেগুলির বেশির ভাগই জলাশয়গুলি টেনে নেয়। ফলে বাতাস দূষণমুক্ত হয়। যে অঞ্চলে জলাভূমি বেশি সংখ্যক থাকবে সেই অঞ্চলের বাতাস ততই নির্মল ও দূষণমুক্ত থাকবে।

৫) শহর ও মফঃস্বলে দূষণ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। জলাভূমি না থাকলে দূষণ বাড়বে, কমবে অক্সিজেন ফলে মানুষের নানা রােগ- হাঁপানি, সর্দি-কাশি ও অন্যান্য বুকের রােগ বেড়ে যাবে।

৬) জলাভূমি ঠিকঠাকমতাে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে ঐ অঞ্চলে মাছের উৎপাদন বেড়ে যাবে। ফলে বাইরে থেকে মাছ আমদানি কমবে। মাছের উৎপাদন বাড়লে ফিসমিলের উৎপাদনও বাড়বে। এই ফিসমিল খেলে হাঁস, মুরগী বেশি পরিমাণে ডিম দিতে পারবে। এছাড়াও ডিমের খােসা মাটিতে মিশলে মাটির ক্যালসিয়াম ও সফরাসের পরিমাণও বাড়বে। সামগ্রিকভাবে পুষ্টির চাহিদা অনেকটাই পূরণ হবে।
৭) জলাভূমি ঠিকমতাে সংরক্ষণ করতে পারলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে।কোনও অঞ্চলের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় থাকবে।
৮) জলাভূমি সংরক্ষণের মধ্যে দিয়ে খরা-বন্যা সমস্যা বহুক্ষেত্রেই সমাধান করা যায়। আঞ্চলিকভাবে যদি খাল-বিল, পুকুরগুলির গভীরতা নির্দিষ্টভাবে বৃদ্ধি করা যায় তবে জলধারণ ক্ষমতা বাড়বে, পাশাপাশি ঐ জল বহুক্ষেত্রে পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। সম্প্রতি পঃবঙ্গের জল সম্পদ বিভাগের সচিব রাজ্যে ১০,০০০ পুকুর বা জলাভূমি সংস্কারের জন্য ৫০ কোটি টাকা ব্যায়ের এক পরিকল্পনা পেশ করেছেন। যদি এই প্রকল্পের সাহায্যে প্রকৃতপক্ষে পুকুরগুলির গভীরতা বৃদ্ধি ও
সংস্কার করানাে যায়, সেক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে। পাশাপাশি রাজ্যেআর্সেনিক দূষণ সমস্যাটির অনেকাংশে সমাধানের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

 

                             প্লাস্টিকের বিপদ ও বিকল্প

  বিপদ
আমার দেশে পুরনো  প্লাস্টিকের ব্যবহার  এতই বেশি (মােট প্লাস্টিক
উৎপাদনের ৩৭ শতাংশ)যে পুনব্যাহারকারি প্রক্রিয়াতে যে দৃষণ সৃষ্টি হয়, তার
চিন্তার বিষয় কারণ এই পদ্ধতিতে উৎপন্ন বিষাক্ত (ডাই-অক্সিন ও ফিউরেন প্রভৃতি)
পদার্থ শুধু কারখানার শ্রমিক নয়, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।Here's how Indonesia plans to tackle its plastic pollution problem ...

প্লাস্টিকের পচনশীল ধর্ম নেই। তাই ক্রমেই প্লাস্টিকের ব্যবহার প্রকৃতির আবর্জনা
বাড়িয়ে তুলেছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নালা-নর্দমা, অনুর্বর হয়ে পড়ছে চাষের জমি।
একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের প্লাস্টিকের প্রতি আকর্ষণ পরিবেশকে বিপর্যয়ের
মুখে ঠেলে দিচ্ছে অপরদিকে হাসপাতালের প্লাস্টিক আবর্জনা যেমন সিরিঞ্জ, রবার,
ব্লাড ব্যাগ, স্যালাইন বােতল ও অন্যান্য ব্যবহৃত প্লাস্টিক পদার্থ পরিবেশে বিভিন্ন
দুরারােগ্য রোগ ছড়াচ্ছে।Plastic pollution at sea: how does our plastic waste arrive in the ...
বিকল্প

প্লাস্টিক ব্যবহারের ফলে উন্নত দেশগুলির ন্যায় ভারতে এর সমস্যা ক্রমশঃ ঘনীভূত হচ্ছে। বর্তমানে এই প্লাস্টিক দূষণ থেকে রেহাই পেতে হলে প্লাস্টিকের বিকল্প অবশ্যই খোঁজা দরকার। ক্ষেত্র বিশেষে প্লাস্টিকের বিকল্প ভিন্ন ভিন্ন বস্তু হতে পারে। যেমন প্লাস্টিকের চায়ের কাপের পরিবর্তে চিনা মাটির ভাড় অপেক্ষাকৃতনিরাপদ।Corporate Gifts for employees | Jute Bags Suppliers in Bangalore
প্রয়ােজনে অপ্রয়ােজনে প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগের পরিবর্তে চট বা কাপড়ের টেকসই
থলে ব্যবহার করা যেতে পারে। সমগ্র বিশ্বে প্লাস্টিকের ক্যারিবেগের ব্যবহার ছেয়ে গেছে অথচ আমরা জেনেছি, এই ক্যারিব্যাগ ব্যবহার করা কতটা অপকারী ।
আমাদের দেশ ভারতবর্ষ, প্রধাণতঃ কৃষি নির্ভরশীল দেশ। ভারতে প্রচুর পরিমাণে পাট উৎপাদিত হয়ে থাকে। প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগের পরিবর্তে যদি পাটের ছােট-বড় সুন্দর থলে বা ব্যাগ ব্যবহার করা হয় তবে আমাদের দেশ এই দুষণ থেকে মুক্ত হবে অপর দিকে আমাদের দেশীয় কৃষিব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। এ বিষয়ে সঠিক পরিকল্পনার অভাব আছে।
প্লাস্টিক দূষণমুক্ত পৃথিবীর জন্য প্রয়ােজন এক সঠিক জীবন দর্শন। আমরা ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলব এই মানসিকতার পরিবর্তে ব্যবহার এবং পুনর্ব্যবহারের মনােভাব নিয়ে সযত্নে জিনিসের ব্যবহার করতে হবে। প্রকৃতির ভান্ডার আমাদের প্রয়ােজন মেটাতে যথেষ্ট। কিন্তু আমাদের লােভ মেটাতে পর্যাপ্ত নয়। আমাদের উন্নয়নের ধারণা প্রকৃতিকে বাদ দিয়ে করলে চলবে না, গড়ে তুলতে হবে এক জীবনমুখী পরিকল্পনা।

  মৃত্তিকা দূষণ

ভূপৃষ্ঠকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করার ফলে ভূপৃষ্ঠ দূষিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠ বসবাসের অনুপযােগী হয়ে উঠছে কারণ ঃ-Ways to Solve Soil Pollution | Ways2GoGreen

ক) বিভিন্ন রকম রাসায়নিকের ব্যবহার ঃ আমরা চাষের সময় যে কীটনাশক ব্যবহার করি তা মাটির সাথে মিশছে। এই কীটনাশক মাটিতে অবস্থিত উপকারী কীটগুলিকে ধ্বংস করে মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে। আবার বিভিন্ন রকম রাসায়নিক । কারখানা থেকে নির্গত বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা ধ্বংস করছে। যেমন- আমাদের দেশে ব্যবহৃত প্রতি বছর ১কোটি তড়িৎ কোষ (ব্যাটারী)ব্যবহার এর পর যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এই তড়িৎ কোষে অবস্থিত তীব্র অ্যাসিড মাটির উর্বরতা ও গুণমানকে পরিবর্তন করে চাষের অনুপযােগী করছে।

খ) খনিজ পদার্থের বিপুল উত্তোলনঃ কয়লা, লােহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি
খনি থেকে প্রচুর পরিমাণে ঐ সকল পদার্থ উত্তোলন করা হচ্ছে। কিন্তু ভিতরের
ফাঁকা স্থান আমরা ঠিক ভাবে ভরাট করছি না তাই ঐ স্থানে ধস নেমে বাসের ও
চাষের অনুপযােগী স্থানে পরিণত হচ্ছে।What are the Causes and Effects of Soil Pollution - A Plus Topper

গ) যত্রতত্র তাপ বিদটুতের ছাই ফেলাঃ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই যেখানে
সেখানে ফেলে আমরা ঐ স্থান চাষের অনুপযােগী করে তুলছি।Fly Ash Bricks Manufacturer in Kolkata - Harden Bricks

ঘ) বৃক্ষ ছেদনঃ

পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত বড় বড় গাছ মাটিতে শক্ত ভাবে ধরে রাখে এবং পাহাড়কে ধসের হাত থেকে বাঁচায়। কিন্তু পাহাড়ে অবস্থিত গাছ অনিয়মিত কাটার ফলে পাহাড়ে ব্যাপক ধস নেমে এসে বাস ও চাষের অনুপযােগী হয়ে চলেছে।

ঙ) ইট ভাঁটায় ব্যবহৃত মাটিঃ

বিভিন্ন ইট ভাটায় চাষের জমির মাটি ইট তৈরির কাজে ব্যবহৃত করছে। চাষের জমির মাটির প্রথম ১-২ ফুট অত্যন্ত উর্বর। এই মাটি ইট তৈরীর কাজে ব্যবহার এর ফলে প্রচুর চাষের জমি অনুর্বর জমিতে পরিণত হচ্ছে। যদিও চাষের জমির মাটি ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ফসলি জমিতে ...

মৃত্তিকা দূষণ রােধে যা যা করা দরকার ঃ

১) রাসায়নিক সার ও কীটনাশকএর ব্যবহার কমাতে হবে।

২)প্লাস্তিক জাতীয় পদার্থ যাতে মাটিতে না মেশে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

৩)চাষের ক্ষেত্রে মাটি পরীক্ষা করে চাষের পরিবর্তন করা দরকার।

৪)মাটির তলার জল চাষের কাজে ব্যাবহার করা আনুচিত।

৫)শিল্প কারখানা ও শহরের অজৈব পদার্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

৬)মাটিতে সর্বদা জৈব সার ব্যাবহার করতে হবে।

                             খরা বন্যা সমস্যা
Centre approves Rs 842 cr funds for Karnataka, Puducherry and ...

আমাদের রাজ্যে তথা সারা ভারতবর্ষেই খরা-বন্যা সমস্যাটি লেগেই রয়েছে।
বৃষ্টির জল ধারণ করার মত ভূপৃষ্ঠস্থ জলাশয়ের সংখ্যা খুবই কম এবং এই জলাশয়গুলির সংখ্যাও ক্রমশঃ হ্রাসমান। তাছাড়া এই জলাশয় গুলির গভীরতাও খুবই কম, যার ফলে বৃষ্টিপাত হলে জল ধারণ করতে পারে না। তাই অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে বন্যা অনিবার্য, আবার বৃষ্টিপাত না হলেই খরা।
খরা-বন্যা সমস্যা মােকাবিলায় বিকল্প সমাধানগুলি হলবুড়িতিস্তা ঘিরে গড়ে উঠতে পারে ...

১) খাল, বিল, নদী,জলাশয়গুলির গভীরতা বৃদ্ধি করতে হবে।

২) সেচ ব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ জল ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করার জন্য আঞ্চলিক স্তরে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩)বৃষ্টির জলকে ভূপৃষ্ঠ জলাশয়ে ধরে রাখার জন্য সঠিকভাবে পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন: কীভাবে লবণাক্ততা ...

৪)। নদীর পাড় সংরক্ষণ, মজা নদীকে সংরক্ষণ করতে হবে।

৫) যত্রতত্র গভীর নলকূপ বসানাে বন্ধ করতে হবে।

৬) ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার সীমিত ভাবে করতে হবে এবং বৃষ্টির জল যাতে ভূগর্ভে মিশতে পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে।

     বায়ু দূষণ

বায়ুদূষণের কারণ ঃ ১) কলকারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকারক গ্যাস। ২) যানবাহন
থেকে নির্গত গ্যাস। ৩) তেজস্ক্রিয় দূষণ।বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বায়ু দূষণ ...
বায়ুদূষণের ফল ঃ

১) পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি।

২) ওজন স্তরের ছিদ্র।

৩) পরিবেশে অল্প বৃষ্টি ও অম্ল বৃষ্টি।

কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকারক গ্যাস ঃশিল্প বিপ্লবের পর থেকেই সারা পৃথিবীতে বায়ু দূষণ পেয়েছে। প্রতিটি কারখানা থেকেই নির্গত গ্যাসগুলি পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকারক

যেমন- ক) তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত ছাই, কালাে ধোঁয়া পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকারক। বিদ্যুৎকেন্দ্রে ছাই নিরােধক যন্ত্র বসালে কালাে ছাই রােধ করা যায়, পাশাপাশি মেকানিক্যাল ডাস্ট কালেকটর এবং কুলিং সিস্টেম থাকলে পরিবেশের দূষণ কমানাে যায়। প্রতিটি শিল্পকারখানায় এই ব্যবস্থা নেন না,
ফলে দূষণ বেড়েই চলে। প্রতিটি শিল্প কারখানার ক্ষেত্রেই দূষণ প্রতিরােধক ব্যবস্থা নেওয়া খুবই জরুরী।বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিষ্ক্রিয়তা
          বায়ু দূষক ঃ

পৃথিবীর বায়ু দূষণের ৯০ শতাংশের জন্য দায়ী হল-

১) কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2),

২)কার্বন মনােক্সাইড (CO),

৩) নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইড (N2 O, NO2, N2 O5, N2O4),

৪) হাইড্রোকার্বন

৫) সালফার অক্সাইড (SO2)

৬) ধূলি কণা।

ওজোন স্তরের ক্ষয়ওজন ব্র্যান্ড এর ছাতা | সবুজে বাঁচো

ওজোন স্তর যেন পৃথিবীর বেশ বড় একটা ছাতা। কিন্তু এই ছাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ওজোনের পরিমাণ কিছু অঞ্চলে কমে গেছে। ফলে অতি সহজেই এই অঞ্চল দিয়ে ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি পৃথিবীপৃষ্ঠে পৌঁছে যাচ্ছে।

কেন ওজোন কমে যাচ্ছে ওজোন স্তর ক্ষতির জন্য দায়ী ক্লোরিন পরমাণু আর এই ক্লোরিন পরমাণুর উৎস হিসাবে কাজ করছে ক্লোরােফ্লুরােকার্বন (CFC) নামে একটি যৌগ। এই ক্লোরােফ্লুরােকার্বন প্রায় ৭০ বছর আগে ব্যবহারিক জীবনে প্রথম প্রয়োগ করা হয়। এই যৌগটি রেফ্রিজারেটরে, ফোমপ্যাকেজিং-এ, যানবাহন শিম্পে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রে প্রচুর ব্যবহার হতে লাগলাে। ফলে বায়ুমন্ডলে এর পরিমাণও বাড়তে থাকলাে।

দেখা গেছে একটি ক্লোরােফ্লুরােকার্বন (CFC) অণু বায়ুমন্ডলে ওজোন স্তরের একলক্ষ ওজোন অণুকে (03) বিভক্ত করে। এই সি, এফ, সি, যৌগ ওজোন অণুকে ধ্বংস করার পাশাপাশি ওজোন অণু তৈরির পদ্ধতিতেও বাধা দেয়।

এইভাবে ওজোন স্তরের ক্ষয়ের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে। বর্তমানে সমস্ত ওজোন স্তরে গড়ে ৮ শতাংশ ওজোন কমে গেছে। কিভাবে এই ধংস আটকানাে যায়, ক্ষয়ের পরিমাণদ্রুত বাড়তে থাকে।

বর্তমানে সমস্ত ওজোন স্তরে গড়ে ৮ শতাংশ ওজোন কমে গেছে। কিভাবে এই ধ্বংস আটকানাে যায়, ক্ষয়ের পরিমাণ কমানাে যায় তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে।

অম্ল বৃষ্টি (Acid Rain)

Diagram showing acid rain pathway | Free Vector  আম্লিক জলের বৃষ্টিকে (pH < 5) সাধারণভাবে অম্ল বৃষ্টি বলে। এর ফল মাটি ও জলাশয়ের জীবের জীবনধারণের পরিবেশ নষ্ট হয়। গাছ-পালা, মাটির প্রভূত ক্ষতি হয়। তাছাড়া বাড়ী-ঘর, ধাতুনির্মিত সেতু, পুরাতন ভাস্কর্য, স্থাপত্য (তাজমহল, ভিক্টোরিয়া মেমােরিয়াল) ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই ধরনের বৃষ্টির কারণ কলকারখানার চুল্লী এবং মােটর গাড়ী থেকে নির্গত সালফার, নাইট্রোজেন ও কার্বনের অক্সাইড সমূহ যা বাতাসের জলকণার সাথে মিশে বিভিন্ন অ্যাসিড উৎপন্ন করে।এই অ্যাসিড বৃষ্টির সঙ্গে বর্ষিত হয়ে থাকে।

তেজস্ক্রিয় দূষণ

পৃথিবীতে যেসব প্রাকৃতিক মৌলিক পদার্থ আছে তাদের মধ্যে শেষের দিকে রেডন, রেডিয়াম, পােলিনিয়াম, থেরিয়াম ও ইউরেনিয়াম প্রভৃতি মৌলগুলি সর্বদাই শক্তি (তেজ) বিকিরণ করে এবং ক্রমশঃ ভর হারাতে হারাতে নিমতরের স্থায়ী মৌলতে পরিণত হয়।

পরমাণু মূলতঃ তিন ধরনের কণিকা (ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন) নিয়ে গঠিত।আলফা, বিটা ও গামা বিকিরণগুলির যেকোন জীবের পক্ষে ক্ষতিকর। জীবকোষ বিভিন্ন যৌগদ্বারা গঠিত, আবার যৌগে রয়েছে জীবকোষ কোন তেজস্ক্রিয় রশি পড়লেই এইসব বিভিন্ন পরমাণু মৌলিক আয়নিত পদার্থের হয় এবং পরমাণু কোষের।

স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। ফলে কোষের স্থায়ী পরিবর্তণ হওয়ার কারণে ক্যানসার, লিউকোমিয়া হতে পারে। তেজস্ক্রিয় দূষণের প্রভাব জনন কোষে পরিবর্তন ঘটলে বিকলাঙ্গ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কতটা ...
তেজস্ক্রিয়তা (তেজস্ক্রিয় দূষণ) যেকোন মাত্রারই হােক, তা সভ্যতার পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। পরমাণু চুল্লী (বিদ্যুৎ কেন্দ্র) থেকে পুটোনিয়াম সহ প্রায় ২০০ রকমের তেজস্ক্রিয় পদার্থ উৎপন্ন হয়। পরমাণু বােমা তৈরির মূল উপাদানই হল পুটোনিয়াম।

পরমাণু চুল্লী থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় খুবই কম, অথচ খরচও খুব বেশি এই চুল্লী পরিবেশের পক্ষে বিপজ্জনক। তাই তেজস্ক্রিয় দূষণ না কমাতে পারলে সামগ্রিক পরিবেশ ও জীবের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে।

পৃথিবী জুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে

১৯৭২-এর পর আরও তিনটি বসুন্ধরা বৈঠক ও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চুক্তির মেয়াদও শেষ হওয়ার মুখে। অথচ পরিবেশে গ্রিন হাউস গ্যাস সহ তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন: যেভাবে অনুসন্ধান ...

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সমস্যা সমাধানের জন্য কয়েকটি বিষয় উল্লেখকরছি ঃ

ক) প্রতিটি শিল্প কল-কারখানায় দূষণ প্রতিরােধক ব্যবস্থা ঠিকমতাে কার্যকরী করতে হবে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কয়লা (কার্বন ডাই ও কার্বন মনাে অক্সাইড) বাতাসে মিশতে  না পারে সেই জন্য ইলেকট্রো স্ট্যাটিক প্রেসিপিটেটর (ই.এস.পি)মেকানিক্যাল ডাস্ট কালেকটর ও কুলিং  সিস্টেম পুরােপুরি  কার্যকর  করতে হবে।এর ফলে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণ সমস্যা বেশীর ভাগটাই সমাধান হবে।
খ) বছরে প্রায় ১০০ কোটির বেশী জীবাশ্ম পুড়িয়ে ২৫০ কোটি টন কার্বন ডাই অক্সাইড (Co,) বাতাসে মিশছে। ফলে দূষণের মাত্রা ভীষণ ভাবে বেড়েই চলেছে।

পঃবঙ্গে শুধুমাত্র বছরে মাত্র ৬০ হাজার মানুষ জীবাশ্ম জ্বালানির দূষণে আক্রান্ত হয়ে  যাচ্ছেন। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে নিম, শাল, বট, অশ্বথ,অর্জুন, মেহগিনি, ক্যাকটাস ও সাইট্রাস, তুলাগাছ বেশী পরিমাণে নদী,  জলাশয়ের পাড়ে, পতিত অঞ্চলে ও শহরের রাস্তায় লাগাতে হবে, কারণ এ ধরনের গাছ গুলি বেশী পরিমানে কার্বন ডাই অক্সাইড টেনে নিতে পারে।

গ) সারা পৃথিবী জুড়ে ১৯৮৬ সালের পর নতুন করে পরমাণু চুল্লী স্থাপন করা হয়নি,(দু-একটি দেশ ব্যতিক্রম)। শক্তি সমস্যা সমাধানের জন্য পরমাণু চুল্লী কোন ভাবেই গ্রহণ যােগ্য নয়, অথচ প্রতিটি পরমাণু চুল্লী শুধুমাত্র পরিবেশকে বিভিন্ন ভাবে বিষাক্ত করে তুলেছে। বিকল্প শক্তির উৎস গুলিকে যথা- জল বিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ, হাওয়া কল ও বায়ােমাস গ্যাস সহ বিভিন্ন ধরনের পুনর্নবীকরণযােগ্য শক্তির উৎসগুলিকে কাজে লাগাতে হবে এবং পাশাপাশি এই ধরনের শক্তিগুলির ব্যবহারকে আরাে
বাড়িয়ে তােলার জন্য গবেষণায় অর্থবরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে এবং ছােট ছােট বিদ্যুৎ প্রকল্প আঞ্চলিক স্তরে তৈরী করতে হবে। সুসংহত উপায়ে বিকল্প শক্তির উৎসগুলিকে কাজে লাগিয়ে শক্তি সমস্যা চাহিদার অনেকটাই পূরণ করা যেতে
পারে।
 ভারতে পুনর্নবীকরণ যােগ্য শক্তির উৎসগুলাের সম্ভাবনা নীচে উল্লেখ করা হলাে ঃ

| | পুনর্নবীকরণ যােগ্য শক্তির উৎস সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদন

১) সূর্য (Solar Energy)           ৫,৭০,০০০ মেগাওয়াট
২) ছােট বড় জল বিদ্যুৎ          ৭০,০০০ মেগাওয়াট
৩) হাওয়া-বায়ু চালিত বিদ্যুৎ     ৩০,০০০-৬০,০০০ মেগাওয়াট।
৪) বায়ােগ্যাস বা জৈব গ্যাস      ১৭,০০০-৬০,০০০ মেগাওয়াট।
৫) সমুদ্রের তাপ বিদ্যুৎ             ৫০,০০০ মেগাওয়াট
৬) সমুদ্রের ঢেউ থেকে বিদ্যুৎ     ২০,০০০ মেগাওয়াট
৭) উন্নত চুল্লা                               ১২০ মিলিয়ন (সংখ্যায়)

 

পরিবেশ প্লাস্টিক আর্বজনা (যেমন স্যালাইন বােতল, ব্লাড ব্যাগ রবার ও অন্যান্য ব্যবহৃত প্লাস্টিক) পােড়ানাের ফলে ডাই অক্সি ও ফিউরেন নামক বিষাক্ত গ্যাসগুলি বাতাস মিশছে। ফলে তাপমাত্রা ও পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। এছাড়া যে সমস্ত শিল্পে ক্লোরােফ্লোরাে কার্বন (CFC) বেশী ব্যবহার করা হচ্ছে সেসব শিল্পে ধাপে ধাপে-এর ব্যবহার পুরােপুরি কমিয়ে আনতে হবে। যেমন যে দেশ যত বেশী পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস দূষণ করবে সেই পরিমাণে গাছ লাগিয়ে দূষণ কমিয়ে আনবে (কার্বন লিঙ্ক প্রজেক্ট)। তাছাড়া প্লাস্টিক ব্যবহার ক্রমশ কমিয়ে আনতে হবে। পরিবেশের পক্ষে উপযােগী জুট বা পাট জাতীয় ব্যাগ, চটের থলে ব্যবহারের পরিমাণ বাড়াতে।

চ) কৃষি ক্ষেত্রে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার দ্রুত কমিয়ে আনতে হবে, জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে। কৃষি জমিতে যাতে শিল্প কারখানার আর্বজনা, প্লাস্টিক আর্বজনা মিশতে না পারে। মাটির তলা থেকে কখনই অতিরিক্ত পরিমাণে জল তােলা উচিত নয়।

দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ ও প্রয়ােগ ঘটাতে হবে ও পাশাপাশি বিদেশ থেকেঅপ্রচলিত প্রযুক্তি আমদানী বন্ধ করতে হবে। দেশের বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রগুলি সাধারণ মানুষের প্রয়ােজনের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ চালাতে হবে।পরিবেশের প্রতিটি বিষয়কে সুরক্ষিত রেখেই সামগ্রিক উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে হবে।

 

  সারা বিশ্বে শক্তি সমস্যার সমাধান গুলি কোন পথে

 

তাপবিদ্যুৎ এর উৎস কয়লা খনি থেকে পাওয়া যায় এবং পরমাণু বিদ্যুৎ-এর
ইউরেনিয়াম (খনি থেকে পাওয়া যায়)-উৎসগুলি কোন না কোন দিন শেষ হয়েই যাবে। অথচ পুনর্নবীকরণ যােগ্য শক্তির উৎসগুলি ভবিষ্যতে কোন দিনই শেষ হবে। বিকল্প শক্তি অর্থাৎ নবীকরণ যােগ্য শক্তির উৎসগুলি যথা- বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ শক্তি, সৌরশক্তি, জৈবগ্যাস, সমুদ্রের তাপবিদ্যুৎ শক্তি গুলিকে সঠিক ভাবে কাজে লাগানাে, পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক (জীবাশ্মজ্বালানী) জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে।
সারা ভারতে মােট বিদ্যুৎ চাহিদার ২.৬ শতাংশ মাত্র পাওয়া যায় পরমাণু চুল্লী থেকে (৪১২০ মেঃওয়াট) উল্লেখ করা দরকার ভারতের রাজস্থান অ্যাটমিক পাওয়ার প্রজেক্ট ১ নং এবং ২ নং চুল্লী তৈরী করতে সময় লেগেছিল যথাক্রমে ৮ এবং ১০ বছর, চেন্নাই-এর কলাস্কমে সময় লেগেছিল আরাে বেশী যথাক্রমে ১৪ এবং ১১ বছর।
পশ্চিমবঙ্গের অচিরাচরিত শক্তি ব্যবহারের চিত্রটি ঃ
বায়ােগ্যাস প্লান্ট-১,৮৫,৪৯১ টি
বায়ােগ্যাস প্রকল্প-১.১৩ মেগাওয়াট
ধানের তুষ ভিত্তিক প্রকল্প-৪.৬৮ মেগাওয়াট
সৌরগৃহ আলােক ব্যবস্থা-৩৮,৯৪৪ টি
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র-৫৮৫ কিলােওয়াট
বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র-১.৬ মেগাওয়াট
জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-২৮.৫ মেগাওয়াট
উন্নত চুলা – ৩,৬৯,৭৮৭ টি

অচিরাচরিত শক্তি বা বিকল্প শক্তি
১)  ৫০শতাংশ  বিদ্যুৎ  পুর্নব্যবহার পাওয়া  যেতে পারে ।

২) ওয়েবরেডা ফেজার গঞ্জে ও সাগর দ্বীপে ২.৫ মেঃ ওয়াট (হাওয়া কল থেকে) বায়ু বিদ্যুৎ তৈরী করছে। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে ৬০ মেঃ ওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য জায়গায় সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

৩) জোয়ার ভাটা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সুন্দরবনে ৩.৭৫ মেঃ ওয়াট বিদ্যুৎ তৈরী করার কাজ চলছে। এই অঞ্চলে হাওয়া বিদ্যুৎকে কাজে লাগিয়ে ছােট ছােট
বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট রয়েছে।বায়ু খামার | 46322|| Bangladesh Pratidin
৪) উত্তরবঙ্গে বায়ােমাস থেকে ১৫০ মেঃ ওয়াট বিদ্যুৎ তৈরী করার জন্য ১০০০ কোটি টাকা লগ্নি করা হয়েছে।
৫) আসানসােলে ২ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরী হচ্ছে। গ্রিড সিস্টেমের সাহায্যে যাতে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।ঝাউডাঙ্গায় সোলার প্যানেল ...
৬) পুরুলিয়ার অযােধা পাহাড়ে ৯০০ মেঃওয়াট পাম্প স্টোরেজ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ২০০৭ সালেই চালু হয়েছে।

বার্ষিক যােজনা ও পরিকল্পনা খাতে নবীকরণযােগ্য শক্তির উৎস দপ্তরের জন্য ব্যয় বরাদ্দ যথেষ্ট পরিমাণে বাড়াতে হবে। উৎসগুলির সম্ভাবনা যাতে আরাে বাড়ানাে যায় সেই জন্য গবেষণা ও সমীক্ষার (বায়ুবিদ্যুৎ ও সৌরশক্তি ম্যাপ) জন্য ব্যয় বরাদ্দ বাড়ানাে প্রয়ােজন। সমস্ত রকমের বিকল্প ও নবীকরণ যােগ্য শক্তির উৎসগুলিকে পরিকল্পনা মাফিক কাজে লাগাতে পারলে ভবিষ্যৎ-এর শক্তি সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে।

জয়দেব দে, বিজ্ঞান কর্মী।

Published by @

পরিবেশ, পরিবেশ আন্দোলন, দূষণ, গাছ, নদী, পাহাড়, সাগর

One thought on “পরিবেশ দূষণ

Leave a Reply

%d bloggers like this: