পিঁপড়ে ,কি করে বাচাল একটি শহরকে ?

পশুপালন ও কৃষিকাজই মূলত এই শহরের মানুষের জীবিকা ছিল। একটা সময় এমন অবস্থা তৈরী হয়,শহরের অস্তিত্বই তখন বিলুপ্ত হওয়ার মুখে। কিভাবে এই সঙ্কট থেকে মুক্তি মিলবে, তার কোন উপায় বাসিন্দারা ভেবে উঠতে পারছিলেন না।চরম অর্থনৈতিক সংকট,শহরবাসীর খাবারের যোগানও অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় !শেষে পিঁপড়াই সমস্যা সমাধানের উপায় বাতলে দিল। পুরো শহরকে বাঁচাল পিপীলিকা ! ডাইনোসর অ্যান্ট হলো এক বিশেষ ধরনের পিঁপড়ে। এগুলো প্রথম আবিষ্কার হয় ১৯৭৭ সালে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  
4.9
(7)

Dinosaur ants with wasp-like stings could save the tiny town of ...

 

জীব বৈচিত্র , যা রক্ষা করে ছিলো একটি জনপদ
আরশোলার পাখা আছে বলেই তাকে পাখি ভাববেন না!কারণ পাখি আর পতঙ্গে বিস্তর ফারাক ওই অনেক টা জলপাই আর জলের মতোই পার্থক্য ! আজ পিঁপড়ের কথা হবে যে; প্রাণিবিদ্যায় ওই পতঙ্গ শ্রেণীর মধ্যেই পড়ে, পিঁপড়ে কিন্তু সমাজবদ্ধ জীব কারণ তারা গ্রুপ লিভিং করে অর্থাৎ বহু পিঁপড়ে মিলে একটি দল তৈরী করে থাকে, বাসা বানায়,খাদ্য বা বিপদের সন্ধানে সংকেত বা আলার্ম কল দেয়, মানুষের ক্ষতিও করে l আজ এমন এক পিঁপড়ের কথা বলবো যে একটা গোটা শহর কে বাঁচিয়ে দিয়েছিলো সাখ্যাত ধ্বংসের হাত থেকে, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার একটা ছোট শহর পুচেরা, শহরের নামকরণ রাজা পুচেরির নাম থেকে। ১৯১৭ সালে তার মৃত্যু হয়। আর ১৯২০ সালে পুচেরা নামে এই শহরের জন্ম। এ্যাডিলেড থেকে ৬৪০ কিলোমিটার দূরে পার্থ ও সিডনির সংযোগরক্ষাকারী হাইওয়ের পাশেই গড়ে উঠেছিল এই শহর l
পশুপালন ও কৃষিকাজই মূলত এই শহরের মানুষের জীবিকা ছিল। একটা সময় এমন অবস্থা তৈরী হয়,শহরের অস্তিত্বই তখন বিলুপ্ত হওয়ার মুখে। কিভাবে এই সঙ্কট থেকে মুক্তি মিলবে, তার কোন উপায় বাসিন্দারা ভেবে উঠতে পারছিলেন না।চরম অর্থনৈতিক সংকট,শহরবাসীর খাবারের যোগানও অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় !

Dinosaur ant - Australian Geographic

শেষে পিঁপড়াই সমস্যা সমাধানের উপায় বাতলে দিল। পুরো শহরকে বাঁচাল পিপীলিকা ! ডাইনোসর অ্যান্ট হলো এক বিশেষ ধরনের পিঁপড়ে। এগুলো প্রথম আবিষ্কার হয় ১৯৭৭ সালে। পতঙ্গবিদদের মতে, এটাই প্রথম পিপীলিকা প্রজাতি; যার উদ্ভব বোলতা থেকে। ৭ কোটি বছর আগে এর জন্ম। বিশ্বে যত পিঁপড়ার প্রজাতি রয়েছে, তাদের সবার থেকে অনেকটাই আলাদা এরা এবং আকারেও বেশ বড়ো।পতঙ্গবিদরা একে জীবন্ত জীবাশ্ম ও মিসিং লিঙ্ক বলে।তাই নামাঙ্কনে ডাইনোসর কথাটির ব্যবহার,বোলতা ও পিঁপড়া দুই প্রাণীর বৈশিষ্ট্যই রয়েছে এদের মধ্যে। সেই কারণে একে বোলতা এবং পিপীলিকার মধ্যে হিতসংযোগ রক্ষাকারী ভাবা হয় l
সৃষ্টির সময় থেকে আজও একই রকম রয়ে গেছে তারা।তাই জীবন্ত জীবাশ্ম বলা যায় l শহরের কথায় ফিরি,একটা সময় এমনই অবস্থা হয়েছিল যে, যে কয়েকটা পরিবার শুধু মাত্র ওখানে রয়েগিয়েছিল, তাদেরই খাবার জোগানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। শহরের অস্তিত্বই বিলুপ্ত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আসতে আসতে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে শুরু করে ১৯৭৭ সাল থেকে,ওই বছরই পতঙ্গবিদেরা প্রথম সম্পূর্ণ অন্য প্রজাতির পিঁপড়ের খোঁজ পান এই এলাকায়। ঠিক যেন ডানা ছাড়া বোলতা।রঙ গাঢ় হলদে, পিছনে বিষাক্ত বড় হুলও রয়েছে এদের। এদের নাম দেওয়া হয় ডাইনোসর পিঁপড়ে।
তারপর থেকে নিয়মিত কোনো না কোনো পতঙ্গবিদ পুচেরায় আসতে শুরু করেন। দিনের পর দিন এখানে থেকে গবেষণার কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। ফলে তাদের জন্য থাকার জায়গা তৈরি হয় শহরে।ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে জনপদটি, উপার্জনের একটা রাস্তাও খুলে যায় বাসিন্দাদের।পিঁপড়ের আকর্ষণে বহু পর্যটকও এখানে এসে থাকতে করতে শুরু করেন।শহরের নাম নিয়ে লেখা লেখি শুরু হয়,দেশ বিদেশের মানুষের নতুন একটি গন্তব্যে পরিণত হয় এটি, রাস্তার পাশে রাত্রিযাপন এবং খাওয়াদাওয়ার জন্য কতগুলো রেস্টহাউস, রেস্টুরেন্ট এবং দোকান গড়ে ওঠে। রাত্রিযাপন না করলেও হাইওয়ে দিয়ে যাওয়া সব গাড়িই এখন পুচেরাতে দাঁড়ায়। সেই সব দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনেন বা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন।

অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার মুখ থেকে পুচেরা আজ পর্যটন মানচিত্রে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। রোডহাউসের বাইরে ডাইনোসর পিঁপড়ের একটা বড় মূর্তিও বানানো হয়েছে। যা আরও বেশি পর্যটক আকর্ষণ করে।এই ভাবেই জীববৈচিত্র বাঁচিয়ে দেয় একটি শহর, ফিনিক্স-এর মতো উত্থান হয় একটি তুচ্ছ পিপীলিকা কে ধরেই ! তাই বলি জীব বৈচিত্র আমাদের সব মূল্যবান সম্পদ একে রক্ষা করুন!তাহলে নিজেরাও বাঁচবেন !

© সৌভিক রায়

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.9 / 5. Vote count: 7

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

মহামারীর ইতিহাস

4.9 (7) ইতিহাসের কি অদ্ভুত সমাপতন! একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি……. অনুজীব যা প্রতিদিন আমাদের চ্যালেঞ্জ,করেই চলেছে প্রতি শতকে 100বছর পর পর ফিরে এসেছে মহামারী l মানব সভ্যতা আর বিজ্ঞান নিরুপায় হয়ে,বসে বসে দেখেছে মৃত্যু ! আমরা যে কতটা তুচ্ছ,প্রতিদিন সে প্রমান জোরালো থেকে জোরালোতর হচ্ছে……. সালটা ছিলো 1720, (প্লেগ) বুবোনিক প্লেগ […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: