প্লুটো (Pluto) কে সৌরজগতের মূলগ্রহ হিসেবে রাখা হল না কেন?

5
(2)

ডা. অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

সৌরজগতের সবচেয়ে বাইরের গ্রহ অর্থাৎ নবম গ্রহ প্লুটো (Pluto), আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯৩০ সালে। ২০০৬ সালের ২৪ আগষ্ট পর্যন্ত পৃথিবীর সব দেশের পাঠ্যপুস্তকে লেখা ছিল, সৌরজগতের নবম ও সবচেয়ে বাইরের গ্রহ হল প্লুটো (Pluto)। কিন্তু এই তারিখটির পরে প্লুটো (Pluto)র শনাক্তকরণ হল, সৌরজগতের মূল গ্রহের তালিকার বাইরে একটি বামন গ্রহ হিসেবে।

এই তারিখ থেকে স্থির হল, সৌরজগতের মূল গ্রহের তালিকায় থাকবে আটটি গ্রহ, তারা হল
বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।

কিন্তু এই সিদ্ধান্তের কারণ কী? আর কেই বা নিল এই সিদ্ধান্ত ?

জ্যোতিবিজ্ঞানীদের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক সংস্থাইন্টারন্যাশনাল অ্যাষ্ট্রনমিক্যাল ইউনিয়ন                 (Inter- national Astronomical Union,সংক্ষেপে IAU) এই সংস্থার সাধারণ সমাবেশ (General Assembly) অনুষ্ঠিত হয় তিন বছর পর পর। ২০০৬ সালের আগষ্ট মাসে এই সাধারণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্ৰাসে, এবং এই সমাবেশে সারা পৃথিবীর সব দেশ থেকে প্রায় আড়াই হাজার জ্যোতির্বিজ্ঞানী জড়াে হয়েছিল।

2-%d0%b0%d1%82%d0%bc%d0%be%d1%81%d1%84%d0%b5%d1%80%d0%b0-%d0%bf%d0%bb%d1%83%d1%82%d0%be%d0%bd%d0%b0

জ্যোতির্বিজ্ঞানের কোনও ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা হল এই (IAU)-র। ২০০৬ সালের
২৪ আগষ্ট এদের এই সাধারণ সমাবেশে, সৌরজগতের মূল তালিকায় প্লুটো (Pluto)কে
আদৌ রাখা হবে কিনা, এই নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে ভােটাভুটি হয়।

আর এইখানেই অধিকাংশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী মত পােষণ করেন, এখন থেকে প্লুটো (Pluto)কে আর মূল গ্রহের তালিকায় না রেখে, বামন গ্রহ হিসেবে গন্য করা। আর এই সিদ্ধান্তের কারণ কী, তা বিশ্লেষণ করে দেখার আগে, প্লুটো (Pluto) কেমন করে আবিষ্কৃত হয়েছিল, সেই কাহিনিটুকু আগে বলে নিই।

প্রাচীনকালে শনিকেই মনে করা বা সবচেয়ে দূরের গ্রহ আরও দূরে কোনও গ্রহ থাকতে পারে, এ কথা কারাের কল্পনাতেও ছিল না। শনি পেরিয়ে, অনেক দূরে ছিল শুধু স্থির নক্ষত্রদের জগৎ, আর কিছুই নয়।

তাছাড়া সূর্য, চন্দ্র ও পাঁচটি গ্রহ নিয়ে মােট সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল সাত, আর সাত হচ্ছে একটা পূত সংখ্যা।

তাই সব কিছুই ঠিকঠাক মিলে গিয়েছিল, নতুন করে আর খোঁজ নেবার কিছুই ছিল না। প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে মানুষের মনে। এরকম একটা দৃঢ় বিশ্বাস দানা বেঁধে ছিল, সেটা হল পৃথিবীকে বাদ দিলে
আর মাত্র পাঁচটি গ্রহের অস্তিত্বের ধারণা, তারা হল বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি।

এ খবর ব্যাবিলন শহরের জ্যোতির্বিদরাও জানতেন, আর ভারত ও চিনের জ্যোতির্বিদরাও জানতেন। পাঁচ হাজার বছর ধরে মানুষ কল্পনাও করতে পারেনি যে সূর্যের আরও গ্রহ আদৌ থাকতে পারে।

তাই আজ থেকে প্রায় দুশাে বছর আগে যখন উইলিয়ম হার্শেল ইউরেনাস  গ্রহটিকে আবিষ্কার করলেন, তখন সারা বিশ্বে একটা রীতিমত হইচই পড়ে গিয়েছিল এবং প্রবল একটা উত্তেজনার সঞ্চার হয়েছিল, সেটা ঠিক এখন আন্দাজ করা নিশ্চয়ই সম্ভবপর নয়।

এখানে একটা প্রশ্ন স্বভাবতই মনে আসে— আগেকার দিনে সবারই জানা ছিল, সূর্যের চারপাশে ঘুরছে ছ’টি গ্রহ, বুধ থেকে শনি পর্যন্ত। স্মরণাতীত কাল থেকেই এদের অস্তিত্বের কথা মানুষের জানা ছিল।

তবে কেন ইউরেনাস এবং তার পরেও দুটো গ্রহ নেপচুন ও প্লুটো (Pluto)র অস্তিত্ব মানুষের নজরে এত পরে ধরা পড়ল? এর কারণটা কী ?

এর কারণ একটাই। শনি পর্যন্ত সবকটি গ্রহই রাতের আকাশে খালি চোখে দেখা যায়, কারণ তারা প্রত্যেকেই যথেষ্ট উজ্জ্বল। কিন্তু খালি চোখে ইউরেনাস নেপচুন বা প্লুটোকে রাতের আকাশে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভবপর নয়।

এই তিনটি গ্রহ মানুষের দৃষ্টিতে না ধরা পড়ার সবচেয়ে বড় কারণটি হল, এদের উজ্জ্বলতার অভাব। যথেষ্ট ভাল দূরবীন না হলে, এই পরের তিনটি গ্রহের গতিবিধি দেখা একেবারেই সম্ভবপর নয়, তার কারণ এদের।
অবস্থান সূর্য থেকে অনেক অনেক দূরে। ঠিক সেই জন্যই শক্তিশালী দূরবিন
আবিষ্কারের আগে, ইউরেনাসকে গ্রহ বলে চেনা একরকম অসম্ভব ছিল।

যদিও গ্যালিলিও ১৬০৯ সালে তার দূরবিনের মধ্য দিয়ে আকাশের দিকে প্রথম তাকিয়েছিলেন, কিন্তু সে দূরবিন তেমন শক্তিশালী মােটেই ছিল না। যথেষ্ট শক্তিশালী দূরবিন তৈরি করে ইউরেনাসকে গ্রহ বলে চিনে নিতে তাই, তারপরেও প্রায়দুশাে বছর অতিবাহিত হয়েছে।

১৭৮১ সালে ইউরেনামের আবিষ্কার হয়, কিন্তু নেপচুন আবিষ্কৃত হয়েছিল এরও ৬৫ বছর পরে ১৮৪৬ সালে।

নেপচুন গ্রহটির আবিষ্কারের কাহিনী খুব মজার, সেটুকু আগে বলে নিই। ঘটনার সূত্রপাত ইউরেনাসকে নিয়ে। ১৭৮১ সালে ইউরেনাসের আবিষ্কারের পর, বিজ্ঞানীরা প্রথমেই গ্রহটির কক্ষপথ গণনার কাজে মন দিলেন।

প্রায় ৪০ বছর পর্যবেক্ষণের পর ১৮২১ সালে ফরাসি দেশের গণিতবিদ অ্যালেকিস বােভার্ড ইউরেনাস গ্রহটির গতিবিধিতে কেমন একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ করলেন। তিনি দেখলেন, ইউরেনাসের চলার পথ গনণার হিসেব অনুযায়ী যা হওয়া উচিত, তা হচ্ছে না, বেশ একটু গরমিল থেকে যাচ্ছে।

স্থির করা হল কবে, কখন, কোথায় ইউরেনাসকে দেখতে পাওয়ার কথা। তত্ত্ব অনুসারে
ভুল ছিল না, কিন্তু কার্যত দেখা গেল, হিসাব মতাে সব কিছু ঘটছে না, মাঝে মাঝে ইইউরেনাস তার নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে একটু এগিয়ে পিছিয়ে আসছে।

বিচ্যুতির পরিমাণটা অবশ্যই বেশি নয়, কিন্তু ঠিক উপেক্ষার যােগ্যও নয়। কিন্তু সে সময় এই গরমিলের কারণটা কী, তা কারাে মাথায় আসেনি। এর চব্বিশ বছর পরে ১৮৪৫ সালে সমাধানটা খুঁজে পেলেন দু’জন গণিতবিদ একজন ইংল্যান্ডের অধিবাসী, নাম জন অ্যাডামস, আর একজন ফরাসি দেশের অধিবাসী, নাম আরবেইন ল্য ভেরিয়ে

এরা দুজনেই স্বাধীনভাবে পরম্পর নিরপেক্ষ ভাবে এই সিদ্ধান্ত করলেন, ইউরেনাসের কক্ষপথের বাইরে
এমন কোন অজ্ঞাত গ্রহ আছে যার আকর্ষণ ইউরেনাসের চলনে গােলমাল  ঘটাচ্ছে।

এখানে একটা কথা জানা প্রয়ােজন, নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র অনুসারে আমাদের সৌরজগতের প্রত্যেকটি গ্রহ অনা প্রত্যেক গ্রহকে আকর্ষণ করে, আর এই আকর্ষণের পরিমাণ নির্ভর করে গ্রহদের নিজস্ব ভর এবং তাদের মধ্যকার দূরত্বের ওপর।

এর ফলে যে কোন গ্রহের চলন অনেকটা নির্ভর করে ওই গ্রহটির ওপর অন্যান্য গ্রহগুলাের সমষ্টিগত আকর্ষণের ওপর। এই সূত্র অনুসারে ইউরেনাসের বেলায় সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ হওয়া উচিত
বৃহস্পতি ও শনি গ্রহের।

আসলে কিন্তু দেখা গেল যে তা নয়, ইউরেনাসের ওপর আরও এমন কোন একটা আকর্ষণ এসে পড়ছে যার ফলে এর গতিপথ,  গণিতের হিসাব অনুযায়ী যা হওয়া উচিত, তা না হয়ে যেন একটু এগিয়ে বা
পিছিয়ে আসছে।

তার মানেই হল, ইউরেনাসের কক্ষপথের বাইরে এমন আর একটি অনাবিষ্কৃত গ্রহ আছে, যার আকর্ষণের ফলে ইউরেনাসের চলার পথে একটু বিচ্যুতি ঘটছে।

অ্যাডামস ও ল্যভেরিয়ে দু’জনেই ছিলেন গণিতবিদ, তাই তারা অঙ্ক কষে নতুন একটি গ্রহের সন্ধান পেলেও, বাস্তবে রাতের আকাশে গ্রহটিকে চিহ্নিতকরতে পারলেন না। কি করে নতুন গ্রহটিকে রাতের –
আকাশে চিহ্নিত করা যায়, এই তখন হয়ে উঠল দুই গণিতবিদের প্রধান সমস্যা।

অবশেষে ল্য ভেরিয়ে তার গবেষণা সংক্রান্ত কাগজপত্র পাঠিয়ে ছিলেন বার্লিন মানমন্দিরের এক তরুন জ্যোতির্বিজ্ঞানীর কাছে, তার নাম যােহান গটফ্রায়েড গ্যালী।

এই কাগপত্র গ্যালীর কাছে পৌছয় ১৮৪৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর, আর ওই দিন রাতেই গ্যালী তার দূরবিনের সাহায্যে ল্য ভেৱিয়ের গননা মত নির্দিষ্ট অবস্থানে নতুন গ্রহটিকে দেখতে পেলেন এই নতুন আবিষ্কৃত গ্রহটির নাম দেওয়া হল নেপচুন, এইটিই আমাদের সৌরজগতের অষ্টম গ্রহ।

নেপচুনের আসল আবিষ্কারক কে তা নিয়ে এক সময়ে ইউরােপে অনেক বিতর্ক হয়েছে, তবে এখন এটা মেনে নেওয়া হয়েছে, এই আবিষ্কারের সাফ্যলের কৃতিত্ব অ্যাডামস ও ল্য ভেরিয়ে দু’জন
গণিতবিদেরই।

তবে আকাশে সর্বপ্রথম নেপচুনকে খুঁজে বের করার কৃতিত্ব নিশ্চয়ই সেই জন জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালীর।

এই গেল নেপচুন আবিষ্কারের কাহিনি। নেপচুন আবিষ্কৃত হল ১৮৪৬ সালে, কিন্তু নেপচুন আবিষ্কৃত হবার পরেও দেখা গেল, নেপচুনের চলাফেরা কিছু বিচ্যুতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ভাবলেন, সৌরজগতে কি নেপচুনের বাইরেও আরও এটি গ্রহ থেকে গিয়েছে। অনুসন্ধানের ভার হাতে নিলেন মার্কিন দেশের খ্যাতনামা জ্যোতির্বিজ্ঞানী পার্সিভাল লােয়েল।

লােয়েল ছিলেন বড় মাপের গণিতবিদও, অঙ্ক কষে তিনি স্থির করলেন, নতুন গ্রহটির কোথায় অবস্থান হওয়া উচিত। কিন্তু শক্তিশালী দূরবিন হাতে থাকা সত্ত্বেও, তিনি নির্দিষ্ট স্থানে গ্রহটি খুঁজে পেলেন না। এর পরে ১৯১৬ সালে লােয়েল প্রয়াত হলেন।

লােয়েলের মৃত্যুর চোদ্দ বছর পরে, সেই নির্দিষ্ট স্থানের কাছেই ১৯৩০ সালে, লােয়েল মানমন্দিরের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্লাইভ টমবাউ নতুন গ্রহটি আবিষ্কার করে বসলেন। সৌরজগতের এই নতুন নবম
গ্রহটির নাম দেওয়া হল প্লুটো (Pluto)।

সূর্য থেকে এই প্লুটো (Pluto) গ্রহটির দূরত্ব ৫৯১ কোটি কিলােমিটার। সূর্য থেকে প্লুটো (Pluto)র দূরত্বের একটা আভাস এভাবে পাওয়া যেতে পারে—আমরা পৃথিবী থেকে সূর্যকে, যতটা উফল দেখতে পাই, প্লুটো (Pluto)র ওপরিতলে দাঁড়িয়ে সূর্যকে দেখা যাবে এই ঔজ্জ্বল্যের এক হাজার ভাগের
এক ভাগ।

আই. এ. ইউ প্লুটো (Pluto)র ব্যাপারে এমন একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হলেন কেন?

এখন এই ব্যাপারে বিশদ বিশ্লেষণ করে দেখা যেতে পারে।এখন এটা সকলেরই জানা, গ্রহগুলাে সূর্যের চারপাশে পরিক্রমা করছে কেপলারের বিধি অনুসারে। এই বিধি অনুসারে গ্রহরা সূর্যকে সুনির্দিষ্ট বেগে
সুনির্দিষ্ট পথে পরিক্রমন করছে, আর পরিক্রমণের পথ এক একটি উপবৃত্ত (Ellipse)—অর্থাৎ বৃত্তের মতাে একেবারে গােল না হয়ে একটু লম্বাটে ধরণের।

বলা যেতে পারে, পথগুলাে বৃত্তের মতাে না হয়ে একটা ছোট মুরগীর ডিম যেমন একেবারে গােল নয়, একদিকে সামান্য একটু চাপা, সেই রকম। বৃত্তের কেন্দ্র হল একটা বিন্দু, আর এই বিন্দু হতে পরিধির ওপর যে কোনও বিন্দুর দূরত্ব সমান।

কিন্তু উপবৃত্তের বেলায় তা নয়, উপবৃত্তের দুটি নাভি (Focus) থাকে, আর এই দুটির নাভির মধ্যে একটিতে সূর্য অবস্থিত। এই উপবৃত্তাকার কক্ষের দরুন,সূর্য থেকে যে কোনও গ্রহের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে
কিছুটা হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে, জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায়,গ্রহ যখন সূর্যের সবচেয়ে কাছ থাকে সেই অবস্থানকে বলা হয় অনুসূর (Perihelion) অবস্থান, আর পরিক্রমা করতে করতে গ্রহ যখন সূর্যের সবচেয়ে দূরে থাকে, এই অবস্থানকে বলা হয় অপসূর (Aphelion) অবস্থান।

এই দুই অবস্থানে সূর্য থেকে গ্রহের যে দূরত্ব হয়, তাদের গড়কে সূর্য থেকে গ্রহটির “গড় দূরত্ব” বা সংক্ষেপে শুধু দূরত্ব বলা হয়।

উপবৃত্তটিকতটা প্রায় বৃত্তের মতাে অথবা বেশ লম্বাটে ধরণের, তা নির্ভর করে তার উৎকেন্দ্রতা’ (Eccentricty)-র ওপর। উৎকেন্দ্রতা যত কম হবে, উপবৃত্ত ততটাই প্রায় বৃত্তাকার, আর উৎকেন্দ্রতার মান যত বেশি হবে, উপবৃত্ত তত লম্বাটে ধরণের।

উৎকেন্দ্রতা ক্রমশ ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে যখন তার মান শূন্যতে পরিণত হয়, তখন উপবৃত্তটি একটি
বৃত্তে পর্যবসিত হয়ে থাকে। কিন্তু যখন উৎকেন্দ্রতার মান ক্রমশ বাড়তে থাকে, তখন পরিক্রমণ পথ ডিমের আকৃতি না হয়ে একটা লম্বা, পটলের আকৃতিতে পরিণত হয়—এদের বলা হয় সুদীর্ঘ উপবৃত্ত, অনেক ধূমকেতু সূর্যের চারপাশে পরিক্রমা করছে, কিন্তু তাদের পরিক্রমণ পথ এক একটি
সুদীর্ঘ উপবৃত্ত।

সূর্যকে একবার পরিক্রমণ করার সময় হ্যালির ধূমকেতুর লাগে ৭৫-৭৬ বছর। হ্যালির ধূমকেতুর পরিক্রমণ পথ একটি সুদীর্ঘ উপবৃত্ত।

এবারে পর্যালােচনা করতে পারি, সৌরজগতের কয়েকটি গ্রহের পরিক্রমণ পথের উৎকেন্দ্র। পৃথিবীর কক্ষপথের উৎকেন্দ্ৰতা হল ০.০১৭, খুবই কম,তার মানে হল সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর পরিক্রমণ পথ প্রায় বৃত্তাকার।

বৃহস্পতির কক্ষপথের উৎকেন্দ্ৰতা হল ০.০৪৮, শনির ০০৫৬, নেপচুনের
০.০০৯। এর মানেই হল, এই সব গ্রহের পরিক্রমণ পথ প্রায় বৃত্তাকার।

কিন্তু প্লুটো (Pluto)র  কক্ষপথের উৎকেন্দ্ৰতা হল ০ .২৫০ এর তাৎপর্যহল প্লুটো (Pluto)র পরিক্রমণ
পথ যথেষ্ট ডিমের আকৃতি, আর এর ফলে মাঝে মাঝেই প্লুটো (Pluto) নেপচুনের
পরিক্রমা পথের ভেতরে চলে আসে।

এমনটি হয়েছিল ১৯৭৯ সালে থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত, যখন প্লুটো (Pluto)র পরিক্রমার পথ ছিল নেপচুনের পরিক্রমার পথের অভ্যন্তরে অর্থাৎ ১৯৭১ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্লুটো (Pluto) ছিল
সৌরজগতের অষ্টম গ্রহ, আর সবচেয়ে বাইরের নবম গ্রহ হয়ে বিরাজমান ছিল নেপচুন।

এর থেকে একটা ব্যাপার সুস্পষ্ট, সেটা হল এই, সৌরজগতে সব গ্রহের সম্পূর্ণ বিভিন্ন কক্ষপথ বিচারে সূর্য তার পাশে পরিক্রমা করতে করতে প্লুটো (Pluto) কখনাে কখনাে অন্য গ্রহের পরিক্রমার পথের অভ্যন্তরে চলে আসে।

এটা একটা বড় রকমের অসঙ্গতি বলে গণ্য করা হল। সৌরজগত অন্য কোনও গ্রহের এমন আচরণ লক্ষ করা যায় না।

এখন আর একটা ব্যাপার বুঝে নেওয়ার আছে। পৃথিবী সূর্যের চারপাশে অনবরত পরিক্রমা করে চলেছে। পৃথিবী যে তলের ওপর সূর্যকে পরিক্রমা চলেছে, একে বলা হয় ক্রান্তিবৃত্তের তল (Ecliptic Plane)। এখন
এই তলটিকে আমরা চারিদিকে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত করতে পারি।

সৌর জগতের অধিকাশে গ্ৰহরাই সূর্যের চারপাশে পরিক্রমণ করছে, কিন্তু তাদের পরিক্ৰমণ পথ এই ক্রান্তিকের তলের ওপরেই অবস্থিত। কিন্তু প্লুটো (Pluto)র পরিক্রমণ পথ এই ক্রান্তিবৃত্তের তলের সঙ্গে প্রায় ১৭ ডিগ্রি কোণ করে চলে গেছে।

Головоломки Плутона - Формула света

সৌরজগতের আর কোনও গ্রহ সূর্যের চারপাশে এই ভাবে পরিক্রমণ করে না—এটাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্লুটোর দ্বিতীয় বড় রকমের অসঙ্গতি বলে গণ্য করেন।

প্লুটো (Pluto)র উপগ্রহ স্যারন (Charon) প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৭৮ সালে। আর এর পরে হাবল মহাকাশ দূরবিন প্লুটোর আরও দুটি উপগ্রহ আবিষ্কৃতকরে, এদের নাম রাখা হয় নিক্স (Nix) এবং হাইড্রা (Hydra)। যে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করার কথা এই প্রসঙ্গে, তা হল ‘ভারকেন্দ্র কাকে বলে। একে ইংরেজিতে বলা হয় (Center of Gravity) কোনও বস্তুকে হাতের ওপর রাখলে, আমরা নিচের দিকে একটা বল অনুভব করি।

বস্তুটি যদি খুব ভারী হয়, এই বল এত বেশি অনুভূত হয় যে আমরা বস্তুটিকে হাতের ওপর রাখতে পারি
না। কেন এই বল অনুভূত হয়। কারণ বস্তুটিকে পৃথিবী সর্বদা আকর্ষণ করছে। এই বলকেই বলা হয় অভিকর্ষীয় বল (Force of Gravity)।

যে কোনও বস্তুর ওপর পৃথিবী মােট যে অভিকর্ষ বল প্রয়ােগ করে, তাকেই বলা হয় বস্তুর ওজন। মনে রাখতে হবে, ওজন কার্যত একটা বল।

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র আমরা জানি, বল = ভর x ত্বরণ

সাধারণভাবে আমরা বস্তুর ওজন এবং ভরের মধ্যে পার্থক্য করি না। ভর বলতে কী বুঝব? যে কোন
বস্তুর মধ্যে কতটা জড় পদার্থ আছে সেটাই ভর। কিন্তু ওজন কার্যত একটি,বল— যে বলের দ্বারা পৃথিবী বস্তুকে আকর্ষণ করে তাকেই ভর বলে। যে  কোনও বস্তুর ভরকে, অভিকর্ষজ ত্বরণ বা g দিয়ে গুণ করলে তার ওজন পাওয়া যায়।

কাজেই ভর ও ওজন সম্পূর্ণ পৃথক। বস্তুকে পৃথিবীর যেখানেই নিয়ে যাওয়া হােক না কেন, তার ভর একই থাকবে। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে সেই একই বস্তুর ওজনও বিভিন্ন হবে।

আবার কোনও বস্তুকে আমরা অসংখ্য কণার সমষ্টি বলে মনে করতে পারি। এই সকল কণার প্রত্যেকের কিছু ভর আছে, অতএব ওদের কিছু ভার বা ওজন আছে।

আমরা এও জানি বস্তুর ওজন হচ্ছে বস্তুর ওপর পৃথিবী নিজ কেন্দ্রের দিকে যে আকর্ষণ বল প্রয়ােগ করে তাই। একটি বস্তুর কণাগুলির ওজন কতকগুলাে সমমুখী সমান্তরাল বলের উদ্ভব করে। এদের সংযােজন করলে যে লব্ধি বা সংহতি বল (Resultant) পাওয়া যায় তা বলগুলাের সমমুখী
ও সমান্তরাল।

এই লব্ধিকেই বলা হয় বস্তুর মােট ওজন, আর এই লব্ধি একটি বিশেষ বিন্দু দিয়ে নিচের দিকে কাজ করে, এই বিন্দুকেই বলা হয় ওই বস্তুর ভারকেন্দ্র (Center of Gravity)।

বস্তুকে যেভাবেই রাখা হােক না কেন, বস্তুর ভরকেন্দ্রের কোনরকম কোনও পরিবর্তন হবে না। এটা ভাল করে বুঝতে হবে, যেকোনও বস্তুর ভরকেন্দ্র একটি মাত্র বিন্দুতেই অবস্থিত থাকে।

একটি বৃত্তাকার চাকতি অথবা থালার ভারকেন্দ্র অবস্থিত ঠিক আর কেন্দ্র বিন্দুতে।

এখন আর একটা ব্যাপার বুঝতে হবে, সেটা হল সাধারণ ভারকেন্দ্র (Common Center of Gravity) কাকে বলে ?

একটা দাঁড়িপাল্লা দিয়ে এক কিলােগ্রাম চাল ওজন করতে হলে, পাল্লার এক দিকে এক কিলােগ্রাম
বাটখারা রাখা হল, তারপর অন্য পাল্লায় চাল দিয়ে যখন পাল্লার ওপরের দন্ডটি অনুভূমিক (Horizontal) হয়ে স্থির হয় তখন আমরা জানি ওই চাটুকুর ওজন এক কিলােগ্রাম।

যখন দুটি পাল্লা অনুভূমিক হয়ে স্থির হয়, তখন বাটখারার ভারকেন্দ্র এবং চালের ভারকেন্দ্র, এই দুটির সাধারণ ভারকেন্দ্র অবস্থিত থাকে পাল্লার ঠিক মধ্য বিন্দুতে।

এখন আমাদের পৃথিবীর ভারকেন্দ্র তার কেন্দ্রে, আর চাদের ভারকেন্দ্র তার কেন্দ্রে, কিন্তু এই দুজনের সাধারণ ভারকেন্দ্র অবস্থিত পৃথিবীর ধরাপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে।

ঠিক এমনি ভাবে সৌরজগতে আর যেসব গ্রহ, যাদের উপগ্রহ আছে, যেমন মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন, এদের বেলাতেও মূল গ্রহ ও যেকোনও উপগ্রহের সাধারণভারকেন্দ্র গ্রহের অভ্যন্তরে অবস্থিত।

কিন্তু প্লুটো (Pluto) এর ব্যতিক্রম। প্লুটো (Pluto) এবং আর উপগ্রহ স্যারনের সাধারণ ভারকেন্দ্র
অবস্থিত প্লুটোর অভ্যন্তরে না হয়ে সম্পূর্ণ বাইরে। অন্যান্য গ্রহের সঙ্গে প্লুটো (Pluto)র
এখানেও একটা বড় রকমের অসঙ্গতি।

অগ্নিপথ ৪ – নিষ্প্রভ অনল | কল্পবিশ্ব ...

আর একটি প্রসঙ্গ এখানে আনার নিতান্ত প্রয়ােজন, তা হল কুইপার বেল্ট বস্তু (Kuiper Belt Object) সংক্ষেপে (KBO)। সৌরজগতের উৎপত্তি সম্পর্কে কুইপারের একটি মতবাদ আছে আর এই মতবাদ এতদিন স্বীকৃত ছিল।

এই মতবাদ অনুযায়ী সূর্যের জন্ম একটি বিশাল নীহারিকা থেকে, নীহারিকার প্রচন্ড ঘূর্ণনের মধ্য দিয়ে উৎপন্ন হয়েছিল কতগুলাে প্রাকগ্রহ, ইংরেজিতে এদের বলা হয় Proto Planet আর প্রাকসূর্য           (Proto Sun)ও ধীরে ধীরে স্বীয় অভিকর্যের প্রভাবে সঙ্কুচিত হয়ে তার বর্তমান অমিত
তেজোদীপ্ত রূপ পাচ্ছিল।

প্রচন্ড ঘূর্ণনের জন্য স্বভাবতই উৎপন্ন প্রাকগ্রহগুলাের মধ্যে ভারী পদার্থগুলাে জমা হয়েছিল কেন্দ্রের দিকে, আর হাল্কা পদার্থ ছিল বহির্ভাগে। কিন্তু সূর্য যখন বর্তমান রূপ লাভ করল, তখন একটা বড় পার্থক্যের সূচনা হল।

তখন সূর্যের বিকিরণের প্রচন্ড চাপে প্রাকগ্রহগুলাের বাইরের হাল্কা অংশগুলাে ক্রমশ দূর থেকে দূরান্তরে বিতাড়িত হতে লাগল, এর ফলে প্রাকগ্রহগুলাে অনেক পরিমাণে তাদের দেহৰম্ভ হারিয়ে ফেললো, জন্ম পেল।

ঘন, ভারী সুগঠিত গ্রহগুলাে, যাদের দেহে ভারী পদার্থের পরিমাণ আনুপাতিভাবে অনেক বেশি। দেখা গেল বুধ, শুক্র, পৃথিবী এবং মঙ্গল গ্রহের ঘনত্ব বৃহস্পতি প্রভৃতি গ্রহগুলাের চেয়ে উল্লেখযােগ্য পরিমাণে বেশি,
এর কারণই হল সূর্য থেকে তাদের দুরত্বের তারতম্য, অর্থাৎ তাদের ওপর।

প্লুটো - দূরের ঐ শিশুটাকে কাছ থেকে ...

সৌর বিকিরণের চাপের তারতম্য। প্রাকগ্রহগুলাে অনেক পরিমাণে তাদের দেহবস্তু হারালাে, সেই সব বস্তু গেল কোথায় ?

কিছু চলে গেল বহু বহু দূরে ধূমকেতুদের আঁতুড় ঘরে, যেখান থেকে ধূমকেতু এক এক করে সূর্যের কাছে
চলে এসে সূর্যকে পরিক্রমা করতে থাকে। আর বেশকিছু বস্তু প্লুটো (Pluto)র পরিক্রম পথের অনেক বাইরে থেকে সূর্যকে পরিক্রম করতে লাগল, কুইপারের মতবাদ অনুযায়ী এদেরই বলা হয়ে থাকে কুইপার বেল্ট বস্তু’।

এটা এতদিন মতবাদ হয়ে রয়েছিল। কিন্তু ১৯৯২ সালে দুজন মার্কিন দাভে জুইট এবং জেন লুস
সর্বপ্রথম একটি সুইপার বেল্টবস্তুকে আবিষ্কার করে বসলেন, এর নাম দেওয়া।
হল 1992 QB1।

প্লুটোকে গ্রহ থেকে বাদ দিয়ে দেয়া ...

তারপরে দশ বছরের মধ্যে প্রায় একশাের ওপরে কুইপার বেল্ট বস্তু আবিষ্কৃত হয়েছে, এরা সকলেই প্লুটোর পরিক্রমণপথের বাইরে অনেক দূরত্বে সূর্যকে পরিক্রমা করে চলেছে।

সূর্য থেকে এদের দূরত্ব ৩০ থেকে ৫০ আলােকবর্ষ দূরে। এদের মধ্যে কেউ কেউ প্লুটোর চেয়ে ছোট,
আবার কেউ কেউ প্লুটোর চেয়ে অনেক বড়।

২০০৫ সালের ২৯ জুলাই আবিষ্কৃত হল জেনা (Xena) বলে একটি কুইপার বেল্ট বস্তু, আবিষ্কার
করলেন ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনােলজি (California Institute of Technology)-র বিজ্ঞানী মাইকেল ব্রাউন,আর এর ব্যাস প্লুটোর চেয়েও বড়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে এক বড় সমস্যা দেখা দিল, তাহলে প্লুটো (Pluto)র বাইরে যেসব গ্রহ আবিষ্কৃত হচ্ছে, তাদের সকলকে এখন থেকে সৌরজগতের মূল গ্রহের জোটে রাখা হবে? ভবিষ্যতে এই সংখ্যা প্রতিবছরই বেড়ে যাবে, তাহলে প্রত্যেক বছর সৌরজগতের গ্রহের সংখ্যা বাড়তেই
থাকবে।

তাই এই আবিষ্কার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মহলে এক আলােড়ন তুলে দিল, না আর প্লুটো (Pluto)কে সৌর জগতের মূলগ্রহের তালিকায় রাখা যায় না, আর এরই পরিণতিহা ২০০৬ সালের ২৪ আগষ্ট IAU-র সাধারণ সমাবেশে আড়াই হাজার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভােটাভুটি পর্ব এবং শেষকালে প্লুটোকে
বিদায় দিয়ে বামন গ্রহ হিসেবে রাখা।

এখানে আর একটা কথা বিশেষ ভাবে খেয়াল করতে হয়, আশির দশকে আবিষ্কার হয় সিসিডি ক্যামেরা (CCD-Camera), এই ইলেকট্রনিক ক্যামেরা অত্যন্ত শক্তিশামী—এই ক্যামেরা আর শক্তিশালী দূরবিন, এই দুইয়ের দ্বারাই সম্ভব হয়েছে কুইপার বেল্ট বন্ধুদের আবিষ্কার। এরা না আসলে এদের আবিষ্কার আরও অনেক পেছিয়ে যেত।

ডা. অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

সিনিয়র সায়েন্টিস্ট এম, পি, বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল
রিসার্চ এম, বিড়লা প্লানেটোনিয়াম, কলকাতা

লেখটি বিজ্ঞান অন্বেষক পত্রিকার বর্ষ ৪,সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর/২০০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত

WhatsApp Image 2020-06-25 at 12.45.07 AM

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 2

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

"টিকা বা ভ্যাকসিন"---কী ও কেন?

5 (2) আমরা একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাব বাঁচার জন্য কী লড়াইটাই না করে চলেছে। আমাদের চারপাশে অবস্থিত পশু, পাখি, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী তথা সমগ্র জীবকুল। খাদ্য অনুসন্ধান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও শত্রুর হাত থেকে নিজেদের বাঁচানাের সাথে সাথে সবসময় তারা লড়ে চলেছে রােগজীবাণুর হাত থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করার […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: