ঘরের দূষণে নানা অসুখ

 ডঃ সােমা বসু

নানা কারণে দূষক অর্থাৎ পলিউট্যান্ট এর প্রভাবে ঘরের মধ্যে দূষণ ঘটে। এই দূষক পদার্থগুলাে নানা উপায়ে আমাদের শরীরের স্বাভাবিকশারীরবৃত্তীয় ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে, ফলে শরীরের হােমিওস্টাসিস সিস্টেমবিঘ্নিত হয়। সেই সঙ্গে সঙ্গে এরা ডেকে আনে হাজারখানেক স্বাস্থ্য সমস্যা।

মানুষের ক্ষেত্রে এই দূষণের ফলাফল খুব ব্যাপক। যেমনঃ

১)শ্বাসজনিত-আমরা যখন শ্বাস নিই, তখন প্রশ্বাসের মাধ্যমে বাতাসে থাকা বিভিন্ন দূষিত গ্যাস, পার্টিকুলেট, ডাস্ট শ্বাসনালি, ব্রঙ্কাই, ব্রঙ্কিওলস হয়ে ফুসফুসে ঢােকে। এই দূষক গুলাে এখানে থেকে বা রক্তের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে, শরীরে নানা সমস্যা তৈরী করে।

_______-____-_____-___-_

২) আঘ্রাণজনিত- বিভিন্ন দূষক গ্যাস, গন্ধ সৃষ্টিকারী কণা এবং ফিউম আমাদের নাসাপথের মিউকাস আবরণীর প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে আসতে পারে। এরফলে, মিউকাস ঝিল্লি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে নানা রােগ ডেকে আনে।মিউকাস ক্ষরণ বৃদ্ধি পায়।

৩) সংস্পর্শজনিত-অনাবৃত দেহত্বক মুখ ঠোঁট এবং চোখ বায়ু দূষকের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে এসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই দূষক পদার্থ গুলাে কিভাবে আমাদের শরীরের ক্ষতি করে?

আমাদের শরীরে কিভাবে এই দুষকগুলাে ক্ষতি করে তা জানতে গেলে আমাদের বুঝতে হবে এরা মানুষের দেহে কি কি ভাবে কাজ করে অর্থাৎ বিজ্ঞানের ভাষায় জানতে হবে এদের মােড অব অ্যাকশন। মােটামুটিভাবে এই দূষক
পদার্থগুলাে আমাদের শরীরের কোষে ৩টি উপায়ে কাজ করে। যেমন

১) উৎসেচক ওপরঃ আমাদের দেহে অনবরত ঘটে চলেছে নানা রাসায়নিক বিক্রিয়া। এই বিক্রিয়াতে লাগে নানা ধরণের উৎসেচক। দুষক পদার্থগুলাে এই উৎসেচক গুলাের সক্রিয়তার পরিবর্তন ঘটিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়াটিকে বিঘ্নিত করতে পারে। এতে কোষের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়।

২) কোষীয় অণুর সঙ্গে সংযুক্তিঃ—কিছুকিছু দূষক পদার্থ আছে যারা কোষ বা কোষীয় অণুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেহের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ভারসাম্যে বিঘ্ন ঘটায়। এর ফলেও কোষের স্বাভাবিক কাজ নষ্ট হয়। যেমন – –কার্বন মনােঅক্সাইড লােহিত রক্তকণিকারহিমােগ্লোবিনের সঙ্গেযুক্ত হয়ে অক্সিজেন
পরিবহনে বাধা দেয়।

৩)ক্ষতিকারক রাসায়নিক নিঃসরণঃ—বিশেষ কিছু ধরণের দূষক পদার্থ আছে, যাদের উপস্থিতিতে কোষে অত্যাধিক রাসায়নিক বস্তুর নিঃসরণ ঘটে। এতে কোযে মন্দ প্রভাব সৃষ্টি হয়। যেমন-কার্বন টেট্রা ক্লোরাইড বিশেষ ধরণের স্নায়ুকোষকে উদ্দীপিত করে বেশি পরিমানে এপিনেফিন এর নিঃসরণ ঘটায়।
অধিক পরিমানে নিঃসৃত এপিনেফিন যকৃত কোষবিনষ্টকরে।

কীটনাশক: ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ...

কি কি প্রভাব বিস্তারকারী শর্ত দূষকের বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী ?

বাইরের এবং আমাদের শরীরের বেশ কিছু আভ্যন্তরিন শর্ত বা ফ্যাকটর গুলাের উপস্থিতিতে দূষকের টক্সিসিট আরাে বেড়ে যায়। যেমন-

১। দূষকের ঘনত্ব ও ক্রিয়াকাল – মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর দূষকপদার্থের প্রভাবনির্ভর করে বাতাসে উপস্থিত দূষকের ঘনত্বও এক্সপােজারটাইম অর্থাৎ দূষকের প্রকটকালের ওপর।

২। দূষকের প্রকৃতি দূষণের প্রভাব বা মাত্রা কতটা হতে পারে তা নির্ভর করে দৃষকের রাসায়নিক প্রকৃতিক ওপর।

৩। যৌথক্রিয়া –২বা ২য়ের বায়ুদূষকের মিলিত রাসায়নিক বিক্রিয়ায়  বিষক্রিয়ার অর্থাৎ টক্সিটির মাত্রা বৃদ্ধিপায়। এই ঘটনাকে বলে যৌথক্রিয়া। এতে স্বাস্থ্যের ক্ষতি দ্রুত হয়।

৪। দৃষকের জৈব সক্রিয়তা —কোষ বা কোষীয় উৎসেচকের সঙ্গে বায়ু দূষকের রাসায়নিক সংবেদনশীলতাকে জৈব সক্রিয়তা বলে। যে দৃষক যত বেশি জৈবসক্রিয়, সেই দুষক তত বেশি ক্ষতিকারক।

৫। মানুষের বয়স ও লিঙ্গ —দূষণজনিত প্রভাব অর্থাৎ দূষণের কারণে শরীরখারাপ, এক একজনের এক রকম হয়। বেশির ভাগ সময়ই দূষণের মাত্রা বয়সের ওপর নির্ভর করে। বাচ্চা এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রেই বায়ুদূষক বেশি মাত্রায় প্রভাব ফেলে। তুলনায় যাঁরা যুবা, পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিরা কম আক্রান্ত
হন।

সহজ উদাহরণ হল সালফারডাইঅক্সাইড গ্যাস-এটি বয়স্ক মানুষের চেয়ে বাড়দের ওপর ৩গুন বেশি খারাপ প্রভাব ফেলে।

শুধু বাচ্চা বা বৃদ্ধ মানুষেরাই নন। নানা গবেষণায় দেখা গেছে যে পুরুদের তুলনায় মহিলাদের
বায়ুদূষকের প্রতি অধিক সংবেদনশীল। অর্থাৎ মেয়েরাই বেশি দূষণজনিত
ক্ষতির শিকার হন।
৬। মানুষের স্বাস্থ্যের অবস্থা —মানুষের স্বাস্থ্য নানা কারণে নির্ভর করে। নিম্নমানের মন্দ বা বেহিসেবি খাদ্যাভাব, অতিরিক্ত স্ট্রেস, স্ট্রন বা নানা রােগ-এসবই স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকে। এর ওপর যদি হার্ট, ফুসফুসের কোন স্থায়ী রােগ থাকে, তাও খারাপ স্বাস্থ্য খারাপ ডেকে আনে।

খারাপ স্বাস্থ্যের জন্য ধুমপানের অভ্যাসও যথেষ্ট দায়ী। মন্দ স্বাস্থ্য বায়ুদূষকের প্রতি অধিক সংবেদনশীল। স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে বায়ুদূষকের কারণে দূষণজনিত ফলাফল খুব সহজেই শরীরে দেখা দেয়। যেমন –
এমফাইসিমা রােগটি হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে ফরম্যালডিহাইড। অধূমপায়ী ব্যক্তিদের চেয়ে ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে এই রােগটি হওয়ার সম্ভবনা প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি।

৭।মানুষের পেশা- দূষণজনিত রােগ কত তাড়াতাড়ি কোন মানুষের দেখা দেবে, সেক্ষেত্রে মানুষের পেশাও একটি অন্যতম ভূমিকা পালন করে। পেশাগত কারণে যারা বেশি-বেশিদূষকের সংস্পর্শে আসেন, ফলে রােগের শিকারও হন বেশি।Nobobarta || Latest online bangla world news bd || নববার্তা

যেমন-বাস কন্ডাকটর, ড্রাইভার, ট্রাফিক পুলিশ প্রভৃতি পেশার লােকজনেরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাড়াতাড়ি দূষকের দুষণে রােগাক্রান্ত হবেন।

ইনডােরপলিউশন এক্ষেত্রে ডবল এক্সপােজার এর ভূমিকা পালন করে।

দূষণের ফলে স্বাস্থ্যের ওপর  সরাসরি কি প্রভাব পড়ে ?

হ্যা। এইসব দৃষনের প্রভাবে মানুষের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দেখা দেয় নানা রােগ। মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর সাধারণত দুই ভাবে প্রভাব পড়ে।

১।ক্ষণস্থায়ী প্রভাব বা অ্যাকিউট ইফেক্ট(Acute effect)

অ্যাকিউট ইফেক্ট দেখা দেয় বাতাসে দূষকের স্বল্প কালীন উপস্থিতির ফলে। অর্থাৎদুষক যতক্ষণ বাতাসে উপস্থিত থাকে ততক্ষণ এর প্রভাবে শরীরে থাকে কিন্তু দুষক অপসারিত হলেই মন্দ প্রভাব গুলাে চলে যায়। বায়ুদূষকের সঙ্গে সম্পর্কীয়

কয়েকটি অ্যাকিউট ইফেক্ট উপসর্গ-
ক) কার্বন মনােক্সাইড জনিতঃ এই গ্যাস দেহের কোষে অক্সিজেন সরবরাহকারী লোহিত রক্তকণিকার হিমােগ্লোবিনের সঙ্গে এবং পেশিকোষের অক্সিজেন সরবরাহকারী মায়ােগ্লোবিনের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে যায় ও কার্বোহিমােগ্লোবিন যৌগ তৈরি করে। এতে কলা-কোষে অক্সিজেন পরিবহন
ঠিকমতাে হয় না।

কারণ অক্সিজেন তুলনায় কার্বন মনােক্সাইডের হিমােগ্লাবিন আসক্তি অনেক বেশি। ফলে, অক্সিজেন কার্বোহিমােগ্লোবিন যৌগ থেকে কার্বন মনােক্সাইড প্রতিস্থাপিত করতে পারে না। দেহে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়।

এরফলে, মাথাধরা, ঝিমুনি, ক্লান্তি প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়। ঠিকমতাে চিকিৎসা না হলে এতে (মূলত অক্সিজেন অভাবে )অনেকসময় মৃত্যুও হতেপারে।

খ) সালফার ডাই অক্সাইড ঘটিতঃ এই গ্যাসে অ্যাকিউট প্রকটে শ্বাসনালিতে প্রদাহ অর্থাৎ ইনফেলেমেশন, অ্যাজমা, কাশি, রাইনাইটিসবা নাসিকার জ্বালা, নাক দিয়ে অনবরতজল পড়া, হাঁচি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা
দেয়।

গ) নাইট্রোজেন অক্সাইড ঘটিতঃ এই গ্যাসের অ্যাকিউট প্রকটে ফুসফুসীয় জ্বালা বা লাং, ইরিটেশন দেখা দেয়।

ঘ) কণা জনিতঃবিভিন্ন রকমের কণা, পার্টিকুলেট প্রভৃতির কারণে শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে ইরিটেশন সৃষ্টি হয়। সাময়িকশ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

ঙ)আলােক রাসায়নিকজারকঘটিতঃ এই জারকের অ্যাকিউট প্রকটের কারণে শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে ও চোখে ইরিটেশন হয়। অ্যাকিউট উপসর্গ তৈরি করে এমন একটি খুব পরিচিত আলােক-রাসায়নিক জারকের উদাহরণ হল ফরম্যাল্ডিহাইড।

চ) অন্যান্য গ্যাস জনিতঃ ওজন গ্যাস শ্বাসনালির জ্বালা সৃষ্টি করে। হাইড্রোজেন সালফাইড, মিথাইলও ইথাইল মারক্যাপট্যান প্রভৃতিঅতিরিক্ত উপস্থিতিতে শরীরে অস্বস্থি, মাথাধরা, আমান অবসাদ ইত্যাদি দেখা দেয়।

২। দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বা ক্রনিক ইফেকট (Chronic effect)

– দুষক পদার্থের দীর্ঘকালীন উপস্থিতিতে শরীরে ক্রনিক ইফেক্ট(Chronic effect)দেখা দেয়। ইনডাের পলিউশন ও বায়ুদূষণের যৌথ ফলাফলে বিভিন্ন ক্রনিক রােগ, অঙ্গ সংস্থানিক বিকৃতি এবং জন্মগত
এটি দেখা দিতে পারে। কয়েকটি খুব পরিচিত ক্রনিক ইফেক্ট(Chronic effect)

ক) ব্রঙ্কইটিসঃ    ইনডাের পলিউশনের অন্যতম কারণ সিগারেট ধূমপান ও অন্যান্য বায়ুদূষক যেমন-সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রাজেন ডাইঅক্সাইড এবং ওজোন গ্যাস ব্রঙ্কাইটিস সৃষ্টিকরে। এতে ফুসফুসে বায়ু পরিবহনকারী ব্রঙ্কাই, ব্রঙ্কিওল (শ্বাসনালি)তে স্থায়ী স্ফীতিও প্রদাহ ঘটে। ফলে, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, অতিরিক্ত মিউকাস ক্ষরণ এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট দেখা দেয়।

ব্রংকাইটিস: উপসর্গ, কারণ, চিকিৎসা ...

এসবই ব্ৰইটিসের উপসর্গও লক্ষণ।শুধুমাত্র উদ্বায়ী জৈব দূষকপদার্থজনিত ইনডাের পলিউশনেও এই ধরণের রােগ হতে পারে।

খ) এমফাইসিমাঃ    এমফাইসিমা হল বায়ুদূষকের কারণে হওয়া একটি অনারােগ্য ব্যাধি। সিগারেট ধুমপানজনিত দূষকের কারণে মূলত এটি হয়ে থাকে। এছাড়াও শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণ ও ইনডাের পলিউশন, বিশেষ করে ওজোন, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড প্রভৃতির কারণে
এমফাইসিমা রােগটির প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে।

আমাদের দেশে ফুসফুস ক্যানসারের চেয়ে এমফাইসিমায় মৃত্যু হয় অনেক বেশি। সাম্প্রতিক এক
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে সারা বিশ্বে ফুস্ফুস ক্যানসার ও টিউবারকিলোসিসের (যক্ষ্মা) তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ মারা যান এমফাইসিমায়।

এই রােগে আক্রান্ত মানুষের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফুসফুসের গ্যাসীয় ব্যাপন অংশগ্রহনকারী অ্যালভিওলাইবা বায়ুথলি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে।

ব্যাপনতলের আয়তন হ্রাস পাওয়ার ফলে ফুসফুল থেকে রক্তে ব্যাপিত বায়ুর পরিমাণ কমে যায়। ফলে রক্তেও দেহকোষে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায। শ্বাসপ্রশ্বাস সময় দুঃসহকষ্ট হয়, বিশেষ করে দৈহিক পরিশ্রমের সময় অসহ্য শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

গ)ফুস্ফুসের ক্যানসারঃ    ইনডাের পলিউশন ফুস্ফুসে ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়াচ্ছে। এমনিতেই প্রধানত ধুমপান ও বায়ুদূষণের কারণেই ফুসফুস ক্যানসার হয়ে থাকে। এইকারণেই শহরের বায়ু দূষণতার হওয়ায় গ্রামের তুলনায় শহরে ফুসফুসে ক্যানসার আক্রান্তমানুষের সংখ্যা অনেক বেশি।

fatal-lung-cancer-2002170504
ইনডাের পলিউশন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরাসরি ফুসফুস ক্যানসার সৃষ্টি না করলেও কারসিনােজেনের প্রতি মানুষের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তােলে অনেকবেশি।
তাই পরবর্তীকালে বাড়ে ক্যানসার হওয়ার সম্ভবনা।

ঘ) পালমােনারি ফাইব্রোসিসঃ    বাড়ি তৈরির সময় বা অন্যান্য কারণে। অ্যাজবেস্টাসের প্রকটেবা এক্সপােজারে প্লুরার ফুসফুসের মধ্যে আবরণীকলার ওপরের স্তর অমসৃণ হয়ে পড়ে এবং আস্তে আস্তে সেখানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
ফুসফুসের এইরকমঅস্বাভাবিক অব্যবস্থাকে পালমােনারি ফাইব্রোসিস বলে।
ফলে স্বাভাবিকভাবেইশ্বাসপ্রশ্বাসেকষ্ট দেখা দেয়।

ঙ) বন্ধ্যাত্ব এবং জন্মগত ত্রুটিঃ     সাধারণত বাতাসে বিভিন্ন ধরণের তেজস্ক্রিয় আইসােটোপের উপস্থিতির কারণেই এই ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। তবে, পৃথিবী ব্যাপি আজকের নানা গবেষণা বলছে ইনডাের পলিউশনের কারণে ঘরের বাতাসে মিশে থাকা বিভিন্ন উদ্বায়ী জৈব পদার্থের জন্য ভ্রুণের
অস্বাভাবিক বৃদ্ধিও বিকাশ এবং বন্ধ্যাত্ব সহ নানান রকমের জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। ডেকে আনে আ্যানিমিয়া, লিউকেমিয়া বা ক্যানসার সহ আনেক রকমের রােগ।

ইনডোর পলিউশনের বিপদ সবচেয়ে বেশি কাদের?

সকল মানুষ সমান ভাবে ইনডাের পলিউশনের শিকার হন না। কেউ খুব বেশি হন, কেউ বা কম। আবার অনেকেই এমন আছেন যাদের অ্যাকিউট এফেক্ট একটু আধটু হলেও ক্রনিক এফেকট সহজে দেখা দেয়।

বিভিন্ন গবেষণায দেখা গেছে যে ,সকল মানুষ ইনডাের পলিউশন সমান ভাবে আক্রান্ত হন না।
একথা অবশ্য যেকোন ধরণের দূষণের ক্ষেত্রেই সত্য। বৃদ্ধ ও অসমর্থ বা রােগগ্রস্ত (বিশেষ করে ফুসফুস ও হৃৎপিন্ড সম্পর্কীয়) ব্যক্তি এবং শিশুরাই বেশি সংবেদনশীল হন অর্থাৎইনডাের পলিউশনের শিকার হন এরাই সবচেয়ে বেশি।
ফুসফুসও হৃৎপিন্ড সম্পর্কীয় রােগাক্রান্ত ব্যক্তিরা কার্বন মনাে অক্সাইডের প্রকটে অসুস্থ হবেন খুব তাড়াতাড়ি এবং এঁদের হার্ট ফেইলিওর হওয়ার সম্ভবনা বেশি, ফলে মৃত্যুও হতে পারে।
এছাড়াও শ্রমজীবী মানুষ যাঁদের কর্মক্ষেত্রেই সমুখীন হতে হয় নানা রকমের বায়ুদূষকের, তাঁদের ক্ষেত্রেও ইনডাের পলিউশনের প্রভাব বেশি হবে। কারণ
এক্ষেত্রে তাঁদের ডাবল এক্সপােজার ঘটে। যেমন -খনি শ্রমিক, ইন ভাটার । কর্মী, বাসককটর, ড্রাইভার, ট্রাফিক পুলিশ প্রভৃতি পেশার লােকজনের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এইরকম উদাহরণ আরাে নানা পেশার লােকজনদের মধ্যেও আছে। এমনকি আইটি সেকটরে ২৪ ঘন্টা কম্পিউটার নিয়ে কাজ করা
বন্ধুরাও ডাবল এক্সপােজারের শিকার হচ্ছেন।

দূষণের ফলাফল যে কি মারাত্মক তাতাে আমরা জানি, এখানে শুধু অনেকগুলাে বিপদের একটা বলছি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে সীসা বা লেডএর  দূষণ জনিত বিষক্রিয়ার বাচ্চাদের বৃদ্ধি বিকাশ ব্যাহত হয়। সােজা কথায় বাচ্চারা বােকা হয়ে যায়। তাই, চিন্তা হচ্ছে, প্রশ্ন উঠছে, আমাদের পরের প্রজন্ম কি
তবে দিনে দিনে আরাে বােকা হয়ে পড়বে?

লেখকঃ ডঃ সােমা বসু

লেখাটি বিজ্ঞান অন্বেষক পত্রিকার বর্ষ ১১  সংখ্যা ২ মারচ-এপ্রিল ২০১৪ থেকে সংগৃহীত

WhatsApp Image 2020-06-27 at 9.21.53 PM

One thought on “ঘরের দূষণে নানা অসুখ

Leave a Reply

%d bloggers like this: