জলবাহিত রােগ ও তার প্রতিকার

poribes news 2
0
(0)

ডায়ারিয়া (Diarrhoea)

গ্যাসট্রো-এন্টারিটিস (Gastroenteretis)

কারণ      সাধারণতঃ জীবাণুমুক্ত জল ও খাবারের সঙ্গে এই রােগ ছড়ায়। মাছি এই রােগ
ছড়াবার ক্ষেত্রে উল্লেখযােগ্য ভূমিকা পালন করে।

ভাইরাস :    রােটাভাইরাস, এন্টারাে ভাইরাস, অ্যাডিনাে ভাইরাস।

ব্যাকটিরিয়া :     ভিব্রিও কলেরা, ই, কোলাই, সালমােনেলা, সিগেলা।

প্রােটোজোয়া :এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা, জিয়ারডিয়া (Giardia lamblia)। Pin on Health

5 বছরের কম শিশুরা বিশেষ করে (6 মাস থেকে 2 বছর) বেশী আক্রান্ত হয়।

লক্ষণ :     3 বা ততােধিক বার পাতলা পায়খানা, ডিহাইড্রেশন হতে পারে। পায়খানার
পরিমানের উপর নির্ভর করে। বমি হতে পারে।

চিকিৎসা :    O.R.S। এটা এক যুগান্তকারী আবিষ্কার। ডিহাইড্রেশন না থাকলে এক গ্লাস জলে 2 চামচ চিনি এবং এক চিমটি নুন মিশাবে। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। ডিহাইড্রেশন বেশী হলে হাসপাতালে ভর্তি করে স্যালাইন দিতে হবে। ব্যাকটিরিয়ার দ্বারা আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবায়ােটিক Ciprofloxacin, Amoxycillin, Tetracycline) দরকার।

প্রতিকার :  পরিশ্রুত জল পান করতে হবে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। | ঢেকে রাখতে হবে। বাজারের আঢাকা বা কাটা ফল খাওয়া উচিত। মাছির উৎপাতও বন্ধ করা প্রয়ােজন। যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করা উচিত নয়। ল্যাট্রিন ব্যবহার করা উচিত। শিশুদের মল মূত্র যথাস্থানে ফেলা দরকার। কাচা সবজি খাওয়া অনুচিত। কাঁচা সবজিতে Acetic Acid বা Vinigar (Full Strength) দিলে (Amoeba) নষ্ট হয়। মলত্যাগ করার পরে এবং খাবার আগে সব সময় সাবান দিয়ে হাত ধােয়া বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। যারা খাবার তৈরী করেন, তাদের 15 দিন অন্তর পায়খানা পরীক্ষা করে প্রয়ােজন বােধে ওষুধ ব্যবহার করা উচিত। তাদের নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধােয়া উচিত

   ডিসান্ট্রি (Dysentery)

কারণ :     Shigella – ব্যাকটিরিয়া দ্বারা ডিসান্ট্রি হয়ে থাকে। Shigella flexaeri,nS. sonnei, S. bodii. S.dysentery এই চার প্রকারের মধ্যে শেষেরটি সবচেয়ে বেশী মারাত্মক।আমাশয় বা ডিসেন্ট্রি ( Dysentery ) H.Kamaly ...

লক্ষণ :     পেটে কামড় দিয়ে বার বার অল্প অল্প করে পায়খানা হওয়া এই রােগেরলক্ষণ।                           পায়খানায়    শ্লেষ্মা ও রক্ত মিশ্রিত থাকতে পারে। সঙ্গে রােগীর জুর হতে পারে।

চিকিৎসা :    এন্টিবায়ােটিক ব্যবহার, Dehydration থাকলে ORS ৰা স্যালাইন দিয়ে তার চিকিৎসা  করা                       উচিত।

প্রতিকার :       পরিশ্রত জল পান, খাবার-দাবার পরিষ্কার রাখা। মাছি যাতে খাবারে না বসে
সেই দিকে লক্ষ্য রাখা।

     আমাশয় (Amoebiasis)

কারণ :       জল ও খাবারের সঙ্গে এই রােগ ছড়িয়ে থাকে। প্রােটোজোয়া : এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা          (Entanuoeba histolytica) জীবাণু এই রােগের কারণ। এই জীবাণুর ‘Cyst’
জল ও খাবারের মধ্যে দিয়ে মানুষের অন্ত্রে প্রবেশ করে।

আমাশয় রোগীর চিকিৎসায় হোমিও সমাধান

লক্ষণ :     পেটে ব্যাথা, বারবার মলত্যাগ, সঙ্গে Mucus বা শ্লেষ্ম থাকতে পারে, একে Amoebic Dysentery ও বলা যায়। পায়খানা পরীক্ষার দ্বারা রােগ বােঝা যায়।

চিকিৎসা :      ওষুধ হিসেবে মেট্রোনিডাজোল / টিনিডাজোল খেতে হবে।

প্রতিকার :     Sanitary Latrine ব্যবহার করা। যত্রতত্র পায়খানা না করা। পরিশ্রুত জল পান করা। জলে যে পরিমাণ ক্লোরিন ব্যবহার করা হয়, তাতে Amoeba ধ্বংস হয় না। এর জন্য জল ফুটিয়ে খেতে হবে।

   কলেরা (Cholera)

কারণ :কলেরা Acute Diarrhoeal Disease (classical or ELTOR) নিয়ে প্রকাশিত হয়। Vibrio cholerae- 01 জীবাণুকেই এই রােগের জন্য দায়ী করা হয়। ELTOR  BIO-TYPE জীবাণুই বেশী দায়ী।

কলেরা নিরাময়ে বাংলাদেশি গবেষকের ...

লক্ষণ :     লক্ষণহীন থেকে শুরু করে সাংঘাতিক অসুখ হিসেবে দেখা দিতে পারে। পরে চাল ধােয়া জলের মতাে পায়খানা, সঙ্গে বমি হতে পারে। রােগী Dehydrated হয়ে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মাংস পেশীতে যন্ত্রণা হতে পারে। পেশীর সংঙ্কোচন হতে পারে। পেটেব্যাথা হবে না।

চিকিৎসা :  O.R.S (ORAL RE- HYDRATION SALT) দিতে হবে। অসুখ তীব্র হলে
Intravenus Saline দেওয়া জরুরী হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে রােগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া
উচিত। এন্টিবায়ােটিক ব্যবহার করা হয় যেমন Doxycycline, Tetracycline.
Trimethoprim, Sulfamethoxazole, Furazolidone, Chloramphenicol
Erythromycin ক্ষেত্র বিশেষে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে
হবে যে, দ্রুত Fluid এবং Electrolyte পরিপূরণ করতে হবে। নচেৎ পেশীর Dehydration
এর জন্য আরও জটিলতার সৃষ্টি হবে। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে Furazolidone ব্যবহার
করা উচিত।

প্রতিকার :     4 থেকে 6 সপ্তাহের ব্যবধানে দুইমাত্রা কলেরা ভ্যাকসিন নেওয়া যেতে পারে।
বিশেষ করে ‘Community’তে কলেরা দেখা দিলে এই ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরী। পরিশ্রুত
জলপান ও জীবাণুমুক্ত খাবারই এই রােগের প্রতিরােধের একমাত্র উপায়। এরজন্য সাধারণ স্বাস্থ্য বিধি পালন এবং রােগীর বর্জ্য পদার্থ যথাযথভাবে ত্যাগ করা উচিত।

এন্টারিক ফিভার (Enteric Fever)

টাইফয়েড ও প্যারাটাইফয়েড রােগকে এন্টারিক ফিভার বলা হয়।
কারণ :      Salmonella typii ও S. paratyphi A এবং B ব্যাকটিরিয়া দ্বারা এই রােগ
ছড়ায়। জীবাণুযুক্ত খাবার ও মাছি এই রােগের বাহক। পায়খানা ও প্রস্রাবের সঙ্গে এই রােগছড়ায়।

জেনে রাখুনঃ জ্বর যখন টাইফয়েড ...

লক্ষণ :    জ্বর শুরু হবার কিছুদিন আগে এবং জ্বর সেরে যাবার পরেও মলমূত্রের সঙ্গে এই
রােগের জীবাণু ছড়াতে পারে। লাগাতার 3-4 সপ্তাহ জুর এই রােগের প্রাথমিক লক্ষণ। মাথা
ব্যাথা ও হাতে-পায়ে ব্যাথা থাকে। দিন সাতেক পরে শরীরের বিভিন্ন অংশে Rash দেখা যায়। একে ‘Roir’s spot’ বলে। রােগীর প্লীহা বড় হয়ে যায়।

চিকিৎসা :         রক্ত ও পায়খানার মল পরীক্ষার দ্বারা এই রােগ ধরা যায়। টাইফয়েড জ্বরের
দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রথম দিকে Widal Test Positive হয়। Anti-microbial Drug যথাOfloxacin cefpodonime

প্রতিকার :            যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রােগীর চিকিৎসা করা দরকার। হাসপাতালে রােগীকে
ভর্তি করে আলাদা ভাবে রাখা উচিত। রােগীর মল মূত্র বন্ধ পাত্রে রেখে 5 শতাংশ           Cresol 2 ঘণ্টা মিশিয়ে জীবাণুমুক্ত করা যায়। রােগীর জামা কাপড় 2% ক্লোরিন দিয়ে স্টীম
স্টেরিলাইজ করা উচিত। 3-4 মাস পরে রােগীর মলমূত্র 1 বছর পরে আরেকবার পরীক্ষা করে দেখতে হবে বাহক অবস্থায় রয়েছে কিনা। বাহক হলে Amplicillin ciprofloxacin প্রয়ােগ করতে হবে। মলমূত্র ত্যাগ করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত ধােওয়া উচিত। Vulnerable group লােকদের টাইফয়েডভ্যাকসিন দেওয়া উচিত।

জিয়ারডিয়াসিস (Giardiasis)

কীরণ :           Gtardia larmublia নামক প্রােটোজোয়া সংক্রমণের দ্বারা এই রােগ দেখা দেয়।
রােগীর মল পরীক্ষা করার পর সঠিকভাবে রােগটি নিরূপণ করা যায়।

লক্ষণ :           পেটে ব্যাথা, ডায়রিয়া, বমি, মাথা ঘােরা, বদ হজম, ক্ষিদে কমে যাওয়া।
চিকিৎসা :এই রােগের ক্ষেত্রে Metronidazole বা Tinidazole ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রতিকার :     পরিশ্রুত ও জীবাণুমুক্ত পানীয় জল।

কৃমি সংক্রমণ (Worm Infestation)

বিভিন্ন রকম কৃমি সংক্রমণ (Helminth), যেমন Hook worm, round worm
(Ascariasis), প্রভৃতি দ্বারা এই রােগ হয়।

শিশুর পেটে কৃমি? জেনে নিন প্রতিকারের ...

লক্ষণ :        পেটে ব্যাথা, বদ হজম, রক্তাল্পতা।

চিকিৎসা :     Anti-helminthtic জাতীয় ওষুধ যেমন Albendazole, Mebendazole
ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া Piperzine জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

প্রতিকার :     পরিশ্রুত পানীয় জলের সংস্থান করা। জল ফুটিয়ে অথবা কাপড়ের মধ্যে দিয়ে
জল ছেকে নেওয়া উচিত। সংক্রামিত লােকদের পুকুর বা জলাশয়ে নামা উচিত নয়।

গিনি ওয়ার্ম (Dracunculiasis)

কারণ :          এই রােগটি প্যারাসাইট Dracuancustus /nedinera.sis দ্বারা সংক্রামিত হয়। এই
রােগ পায়ে হয়ে থাকে। জলের সংস্পর্শে স্ত্রী জীবাণু গুলির অসংখ্য লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে এবং
15 দিনের মধ্যে পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়। মানুষ এই সংক্রামিত জল পান করলে খাদ্যনালীর ও
রক্তের মধ্য দিয়ে শরীরের নানাস্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং অবশেষে চামড়ার নীচে বাসা বাঁধে।
লক্ষণ :            পায়ে ক্ষত এবং ফুস্কুরি তৈরী হয়। অনেক সময় ফুস্কুরি দিয়ে জীবাণুটি জলের
সংস্পর্শে বেরিয়ে আসে।
চিকিৎসা :         Niridazole, Mebendazole এবং Albendazole প্রভৃতি ওষুধ।

প্রতিকার :          পরিশ্রুত পানীয় জলের সংস্থান করা। জল ফুটিয়ে অথবা কাপড়ের মধ্যে দিয়ে
ছেকে নেওয়া উচিত। সংক্রামিত লােকদের পুকুরে নামা উচিত নয়।

(জনডিস) ভাইরাল হেপাটাইটিস – A, B, C, D, E

কারণ :            Hepatitis ‘A’, Hepatitis B, Hepatitis C এবং Hepatitis D এবং Hepatitis E

লক্ষণ :           শরীরে জীবাণু ঢােকার কিছুদিন পর লক্ষণ দেখা দেয়।
চোখ হলুদ হবার আগে খাবারে অরুচি, ক্ষিদে না পাওয়া, কোনাে কারণ ছাড়াই বমি বমি
ভাব বা বমি হতে থাকা, জিহায় স্বাদ নষ্ট হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, কোনাে কাজকর্মে উৎসাহ না লাগা। – সবমিলিয়ে অবসাদ, পেশীতে ব্যাথা, দৃষ্টি ঝাপসা, কখনও কখনও জ্বর থাকে। রােগীর প্রস্রাব হলুদ হয়।

চোখ হলুদ হবার পর :         বিলিরুবিন চামড়ার কোযে এসে জমলে গা, হাত পা হলুদ
দেখায়। মুখের ভিতরের জিহ্বায় মিউকাস মেমব্রেন এর উপর বিলিরুবিন জমতে থাকে। ফলে জিহবা হলুদ হয়ে যায়। পায়খানা সাদা, কাদা কাদা ভাব। যকৃৎ বড় হয়ে যায়। ফলে
পেটের নিচের দিকে ব্যাথা হয়। প্লীহাও বড় হয়ে যায়।

জন্ডিস নিয়ে কিছু প্রশ্নোত্তর – Niramoy24

রােগীর পায়খানা :      এর সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে এই রােগের ভাইরাস বেরিয়ে আসে। ফলে
মাছি দ্বারা বাহিত হয়ে এই রােগ ছড়াতে পারে। রােগীর পায়খানা পানীয় জলের সঙ্গে মিশে গেলে জল দুষিত হতে পারে এবং লােকে ঐ জল খেলে এই রােগ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।
যেকোনাে বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে এই রােগ হতে পারে। তবে শিশু ও যুবকরা এই রােগে
বেশী আক্রান্ত হয়। Hepatitis A এবং Hepatitis E জলের সঙ্গে ছড়ায়, Faecal oral route এদের মানবদেহে ঢােকার রাস্তা। এছাড়া Hepatitis B, Hepatitis C এবং Hepatitis D রক্তের সঙ্গে মানবদেহে ঢুকে থাকে, যেমন Blood transfusion । এছাড়া Saliva ও শরীরের অন্যান্য রসের সঙ্গে এই অসুখ ছড়াতে পারে। Hepatitis D এককভাবে শরীরের ক্ষতি করতে পারে না। Hepatitis B থাকলে তার সঙ্গে সহযােগী হয়ে Hepatitis D মানবদেহে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

প্রতিরােধের উপায় :

১) জল দূষণমুক্ত করার জন্য যে ক্লোরিনেশন পদ্ধতি চালু রয়েছে। তাতে হেপাটাইটিসের ভাইরাস নষ্ট হয় না। একমাত্র জল 100° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কিছুক্ষণ ফোটালেই এই ভাইরাস সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়। তাতে সাবান দিলে ভাইরাসটি পরিষ্কার হয়ে ধুয়ে যায়, তবে সাবানে তা বিনষ্ট হয় না।

২) খাবার আগে হাত, থালাবাটি ভালা করে ধুয়ে নিতে হবে, খাবার ঢেকে রাখতে হবেএবং যাতে খাবারে মাছি, পােকা-মাকড় বসতে না পারে। জল ফুটিয়ে খেতে হবে, রাস্তার ও বাইরের খাবার ও জল এড়িয়ে চলতে হবে। পায়খানার পর ভালােভাবে হাত পরিষ্কার করা উচিত।

৩) হেপাটাইটিস এ ভ্যাকসিন বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু অনেক খরচ সাপেক্ষ।এছাড়া এটি দিলে পুরােপুরি সংক্রমণ ঠেকানাে সম্ভব নাও হতে পারে।

হেপাটাইটিস ই রােগ :

হেপাটাইটিস এ এর মতাে জলবাহিত এবং এই রােগর সংক্রমণ ও চিকিৎসা সবই হেপাটাইটিস এ রােগের মতােই। প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ হল হেপাটাইটিস ই’। গর্ভধারণের পরিণত অবস্থায় এই আক্রমণ ঘাতক হিসেবে দেখা দেয়। তাই গর্ভাবস্থায় জল ফুটিয়ে অর্থাৎ পরিশুদ্ধ জল পান করা অত্যন্ত জরুরী)

প্রতিরােধের উপায় :      হেপাটাইটিস B, C এবং D রুখতে গেলে Blood transfusion
এর সময় সবিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অর্থাৎ রােগীকে যে Blood দেওয়া
হবে, তা যেন সবসময় উক্ত রক্ত ভাইরাস মুক্ত হয়। Hepatitis B vaccine পাওয়া যায়।

পােলিওমাইলেটিস (Polio mylitis)

কারণ : পােলিও ভাইরাস। ইহা DNA ভাইরাস। এটা তিন ধরনের টাইপ-1,2,3। জল, দুধ, হাত ও মাছির সঙ্গে ছড়ায়। কফ, কাশি এবং পিকের সঙ্গেও ছড়াতে পারে।
লক্ষণ :       লক্ষণহীনও হতে পারে, ঘাড়ের মাংসপেশী শক্ত হয়ে থাকা এবং ব্যথা হওয়া,হাত পায়ে অবশ হওয়া সঙ্গে গা ম্যাজম্যাজ, বমি, মাথা ধরা, জ্বর, গলা ব্যথা, কোষ্ঠবদ্ধতা ও পেটের ব্যথা থাকতে পারে। হাত পায়ের মাংস শুকিয়ে যেতে পারে।

চিকিৎসা :    ফিজিও থেরাপি।
প্রতিকার :      প্রতিষেধক টীকা। ইহা ছাড়া বিশুদ্ধ পানীয় জল ও সাধারণ স্বাস্থ্য বিধি পালন করতে হবে।

রাসায়নিক পদার্থজনিত রােগ

১। ক্রোমিয়াম : চর্মরােগ, ক্যানসার। সর্বোচ্চ সহনশীল মাত্রা – 0.05 মি.গ্রা/প্রতি লিঃ।
এর কম মাত্রায় থাকলে স্বাস্থ্যহানি ঘটায় না।

২। আর্সেনিকঃ চর্মরােগ, রক্তশূন্যতা, অঙ্গহানি ও ক্যানসার প্রভৃতি।পরিবেশ দূষণ)

৩। লােহা :        কোষ্ঠবদ্ধতা, অম্বল।

৪। অভ্র (মাইকা) : পাতলা পায়খানা।

৫। ফ্লোরাইড :     হাড় ও দাঁতের রােগ ফ্লুরােসিস্।
৬। নাইট্রেট :    রক্তের রােগ – মিথহিমােগ্লোবিনিমিয়া যাতে হিমােগ্লোবিনের কাজের
ব্যাঘাত ঘটায়। তিনমাসের কমবয়সী শিশুরা যারা বােতলের খাবার খায়, তারাই এই রােগে
আক্রান্ত হয়।
৭। ক্লোরিনেশন :       জলে বেশী মাত্রায় ক্লোরিন থাকলে জলের স্বাদ ও রং পরিবর্তিত হ়ে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে জলে ক্লারিন প্রয়ােগ করলে কিছু হ্যালােজেনেট যৌগ পদার্থ তৈরী হয়। ইহা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। কিছু কিছু হ্যালােজেনেট যৌগ পদার্থকে ক্যান্সারের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আবার কিছু কিছু হ্যালােজেনেট যৌগপদার্থকে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের কারণ হিসাবে সন্দেহ করা হয়।

 

জয়দেব দে

বিজ্ঞান কর্মী

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

2 thoughts on “জলবাহিত রােগ ও তার প্রতিকার

Leave a Reply

Next Post

এ কেমন সার্চ ইঞ্জিন! এখানে সার্চ করলেই সমুদ্র থেকে প্লাস্টিক মুক্তি

0 (0) সার্চ ইঞ্জিন বললেই মনে পরে গুগলের কথা,কিন্তু অন্য এক সার্চ ইঞ্জিনের কথা আজ  আমরা জানবো।কোনোকিছু জানার দরকার হলেই আমরা ইন্টারনেটে সার্চ করি। সাধারণত , সার্চ ইঞ্জিনের এছাড়া অন্য কোনো ভূমিকা নেই । কিন্তু যদি এমন হয়, আপনি ইন্টারনেটে কিছু সার্চ করলেন, সেখান থেকেই কিছুটা অর্থসাহায্য পেলেন পরিবেশকর্মীরা এবং […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: