মানুষের দয়ায় পৃথিবী বেঁচে থাকবে না

@
4.9
(30)

সমস্ত পৃথিবীই একটা সমাজ, এক বৃহৎ সমাজের মধ্যে কোটি কোটি সমাজ গড়ে উঠেছে , যেগুলি স্বাভাবিকভাবেই প্রকৃতির নিয়মেই গড়ে উঠেছে – প্রকৃতির উপাদানগুলি যেমন – গাছ পালা, নদী নালা, পাহাড় সমুদ্র, পশু পাখি, মানুষ প্রভৃতির মধ্যে যেকোন একটি বা একাধিক যদি নিজেদের সীমা ছাড়িয়ে যায় – বিবর্তনের ধারায় যদি অত্যধিক এগিয়ে যায় – ছোট থেকে শুরু করে বৃহতী সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হতে থাকে – যার অনিবার্য পরিণাম স্বরূপ জীবনের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হতে থাকে – একদিন প্রবলতম সমাজের প্রজাতিটিও অবলুপ্ত হয়ে যায় বা বিবর্তিত হয়ে যায় – পৃথিবীর কোটি কোটি বছরের ইতিহাস দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে ।

বর্তমান সময়ে মানুষ সেই প্রবল প্রজাতি – যারা সমাজের ভারসাম্য নষ্ট করছে | মানুষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিনই নিজেদের কবরের পেরেকগুলি পুঁতে চলেছে | এখনই যদি মানুষ পরিবেশ পন্থী দর্শনকে উপলব্ধি না করে – তাকে জীবনে সমাজে রাষ্ট্রব্যবস্থায় অঙ্গীভূত না করে – বিলুপ্তি আসন্ন – বিলুপ্তির আগের ধাপগুলিও কম ভয়ঙ্কর নয় |

 

পরিবেশপন্থী সমাজ কেমন হবে ?

বর্তমানের মনুষ্য সমাজ, রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিজ্ঞানকে-প্রযুক্তিকে পরিবেশের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে – যেন এমনটা যে প্রগতি আর প্রকৃতি একে অপরের বিপরীত | তারই অনিবার্য ফল হিসাবে পাহাড় পর্বত নদী নালা জঙ্গল নিঃশেষ করে গড়ে উঠেছে নগর সভ্যতা কল কারখানা – আধুনিক সভ্যতার সকল উপকরণ | প্রতিদিন লোক সংখ্যা বাড়ছে , বাড়ছে সুখ সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্য – ফলে প্রাকৃতিক সম্পদগুলিকে একে একে কমে যাচ্ছে | এর কারন হল বর্তমানের সমাজব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা |

প্রাকৃতিক সম্পদ যথেচ্ছ পরিমানে কমে যাওয়ার ফলে যে প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে তাতে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রমে জীব বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে – প্রভাব পরছে মানুষের উপর | ফলে মানুষ প্রকৃতিকে রক্ষা করার একটা অসম্পূর্ণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে | নানা রকম বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, গাছ পালা নদী নালা পাহাড় জঙ্গল বাঁচানোর আন্দোলন সংগঠিত হচ্ছে | রাষ্ট্র ব্যবস্থাও জঙ্গল নদী নালা খাল বিল জলাশয় বাঁচানোর মত কিছু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে | কিন্তু সব কিছুর মধ্যে অসম্পূর্ণতা বিরাজ করছে | যেহেতু পরিবেশ পন্থী দর্শনকে আধার করে সমাজ ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা চালিত হয় না, তাই কোন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না – পরিবেশ প্রতিদিন আরো বিপন্ন হয়ে পড়ছে |

পরিবেশ পন্থী সমাজ যা ভবিষ্যতে পরিবেশ পন্থী রাষ্ট্র ব্যবস্থা সৃষ্টি করবে – যা প্রযুক্তিকে , বিজ্ঞানকে পরিবেশের বিপরীতে দাঁড় করায় না | এখানে প্রগতি সুস্থ ভারসাম্যযুক্ত পরিবেশের অন্তরায় নয় | প্রতিদিন প্রগতির সাথে সাথে মানুষের সংখ্যা উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পায়, বৃদ্ধি পায় তার সুখ স্বাচ্ছন্দ্য , ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির ভারসাম্য রক্ষা করতে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমান ও গুণাগুণেরও বৃদ্ধির পাওয়া আবশ্যক – কিন্তু বর্তমান সমাজব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় তার বিপরীতটিই পরিলক্ষিত হয় | একটা উদাহরণ দিই – বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য | ধরা যাক নতুন একটি নগর গড়ে তুলতে হবে, বা নগরের লোক সংখ্যা ও তাদের চাহিদা বেড়ে গেছে – সেক্ষেত্রে বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা নতুন নতুন সড়ক, মহাসড়ক, স্কুল কলেজ, নানারকম প্রতিষ্ঠানাদি গড়ে তোলে | প্রগতির সাথে এগুলি যেমন দরকার তেমনি প্রাকৃতিক সম্পদ – যেমন অক্সিজেন, জলের উৎসও বাড়ানো দরকার – মানে আরো বেশি গাছপালা, নদীনালা জলাশয় দরকার | কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা নতুন বাসস্থান সড়ক, স্কুল-কলেজ, প্রতিষ্ঠানাদি তৈরি করায় গাছপাল-জঙ্গল, নদীনালা জলাশয় ধ্বংস করে ফেলছে |

পরিবেশপন্থী সমাজ এমনটি করবে না, তারা প্রগতির সাথে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে যেমন আরো আধুনিক বাসস্থান, সড়ক, প্রতিষ্ঠানাদি নির্মাণ করবে তেমনি গাছপালা নদী-নালা জলাশয় বৃদ্ধির জন্যও প্রযুক্তিকে ব্যবহার করবে | নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করবে যাতে জঙ্গলে গাছের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, নদী নালা জলাশয়গুলির জল ধারণ ক্ষমতা যাতে আরো বৃদ্ধি পেতে পারে – কম জায়গায় আরো বেশি সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক হট স্পট গড়ে ওঠে | মানে উন্নয়নের মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহারে শুধু বাসস্থান , সড়ক , প্রতিষ্ঠানাদির বৃদ্ধি ও আধুনিকীরন পড়বে না তার সাথে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, বৃদ্ধিও চিহ্নিত হবে |

 

অর্থাৎ পরিবেশপন্থী সমাজ ব্যবস্থা বিজ্ঞানকে প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করবে | পরিবেশপন্থী সমাজ চালিত পৃথিবীতে প্রযুক্তি প্রকৃতির বিপরীত আসনে বসবে না – প্রকৃতি ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ভারসাম্যযুক্ত সুস্থ পৃথিবী গড়ে উঠবে – প্রগতির প্রকৃত স্বরূপ প্রতিষ্ঠিত হবে |

 

আপনার মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ , মতামত দিতে লেখকের ফেসবুক পেজ দেখুন ।
ফেসবুক পেজ

index

রাহুলদেব বিশ্বাস

 

Article 2

Article 1 : পরিবেশ পন্থী

 

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 4.9 / 5. Vote count: 30

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

সবুজদেরকে সবুজের বার্তা

4.9 (30) আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা।তারপর ,এক সপ্তাহ জুড়ে উৎসবের মেজাজে পালিত হবে অরণ্য সপ্তাহ 2020।বিদ্যালয় বন্ধ, তাতে কি? তাই বলে কি তোমরা থেমে থাকবে ?নিশ্চয়ই না। গাছ লাগাবে ,তাকে পরম যত্নে বড় করে তোলার দায়িত্বও নেবে।তাই না? কেন নেবে, সেটা আর নতুন করে জানাতে হবে না নিশ্চয়ই।কারণ,উদ্ভিদই একমাত্র […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: