ঘরে বসেই ভিটামিন ডি

5
(1)

করোনাকে হারাতে ঘরে থেকেই কমান ভিটামিন ডি-র ঘাটতি:
করোনা ভাইরাসের কারণে দেশব্যাপী লকডাউনের কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল হয়ে চলছে আনলক পর্ব। তবু এক জায়গায় অনেক মানুষের জমায়েত বা অকারণে বাড়ির বাইরে বেরোতে বারণ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই সময় সংক্রমণ এড়াতে যেমন ঘরে থাকা প্রয়োজনীয়, তেমনই দরকার রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানো। নিয়ম মেনে কিছু পরামর্শ মেনে চলার কথা বলছেন ডাক্তারবাবুরা অনেকেই। পরিমাণ মত ফলমূল শাক সব্জি এবং দুগ্ধ জাত খাবার খেলে শরীরের ঘাটতি মিটবে অনেকটাই।

হোম কোয়ারেন্টিনে ভিটামিন ডি'র ...
ভিটামিন ডি

ভিটামিন ডি এর অন্যতম প্রধান উৎস হল সূর্যালোক।ঘরের বাইরে না বেরনের জন্য আমাদের  ভিটামিন ডি এর ঘাটতি ঘ্টতে পারে। তাই নিয়ম করে দিনে অন্তত পনের মিনিট থাকতে পারেন নরম(সকাল বা সন্ধ্যে) রোদে। এতে আপনার শরীরে সূর্যরশ্মি পৌঁছে দেবে ভিটামিন ডি। বিদেশে প্রচলিত সান বাথ এ এখন তাই দেশব্যাপী লোক আশার আলো দেখছেন।

 ভিটামিন ডি এর কার্যকারিতা:

ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম এর পরিমান বাড়িয়ে তোলে।

ভিটামিন ডি চোখের সমস্যা কে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

ভিটামিন ডি পেশী সংক্রান্ত সমস্যা দূর করে।

আমাদের শরীরে যে সকল ভিটামিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তার মধ্যে ভিটামিন ডি প্রথম সারিতে অবস্থান করে। ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গের পোষণে সাহায্য করে।

ভিটামিন ডি যেমন আমাদের শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস এর পরিমান বাড়িয়ে তোলে ঠিক তেমন ভাবেই দাঁত ও হাড় গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এর পাশাপাশি বেশ কিছু রোগের প্রতিষেধক হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে এখানেই শেষ নয় ভিটামিন ডি এর উপকারিতা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে রয়েছে। প্রথমেই আলোচনা করা যাক আমাদের শরীরে এটি ঠিক কি কি উপকার করে।

 কি কাজ করে ভিটামিন ডি আমাদের শরীরে?

ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম এর পরিমান বাড়িয়ে তুলে হাড়ের গঠনে সহায়তা করে। ভিটামিন ডি এর অভাবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ওজন বৃদ্ধি, বিষন্নতা, হার্ট এর বিভিন্ন সমস্যা এর মতো রোগগুলি।

সূর্যালোক ভিটামিন ডি- এরশরীরে তৈরী হওয়াতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন ডি এর স্বল্পতা শিশুদের শরীরে রিকেট এবং প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের শরীরে অস্টিওম্যালাসিয়া এর মতো রোগের সৃষ্টি করে থেকে।

Gothic Horror: The Effects Of Miss Havishams Confinement
 ভিটামিন ডি এর অভাবের সঙ্গে যুক্ত রোগ

 

গবেষকদের মতামত অনুযায়ী ভিটামিন ডি বেশ কিছু রোগের প্রতিষেধক হিসাবেও কাজ করে যথা – 2 ধরণের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি।
ভিটামিন ডি স্বল্পতার উপসর্গ :-

কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ লক্ষ্য করা যায় ভিটামিন ডি এর স্বল্পতার কারন স্বরূপ। সেগুলি হলো –
১) প্রায়-ই অসুস্থ হয়ে পড়া
২) ক্লান্তি বোধ করা
৩) বিষন্নতা
৪) অতিরিক্ত চুল পড়া
৫) কোনো আঘাত এর ঘা দেরিতে শুকোনো প্রভৃতি।

ভিটামিন ডি এর উপকারীতা:

ভিটামিন ডি এর কিছু নির্দিষ্ট উপকারিতা লক্ষ্যণীয় যা জেনে রাখা সবার জন্য আবশ্যক। সেগুলি হলো যথাক্রমে :

1) ভিটামিন ডি চোখের সমস্যা কে দূরে রাখতে সাহায্য করে :

বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে যাওয়ার সমস্যাকে দূরে রাখতে সহায়তা করে ভিটামিন ডি।
2) ভিটামিন ডি পেশী সংক্রান্ত সমস্যা দূর করে:

ক্যালসিয়াম এর সহায়তায় ভিটামিন ডি পেশী সংক্রান্ত সমস্যার অবসান ঘটায়। অনেকসময় আমাদের শরীরে পেশিতে টান লাগে,সেই বিষয় এড়িয়ে যাবেন না, মনে রাখবেন এগুলোই কিন্তু রিকেট এর মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
3) কোলেস্টেরোল কমাতে সাহায্য করে ভিটামিন ডি:

শরীরের জন্য খারাপ কোলেস্টেরোল কমাতে বিশেষত মহিলাদের ক্ষেত্রে স্ত্রীরজ কমে যাওয়ার পর কোলেস্টেরোল কমাতে এছাড়া হার্ট এর সমস্যা কমাতেও সাহায্য করে।

4) দীর্ঘকালীন মাথা ব্যথা এবং ওজন হ্রাস করতেও সাহায্য করে ভিটামিন ডি:

দীর্ঘদিনের মাথা ব্যথা এবং ওজন বিশেষত মহিলাদের ওজন হ্রাস করতে ভিটামিন ডি যথেষ্ট উপকারী।

প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি- এর পরিমান :-

জাতীয় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান নিত্যদিন কত পরিমানে ভিটামিন ডি শরীরে লাগবে তার পরিসংখ্যান পেশ করেছেন। সেটি নিম্নলিখিত:
1) 1-13 বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য 15 মাইক্রোগ্রাম।
2) 14-18 বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের 15 মাইক্রোগ্রাম।
3) 19-50 বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের 15 মাইক্রোগ্রাম।
করোনা আবহে বাড়ি বসেই নিজের ইমিউনিটি সিস্টেম বাড়িয়ে তুলতে তৎপর সকলেই। তাই নিয়ম করে যেই খাবারগুলি খেলে আপনি পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পাবেন তা হল:

ভিটামিন ডি এর উৎস:

ব্রিটিশ ডায়াটেটিক্স এসোসিয়েশন এর মতানুযায়ী সূর্যালোকের পাশাপাশি বেশ কিছু খাদ্যও ভিটামিন ডি আমাদের শরীরে তৈরী করতে সাহায্য করে। সেগুলি হলো :-

ভিটামিন ডি এর অভাবে যে খাবার খাবেন ...

১) মাছের তেলঃ

সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামি ডি থাকে। তাই রোজের খাদ্যতালিকায় টুনা, স্যালমন, সার্ডিনের মতো মাছ অবশ্যই রাখবেন। এছাড়া রোজ ডিমের কুসুম ও দুধ খাবেন। অরেঞ্জ জ্যুস, মাশরুম, সেরালও খাদ্যতালিকায় রাখা খুব প্রয়োজনীয়। এই সব খাবার রোজ খেলে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি হবে না।

২) কড লিভার অয়েল:

আপনি যদি মাছ খেতে ভালো না বাসেন, বা মাছের গন্ধ যদি সহ্য করতে না পারেন তাহলে রোজ কড লিভার অয়েল খান। রোজ এক চামচ করে কড লিভার অয়েল খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এতে শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি দেখা যায় না। এক চা চামচ কড লিভার অয়েল আপনার প্রতিদিনের প্রয়োজনের ৫৬ শতাংশ ভিটামিন ডি সরবরাহ করে।

Cod liver oil - Wikipedia
কড লিভার অয়েল

 

 

৩) শুকনো মাশরুম:

মাশরুমে কোলেস্টরেল কমানোর অন্যতম উপাদান ইরিটাডেনিন, লোভাষ্টটিন, এনটাডেনিন, কিটিন এবং ভিটামিন ডি থাকায় নিয়মিত মাশরুম খেলে উচ্চ রক্তচাপ (হাই ব্লাড প্রেসার) ও হৃদরোগ নিরাময় হয়।
মাশরুমের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম,ফসফরাস ও ভিটামিন-ডি আছে। শিশুদের দাঁত ও হাড় গঠনে এই উপাদানগুলো অত্যন্ত কার্যকরী।

ভিটামিন ডি'র অভাবে বাংলাদেশিরা

৪) ডিম্:

একটি বড় ডিম (৫০ গ্রাম) আমাদের শরীরে ৪১ আই. ইউ ভিটামিন ডি প্রদান করে থাকে। যারা মাছ খান না তাদের জন্য এটি ভিটামিন ডি এর একটি ন্যাচারাল উৎস। এবং একটি সহজলভ্য ইকোনোমিকাল ফ্রেন্ডলি খাবার বটে। তাই শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি এর অনেকটাই চাহিদা মেটায় ডিম। এতে হাড় শক্ত হয় এবং মাসল গ্রোথ হয় অনায়াসে।
৫) দুধ
৬) মাখন প্রভৃতি।

এগুলিকে নিজের খাদ্যসূচীতে যোগ করতে ভুলবেন না।

দেবাঞ্জলি বিশ্বাস

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 1

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

ঘরের দূষণে নানা অসুখ

5 (1)  ডঃ সােমা বসু নানা কারণে দূষক অর্থাৎ পলিউট্যান্ট এর প্রভাবে ঘরের মধ্যে দূষণ ঘটে। এই দূষক পদার্থগুলাে নানা উপায়ে আমাদের শরীরের স্বাভাবিকশারীরবৃত্তীয় ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে, ফলে শরীরের হােমিওস্টাসিস সিস্টেমবিঘ্নিত হয়। সেই সঙ্গে সঙ্গে এরা ডেকে আনে হাজারখানেক স্বাস্থ্য সমস্যা। মানুষের ক্ষেত্রে এই দূষণের ফলাফল খুব ব্যাপক। যেমনঃ […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: