আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়

5
(4)

“আমাদের দেশের শিক্ষা-বিশেষত বৈজ্ঞানিক শিক্ষা যে তাদৃশ ফলােপধায়ক
হয় না তাহার প্রধান কারণ এই যে আমাদের অর্জিত বিদ্যা কেমন পুস্তকগত। শিক্ষক
যে ভ্ৰান্ত প্রণালীতে স্বয়ং শিক্ষিত হইয়াছে, ছাত্রকেও সেই প্রণালীর অনুসরণ করিয়া
শিক্ষাদান করেন কতগুলি শুল্ক, নীরব সূত্র (Dry Formulae) ছাত্রের গলাধঃকরণ করাইতে পারিলেই শ্রমের স্বার্থকতা জ্ঞান করেন। ছাত্র আবার যাহা কণ্ঠস্থ করিয়াছে তাহা পরীক্ষাকালে প্রশ্নোত্তরে উগরাইতে (Vomit) পারিলেই আমরা ধরিয়া লই যে সে বিদ্যা শিক্ষার যথেষ্ট পরিচয় দিল।..বিজ্ঞানের প্রকৃত
উদ্দেশ্য প্রকৃতির গৃঢ় রহস্য উদ্ভেদ। বৈজ্ঞানিক এই সমস্ত তত্ত্ব নিরুপণে বিমল আনন্দ
অনুভব করেন এবং অনেক সময়ে মাতােয়ারা হইয়া যান।

প্রফুল্লচন্দ্র রায় (প্রবাসী, আশ্বিন, ১৩১৬)

আজও আমাদের জাতীয় আদর্শ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়
(জন্ম ঃ ০২-০৮-১৮৬১, মৃত্যু ঃ ১৬-০৬-১৯৪৪)

শুরুর কথা

তাঁর জন্মের দেড়শাে বছর পরেও তিনি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। শিক্ষক হিসাবে তিনি আজও অতুলনীয়, পথপ্রদর্শক। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় তাঁর নিষ্ঠা আজও সম্ভ্রম জাগায়। দেশ গড়ার কাজে, রসায়নভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনায়, বাঙালির ব্যবসা উদ্যোগের প্রসারে, জাতির স্বনির্ভরতা অর্জনে তার জীবনব্যাপি প্রয়াস আজও দৃষ্টান্তম্বরূপ। বন্যাত্রাণ, খরা-দুর্ভিক্ষ সংকটে গরীব মানুষের পাশে দাঁড়ানাে, খাদি আন্দোলন ও কুটির শিল্পের মূল্যবান প্রসারে তাঁর ছিল অনলস প্রয়াস। লেখক প্রফুল্লচন্দ্র তাঁর জীবনের আর একটি অধ্যায়। ইংরাজি ও বাংলায় – তিনি এত বেশি করে লিখে গেছেন, তাঁকে জানতে
বুঝতে আমাদের কোনাে অসুবিধা হয় না।’ আধমরাদের ঘা মেরেতুই বাঁচা’জীবনব্যাপি’
এই প্রয়াসে তাঁর কখনো ছেদ ঘটেনি।

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় শৈশব ...

তাঁর হাতে বেঙ্গল কেমিক্যাল এ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস’-এর প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৯২ সালে, যখন তাঁর বয়স মাত্র ৩১ বছর। সবে মাত্র প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনায় যােগ দিয়েছেন। বেঙ্গল পটারি ওয়ার্কস, বেঙ্গল এনামেল ওয়ার্কস, বিবিধ রাসায়নিক শিল্প, ঔষধ প্রস্তুত, ওয়াটার প্রফ সামগ্রী, কালি শিল্প প্রভৃতি শিল্পোদ্যোগের তিনি ছিলেন প্রেরণা ও পরামর্শদাতা। স্বাধীনতার পর দেশ বিভাগ, উদ্বাস্তু সংকট, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, প্রবল খাদ্যাভাব ও অন্যান্য কারণে পশ্চিমবঙ্গ রসায়নভিত্তিক শিল্প উৎপাদনে পিছিয়ে পড়ে।

আজকের গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়, দিল্লি প্রভৃতি ভিন রাজ্য থেকেই ঔষধ রাসায়নিক সামগ্রী (অ্যাসিড) ও শিল্পদ্রব্যাদি আসে। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জীবন ও সাধনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানাের সময় এসেছে। প্রাচীন ভারতের রসায়ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির লুপ্ত ইতিহাস উদ্ধার করে তিনি জনসমক্ষে আনেন (দি হিস্টরি অফ হিন্দু কেমিষ্ট্রি, দুই খণ্ড, ১৯০২, ১৯০৯)। বিজ্ঞানের ইতিহাসচর্চায় তিনি একজন পথিকৃৎ। নিঃস্বার্থ সেবা ও দানের পরাকাণ্ঠায় তিনি আজও অনন্য।

   জন্ম, ছাত্রজীবন ও কর্মজীবন

প্রফুল্লচন্দ্র বর্তমান বাংলাদেশের যশােহর জেলার রাড়ুলি-কাটিপাড়া গ্রামে ২ আগস্ট ১৮৬১ জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হরিশচন্দ্র রায়চৌধুরী, মা ভুবনমোহিনী দেবী। প্রফুল্লচন্র চৌধুরী পদবী ব্যবহার করতেন না। চার ভাই ও দুই বােনের মধ্যে তিনি ছিলেন বাবা- মায়ের তৃতীয় সন্তান। ডাক নাম ফুলু ।

গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু। ১৮৭১ কলকাতা হেয়ার স্কুলে ভর্তি হন। এ সময় তিনি কঠিন আমাশয় ও অনিদ্রারােগে আক্রান্ত হন। অ্যালবার্ট স্কুল থেকে ১৮৭৮-৭৯ ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রতিষ্ঠিত মেট্রোপলিটন কলেজে ভর্তি হন। ১৮৮২ গিলক্রাইস্ট বৃত্তি পেয়ে রসায়নে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য এডিনবার্গ (স্কটল্যান্ড)বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

এ সময়েই তাঁর জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। প্রতিযােগিতায় ‘India Before and After the Mutiny’ প্রবন্ধলিখে তিনি প্রশংসিত হন। সেই সঙ্গে ব্রিটিশ শাসকের বিষ নজরে পতিত হন। এই কারণে পরবর্তীতে তাঁর এফ আর এস মনােনয়ন (ফেলাে অফ দি রয়্যাল সােসাইটি) বাতিল হয়। স্বাধীনতার সুপ্ত তেজোময় ভাবনা এই রচনায় ধরা পড়ে।

১৮৮৮ এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে ডিএসসি ডিগ্রি নিয়ে তিনি দেশে ফেরেন। এরও আগে ১৮৭৫ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অঘােরনাথ চট্টোপাধ্যায় রসায়নে ডিএসসি উপাধি পান।              তিনি এবং প্রফুল্লচন্দ্র দুজনেই সম্মানসূচক হােপ পুরস্কার পান। অঘােরনাথ পরবর্তী জীবনে বিজ্ঞান সাধনায় ব্রতী হননি।

১৮৮৮ দেশে ফিরে প্রায় এক বছর বেকার জীবন কাটাতে হয়। কিছুদিন জগদীশচন্দ্র বসুর বাড়িতে আতিথ্যগ্রহণ করেন। ১৮৮৯ জুলাই মাসে প্রেসিডেন্সি কলেজে সহকারী অধ্যাপক পদে রসায়ন বিভাগে যােগদান। অত্যন্ত গৌরবময় কর্মজীবন এখানে অতিবাহিত করেছেন ১৯১৬ অবধি। এর পর কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজে রসায়নে পালিত অধ্যাপক’ পদে যােগদান ও ১৯৩৬ অবধি একটানা কর্মরত থেকেছেন।পরে আমৃত্যু এমেরিটাস’ অধ্যাপক পদে বৃত থেকেছেন।

          গবেষণা ও ছাত্র-বিজ্ঞানী
   তৈরিতে অসামান্য সফল প্রয়াস

ভারতে শিক্ষা ও বিজ্ঞান গবেষণায় অগ্রণী ছিল বাংলা তথা কলকাতা। ১৭৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল। উদ্দেশ্য-প্রাচ্যবিদ্যাচর্চার দ্বার উন্মােচনসাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্পকলা, দর্শন, ইতিহাস, মানবসমাজ সব কিছু। এই প্রথম দেড় হাজার বছরের অন্ধকারের অভিশাপ মােচনের একটি উদারনৈতিক আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত প্রয়াসের যাত্রা শুরু।

প্রফুল্লচন্দ্র রায় : বিজ্ঞানী বেশে ...

 

কলকাতায় মাদ্রাসা কলেজের প্রতিষ্ঠা ও ১৮১৭ হিন্দু কলেজের প্রতিষ্ঠা, ১৮৩৫ মেডিক্যাল কলেজের প্রতিষ্ঠা, ১৮০২ জরিপ বিভাগের কার্যারম্ভ, ১৮৫১ ভারতীয় ভূতত্ত সমীক্ষার (জিওলজিক্যাল সার্ভে) প্রতিষ্ঠা, এদেশের উদ্ভিদ সম্পদ, প্রাণী সম্পদ সমীক্ষার নানা উদ্যোগের সূচনা এক নবজাগরণের প্রয়াসের প্রেক্ষাপট রচনা করে। ১৮৫৩ শিবপুর বি ই কলেজ, ১৭৮৭ হাওড়ার শিবপুরে বোটানিক্যাল গার্ডেনের স্থাপনা। ১৮২০ এগ্রিহটিকালচার সােসাইটির প্রতিষ্ঠা। এবং আরও অনেক কিছুর মধ্যে ১৮৫৩ সালে
ভারতীয় রেল যােগাযােগের সূচনা।

দ্বারকানাথ ঠাকুর প্রমুখ শিল্পোদ্যোগীদের দ্বারা আধুনিক শিল্পায়নের পথে যাত্রা শুরু। পাশাপাশি, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শিক্ষা প্রসার আন্দোলন ও সমাজ সংস্কারমূলক প্রয়াস। এই সব কিছুর নবজাগরণে যাঁর ছিল পুরাধা বলিষ্ঠ ভাবনা তিনি হলেন রাজা রামমােহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩)। ১৮৭৬ সালে ভারত বর্ষীয় বিজ্ঞান সভা (Indian Association for the Cultivation of Science) প্রতিষ্ঠিত হয়।

Acharya Prafulla Chandra Ray:

কলকাতায় রসায়ন বিদ্যার গবেষণার প্রাথমিক হাতেখড়ি যাঁদের হাতে তাঁদের মধ্যে ডা. কানাইলাল দে (১৮৩১-১৮৯৯), ডা. চুনীলাল বসু (১৮৬১-১৯৩০) অন্যতম। এঁরা দু’জনেই কলিকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাশ করে গবেষণায় হাত লাগান।

প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপক আলেকজান্ডার পেডলার ছিলেন বিজ্ঞানী প্রফুল্লচন্দ্রের শিক্ষক ও গবেষণায় অগ্রসূরী। প্রফুল্লচন্দ্র এসে রসায়ন গবেষণার দরজা খােলা মাত্র নয়; ভারতবর্ষকে বিশ্বের বিজ্ঞান মানচিত্রে সগর্বে উপস্থিত করলেন। ১৮৯৬তে মারকিউরাস নাইট্রোইটের আবিষ্কার তাঁকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেয়। পারদের সংস্পর্শে লঘু নাইট্রিক অ্যাসিড রাখলে অত্যন্ত ভঙ্গুর ও অস্থায়ী এই জটিল যৌগ তৈরি হয়। এই বিষয়ের উপর অল্প কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় ১৫টি গবেষণাপত্র তিনি প্রকাশ করেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ রসায়ন বিজ্ঞানের জার্নালে। সালফাইডস্ ও হাইপােনাইট্রাইট বিষয়ে তিনি বহু গবেষণা করেছেন। এজন্য তাকে বলা হােত ‘মাস্টার অফনাইট্রাইটস’ (Master of Nitrites)

তাঁর প্রথম গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয় ১৮৯৪ সালে। অবশ্য ডি এসসি থিসিস ১৮৮৮। শেষ গবেষণা পত্র ১৯৩৬ সালে যখন তাঁর বয়স ৭৫ বছর। কমবেশি ৪২ বছরের বৈজ্ঞানিক প্রয়াসে তাঁর ১৬২টি প্রায় গবেষণা পত্র (একক ও যৌথ ভাবে) প্রকাশিত হয়েছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রসায়ন বিজ্ঞানের জার্নালে।

(১) বিলেতের নেচারপত্রিকায় ৮টি,     (২) লন্ডনের জার্নাল অফ কমিক্যাল সােসাইটি পত্রিকায় ৬৭টি,   (৩)লন্ডনের প্রসিডিংস অফ কেমিক্যাল সােসাইটি ২০টি,    (৪) জার্মানি থেকে ১২টি,                     (৫)এসিয়াটিক সােসাইটি থেকে ১৩টি,     (৬) কলকাতার জার্নাল অফ দিইনডিয়ান কেমিক্যাল
সােসাইটি থেকে ৩৭টি        (৭) আমেরিকান কেমিক্যাল সােসাইটি – ৪টি।

এই সুদীর্ঘ গবেষণা প্রয়াসে ৩৮জন ছাত্রের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ৮৬টি। একজন বিজ্ঞানীর গবেষণা প্রয়াসে এত বেশি সংখ্যক ছাত্রের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ একটি বিরল নিদর্শন হিসাবে আজও চিহ্নিত আছে।

ইরিডিয়াম, প্ল্যাটিনাম, ক্যাডমিয়াম, আয়ােডিন, ব্লোরিন নিয়ে তিনি অনেক অনুসন্ধান চালিয়েছেন। ১৮৫৭ থেকে ১৯০২ পর্যন্ত ধাতব নাইট্রাইট ও হাইপোনাইট্রাইট বিষয়ে ১৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন বিলেতের কেমিক্যাল সােসাইটির জার্নালে। ১৯০৩-১৯১১ বিভিন্ন ধাতুর উপর নাইট্রিক অ্যাসিডের গবেষণায় তিনি মগ্ন ছিলেন এবং ১৪টি গবেষণাপত্র লন্ডন কেমিক্যাল সােসাইটি ও আমেরিকান কেমিক্যাল সােসাইটির পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

১৮৮৭ সালে জমা দেওয়া ডি এসসি থিসিস এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই বছরের শ্রেষ্ঠ থিসিসের পুরস্কারে ভূষিত হয়। বিষয় ছিল তাত্ত্বিক। ‘অন পিরিয়ডিক ক্ল্যাসিফিকেশন অফ এলিমেন্টস‘। পরবর্তী কাজ ‘অন অ্যানালিসিস অফ ডাবল সালফেটস অ্যান্ড দেয়ার কৃস্টাল বিহেভিয়ার’  উচ্চ প্রশংসিত হয়। মারকিউরাস নাইট্রাইট ও নাইট্রেট, হাইপােনাইট্রাইটস অফ মার্কারি, অন দিইনট্যারাকশন অফ মারকিউরাস নাইট্রাইট অ্যান্ড ইথাইল আয়ােডাইড বহু সংখ্যক যুগ্ম লবণের সংশ্রেষণ (নাইট্রাইট, নাইট্রেট, সালফেট ও ফসফেট শ্রেণির) তাঁর মূল্যবান কাজের অন্যতম।

ধাতু যুগলের মধ্যে একযােজীটি ছিল প্রধানত  Na, K, Ag, Li, Cu+, Hg+প্রভৃতি এবং দ্বিযোজী  হোল Mg, Ca, Cu++,Hg++ প্রভৃতি। এদের যুগ্ম লবণের অনেকগুলি নতুন পদ্ধতিতে তিনি সংশ্লেষণ করেন।
বেশ কিছু গবেষণায় প্রফুল্লচন্দ্র জৈব ও অজৈব ধাতব পদার্থ ব্যবহার করেছেন। মূলক স্থাপনে ইথাইল, মিথাইল, বেনজাইল প্রভৃতি ও থায়াে অ্যালকোহল, থায়াে ইথার প্রভৃতির ব্যবহারে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

            প্রেসিডেন্সি কলেজ ও
বিজ্ঞান কলেজে ছাত্র-বিজ্ঞানীদের সঙ্গে

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন আদর্শ শিক্ষক। বিজ্ঞান গবেষণা, দেশগড়ার কাজ, সমাজসেবা ও পরােপকার-পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ছাত্রদল তৈরিতে তিনি অসামান্য সাফল্যের নজির রেখেছেন। রসায়ন-শিল্প গড়ার কাজে তিনি সারা ভারতে পথিবকৃৎ।তার ছাত্ররাই আধুনিক ভারত গড়ার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বহু গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছেন ছাত্রদের সঙ্গে যৌথভাবে। তাঁর কয়েকজন বিখ্যাত ছাত্র

১। বিজ্ঞানী জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ রসায়ন বিজ্ঞানে ঘোষ আয়নবাদ সূত্র প্রতিষ্ঠায় বিশ্ব খ্যাতির
        (১৪/০৯/১৮৯৩–২১/০১/১৯৫৬) অধিকারী। আলোক রসায়ন ও অন্যান্য অনেক বিষয়ে
উচ্চমানের গবেষণা কাজের জন্য বিখ্যাত।
২।বিজ্ঞানী জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় রসায়ন বিজ্ঞানে ‘কলয়েড তত্ত্ব’ ও মৃত্তিকা
         (২৩/০৪/১৮৯৩–১০/০৫/১৯৮৩) গবেষণায় বিশ্বখ্যাতি র অধিকারী।
দি ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ সয়েল সায়েন্স,
ইন্ডিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটি-ইত্যাদির প্রতিষ্ঠাতা।
৩। বিজ্ঞানী ডা. উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী  কালাজুরের ঔষধ আবিষ্কারের জন্য প্রসিদ্ধ।
                                                                   (৭-৬-১৮৭৫-১৯৪৬)  এই ঔষধ আবিষ্কার সম্ভব হয়েছিল আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় কাছে উচ্চতর রসায়ন বিজ্ঞান শিক্ষার সূত্রে।
৪। বিজ্ঞানী নীলরতন ধর মৃত্তিকা গবেষণা, অনুঘটক রসায়ন, আলোক রসায়ন
            (২/১/১৮৯২-৫/১২/১৯৮৬) প্রভৃতি শাখায় বিশ্বমানের কাজ করেছেন।
ফরাসি বিজ্ঞান আকাদেমির সভ্য ছিলেন (দুর্লভ সম্মান)।
 ভারতের ভৌত রসায়ন চর্চার ভগীরথ বলে
তাকে অভিভূত করা হয়।
৫। বিজ্ঞানী অসীমা চট্টোপাধ্যায় বনৌষধির রাসায়নিক বিশ্লেষণের কাজে
আন্তর্জাতিক খ্যাতিতে ভূষিত। নয়নতারা গাছ
থেকে ক্যানসারের ঔষধ আবিষ্কার।
৬। মানিকলাল দে জ্ঞান ঘোষ ,জ্ঞান মুখার্জি, পুলিনবিহারী সরকার প্রমুখের
       (১৮৯৩—২৩/১২/১৯৫০) সহপাঠী ছিলেন। গবেষণা সাফল্য অর্জন করেন।
৭। গোপাল চক্রবর্তী -খ্যাতনামা রসায়ন বিজ্ঞানী।
৮। রসিকলাল দত্ত একাধিক সবজি প্রাপ্ত তেলের রাসায়নিক গুণাগুণ
 বিশ্রেষণ করেছেন। শিল্পরসায়নবিদ্যার প্রসারে তাঁর
অন্যন্য অবদান আছে। সাবান শিল্পে
আন্তর্জাতিক খ্যাতির অধিকারী ছিলেন।
৯। প্রিয়দারঞ্জন রায় অজৈব রসায়নে দিকপাল ছিলেন। জটিল
     ১৬/০১/১৯৮৮—১১/১২/১৯৮২) যৌগের রাসায়নিক বিশ্লেষণ। যৌগের গঠন
নির্ণয়ে চৌম্বক ধর্মের প্রয়োগ-তার গবেষণা
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেয়।
১০। পুলিনবিহারী সরকার প্যারিসের সোরবর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি এস সি
               (২৮/১১/১৮৯৪—১৮/০৭/১৯৭১)  রসায়নবিদ হিসাবে আন্তর্জাতিক খ্যাতির
অধিকারী ছিলেন। জীব রসায়ন বিদ্যায় তার
মৌলিক অবদান আছে।
১১। যোগেন্দ্রনাথ বর্ধন হেটারোসাক্লিক জৈব যৌগ সংশ্লেষণ করে
                 (১৫-১০-১৮৯৬)  কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি এসসি উপাধি পান ১৯২৪ ।
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি এসসি (১৯২৮)-ব্যালবিয়ানো
 অ্যাসিড তৈরি করে,ফিনানথ্রিন সংশ্লেষণ কাজ
(সুরেশ চন্দ্র সেনগুপ্তের সঙ্গে) করে আন্তর্জাতিক
খ্যাতিপ্রাপ্ত হন।
১২। বীরেশচন্দ্র গুহ প্রান রসায়নবিদ্যার গোড়াপত্তন এদেশে তাঁর
           (  ৮/৬/১৯০৪—২০/৩/১৯৬২) হাতে। ভিটামিন সি নিয়ে তাঁর গবেষণা
যুগান্তকারী ছিল। চালের খাদ্যগুণ নির্ধারণ,
ভারতীয় খাবারে খনিজ পদার্থের পরিমাণ
নির্ধারণ ইত্যাদি।
১৩। সুশীল মুখোপাধ্যায় বিশিষ্ট মৃত্তিকাবিজ্ঞানী। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে
            (১/১/১৯১৪–১৮/১১/২০০৬) উপাচার্য হন। বিজ্ঞানচর্চার প্রসারে আমৃত্যু
সক্রিয় ছিলেন।
১৪। জিতেন্দ্রনাথ রক্ষিত ইনি সেন্টজেভিয়ার্স কলেজের ছাত্র বি এসসি
পাশ করতে পারেননি। ঘটনাচক্রে আচার্য
রায়ের হাতে পড়েন। পরীক্ষামূলক গবেষণায়
বিশেষ কৃতি ত্ব প্রদর্শন করেন। বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যাল
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হন (১৯৪০)।
১৫। যতীন্দ্রনাথ সেন একেবারে গোড়ার দিককার ছাত্র। ১৯০৩-
এ ১ম গবেষণা পত্র প্রকাশ করেন-
Decomposition of mercurous nitrite by heat ।
পরে দিল্লির পুসা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে যোগ দেন।
১৬। অতুলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায় পরিশ্রমী গবেষক ছিলেন। আচার্য রায়ের সঙ্গে
৫টি যৌথ গবেষণাপত্র আছে। বিষয়
বিভিন্ন নাইট্রাইট লবণ সংক্রান্ত।
১৭। পঞ্চানন নিয়োগী জৈব,অজৈব, ভৌত রসায়ন-তিনশাখায় খুব
             ১৮৮৩–১৯৫০  ভালো গবেষণা করেছেন।
১৮। হেমেন্দ্রকুমার সেন  নাইটুাইট যৌগ
              (১৮৮৯-১৯৪৫) হাইড্রাজিনের উপর মৌলিক গবেষণা আছে।
১৯। প্রফুল্লচন্দ্র মিত্র বার্লিন থেকে জৈব রসায়ন শাস্ত্রে উচ্চতর
পাঠ নিয়েছিলেন।ভারতে ‘সিনেথেটিক অর্গানিক কেমিস্ট্র’
গবেষণার পথিকৃৎ ছিলেন। খ্যাতনামা রসায়নবিদ।
২০। প্রফুল্লকুমার বসু রসায়ন গবেষণায় খ্যাতি অর্জন করেন। এমেরিটাস
                  (৫/৯/১৮৯৮-১/১১/১৯৮৩) সায়েন্টিস্ট হন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
২১। বিমানবিহারী দত্ত লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি এসসি (১৯১৫)
থিসিস   ‘কুমারিন কনডেনসেশন
প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন।
পরে মাদ্রাজ চলে যান।
২২। সতীশচন্দ্র দাশগুপ্ত প্রখ্যাত গান্ধীবাদী, সমাজসেবী, রসায়ন
বিজ্ঞানের বহু শাখায় মূল্যবান কাজ আছে।
গোবর গ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণের উদ্ভাবক।

এবং আরও অনেক ছাত্র- বিজ্ঞানী তৈরিতে তাঁর খ্যাতি সমসাময়িক ভারতে

ছড়িয়ে পড়ে। প্রাক-স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে রসায়ন বিজ্ঞান, শিক্ষা-গবেষণা
ও ফলিত রসায়ন উৎপাদনভিত্তিক কারখানা পরিচালনায় এঁরা অসাধারণ নেতৃত্ব
দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্য সরকারি প্রশাসন এঁদের
সাহায্যে দেশে আধুনিক উন্নত রসায়ন বিজ্ঞানের পরিকাঠামাে গড়ে তােলায় বিপুলভাবে
সাহায্য পেয়েছেন।
এইসব অসামান্য বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে আমাদের দেশের ছাত্র ছাত্রী ও সাধারণ
মানুষ কিছুই জানেন না। এ এক চরম লজ্জা। ভারতবর্ষ এমনই দেশ যে তার বৈজ্ঞানিক
ও প্রযুক্তিবিদদের যথার্থ শ্রদ্ধা-সম্মান জানাতে আজও শেখেনি। যে দেশে বৈজ্ঞানিক-
উদ্ভাবক সমাজ এমন অবহেলিত, সে দেশের উন্নতি খুবই কঠিন।

লেখক প্রফুল্লচন্দ্র রায়

    দেশ গড়ার এই মহান কারিগর নিজেকে গবেষণাগারের চার দেওয়ালে আবদ্ধ রাখেননি। একাগ্র নিষ্ঠা ও  শৃঙ্খলায় তিনি বহু কাজের নজির রেখেছেন সময়ের যথারথব্যবহারে। ব্যক্তিগত জীবনে সময়ের অপচয় কী তা তিনি জানতেন না।

ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের জন্য বাংলা ও ইংরাজিতে তিনি বহু নিবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেছেন। যা একদিকে তাঁর দেশ গড়ার ভাবনাকে যেমন মূর্ত করে, তেমনি দেশের মানুষের মধ্যে সমাজচেতনার বিকাশেও তাঁর অতন্দ্র প্রয়াসকে জাগ্রত করেছে।

১৯০২ সালে প্রথম লেখেন ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য-

১। সরল প্রাণীবিজ্ঞান’ গ্রন্থ। প্রচুর ছবি এবং পশুদের জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরেছেন উল্লেখ্য দক্ষতায়। এজন্য তাকে পড়াশুনাও করতে হয়েছে প্রচুর। ১৮৯০-৯১ সালে তিনি ‘নেচার ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা করেন।                    ডা. নীলরতন সরকার, অধ্যক্ষ হেরস্বচন্দ্র মৈত্র প্রমুখ এর সদস্য ছিলেন। প্রকৃতি পাঠের আগ্রহ থেকেই তাঁর এই প্রয়াস ছাত্র-যুবদের জন্য।

২। ‘নব্যরসায়নী বিদ্যা ও তাহার উৎপত্তি (১৯০৬),

৩। বাঙ্গালীর মস্তিষ্ক ও তাহার অপব্যবহার (১৯১০),

৪। রাসায়নিক পরিভাষা (১৯১৯),

৫। দেশী রঙ (১৯২২),

৬।চা পান ও দেশের সর্বনাশ (১৯৩২),

৭। খাদ্যবিজ্ঞান (১৯৩৬) ইত্যাদি প্রায় ২০টি।

এর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযােগ্য তাঁর ‘আত্মচরিত গ্রন্থ (১৯৩৭)। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ইংরাজীতে
Life and Experiences of a Bengali Chemist, Vol. -1932, Vol. I-1935। এই গ্রন্থটি মহাগ্রন্থ হিসাবে সর্বজনস্বীকৃত।

আচার্যের সারা জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ কর্ম ও দর্শন এই গ্রন্থ পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বিবৃত। তাঁর জীবৎকালের
সমসাময়িক বাঙলার এটি একটি নথি চিত্র (দলিল) বিশেষ। বহু ব্যক্তিত্বের প্রতি যেমন তার শ্রদ্ধার্ঘ প্রতিফলিত হয়েছে, তেমনি কঠোর সমালােচনাও আছে পাতায় পাতায়।

ইংরাজিতে রচিত পুস্তকের সংখ্যাটি ১৩টি। ছাত্র পাঠ্য বই – Elementary Inorganic Chemistry (১৯০৯)। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর সুবিখ্যাত প্রামাণিক গ্রন্থ এ হিসট্রি অফ হিন্দু কেমিষ্ট্রি’ (দুই খণ্ড, ১৯০২ ও ১৯০৯)। এই গ্রন্থের কারণে তিনি পৃথিবীর নানা মহলে সুপরিচিত হন। বিজ্ঞানের ইতিহাস চর্চায় তিনি প্রথিকৃৎ।

আচার্য-বাণী (৩ খণ্ডে সমাপ্ত) – (১৯৫৩, ১৯৫৫) শ্রী প্রসন্নকুমার রায় কর্তৃক সংকলিত একটি অতি অমূল্যগ্রন্থ। দুঃখের বিষয় বেশিরভাগ বই প্রায় দুপ্প্রাপ্য। বিজ্ঞানীর সার্ধশতবর্ষে এইসব রচনাদির যথাযথ সংকলন (রচনাবলী) প্রকাশিত হওয়া একান্ত কর্তব্য। ছাত্রছাত্রী ও জনসাধারণের মধ্যে সুলভ মূল্যে তাঁর চিন্তাধারা প্রচারে এই প্রয়াস একান্তভাবে আবশ্যক।

আজও তার সম্পর্কে বহু রচনা বিভিন্ন বাংলা ও ইংরাজি সাময়িকীতে ছড়িয়ে রয়েছে একান্ত অনাদরে। মাসিক বসুমতী, প্রকৃতি, ভারতবর্ষ, বঙ্গবাসী, প্রবাসী, ভারতী, সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা, মডার্ন রিভিউ ইত্যাদিতে বহ মূল্যবান নিবন্ধ ও আলোচনা রয়েছে যা গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হবার দাবী রাখে।

আমাদের দেশ বিজ্ঞানীদের সম্মান জানাতে সবচেয়ে কৃপণ ও অমনােযােগী। বিজ্ঞানীর সার্ধশতবর্ষে এই পাপস্খলনে আমরা প্রয়াসী হই। জাতীয় চেতনার সমুন্নত আদর্শে বলীয়ানক হবার লক্ষ্যে তিনি আজ সর্বাগ্রগণ্য ব্যক্তিত্বে হিসাবে গ্রহণীয়।

তাঁর লেখার বিষয় বস্তু ও বলার ধরণ অতি সোজাসাপ্টা। বাঙালির চরিত্রের দুর্বলতা, অলসতা, উদ্যোগহীনতা দূর করতে তাঁর লেখনি ছিল আক্রমণাত্মক। বুঝতে কষ্ট হয় না। উদ্দীপনা ও ইতিবাচক মনােবৃত্তিতে ভরপুর। বাঙালি আজও কেন যে এত নেতিবাচক, অনুদ্যোগী-তা ভাবলে বিস্মিত হতে হয়।এজন্যই, এসব রচনা স্বল্পমূল্যে প্রচারে উদ্যোগীহওয়া বিশেষ ভাবে জরুরি।

আচার্যের রচনা থেকে

বাঙলায় স্বদেশি শিল্পের যে পুনরুথান হয় না তার প্রধান কারণ বাঙালি উদ্যমহীন, অলস ও আরামপ্রিয়। আবেগপূর্ণ ভাবপ্রবণতার দ্বারা আমরা হনুমানের মত এক লাফে সাগর পার হতে চাই।কিন্তু ভাবােচ্ছাসের পশ্চাতে বিপুল কর্মচেষ্টা না থাকায় আমাদের কেবল ভরাড়বি হতে হয়। আবার ভিতরের এই সাংঘাতিক বাধা সকলকে আমরা কথার চটকে উড়িয়ে দেবার চেষ্টা করি।…অকুষ্ঠিত চিত্তে কেবল গলাবাজির দাপটে

 

আমরা দু’বেলা দেশােদ্ধার করে থাকি।     প্রফুল্লচন্দ্র রায় : বিজ্ঞানী বেশে ...

সম্প্রতি দেখে এলাম বিলাতে প্রায় ২৫০০ ভারতীয় ছাত্র নানা প্রকার বিদ্যার্জন করছেন। তাঁদের অধিকাংশই তাড়াতাড়ি একটা বিলাতি ডিগ্রি নিয়ে দেশি ডিগ্রির উপর টেকা দিয়ে মােটা মাহিনার চাকুরি জুটিয়ে নিতে চান।…ঐ ডিগ্রি আর চাকুরি। বুদ্ধি খাটিয়ে আপন হাতের জোরে কিছু সৃজন করে তােলবার কল্পনা তাদের মনে কখনও জাগে না।..

আমাদের এমনি দুর্ভাগ্য যে, অন্য দেশে বহু চেষ্টায় যা সম্ভব হয়েছে, আমরা এক প্রকার বিনা চেষ্টায় শুধু গলাবাজির দ্বারা তা সারতে চাই। কিন্তু গলাবাজির কসরতে গলাই ভেঙে যায়, আসল কাজ এতটুকুও হয় না। তবু আমরা নিজের আলস্য ও উদ্যমহীনতার দোষ দিই না-দোষ দিই পারিপার্শ্বিক অবস্থার। কেউ বলেন-আঃ বড় গরম, কাজ করতে পারি না; আবার কেউ বা বলেন – উঃ শীত, কাজে হাত পা ওঠে না।
(প্রবন্ধ-জাতি গঠনে বাধা-ভিতরের ও বাইরেরপ্রবাসী, ১৩২৭, চৈত্র)

জাপান আজ ইয়ােরােপ ও আমেরিকার পৃষ্ঠান্ত অনুসরণ করিয়া বিজ্ঞান সাধন্যর বলে কত অল্পদিনের মধ্যেই না এশিয়া মহাদেশের সকল জাতি অপেক্ষায সকল দিক দিয়া বড় হইয়া উঠিয়াছে। প্রাচীন চীনও ক্রমশ এই বিজ্ঞানের শিক্ষায় দীক্ষাল্যাভ করার ফলে জগতে অজেয় হইয়া উঠিবে। জাপানকে ইউরােপ ও আমেরিকা আজ সম্মান ও সম্ভ্রম দেখাইতে বাধ্য হইয়াছে। কিন্তু ভারতবাসীদের সম্মান কোথাও নাই..তাহারা আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইনেও সকলের অবজ্ঞার পাত্র। ভারতবর্ষকে পূথিবীর মধ্যে মানুষের মতাে বাঁচিতে হইলে আমাদের সকলকে বিজ্ঞান সাধনায় একাগ্রমনে ব্রতী হইতে হইবে।
যতদিন না এ দেশের জনসাধারণের মধ্যে উচ্চ বিজ্ঞান শিক্ষার প্রচলন হইতেছে, ততদিন
আমাদের দুঃখকষ্ট দারিদ্র ও পরাধীনতা ঘুচিবে না।
জাতীয় সম্পদের মূলে বিজ্ঞানের শক্তি’ প্রবন্ধ থেকে।

    দাতা প্রফুল্লচন্দ্র রায়

গল্পটা এরকম। স্থান বিজ্ঞান কলেজের দোতলায় ছােটো একটি ঘর। বহু দিনের পরিচিত বিজ্ঞানী নদীয়াবিহারী অধিকারী ছিলেন তার গৃহস্থালির ম্যানেজার। একদিন বাজার থেকে পাকা কলা কিনেছেন স্যারের জন্য। তিনিও মহাখুশী সুগঠিত সুপক্ক কলা দেখে। দাম শুনেই হঠাৎ ঘটলাে মহাবিপত্তি। এত বেশি দাম দিয়ে তুমি আমার খাবার জন্য কলা কিনেছে? পয়সা কি সস্তা? নবাবি করতে শিখেছ? আমাকে পথে বসাবে?

বেঙ্গল কেমিক্যাল তৈরির করতে আচার্য ...

যৎপরােনাস্তি তুলকালাম চেহারা। এমন সময় ঘরে ঢুকলেন ড. প্রফুল্লকুমার ঘােষ (রসায়নে ডি এসসি, পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী)। দু’জনের মধ্যে খানিকক্ষণ খুব নীচ স্বরে কথাবার্তা হােল। এবার স্যার হাঁক পাড়লেন, ব্যাঙ্কের চেক বইটা দে। বললেন, পাশ বই দেখে বল, ব্যাঙ্কে কতটাকা আছে। শুনে, চেক সই করে দিলেন সেই আমলে তিন হাজার টাকা।

যিনি সামান্য তিন পয়সা দামের কলার জন্য বিপন্ন বােধ করেন বাহুল্যতার কারণে, সর্বস্ব দান করতে তিনি কিন্তু পিছপা নন। সারা জীবনের আয় তিনি বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নতিতে ও দেশহিতের বিবিধ প্রয়াসে দান করেছেন অকাতরে। নিজের বলতে কিছুই রাখেননি।

মহাত্মা গান্ধী লিখেছিলেন, আমি রুদ্ধ নিঃশ্বাসে শুনলাম যে আচার্য রায় তার রাজোচিত বেতন থেকে সামান্য কিছু টাকা নিজের জন্য রেখে বাকি সবটাই জনহিতকর কাজে বিশেষ করে দরিদ্র ছাত্রদের সাহায্যদানে নিয়ােজিত করেন। ভারতের এই মহান সেবক এই তিরিশ বছরে একটুও বদলাননি। বিরামহীন সেবা, উদ্দীপনা এবং আশাবাদের যেদৃষ্টান্ত তিনি আমাদের সামনে রেখেছেন তা নিয়ে অবশ্যই আমরা গর্ব করতে পারি।

রবীন্দ্রনাথ ও আচার্যপ্রফুল্লচন্দ্র রায়

‘আমি প্রফুল্লচন্দ্রকে তাঁর সেই আসনে অভিবাদন জানাই যে আসনে প্রতিষ্ঠিত থেকে তিনি তাঁর ছাত্রের চিত্তকে উদ্বোধিত করেছেন, কেবলমাত্র তাকে জ্ঞান দেননি, নিজেকে দিয়েছেন, যে দানের প্রভাবে সে নিজেকেই পেয়েছে।
বস্তু জগতে প্রচ্ছন্ন শক্তিকে উদঘাটিত করেন বৈজ্ঞানিক, আচার্য প্রযুল্লচন্দ্র তার চেয়ে গভীরে প্রবেশ করেছেন। কত যুবকের মনােলােকে ব্যক্ত করেছেন তার গুহাস্থিত অনভিব্যক্ত দৃষ্টিশক্তি, বিচারশক্তি, বােধশক্তি। সংসারে জ্ঞানতপস্বী দুর্লভ নয়, কিন্তু মানুষের মনের মধ্যে চরিত্রের ক্রিয়া প্রভাবে তাকে ক্রিয়াবান করতে পারেন এমন মনীষী সংসারে কদাচ দেখতে পাওয়া যায়।’

আচার্য রায়ের ৭০ তম জন্মবর্ষপূর্তির প্রাকালে প্রেরিত শ্রদ্ধাঞ্জলি। কবির সঙ্গে বিজ্ঞানীর
নিকট সম্পর্ক ছিল। জগদীশচন্দ্র, প্রফুল্লচন্দ্র ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিকদের কাজকর্ম সম্পর্কে
কবির গভীর আগ্রহ সুবিদিত।

আচার্যের প্রিয় ছাত্রদের নিবেদিত শ্রদ্ধাঞ্জলি

শিক্ষক আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ভারতবর্ষে আজও সর্বশ্রেষ্ঠ। বিশিষ্ট রসায়নবিজ্ঞানী শান্তিস্বরূপ ভাটনগর আক্ষেপ করে বলেছিলেন, আমার দুর্ভাগ্য। আমি স্যার পি সি রায়ের ছাত্র হতে পারিনি।

জ্ঞানচন্দ্র ঘােষ লিখেছেন তাঁহার ক্লাসে যখনই শিক্ষালাভ করিতে যাইতাম, অনুভব করিতাম, চারিদিকে নতুন হাওয়া বহিেতছে। শিশুর মতন খােলা মন লইয়া গুরুদেব আমাদের সকলকেই অতি আপনারজন করিয়া লইয়াছিলেন। তাহার কাছে জিজ্ঞাসা করিবার, আলাপ আলােচনা করিবার, তর্ক করিবার, জানিয়া লইবার অবাধ স্বাধীনতা আমাদের ছিল।

পদার্থবিজ্ঞানী হলেও সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও মেঘনাদ সাহার সঙ্গে আচার্যের খুবই নিকট সম্পর্ক ছিল। বিশেষ করে কর্মযােগী মেঘনাদ প্রতিটি বিষয়ে আচার্যের পরামর্শ ও উপদেশ গভীর আস্থার সঙ্গে গ্রহণ করতেন। তিনি লিখেছেন,’ আমি স্যার পি সি রায়ের মতন নিয়মানুবর্তিতা খুব কম লােকেরই দেখেছি। তিনি চিরকুমার ছিলেন বলেই আত্মনির্ভরশীল ছিলেন। প্রতিদিন তাঁর কাছে যারা থাকতেন (১০/১২ জন গবেষক ছাত্র তাঁর কাছে থাকতেন। রাতে সায়েন্স কলেজের বারান্দায় খাটিয়া পেতে ওঁরা ঘুমােতেন) তাদের
পূর্বেই শয্যাত্যাগ করে সায়েন্স কলেজের বারান্দাতে পায়চারি করতেন। তারপর বেলা ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পড়াশুনা। সে সময় তাকে বিরক্ত করবার সাহস কারও ছিল না। তার পর ল্যাবরেটরিতে গিয়ে বেলা বারােটা পর্যন্ত কাজ। তারপর মধ্যাহ্ন ভােজন ওএকটু বিশ্রাম।’

মেঘনাদ সাহা যখন ‘ইনডিয়ান সায়েন্স নিউজ অ্যাসােসিয়েশন’ স্থাপন করেন আচার্য রায় ছিলেন তার প্রথম সভাপতি।

বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু লিখেছেন,  ‘বহু শতাব্দীর দাসত্বের ফলে দেশ থেকে বৈজ্ঞানিক
অনুসন্ধিৎসা প্রায় লােপ পেয়েছিল। এখন তাঁরই সারা জীবনের পরিশ্রমে বিজ্ঞানচর্চা
জনপ্রিয় হয়ে উঠল। রাসায়নিক গবেষণার তিনিই প্রধান পথিকৃৎ।’

খ্যাতনামা বিজ্ঞানী অসীমা চট্টোপাধ্যায় তাঁর সাক্ষাৎ ছাত্রী ছিলেন। ডি এসসি-র গবেষণা কাজ চলাকালীন তার গাইড অধ্যাপক বিশেষ কাজে দিল্লি চলে গেলেন। আচার্য রায়ের বয়স তখন ৮২-৮৩ প্রায়। সেই সময় তিনি অসীমা চট্রোপাধ্যায়কে গবেষণার কাজে নিয়মিত সাহায্য ও উৎসাহ দিয়েছেন। ডিএসসি-র থিসিস সাবমিট করে ছুটলেন আচার্যের ঘরে। সব শুনে খুব খুশী হলেন। যেদিন ডি এসসি-র সম্মাননা পেলেন তখন আর আচার্যদেব নেই। এই দুঃখ বিজ্ঞানী অসীমা চট্টোপাধ্যায় জীবনে
ভুলতে পারেননি। গবেষণার কাজ চলাকালীন টিফিন আসতাে আচার্যের ঘর থেকে- চিড়ে,দই, কলা ও লেডিকেনি।

মৃত্যু ১৬ জুন, ১৯৪৪ এক মহাজীবনের অবসান

তিনি নেই। কিন্তু তিনি আছেন আমাদের সমগ্র জীবন সত্তায়। তাঁর লেখনি আজও জীবন্ত। তাঁর ছাত্র-ছাত্রীরা ও পরবর্তী প্রজন্ম আজও তাঁর আদর্শকে সামনে রেখে এগিয়ে চলার দর্শন খুঁজে পায়। তাঁর কাজকে তুলে ধরাই হােক আমাদের প্রথম প্রয়াস। আজকের ছাত্র-ছাত্রীদের মনে বৈজ্ঞানিক প্রফুল্লচন্দ্রের আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে হবে।

স্কুল-কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়স্তরের পাঠ্যবইতে আমাদের দেশের বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারের কথা একান্তই
অনুপস্থিত। এই ত্রুটি দূর করায় পাঠ্য বইয়ের লেখকদের ও শিক্ষক সমাজের সচেতন ও
প্রয়াসী হতে হবে।
স্বাধীনতার পরবর্তী ৬৩ বছরে বিজ্ঞান সাধনায় আমরা অনেক এগিয়েছি। আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর নানা প্রান্তে গৌরবের সঙ্গে সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত। তবু বিজ্ঞানচর্চায় পৃথিবীর প্রথম সারির দেশ হিসাবে আমরা গণ্য হই না। আচার্য রায় স্বপ্ন দেখতেন আমরা হব জ্ঞান গরিমায় সর্বশ্রেষ্ঠ। ব্যবসা করে ইউরােপ ও আমেরিকার
মতাে ভারতও হােক শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার। তাঁর আশা আজও অপূর্ণ রয়েছে। ১৫০ বছরে
আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রচর্চা আমাদের সেই প্রেরণায় সঞ্জীবিত করুক।

দেশের মানুষের দুঃখদুর্দশামােচনে তাঁর চেষ্টার অন্ত ছিল না। নিরক্ষরতার অভিশাপ মােচনেও তিনি সরব হয়েছেন। তাঁর লেখনি ছিলসােজাসাপটা। দোষক্রটি তিনি প্রত্যক্ষ ভাবে চিনিয়ে দিয়েছেন কঠোর সমালােচনার কষাঘাতে। এসব থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

শুধুমাত্র নিজের ক্যারিয়ার তৈরি নয়। দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে এই ছিল তাঁর জীবনব্রত। নিঃস্বার্থ সেবার দান, মানবিকতা, স্নেহ-ভালবাসা দিয়ে তিনি সবাইকে আপন করে নিতেন। যথাযােগ্য শ্রদ্ধা ও মর্যাদায় তিনি আমাদের মধ্যে চির উজ্জ্বল থাকুন। এই হােক আমাদের অন্তরের  নিবেদন।

আগ্রহীদের জন্য

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জীবন ও সাধনা সম্পর্কে জানা, পড়াশুনা ও চর্চা আমাদের জাতীয় কর্তব্য হওয়া উচিৎ Research Papers of Ach. P C Ray-A Complete Collection’ (২০০৬, ৬৫০ টাকা, ৯৩৫ পৃষ্ঠা)। এই বইটি আচার্য রায়ের যাবতীয় বিজ্ঞান গবেষণা পত্রের পূর্ণাঙ্গ সংকলন। উচ্চমানের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-
শিক্ষিকা ও গবেষকদের জন্য বইটি অপরিহার্য। (পরিবেশক-দীপ প্রকাশন)।

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় রচনা সংকলন (চার খণ্ড) – সম্পাদনা অনিল ভট্টাচার্য, আচার্য
প্রফুল্লচন্দ্র কলেজ, নিউ ব্যারাকপুর, কল-৭০০১৩১, প্রকাশ করেছেন ২০০৯-এ। এই
সংকলনে আচার্যের সমস্ত রচনা স্থান পেয়েছে। যেকোন আগ্রহী পাঠকের সারা জীবনের
সম্পদ হবার মতাে গৌরবময় প্রকাশনা।
‘Acharjya Prafulla Chandra-Portrait of a Man’ (দু’খন্ড) অনিল ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।(৩০০ টাকা, ৩২০ টাকা, পৃঃ ৮২০ ও ৯০৭)| এতেও আচার্যের প্রায় বেশির ভাগ রচনাই সংকলিত। যাঁরা প্রফুল্লচন্দ্র চর্চায় সচেতন তাদের জন্য উপরােক্ত বইগুলি বিশেষভাবে প্রয়ােজনীয়।

সাম্প্রতিক প্রকাশিত ‘ঐতিহ্য উত্তরাধিকার ও বিজ্ঞানী প্রফুল্লচন্দ্র’-শ্যামল চক্রবর্তী
(সাহিত্য সংসদ, ২০০৯, ২০০ টাকা, ৪৮৬ পৃষ্ঠা) লিখিত একটি মূল্যবান গ্রন্থ। বইটি
নানা তথ্য উপাদানে সমৃদ্ধ।
পশ্চিমবঙ্গ পত্রিকার (১৪০৬)প্রফুল্লচন্দ্র রায় বিশেষ সংখ্যাটি (১৫২ পৃষ্ঠা, ২০ টাকা) নিঃসন্দেহে মূল্যবান।

স্মৃতি সত্তায় আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র’বিশ্বনাথ মুখােপাধ্যায় ও পিনাকপানি দত্ত সম্পাদিত গ্রন্থটি ভাল। বিমলেন্দু মিত্রের লেখা আচার্যের জীবনী গ্রন্থটি (শ্রীভূমি প্রকাশিত) ও নন্দলাল মাইতি লিখিত ‘আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রের জীবনবেদ (জ্ঞান বিচিত্রা) দুটি বই ছাত্রছাত্রীদের জন্য বেশ ভাল। শ্রী মিত্রের বইটি পরিশ্রমী গবেষণা প্রয়াস হিসাবে চিহ্নিত হবার দাবী রাখে। এরকম আরও ১०/১২টি বই বাজারে লভ্য। এইসব বাঙলা বইতে আচার্যের বৈজ্ঞানিক অবদান সম্পর্কে আলােচনা খুব কম। বাঙালি শিক্ষিত সমাজ আজও ওপর ওপর আচার্য পুজো সেরে ভক্তি নিবেদনে ব্যস্ত। আমাদের চাই পরিশ্রমী ও মেধাবী
প্রফুল্লচন্দ্র চর্চা। তাঁর যথার্থ উত্তরাধিকারী হতে আমাদের কঠোর পরিশ্রমী ও অধ্যবসায়ী
হওয়া প্রয়ােজন।

লেখকঃ দীপক্কুমার দাঁ

বিজ্ঞান অন্বেষক  ২০১০ এ প্রকাশ

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 4

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

বর্ষা শুরু

5 (4) আজ সকালে ঘুম ভেঙ্গেছে মেঘের ডাকে। গর্জন নয়। মেঘের ডাক এবং গর্জনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কালবৈশাখীর মত অল্প সময়ের আবহাওয়া ব্যাবস্থায় মেঘের গর্জন শোনা যায়। বজ্রগর্ভ মেঘের উচ্চতা অনেক সময় ট্রপোপজ ছাড়িয়ে যায়। মেঘের উচ্চতা যত বেশি হয় মেঘের গর্জন তত বেশি শোনা যায়। মেঘের ডাক শোনা যায় […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: