প্রস্টেট ক্যান্সার প্রতিরােধ

poribes news 2
5
(1)

 এমন জীবনশৈলী, এমন সচেতনতা, এমন অভ্যাস সৃষ্টি করতে হবে, যাতে প্রস্টেট ক্যান্সারের সমস্ত ঝুঁকিকে এড়িয়ে যেতে পারি, দূর করতে পারি এবং ফলত এর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারি। আসুন প্রতিরােধের উপায়গুলি জেনে নিই এবং সেগুলিকে জীবনমুখী করে তুলি।

ভদ্রলােকের বয়স 60/62 হবে। সদ্য অবসর নিয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরেই তাঁর প্রস্রাবের সমস্যা চলছে। কষ্টটা যখন অসহ্য হয়ে উঠল, তখনই উদভ্রান্তের মতাে ছুটলেন চিকিৎসকের কাছে।

-ড. দত্ত, আমাকে একটু দেখে দিন, খুব কষ্ট চলছে।

-বসুন। হ্যাঁ, এবার বলুন আপনার ঠিক কী কী সমস্যা হচ্ছে?

-বারবার প্রস্রাব পাচ্ছে, রাত্রেও বারবার উঠতে হচ্ছে প্রস্রাব করতে, সর্বদা যে পুরাে প্রস্রাব হয়ে যাচ্ছে,       তা নয়, কখনও ফোঁটা ফোঁটা হচ্ছে, প্রস্রাব করার সময় বেশ যন্ত্রণা অনুভব করছি।

-প্রস্রাবের সঙ্গে কি কখনও রক্ত পড়ছে? খুব কষ্ট চলছে।

– – -হ্যাঁ , দু-একবার রক্তও গেছে ইউরিনের সঙ্গে। এই যে বসে আছি, তাতেও প্রস্রাবের জায়গাটাতে সামান্য কষ্ট অনুভব করছি। একটু দেখে দিন।

– এত ভাববেন না। পঞ্চাশ বছর পার হলে প্রস্টেট গ্ল্যাণ্ড বড়াে হতে পারে।

– তার মানে ক্যান্সার!

– তা কেন হবে! প্রস্টেট গ্ল্যাণ্ড বড়াে হওয়া মানে সাধারণ শিষ্ট টিউমার হতে পারে, যাকে বলা হয় Benign Prostatic Hypertrophy, আর এটা মােটেই ক্যান্সার নয়। আবার এটাও ঠিক যে, ক্যান্সারের সম্ভাবনাও থাকে। – আমরা যাকে প্রস্টেট ক্যান্সার বলি।

তাহলে ড. দত্ত, কী হবে?

– যেটাই হােক না কেন মনে রাখবেন, বর্তমানে উভয় ক্ষেত্রেই দারুণ। চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে। সুতরাং দিশাহারা না হয়ে যথাসময়ে ঠিকঠাক চিকিৎসা করলেই নিরাময়।

-এখন শুয়ে পড়ুন পাশ ফিরে, আমি ক্লিনিক্যাল একটা পরীক্ষা করবো আপনার;  এর নাম Digital Rectal Examination ।

Signs and symptoms of prostate cancer | THE "NEW" PROSTATE CANCER ...

আমি গ্লাভ্স্ পরে আমার আঙুল দিয়ে আপনার রেক্টামের পথ দিয়ে আপনার প্রস্টেট গ্ল্যাণ্ডকে বােঝবার চেষ্টা করব। এই সামান্য তিন-চার মিনিটের পরীক্ষাতেই প্রষ্টেটের বৃদ্ধি ঘটেছে কিনা তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। বাকিটা অন্যান্য কিছু পরীক্ষায় কনফার্ম করব।

-সেগুলি কী, ড. দত্ত?

-এই ধরুন প্রষ্টেটের আলট্রাসােনােগ্রাফি, বায়ােন্সি, সি.টি. স্ক্যান, কিছু রক্তের পরীক্সা-এর মধ্যে PSA অর্থাৎ Prostate Specific Antigen । এইসব আর কী।

-ও যাই বলুন ড. দত্ত, আমার ক্যান্সারই বেরােবে।

-আচ্ছা, যদি ধরেই নিই, প্রস্টেট ক্যান্সার বেরােল, তাহলেও মনে রাখবেন একেবারে প্রাথমিক স্তরে যদি ধরা পড়ে যায়, তাহলে আমাদের দেশে এর চিকিৎসায় 100 জন রােগীর মধ্যে 90 জনই নীরােগ থাকেন 10 বছর- স্থিতিশীল থাকেন 25 বছর।

-তবে কি জানেন, এই ক্যান্সারের আধিক্য দেখা যায় পাশ্চাত্য দেশগুলিতে। তাদের লাইফ স্টাইল বা জীবনযাত্রার ধরনই এই রােগে আক্রান্ত হবার কারণ, সেসব পরে বলছি আপনাকে।

এ রােগ আমাদের দেশে ছিল অতি কম। কোনাে সন্দেহ নেই বর্তমানে তা বাড়ছে। আর এটা উদ্বেগের। এরও কারণ ওই লাইফ-স্টাইল, খাদ্যাভ্যাস যা আমরা পাশ্চাত্য থেকে অনুকরণ করে চলেছি।

এরপর ডা. দত্ত দু-চার দিনের মধ্যে রােগীর প্রয়ােজনীয় যাবতীয় পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে ফেললেন। জানা গেল রােগটি প্রস্টেট ক্যান্সার একেবারে প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। সুতরাং চিকিৎসাও শুরু হয়ে গেল খুব শীঘ্রই।

  প্রস্টেট গ্রন্থি কি ?

আসুন, আমরা প্রস্টেট গ্রন্থি সম্বন্ধে কিছু জেনে নিই। প্রস্টেট গ্ল্যাণ্ড বা গ্রন্থি কেবলমাত্র পুরুষদেরই থাকে। এটির অবস্থান পেটের ভিতর তলপেটের মধ্যে মূত্ৰথলি বা ইউরিনারি ব্লাডারের ঠিক নীচে।

Prostate Gland Picture Image on MedicineNet.com
প্রস্টেট গ্রন্থি

এখানে বলে রাখা ভালাে, মহিলাদের ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গে অবস্থান করা খুব ছােট্ট স্কেনের গ্রন্থিকে (Skene’s gland) পুরুষদের প্রস্টেট গ্রন্থির সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে।

প্রষ্টেটের আয়তন হল গড়ে 4 cm x 2 cm x 3 cm, এর ওজন হবে প্রায় গড়ে 12 gm- এর মতাে, দেখতে একটা walnut বা আখরাোটের মতাে।

এই গ্রন্থির মধ্য দিযেই নেমেছে প্রসাব করার নালী (urethra)। প্রস্টেট গ্রন্থি এক ধরনের তরল পদর্থ নিঃসরণ করে যা স্পার্মকে (sperm) রক্ষা করে, বাঁচিয়ে রাখে।

প্রস্টেট ক্যান্সার

প্রস্টেট ক্যান্সার খুবই ধীরগতিসম্পন্ন ক্যান্সার অর্থাৎ slow growing cancer এবং শরীরের দূরবর্তী অঙ্গে ছড়িয়ে গেলেও (metastasis) এই ক্যান্সারকে যথাযােগ্য চিকিৎসায় স্থিতিশীলতা দেওয়া সম্ভব।

সাধারণভাবে প্রষ্টেটে যে ধরনের ক্যান্সার দেখা যায়, তার নাম অ্যাডিনােকারসিনােমা (adenocarcinoma)।

Prostate Gland Removal | Health Plus
প্রস্টেট ক্যান্সার

খুব অল্প শতাংশ অ্যানাপ্লাস্টিক (anaplastic) ক্যান্সারও দেখা যায়, যা খানিকটা উগ্র প্রকৃতির। প্রাথমিক স্তরে ধরা পড়লে প্রষ্টেট ক্যান্সারকে নিরাময় করা সম্ভব।

কিন্তু রােগটি যখন বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌছে যায় অর্থাৎ তৃতীয় বা চতুর্থ স্তরে অর্থাৎ হাড়ে, ফুসফুসে বা অন্য কোনাে অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে, তখন রােগটির চিকিৎসা সীমিত হয়ে যায়, রােগীর কষ্ট বাড়ে, যন্ত্রণা বাড়ে, শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে।

প্রস্টেট ক্যান্সারের পরীক্ষা PSA

প্রস্টেট ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা আছে ধরে নিয়ে সাধারণভাবে রক্তের যে- পরীক্ষাটি করা হয়ে থাকে, তার নাম PSA বা Prostate Specific Antigen পরীক্ষা।

এটির স্বাভাবিক মাত্রা ধরা হয় 4 ng/mL। PSA মাত্রা যদি এর থেকে বেশি হয়, তখন মনে করা হয় প্রস্টেট ক্যান্সার থাকতে পারে।

তাই এই রােগের অন্যান্য পরীক্ষানিরীক্ষাগুলিও করে নেওয়া হয়। আসলে PSA হল এক ধরনের প্রােটিন যা প্রস্টেট গ্রন্থির কোষ থেকে নিঃসূত হয়।

সব বয়সের পুরুষ মানুষেরই এটি তৈরি হয় কম মাত্রায়, তবে ক্যান্সার-প্রস্টেট হলে এটির মাত্রা বেড়ে যায়। যেখানে অবশ্যই মনে করিয়ে দেওয়া উচিত প্রস্টেট ক্যান্সার না হওয়া সত্ত্বেও।

কিছু ক্ষেত্রে PSA বাড়তে পারে, যেমন প্রষ্টেটের সাধারণ বৃদ্ধি, প্রষ্টেটের প্রদাহ। ইত্যাদিতে।

এতৎসত্ত্বেও বলব, PSA কিন্তু প্রস্টেট ক্যান্সার নির্ণয়ে খুব বড়াে ভূমিকা নেয়। তাই সব পুরুষ মানুষেরই উচিত 50-এর উপর বয়স হয়ে গেলে বছরে অন্তত একবার PSA পরীক্ষা করে নেওয়া।

 প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা পদ্ধতিগুলি

চিকিৎসা পদ্ধতিগুলি  সংক্ষেপে বলা যাক। এই রােগের চিকিৎসায় যেসব ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলি হল, শল্য-চিকিৎসা প্রস্টেট গ্রন্থি সম্পূর্ণ কেটে বাদ দেওয়া, অথবা প্রষ্টেটের শুধুমাত্র টিউমারটিকে কেটে বাদ দেওয়া; রেডিওথেরাপি বা বিকিরণ চিকিৎসা; কেমােথেরাপি বা ঔষধ চিকিৎসা; হর্মোন চিকিৎসা— এই হর্মোন চিকিৎসায় যেমন হর্মোন-ওষুধ খাওয়ানাে হয়, তেমনই শল্য-চিকিৎসা করে রােগীর দুটি টেসটিস (Testis)-কে কেটে বাদ দেওয়া হয়; এছাড়াও রয়েছে ইমিউনােথেরাপি ইত্যাদি।

প্রস্টেট ক্যান্সার বেড়ে চলেছে কেন ?

একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আজ থেকে 50/60 বছর আগেও ভারতে প্রস্টেট ক্যান্সারের এত আধিক্য ছিল না, যা বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বােঝাই যায়, আমাদের জীবনযাত্রার মান এবং শৈলীকে আমরা যে- পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছি, তা প্রস্টেট ক্যান্সারের পক্ষে অনুকূল।

তাই এখনই আমাদের জোর দিতে হবে প্রতিরােধ বা prevention-এর ওপর যাতে এই ক্যান্সার থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি।

Facts and Statistics | ZERO - The End of Prostate Cancer
প্রস্টেট ক্যান্সার বেড়ে চলেছে

প্রতিরােধের কথায় যাবার আগে প্রস্টেট ক্যান্সারের কিছু বর্তমান তথ্য এখানে তুলে ধরবার চেষ্টা করি। বিশ্বে প্রস্টেট ক্যান্সার, আক্রান্ত সব ধরনের ক্যান্সার রােগীর সংখ্যার নিরিখে এখন দ্বিতীয় স্থানে এবং পুরুষদের মধ্যে যে ছটি ক্যান্সারের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, একটি এই প্রস্টেট ক্যান্সার।

এক সমীক্ষায় (2001) বলা হয়েছে। 2030 সালের মধ্যে পৃথিবীতে 17 লক্ষ নতুন প্রস্টেট ক্যান্সার রােগীর বােঝা বাড়বে এবং 4 লক্ষ রােগীর মৃত্যু ঘটবে ।

এই রােগের হার সবচেয়ে বেশি অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যাণ্ড, পশ্চিম এবং উত্তর ইউরােপ, উত্তর আমেরিকায় (এসব দেশে এক লক্ষে গড়ে 104 জনের)। এইসব দেশের তুলনায় এশিয়া এবং আফ্রিকায় অনেকটাই কম (এক লক্ষে গড় 5 জন)। ভারতে কিন্তু প্রস্টেট ক্যানলারে আক্রান্ত হবার ঘটনা বেড়েই চলেছে, এই সমীক্ষাতেই বলা হয়েছে। (N.N. Perin, Global variation in cancer incidence and mortality, Curr. Sci. 2001, 81; P. 465-474)|

ভারতে প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া, স্থিতিশীল থাকা এবং মৃত্যুর হার নিয়ে যেসব সমীক্ষা ভারতের বিভিন্ন শহরে করা হয়েছে, তা কিন্তু ভয়াবহ। দিল্লি, কলকাতা, পুণে এবং তিরুবনস্তপুরম শহরের Population Based Cancer। Registry (PBCR) থেকে জানা যাচেছে এই শহরগুলিতে প্রস্টেট ক্যান্সার পুরুষদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে; বেঙ্গালুরু, মুম্বাই শহরে এটি তৃতীয় স্থানে ।

এবং ভারতের অন্যান্য স্থানে সেখানকার PBCR অনুযায়ী এই ক্যান্সার এক থেকে দশের মধ্যে। আরও ভয়ঙ্কর কথা বলা হয়েছে ওই সমীক্ষায় 2020 সালের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। (P.K. Julka et al, Institute Rotary Cancer Hospital, AIIMS, New Delhi, 2008-2009)|

খবরে প্রকাশ, এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতের পুণে শহরে প্রতি মাসে 40/50 জন নতুন প্রস্টেট ক্যান্সার রােগী পাওয়া যাচ্ছে। (T.O.I., 29 Sept. 2013)। এ তাে সত্যিই ভয়ঙ্কর অবস্থা।

সুতরাং, আজ যখন বিশ্বে প্রতিবছর 82 লক্ষ ক্যান্সার রােগীর মৃত্যু ঘটে, তার মধ্যে ছভাগের একভাগ অর্থাৎ প্রায় 14 লক্ষ মারা যান প্রস্টেট ক্যান্সারে (WHO, 2012) এবং বিজ্ঞানীরা যখন বলছেন, প্রতি আড়াই মিনিটে একজন মানুষ প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে, রােগীর মৃত্যু ঘটছে, তখন তাে চিন্তা করতেই হবে খুবই গুরুত্বসহকারে এই বিশেষ রােগটি থেকে পরিক্রাণ পাব কীভাবে?

এমন পরিবেশ, জীবনশৈলী, সচেতনতা, অভ্যাস সৃষ্টি করতে হবে, যাতে প্রস্টেট ক্যান্সারের সমস্ত ঝুঁকিকে এড়িয়ে যেতে পারি, দূর করতে পারি এবং ফলত এর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারি। আসুন প্রতিরােধের উপায়গুলি জেনে নিই এবং সেগুলিকে জীবনমুখী করে তুলি।

প্রস্টেট ক্যান্সার প্রতিরােধের উপায়

1. মাংস, ডিম, দুগ্ধজাত খাদ্যবস্তু কমানাে :

সমীক্ষায় দেখা গেছে যারা যত বেশি প্রাণীজ চর্বি খেয়ে থাকেন (মাছের চর্বি ছাড়া), তাদের প্রস্টেট ক্যান্সার হবার ঝুঁকি বাড়ে। মাংস, ডিম এবং দুগ্ধজাত পদার্থ থেকে এমন চর্বি প্রচুর মেলে। সুতরাং চর্বি খাওয়া কমান।

2. অত্যধিক ভাজা খাদ্যবস্তু এড়িয়ে চলুন :

যখন কোনাে খাদ্যবস্তুকে উচ্চতাপে অত্যধিক ভাজা হয় বা ঝলসানাে হয় (firying or grilling), তখন খাদ্যবস্তুর উপরিতলে তৈরি হয় ক্যান্সার উৎপাদক পদার্থ।  (carcinogen)। উদাহরণস্বরূপ, মাংসকে ঝলসানাে হলে সৃষ্টি হয় heterocyclic amines এবং  polycyclic aromatic hydrocarbons, একই তেলে বারবার ভাজা হলে সৃষ্টি হয় aldehydes। এসবই carcinogens, যা প্রস্টেট ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

3. নেশা :

ধূমপান, তামাকজাত পদার্থের ব্যবহার একেবারে বন্ধ করুন, মদ্যপান একেবারে কমিয়ে ফেলুন।

4. প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি খান :

সবুজ সবজি খান, সিম, কড়াইশুটি, মটরশুটি, মাশরুম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, সবুজ ফুলকপি, মুলাে (এদের মধ্যে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা ক্যান্সার উৎপাদক পদার্থকে ধ্বংস করতে পারে) এবং রসুন, পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ জাতীয় সবজি (এসবের মধ্যে আছে ক্যান্সার-বিরােধী অর্গানােসালফার পদার্থ)। এসব প্রচুর পরিমাণে খান আর প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে ফেলুন।

5. হলুদ ও কমলা রঙের সবজি খান :

গাজর, কুমড়াে, রাঙা আলু ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যারােটিনয়েড থাকে যা প্রস্টেট ক্যান্সার থেকে আমাদের রক্ষা করে।

6. টমেটো খান :

বিভিন্ন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে শারীরিক প্রতিরােধ তৈরি করতে টমেটোর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে প্রচুর গবেষণাও হয়েছে। টমেটোতে রয়েছে ক্যান্সার-বিরােধী পদার্থ লাইকোপিন যা নিয়মিত খেলে। প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি 40 শতাংশ কমিয়ে ফেলা যায়।

7, ব্যায়াম করুন

সাধারণ যে সব শারীরিক ব্যায়াম রয়েছে ,সেগুলি নিয়মিত অভ্যাস করলে প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটা কমানাে যায়। এগুলি হল হাঁটা, ছােটা, সাঁতার, সাইকেল চালানাে, নৃত্য ইত্যাদি। প্রতিদিন অন্তত ২৫ মিনিট ব্যায়াম করুন

৪, শরীরের  ওজন স্বাভাবিক রাখুন

মোটা মানুষের প্রোস্টেট ক্যান্সারের  ঝুঁকি বেশি। সুতরাং এক্ষেত্রে ব্যায়াম করে, চবি পাওয়া নিঃ সুষম খাবার খেয়ে সুস্থ স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখুন।

9 ) সব রকম সয়াবিন খান

সোয়াবিনের মাধ্যে রয়েছে প্রোস্টেট ক্যান্সারের, বিরোধী বেশ কিছু পদার্থ যথা, প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর, ফাইটেট, ফাইটোস্টেরল, স্যাপােনিন, লিগনান, আইসােফ্লেভন।

১০), মাছ খান বেশি

অনেকগুলি গবেষপার সমীক্ষায় দেখা গেছে মাছের মধ্যে থাকা ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, যাকে আমরা সাধারণ কথায় উত্তম চর্বি বলে থাকি, তা প্রস্টেট ক্যাপারের ঝুঁকি কমায় অনেকটাই। তাই মাছ খান বেশি।

আরও কিছু কথা

সত্যি বলতে কী প্রস্টেট ক্যান্সারের একেবারে সঠিক কারণ সবটা এখনও জানা যায়নি। তাই অনেক গবেষক সন্দিহান যে প্রস্টেট ক্যান্সার আদৌ প্রতিরােধ করা যায় কি না।

কিন্তু এই ক্যান্সারের ঝুঁকির দিকগুলি যেহেতু অনেকটাই বর্তমানে জানা সম্ভব হয়েছে, তাই সেই সমস্ত ঝুঁকি জীবন থেকে দূর করতে পারলেই প্রস্টেট ক্যান্সারকে বহুলাংশে  প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বহু গবেষক।

সংক্ষেপে তাই বলা দরকার আরও একবার। প্রতিদিন অন্তত 2 কাপ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল খান, শারীরিকভাবে নিজেকে সক্রিয় রাখুন এবং সুস্থ স্বাভাবিক শারীরিক ওজন বজায় রাখুন, আর তা হালই প্রাস্টেট ক্যান্সার থেকে অনেকাংশেই মুক্তির পথ খুঁজে পাবেন।

তথ্যসূত্র: মূল লেখার ভিতরে দেওয়া আছে।

 

ডা. শঙ্করকুমার নাথ      WhatsApp Image 2020-06-14 at 15.45.23

পেশায় চিকিৎসক, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ,

কলকাতা মেডিক্যাল
কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। জন্ম ১
জানুয়ারি, ১৯৫০ কলকাতার
তালতলায়। পেশার বাইরে তাঁর নেশা
সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত, নাটক এবং
অঙ্কন। সম্পাদনা করেন দুটি সাহিত্য
পত্রিকা। উনবিংশ শতাব্দীর
কলকাতা-বিষয়ে তিনি নিরন্তর গবেষণা
করে চলেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত
গ্রন্থাগারটি পাঁচ হাজারেরও বেশি
রেফারেন্স পুস্তকে ঠাসা। বর্তমানে
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর
বিশ্ববিদ্যালয় এবং বর্ধমান
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরিয়েন্টেশন কোর্সে
নিয়মিত পড়ান। বাল্যকাল থেকেই তাঁর
আর এক প্যাশন জ্যোতির্বিজ্ঞানচর্চা, তাই
নিয়মিত আকাশচর্চা করেন আধুনিক
টেলিঙ্কোপ সহযােগে। কলকাতা
অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারে তিনি এই বিষয়ে
লেকচারার। বর্তমানে তিনি তালতলা
পাবলিক লাইব্রেরির (১৮৮২ সালে
প্রতিষ্ঠিত) সভাপতি এবং ফ্রি ক্যানসার
সেন্টার অঙ্কোলিঙ্ক’-এর সভাপতি। তাঁর
লেখা এবং সম্পাদিত পুস্তকগুলি : টেক্সট
বুক অফ অ্যানাটমি এ্যান্ড ফিজিয়ােলজি,
কলকাতায় নজরুল, সাংবাদিক
নরেন্দ্রনাথ সেন ও দি ইন্ডিয়ান মিরর
পত্রিকা, সুস্থ থাকার সহজ উপায়,
জ্যোতির্বিদ্যার খােশখবর, পূর্ণ
সূর্যগ্রহণ-২০০৯, শুক্রের সূর্য-
সংক্রমণ-২০১২, রাধানাথ শিকদার :
তথ্যের আলােয়, কলকাতা মেডিক্যাল
কলেজের গােড়ার কথা ও পণ্ডিত
মধুসুদন গুপ্ত ইত্যাদি। ডা. নাথ ২০১৪
সালে রবীন্দ্র পুরস্কার পেয়েছেন

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

2 thoughts on “প্রস্টেট ক্যান্সার প্রতিরােধ

Leave a Reply

Next Post

বিশিষ্ট আকাশবিজ্ঞানী অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কিছুসময়

5 (1) সাক্ষাৎকার ড. অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়-আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞানী, প্রথমজীবনে শিক্ষক ছিলেন। আজও তার ছাত্রগন  সাধারণ মানুষকে বিজ্ঞান মনস্ক করার জন্য নিরলস প্রয়াস চালাচ্ছেন। তার এই প্রচেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।তার ছাত্র জীবনের কথা, চিন্তা ভাবনা পাঠককে অনুপ্রাণিত করবে এই আশায় বিজ্ঞান দরবারের এই সাক্ষাৎকার। বিশিষ্ট আকাশবিজ্ঞানী অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কিছুসম য় প্রশ্ন […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: