সর্দি

“এলাে যে শীতের বেলা।
শুরু হবে নাসা রন্ধ্রে রন্ধ্রে
জল ঝরানাের পালা”?

জনমানসে সর্দির সঙ্গে শীতের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান। তাই তৈরী থাকুন সামাল দিতে।  শীতকালে সর্দির প্রকোপ বেশী হলেও ঠান্ডার সঙ্গে এর সম্পর্ক প্রমানিত হয়নি। শীতের সময় আমরা ঘরের বাইরে কম সময় থাকি এবং বেশী সময় জনবহুল স্থানে (যেখানে সর্দিগ্রস্ত লােকের উপস্থিতি বেশী) থাকার ফলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ে।

সংক্রামক ব্যাধির মধ্যে সবচেয়ে বেশী সংক্রামক ব্যাধিটির নাম সর্দি। এমন কোনাে লােক নেই
যিনি সর্দিতে বহু শত বার ভােগেননি। যখন ভােগেন কষ্ট পান, তার পরেই ভুলে যান।

সর্দির জন্য সতর্কতা কজন মেনে চলেন ?

এ সময় সর্দি-কাশি ও জ্বর হলে কী করবেন

উপসর্গঃ

নাক দিয়ে জল ঝরা, গলা খুশখুশ (সাের থ্রোট), নাক বন্ধ, হাঁচি, কাশি, কখনাে কখনাে চোখ লাল হয়, গায়ে ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, অগ্নিমান্দ্য (ক্ষিধে কমে যাওয়া), জ্বর জ্বর ভাব, সামান্য জ্বর, ইত্যাদি।

রােগতত্ত্বঃ

ইংরেজীতে ‘কমন-কোল্ড’ নামে পরিচিত সর্দি একটি ভাইরাস জনিত রােগ। এটি
আমাদের শ্বাসযন্ত্রের উৰ্দ্ধাংশের একটি অসুখ। শতাধিক বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস এই রােগ সৃষ্টি করে। এরা হামেশা বদলানাের (মিউটেশন) ক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ায়, ভ্যাকসিন তৈরির সম্ভাবনা খুব কম।

সর্দি ভাইরাস দুভাবে ছড়ায়ঃ

(১) নিঃশ্বাস (এক্সহেলেশন), হাঁচি ও কাশির সঙ্গে বাতাসে ভাসমান কণা (এরােসল) হয়ে আশেপাশে যারা থাকে তাদের সবার শরীরে প্রশ্বাসের (ইনহেলেশন) সঙ্গে প্রবেশ করে। যাদের রােগ প্রতিরােধ
ক্ষমতা সে সময় কম থাকে তারা রােগাক্রান্ত হয়।
(২) রােগীর নাকের জল বা লালা হাত বা রােগীর ব্যবহৃত অন্য জিনিষের মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটে।

প্রতিষেধকঃ

এর কোনাে প্রতিষেধক নেই। সবচেয়ে ভাল উপায়। সর্দিগ্রস্ত লােকের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা। নিয়মিত হাত ধাওয়া অনেক অসুখের মত সর্দি ঠেকাতেও কার্যকর উপায়।

শিশুর সর্দি কাশি সারাতে ঘরোয়া ওষুধ ...

সম্ভাব্য জটিলতাঃ

কেবল সর্দি হলে তেমন কোনাে জটিলতা হবার কথা নয়। এ অসুখ নিজে নিজেই সারে। মুস্কিল হয় একেই সঙ্গে অন্য  ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে। বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য সমস্যাগুলি
হলােঃ ফ্যারিঞ্জাইটিস, সাইনুসাইটিস, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমােনিয়া, মধ্যকর্ণের প্রদাহ ইত্যাদি। যারা হাঁপানীতে ভােগেন, সর্দি তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই । বাড়িয়ে দিতে পারে। জটিলতার সৃষ্টি হলে চিকিৎসকের শরণ নেওয়া ভাল।

ওষুধঃ

নিরাময়কারী কোনাে ওষুধ নেই। অ্যান্টিবায়ােটিকেরও কোনাে ভূমিকা নেই। পঞ্চাশ বছর আগে পাঠ্যপুস্তকে ছিল এর চিকিৎসা করলে এক সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়, না করলে সাতদিন ভুগতে হয়’
সেই বাক্য আজও সত্য, সনাতন ‘ওয়েট এ্যান্ড ওয়াচ’ অর্থাৎ”অপেক্ষা করুন ও নজর রাখুন” এখনাে চালু পদ্ধতি।

লবণজলে গার্গল, নাকে লবণ জলের ড্রপ (চোখের জলের মত সামান্য নােনতা), ও বিশেষ
প্রয়ােজনে কষ্টদায়ক উপসর্গ অনুযায়ী বেদনা উপশমকারী ওষুধে কিছু আরাম মেলে। অ্যালার্জিরােধক ওষুধে নাকের জল ঝরা কমে, তবে অনেকের বেশী ঘুম পায়। এ ওষুধ খেয়ে গাড়ী চালানাে বা চলন্ত গাড়ির
দরজায় ঝােলা বিপজ্জনক।

ডাঃ জ্ঞানব্রত শীল

MBBS, DCH, Ph.D. (Medicine), DECD-WHO
(Moscow-Alexandria).

লেখাটি বিজ্ঞান আন্বেষক পত্রিকার বর্ষ ৬, সংখ্যা ৩ , মে-জুন ২০০৯ থেকে সংগৃহীত।

WhatsApp Image 2020-06-29 at 22.40.36

 

Leave a Reply

%d bloggers like this: