সুন্দর বনের বাঘ

poribes news
5
(4)

রয়্যালের সন্দেশ :

কথায় বলে বাঘে গোরু কে যে এক ঘাটে জল খাওয়াতে পারে তার ক্ষমতা অসীম যাকে বলে দোর্দণ্ডপ্রতাপ, একেবারে সত্যি বলতে কি বাঘ আর গোরু জঙ্গলে হয়তো এক ঘাট থেকেই জল পান করে আর সেই কারণেই বাঘের অন্য পশু শিকার করা সহজ হয় l

আপনি কাউকে জানোয়ারের সন্তান বলুন সে আপনাকে তেড়ে মারতে আসবে,

আবার সেই আপনি বলুন ” তুমি তো বাঘের বাচ্চা ” ছাতি চওড়া হয়ে যাবে শ্রোতার ! বাঘের মহিমা বাবা ! তাহলে বুঝতেই পারছেন বাঘের টি আর পি বেশ হাই,প্রথম থেকেই তাই বাঘ পশুর রাজত্বে বেশ সম্ভ্রান্ত স্থান দখল করে রয়েছে lসুন্দরবন জাতীয় উদ্যান - উইকিপিডিয়া

আমাদের বাংলার খাস বাঘের কথায় আসি,এ হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ! সে, যে সে জিনিস নয়,এক থাবায় আপনি সাবাড় l এই করোনার আবহে পরিবেশের পোয়া বারো নয় তেরো হয়েছে,সব ভালো ভালো; দূষণ কমেছে ওজন স্তর সেরেছে আর বেড়েছে বাংলার এই বিখ্যাত বাঘেদের সংখ্যা l সম্প্রতি বাঘ সুমারি অনুযায়ী,বাঘের সংখ্যা 88থেকে 96 হয়েছে l যদিও সামগ্রিক ভাবে বহুদিন থেকেই বাঘ সংরক্ষণ শুরু হয়েছে,তার সুফল আসতে শুরু করেছে সুন্দরবনে,পৃথিবীর বৃতত্তম বাদাবনের অন্যতম জীব হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার l যার বিচরণ ক্ষেত্রে সমগ্র সুন্দরবন,মানুষের সাথে যেন সহাবস্থান l প্রতি বছরই মানুষের প্রাণহানী হয়ে থাকে বাঘের কারণে,বন থেকে মধু কাঠ ইত্যাদি সংগ্রহ করতে গিয়েও মানুষ বাঘের শিকার হন l শুধু তাই না জেলেরাও অনেক সময় শিকার হয়ে থাকেন রয়্যাল বেঙ্গলের, সুন্দর বনের বাঘ নোনা কাদা মাটিতে উপকূলের তট রেখার কাছে ঘুরে বেড়ায় l সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো,বিড়াল গোত্রীয় অন্য প্রাণীরা যখন জল অপছন্দ করে তখন কিন্তু বেঙ্গল টাইগার জল দেখলেই সাঁতার কাঁটতে নেমে পড়ে এবং এরা খুব ভালো সাঁতারু হয়; অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই অনেক দূর চলে যেতে পারে l নৌকা থেকে মানুষ নিয়ে যাওয়ার অনেক দৃষ্টান্ত ইতিহাসে আছে l সুন্দর বনকে ভোট দিন, আপনার একটি ভোটে ...

বাঘের খাবার নিয়ে অনেক মিথ চলে,কিন্তু বেঙ্গল টাইগার অন্য ভারতীয় বাঘেদের তুলনায় আকারে বেশ বড়ো এবং সে এক দক্ষ শিকারী,গবাদি পশু থেকে তৃণভোজী বন্য জন্তু হাঁস মুরগি এমন কি কুমির পর্যন্ত আর মানুষ তো আছেই l বাঘ সাারনত বৃদ্ধ বয়সে ম্যানইটার হয় কিন্তু সুন্দরবনের ক্ষেত্রে বাঘের অতন্ত্য সহজ শিকার হলো মানুষ,তাই এদের ম্যানইটার বলাই যায় l বাঘ শিকারকে তার থাবায় রেখে,শিকারের গলার বা ঘাড়ের কাছের ধমনী ছিড়ে দেয় যার ফলে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের জন্য শিকার মারা যায়,বাঘ খুব সহজেই তার শিকার কে মুখে করে নিয়ে যেতে পারে যাতে মাটি স্পর্শ না হয় l এক বসায় বাঘ 30থেকে 40 কিলোগ্রাম মতো মাংস খেতে পারে l বিড়ালের মতো বাঘের জিহ্বাতেও পানীয় জল বোঝার জন্য আলাদা স্বাদকোরক থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বাঘের লালা কিন্তু সংক্রমণরোধী ক্ষমতা সম্পন্ন l

খাবার বা একাধিক কারণে প্রায়শই বাঘ চলে আসে লোকালয়ে,অনেক ক্ষেত্রেই চিনতে ভুল হয় এটাও সত্যি বাঘরোল কে আমরা বাঘ ভেবে ফেলি ! কিন্তু ওই ম্যান এন্ড অ্যানিম্যাল কনফ্লিক্ট; বন্য প্রাণী দেখলেই আমরা যে আচরণ গুলো করি বা পিটিয়ে তাদের মেরে ফেলি – এই ঘটনা গুলো প্রকৃতির নিয়মের পরিপন্থী l

বাঘ কমে যাচ্ছে তার সংরক্ষণ প্রয়োজন এটা একটা কমন স্টেটমেন্ট ! মূলত বাঘের ক্ষেত্রে তিনটি সমস্যা তার সংখ্যার ক্রমহ্রাস-এর কারণ,প্রথমত,শিকার অর্থাৎ বাঘের চোরাশিকার যাকে আমরা পোচিং বলে থাকি প্রধানত চামড়ার জন্য আজও প্রাণ হারাতে হয় বাঘেদের l দ্বিতীয় কারণ হলো,জলবায়ু অর্থাৎ প্রতিকূল আবহাওয়া,খাদ্যাভাব এবং অন্যান্য বিভিন্ন জৈবিক জিনিসের অভাব,রোগ সংক্রমণ ইত্যাদি l

খালেদ বিন ইরানী على تويتر: "খুলনার সুন্দর ...

তৃতীয়ত, ম্যান এন্ড অ্যানিম্যাল কনফ্লিক্ট এবং তদুপরি হলো আমাের দেশের অশিক্ষা এবং আইনের শিথীলতা l সংরক্ষণ জিনিসটি আমরা আজ অবধি ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি l বাঘ সংরক্ষণ করতে হয় তাদের নিজস্ব বাস্তুতন্ত্রে এবং নিয়মিত মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় সকল জিনিসের নিরবিচ্ছিন্ন যোগান l বাঘ গণনা নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিয়মিত করা আবশ্যক l বাঘের গণনা করার ক্ষেত্রে পায়ের ছাপ দেখে গণনা করার রীতিই ছিলো এক সময় সবেধন নীলমনি কিন্তু এখন অনেক নিত্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে,রেডিও কলার বা ক্যামেরা ট্রাপ ইত্যাদি কিন্তু পায়ের ছাপও দেখা হয় সেক্ষেত্রে সিউডো বা প্রোটো টাইগারের তত্ব চলতে থাকে l বাঘ হাঁটার সময় পিছনের পা আর সামনের পা এক জায়গায় ফেলে বলে মনে হয় যেন বাঘ দুপায়ে হাঁটে,এবং 18টি আঙুলের ছাপ পরে l অনেক সময় ছাপ দেখেও শনাক্ত করা দুর্বিসহ হয় l

এইসবের মাঝেই সংখ্যা বেড়েছে বাঘের, গত মরসুমে বাঘের সংখ্যা ছিল 88টি এই মরসুমে সংখ্যা 96টি; 8টি বাঘ বেড়েছে যা বিগত পাঁচ ছয়ের বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং এতেই আশার আলো দেখছেন বনদপ্তর কারণ,এই সংখ্যা বৃদ্ধি ইঙ্গিত করে যে তাদের গৃহীত পদক্ষেপ গুলো ফলদায়ক হয়েছে l

পৃথিবীর সর্বত্রই নারীরা এগোচ্ছেন,সুন্দরবনের বাঘেরাও সেই ট্রেন্ড ফলো করছে,বাদাবনে বাঘ 23টি এবং বাঘিনী 43টি এবং আরও 31,টি ডোরাকাটা আছেন যাদের লিঙ্গ চিহ্নিত করা যায়নি l এছাড়াও 28দিনের গণনায় 11টি শাবকেরও দেখা মিলেছে এবং মোট 96টির মধ্যে বেশ সংখ্যায় আছে সাব- অ্যাকাউন্ট বা ছোকরা বাঘ l

তাই বলা যায় বাদাবনের বাঘ তারুণ্যে ভরপুর এবং প্রচুর সংখ্যায় স্ত্রী প্রজাতি থাকায় ভারতের বাঘ বা বাংলার বাঘ এখন সম্ভবনাময় l ভবিষ্যতে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটবে এই বিষয়ে কোনো  সন্দেহের অবকাশ নেই l

সৌভিক রায়

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 4

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

হস্তরেখা কি ও কেন?

5 (4) জ্যোতিষশাস্ত্রে ভুত ভবিষ্যত  আগাম বলে দেওয়ার বহুল প্রচলিত একটি পদ্ধতি চল হস্তরেখা বিচার। আমরা হাতের তালু দেখলে তাতে অসংখ্য রেখা দেখতে পাব।হাতের তালুতে দুরকম রেখা থাকে। একরকম মােটা রেখা বা ভজ (Crease) আর একরকম খুব সরু রেখা (Ridge) মােটা রেখাগুলি জ্যোতিষশাদরে হৃদয়রেখা, মস্তকরেখা, আয়ুরেখা, ভাগ্যরেখা, স্বাস্থ্যরেখা ইত্যাদি নির্দেশ […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: