পরমাণু শক্তির গ্রহণযাগ্যতা ও পরমাণু অস্ত্রের আকর্ষণ

5
(1)

ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়াম মৌলের ভারী পরমাণুর বিভাজন ঘটালে অনেক শক্তি পাওয় যায়। এই বিভাজন পদ্ধতির একটা দ্রুত ক্রমবৃদ্ধির ধর্ম আছে। একটা ইউরেনিয়াম পরমাণু নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে তা ভেঙে যায় শক্তি বেরিয়ে আসে, আর আসে দু থেকে তিনটে নিউট্রন। দুটোই যদি ধরি তাহলে এই নতুন দুটো নিউট্রন দুটো ইউরেনিয়াম পরমাণু ভাঙবে এবং এই দ্বিতীয় ধাপের বিভাজন থেকে চারটে নিউট্রন পাওয়া যাবে। চারটে ইউরেনিয়াম পরমাণু ভাঙলে এবার বেরােবে আটটা নিউট্রন এবং ধাপে ধাপে আটটা থেকে ষােলটা, ষােল থেকে বত্রিশটা… এভাবে বিভাজন দ্রুত বাড়বে।

পাকিস্তানকে আরো পরমাণু চুল্লি ...

শৃঙ্খল বিক্রিয়া অনিয়ন্ত্রিত হলে মুহূর্তে বিপুল পরিমাণ শক্তির জন্ম দেবে এবং অতি কার্যকরী একটি বিস্ফোারক বা বোমা তৈরী হবে। অপরপক্ষে একটি পরমাণুর বিভাজন থেকে যে দুটি নিউট্রন পাওয়া গেল তার একটাকে নিষ্রিয় করে দিলে দ্বিতীয়টা থেকেএকটি পরমাণুর বিভাজনই হতে পারবে। সুতরাংবিভাজন হার বাড়বেনা। প্রযুক্তিগত এমন পদ্ধতি অনুসরণ করে এনরিকো ফার্মি ১৯৪২ সালের ২রা ডিসেম্বর শিকাগাে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নিয়ন্ত্রিত চুল্লীর পরীক্ষা প্রদর্শন করেন। চুল্লীতে শক্তি উৎপাদন নিয়ন্ত্রিত হলে তা ব্যবহারের উপযোগী হবে এবং চুল্লীর তাপশক্তিকে যে কোন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথাগত পদ্ধতিতে বাষ্প তৈরি করে তা দিয়ে টারবাইন-জেনারেটর ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি পাওয়া যায় এক কিলােগ্রাম ইউরেনিয়াম তিন হাজার কিলােগ্রাম বা তিন টন কয়লার সমান শক্তি দিতে পারে এটা মনে হওয়া খুবই স্বাভাবিক যে এই বিদ্যুৎ যথেষ্ট সুলভ হবে। বিভাজন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে ইচ্ছামাফিক শক্তি উৎপাদন করার প্রযুক্তির জটিলতা অতিশয় গভীর হওয়া সত্ত্বেও যখন বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদরা তাকে আয়ত্বে এনেছেন তা দিয়ে ইতিপুর্বে যা হয়নি এমন সব কাজও স্বচ্ছন্দে করিয়ে নেওয়া যাবে আশা করা যায়।

বস্তুত পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রথম দিকে অর্থাৎ পঞ্চাশের দশকে প্রবল উৎসাহ দেখা গিয়েছিল সারা পৃথিবী জুড়ে পরমাণুর শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিয়ে। পরমাণু অস্ত্র হিরোশিমা-নাগাসাকিতে যে নারকীয় তান্ডব
লক্ষ প্রাণ হরণ করেছিল তার বিপরীতে একই প্রযুক্তি অতি সুলভে অফুরস্তশক্তি যুগিয়ে মানবজাতির
অশেষ কল্যাণ করবে এই সম্ভাবনাটারও একটা বিশেষ আবেদন ছিল। একই পরমাণুশান্তি ও ধ্বংস দুইই আনতে সক্ষম। শুধুমাত্র প্রয়ােগ নিয়ন্ত্রণের ভিতর দিয়েই তার বাঞ্ছিত রূপঅস্ত্র বা শক্তি -দেওয়া যায়।        এক থেকে অন্যতে যাওয়াও কঠিন নয়।

Page 1 Registration No.:S/IL/97407 of 2012-13 | সম্পাদকীয় শক্তি ও ...

 

সমস্যাটা এখানেই। শান্তির পরমাণু সামরিক পরমাণু থেকে উপজাত। প্রথম পর্যায়ে দুটোর মধ্যে তেমন ফারাক করা হয়নি। ইংল্যান্ডের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয় ১৯৫৬ সালে। ক্যালভার হলের এই চুল্লী থেকে যে প্লুটোনিয়াম পাওয়া যাবে প্রয়োজনে প্রতিরক্ষায় তা ব্যবহার করা হবে এমন সরকারী নির্দেশ ছিল। ঐ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে শক্তি এবং প্লুটোনিয়াম দুই-ই উৎপন্ন হবে এমনভাবেই কেন্দ্রটি তৈরী হয়েছিল-শক্তি ব্যবহৃত হবে জনসাধারণের জীবনযাত্রাকে স্বাচ্ছন্দ দিতে, পুটোনিয়াম ব্যবহৃত হবে পরমাণু অস্ত্র তৈরীতে।

পরমাণু বিদ্যুৎ চুল্লীর জ্বালানীর আয়ু বৎসর তিনেক। বােমার উপযুক্ত প্লুটোনিয়াম পেতে গেলে জ্বালানী ততদিন রাখা চলে না। অনেক আগেই তা বের করে নিতে হয়। এতে যে জ্বালানী খরচ বাড়ে, প্লুটোনিয়ামের জন্য ভর্তুকী দিয়ে সরকার তা পুষিয়ে দেন। ইংল্যান্ডে এই ব্যবস্থাই চালু ছিল। যে দেশে পরমাণু শিল্প রাষ্ট্রায়ত্ব সেখানে যে কোন বন্দোবস্তই ভিতরে ভিতরে করা যেতে পারে।পাকিস্তানকে আরো পরমাণু চুল্লি ...

অস্ত্রের জন্যই শান্তির পরমাণু বিভিন্ন দেশে লালিত হয়েছে। অসামরিক পরমাণু মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয় সুতরাং সর্বত্র এর প্রসার হবার পথে কোন বাধা থাকতেই পারে না। প্রযুক্তি প্রকরণ যেভাবে এক শাস্তির পরমাণুকে সামান্য মােড় ঘুরিয়ে অক্ত্রের রূপ দেয় তা ধরা প্রায় অসাধ্য। ভারতে প্রথম পােখরান বিস্ফোরণের পলুটোনিয়াম এসেছিল কানাডার উপহার দেওয়া ‘সাইরাস নামের এক পরীক্ষা চুল্লী থেকে।

প্রথমত সাধারণ পরমাণু চুল্লী যার জ্বালানী ইউরেনিয়াম। অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে এই মৌলটি পুটোনিয়াম থেকে নিকৃষ্ট কিন্তু প্রযুক্তির উন্নয়ন ধীরে ধীরে ঘটবেই এবং চেষ্টা থাকলেই অনতিকালের মধ্যে প্লুটোনিয়াম জ্বালানী প্রজনী বা ব্রীডার জাতীয় চুল্লীতে পৌঁছান যাবে। ভারতে কলাপক্কমে এই জাতীয় চুল্লী পরমাণু শক্তি বিভাগ বসিয়েছে। এটি ফরাসী ‘র‍্যাপসডি চুল্লীর নকসা অনুসরণে তৈরী।

উদ্দেশ্য প্রকাশ্যে পরমাণুশক্তি উৎপাদনে থােরিয়াম মৌল জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করার পদ্ধতি পরীক্ষা।আমাদের দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কেরালার তটভূমিতে প্রচুর থােরিয়াম রয়েছে সুতরাং এই পরীক্ষায় আপত্তি করবার কারণ থাকতে পারে না। ধাপে ধাপে অসামরিক পরমাণুর উন্নয়ন সামরিক প্রয়ােজনকে স্মরণে রেখে করলেও কোন অসুবিধা নেই। আন্তর্জাতিক সংস্থার অস্ত্র প্রসার বন্ধের যাবতীয় বাধা নিষেধ মেনে নিয়েই এই উন্নয়ন।

আপত্তি তখনই করা যাবে যখন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকবে অসামরিক চুল্লী থেকে প্লুটোনিয়াম সরিয়ে অস্ত্র তৈরীর আয়ােজন হচ্ছে। এই অভিযােগে পৌছান না অবধি পরমাণু অন্ত্র প্রযুক্তির অনেকটাই অসামরিক পরমাণু দিয়ে করানাে যাবে।

পরমাণু বিদ্যুৎ চুল্লীর জ্বালানী থেকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে প্লুটোনিয়াম পৃথক করা হয়। পদ্ধতিটি
রাসায়নিক বলেই চুলচেরা মাপ বজায় রাখা সম্ভব নয়, সামান্য হেরফের হয়ই এবং তা স্বীকৃত। শতকরা এক দু’ভাগ ভ্রান্তি স্বীকার করলেই জ্বালানী পুনঃপ্রকরণ কেন্দ্র থেকে কোথাও কোন সন্দেহের উদ্রেক না করেই প্লুটোনিয়াম সরানাে যায়। এছাড়া একটু ভিন্নপথ ধরলে ধরা পড়ার সম্ভাবনাও কম। সব মিলিয়ে অসামরিক পরমাণু প্রযুক্তি ভরসা করে সামরিক পরমাণুর যাবতীয় প্রয়ােজন মেটানাে যায়।

এই গূঢ় সম্পর্কটাই পরমাণুশক্তি উৎপাদনের বিরাট সাফল্যের কারণ। হিটলারের মত চূড়ান্ত বিপদ থেকে পশ্চিমী সভ্যতাকে রক্ষা করার প্রবল তাড়না থেকেই বহু অর্থব্যয়ে পরমাণু অস্ত্রের উদ্ভাবনা ও নির্মাণ। শাস্তির যুগে শুধুমাত্র শক্তি উৎপাদনের জন্য এই জটিল প্রযুক্তির বিকাশ কেউই করতেন না। সামরিক শিল্প যৌথতন্ত্র তার সমস্ত সামর্থ্য দিয়েই অস্ত্র বা পরমাণু প্রযুক্তিকে ফলবতী করেছিল সেই কাজে ব্যয় হয়েছিল দু’শাে কোটি ডলার। এই ব্যয় দ্বিতীয় কোন প্রযুক্তি উন্নয়নেকোন শিল্পই বহন করতে পারত না।

পরমাণু শক্তির অস্তিত্ব তাই পূর্বাপর পরমাণু অস্ত্রকে আশ্রয় করেই। এককভাবে বিপজ্জনক, ব্যয়সাধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদীভাবে ক্ষতিকর পরমাণু শক্তির কোন গ্রহণযােগ্যতা নেইঅস্ত্র সম্বন্ধের কারণেই এর প্রচলন ও ব্যবহার। অস্ত্র সম্পর্ক আগ্রহহীন কোন দেশ এর বিকাশে কোন উদ্যোগ নেয় নি। আমেরিকার প্রধান কয়েকটি বিদ্যুৎ ও যন্ত্রশিল্প প্রচুর মুনাফার আশায় এই জটিল প্রযুক্তিতে বিশাল অর্থ বিনিয়ােগ করেছিল সে মুনাফা তারা করতে পারে নি।

কোন কোন দেশ যেমন- জাপান শক্তির প্রয়ােজনে এই মার্কিন চুল্লী কিনে বসিয়েছে।
কয়েকটি জাপানী বৃহৎ শিল্পও এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছে ঠিকই কিন্তু ইতিমধ্যে জাপান দেড় টন
পুটোনিয়াম ফরাসী দেশ থেকে সংগ্রহ করেছে চুল্লীর পােড়া জ্বালানীর বিনিময়ে বা জ্বালানী শোধন
করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিষিদ্ধ।

ভবিষ্যতে অস্ত্রধর হবার প্রাথমিক প্রস্তুতির কারণেই বিদ্যুৎ চুল্লীর স্থাপন যে হয়নি এ কথা নিশ্চয় করে বলা চলে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরমাণুশক্তির আকর্ষণ কোন বিদ্যুৎ সরবরাহী শিল্পেরই নেই। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জাপান, ভারত, পাকিস্তান সর্বত্র সরকারী উদার পৃষ্ঠপােষকতার সুবাদেই পরমাণু শক্তির প্রচলন।

অতি সুলভে উৎপাদন বা অতিরিক্ত মুনাফার প্রলোভনেই এই শিল্পে একসময় বিনিয়ােগের ঢল নেমেছিল।
বাস্তব অবস্থায় নিরাপত্তা বিধির সামাল দিতে দিতেই মূল্যবৃদ্ধির কবলে পড়ে স্রোত শুকিয়ে গেল।
আমেরিকায় ১৯৭৮ সালের পর থেকে আজ অবধি কোন নতুন চুল্লীর অর্ডার হয়নি। অন্যত্র প্রবল
ভাঁটার টান।ফরাসী দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন চাহিদা ছাড়িয়ে গেছে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ রফতানীর প্রস্তাবে
ফরাসীরা অখুশী কারণ রফতানীমূল্য থেকে বেশি দামেই তাদের বিদ্যুৎ কিনতে হয়।

ডেনমার্কে একটিও পরমাণু বিদ্যুৎ চুল্লী নেই কিন্তু এখানে বিদ্যুতের দাম ফরাসী দেশ থেকে অনেক কম।
পরমাণু শক্তি ও পরমাণু অস্ত্রের ভিতরের সম্পর্ক অচ্ছেদ্য। অস্ত্রের প্রয়ােজন যেখানে আছে। সেখানেই শক্তি উৎপাদন গুরুত্ব পেয়েছে। অস্ত্র সম্পর্ক ব্যতিরেকে পরমাণু শক্তির অস্তিত্ব নিতান্তই বিপজ্জনক সুতরাং পরমাণু শক্তির বিরােধিতা পৃথকভাবে করবার কোনও প্রয়ােজনই দেখা যাচ্ছে না।

পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধ হলেই পরমাণু শক্তি কেন্দ্রগুলি একে একে বন্ধ হবে। সংশ্লিষ্ট শিল্প বেশ কিছুদিন ধরেই রুগ্ন – সুস্থ হবার কোন স্তাবনাই থাকবে না। পরমাণু প্রযুক্তি বর্তমান থেকে অতীতে যাত্রা করবে। সাঙ্গ হবে মানব সভ্যতার এক করুণ বিভ্রান্তিরও।

জানুয়ারী, ২০০৭ :পরমাণুশক্তির প্রসার সারা দুনিয়ায় প্রায় বন্ধ, কেবল চীন, ভারত ও পাকিস্তানেই
বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরমাণু চুল্লী বসানাের কাজ চলছে। ভারতের পরিকল্পনা সবচেয়ে বড়। সম্প্রতি
আমেরিকার সঙ্গে ভারতের পরমাণু চুক্তি হয়েছে। আমেরিকার অতি রুগ্ন পরমাণু শিল্পে নতুন
প্রাণসঞ্চার হবে ভারতের বিশাল বাজার দখল করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র প্রসার রােধের
শর্তগুলাের কিছু কিছু বলবৎ রয়েছে। ফলে আমেরিকা ভারতকে সামরিক সম্পর্কিত এবং সম্পর্কহীন
পরমাণু প্রকল্প গুলােকে পৃথক করে সম্পর্কহীন গুলােতে আন্তর্জাতিক তদারকী মানার শর্ত দিয়েছে।
এই ব্যবস্থায় অস্ত্র  প্রকল্পে বেশ বাধা পড়বে। ভারতের পরমাণু বিজ্ঞানীরা এতে খুবই ক্ষুন্ধ হয়ে
প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়েছেন।

 

সু জয় বসু

Department of Electrical Engineering and the School of Energy Studies
Jadavpur University
Kolkata, India
লেখাটি প্রকাশিত হয় বিজ্ঞান অন্বেষক এর- কেন পরমানু চুল্লী চাই না   পুস্তিকাতে.
প্রকাশকাল ২০০৭

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়

5 (1) “আমাদের দেশের শিক্ষা-বিশেষত বৈজ্ঞানিক শিক্ষা যে তাদৃশ ফলােপধায়ক হয় না তাহার প্রধান কারণ এই যে আমাদের অর্জিত বিদ্যা কেমন পুস্তকগত। শিক্ষক যে ভ্ৰান্ত প্রণালীতে স্বয়ং শিক্ষিত হইয়াছে, ছাত্রকেও সেই প্রণালীর অনুসরণ করিয়া শিক্ষাদান করেন কতগুলি শুল্ক, নীরব সূত্র (Dry Formulae) ছাত্রের গলাধঃকরণ করাইতে পারিলেই শ্রমের স্বার্থকতা জ্ঞান করেন। […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: