পিঁপড়ের ভাব বিনিময়,কথা বার্তা

1
3.3
(3)

আমাদের চারপাশে যে সমস্ত কীটপতঙ্গ সাধারণত দেখতে পাই তার অন্যতম হল পিঁপড়ে। পিঁপড়েরা সামাজিককীট। তাদেরও নিয়মকানুন আছে। তারাও নিজেদের মধ্যে সংবাদ আদানপ্রদান করে। কেউ একজন খাদ্যের সন্ধান পেলে অবিলম্বে সে সংবাদ বন্ধুবান্ধবদের জানায় এবং তাদের শিকারের কাছে
নিয়ে যায়।

প্রশ্ন হচ্ছে পিঁপড়েরা নিজেদের মধ্যে ভাববিনিময় করে কিভাবে?
তারা এই কাজটা করে গন্ধের সাহায্যে। পিঁপড়েদের তলপেটে আছে গন্ধ যুক্ত পদার্থ নিঃসরণকারী বিশেষ গ্রন্থি। পিঁপড়ের ঢিবি লক্ষ্য করলে দেখা যায় কোন কোন পিঁপড়ে হয়ত নিশ্চিন্ত মনে ছুটে চলেছে। তার মানে তারা ছুটছে অমনি অমনি। আবার কারুর চলাফেরা অদ্ভুত কিছুক্ষণ পর পরই একটু করে বসছে। মাটিতে তলপেট ঠেকাচ্ছে। এইভাবে সে গন্ধ যুক্ত তরল পদার্থের সাহায্যে পথ চিহ্নিত করে রাখছে। এর মানে সে কিছু একটার সন্ধান পেয়েছে এবং শিগগিরিই দলবল নিয়ে সেখানে ফিরে যাবে -মনে হয় একার পক্ষে শিকার বয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। শিকারের পথ যাতে খুঁজে পাওয়া যায় সেই উদ্দেশ্যে পিঁপড়ে গন্ধ যুক্তচিহ্ন রেখে যাচ্ছে।

বাড়িতে পিঁপড়ের আগমন, জীবনে ঘটতে ...

একবার আমি পিঁপড়ে ঢিবির সামান্য দূরে একটা শুঁয়ােপােকা রেখেদিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে শিকার সন্ধানী পিঁপড়ে এসে হাজির। শুড় দিয়ে শিকারকে নেড়ে চেড়ে দেখার পর সে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার বাসার দিকে ছুটল। শিগগিরি সে ফিরে এলাে। এবার সদলবলে। অর্থাৎপিঁপড়ে যতই তাড়াহুড়াে করুক না কেন গন্ধ দিয়ে সে তার পথ চিহ্নিত করতে ভােলেনি। গন্ধ তাকে পথ দেখিয়ে ফেলে যাওয়া শুয়ােপােকার কাছেনিয়ে এলাে।

সে কিন্তু শুধু নিজের জন্য গন্ধের নিশানা ছেড়ে যায়নি। সন্ধানী পিঁপড়ের ছেড়ে আসা গন্ধ অন্যরাও অনুসরণ করে। কিভাবে সেটা বুঝলাম? সন্ধানী পিপড়ে অন্যদের আগে ছুটছিল। তাকে যেতে দিয়ে আমি চটপট মাটির ওপর ছুড়িদিয়ে একটা খাত তৈরী করে দিলাম। পিঁপড়েরা এই বাধা সহজেইঅতিক্রম
করে। কিন্তু এক্ষেত্রে তারা কি করবে বুঝে উঠতে না পেরে খাতের সামনে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। অস্থির হয়ে খাতের কিনারায় শুড় বুলিয়ে দেখতে লাগল, একদল খাতের মধ্যে নেমে গেল। বাদ বাকিরা কি যেন খুঁজতে খুঁজতে খাত বরাবর ইতস্তত ঘুরতে লাগল।

শিকার সন্ধানী পিঁপড়েটি ইতিমধ্যে শুঁয়ােপােকার কাছে এসে উপস্থিত হয়েছে, একমাত্র তখনই সে লক্ষ্য করল যে তার পিছনে কেউ নেই। এবার সেফিরে উল্টো পথ ধরল, খাত পেরিয়ে ওপারে গিয়ে নিজের সঙ্গী সাথীদের দেখা গেল-আবার তারা এক জায়গায় মিলে জোট পাকিয়ে আছে। আবার পথ প্রদর্শক সন্ধানী পিঁপড়ে ছুটতে শুরু করল শিকারের দিকে। বাকি পিঁপড়েরা তাকে অনুসরণ করল নির্দিধায় কারণ সন্ধানী পিঁপড়ের ছড়িয়ে দেওয়া গন্ধ তারা পেয়েছে।

ওদের পথে খাত বানিয়ে দেওয়ার পর গন্ধের চিহ্ন তারা হারিয়ে ফেলে। যদিও তারা সঙ্গীটিকে দেখতে পেয়েছিল কোন দিকে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও গন্ধ না পাওয়ায় তারা তাকে অনুসরণ করেনি।শুঁয়ােপােকাটার কাছে ছুটে গিয়ে পিঁপড়েরা তাকে ধরে নিজেদের টিবির দিকে নিয়ে যেতে যতগুলাে পিঁপড়ে দরকার
ততগুলােই কেন এল?শিকার যদি আরও ভারী কিংবা হালকা হত? তা হলে কি পিঁপড়ের সংখ্যার হেরফের হত? এটাত যাচাই করে দেখা যেতে পারে।

আমি পিঁপড়ের ঢিবির সামনে ছােট্ট একটা মাকড়সা রাখলাম। এবার আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। শুধু পরিবর্তন হল পিঁপড়ের সংখ্যার। এভাবে কখনও বড়, কখনও ছােট নানা রকম পােকামাকড় দিয়ে দেখলাম যে কজন সঙ্গী হলে শিকারকে টেনে নিয়ে যাওয়া যাবে সন্ধানী পিঁপড়ে সেই কয়জনকেই
সঙ্গে করে আনে। অর্থাৎ গন্ধের ভাষায় পিপড়েরা বলতে পারে কোথায় শিকার, কত তার আয়তন, তাকে আনতে কতজন লাগবে ইত্যাদি বিষয়। গন্ধের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে শিকারের আয়তন – গন্ধ যত উগ্র হবে শিকারও তত বড় এবং তার বিপরীত বলে অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন। তবে একথা সত্যি যে
গন্ধ যতই তীব্র হােকনা কেন তা দীর্ঘস্থায়ী নয়। গন্ধ যদি বেশিক্ষণ থাকত তা হলে শিকার নিয়ে যাওয়ার পরও পিঁপড়েরা যে জায়গায় তা পড়েছিল তার আশেপাশে ঘুরে বেড়াত। সেরকম কিছু ঘটে না।
আবার এক শ্রেণীর পিঁপড়ে আছে, যারা সাধারণত মরুভূমি ও আধা মরুভূমিতে থাকে, গন্ধ যুক্ত পথ মাটিতে না বানিয়ে শূন্যে বানায়। কারণ এইসব জায়গায় দিনের বেলায় মাটি প্রচন্ড গরম থাকার দরুনতলপেট দিয়েমাটি স্পর্শ করা যায় না। তাই তারা তলপেটের অগ্রভাব মাটিতে না চেপে বাঁকিয়ে ওপরের দিকে তুলে গন্ধ যুক্ত তরল পদার্থছিটায়। বাতাস না থাকলে মগন্ধ বেশ কিছুক্ষণ একজায়গায় থেকে যায়, দিকনির্দেশ করে। শুধুপিপড়ে নয় পৃথিবীর সব প্রাণী কীট পতঙ্গেরই আছে নিজস্ব ভাব
বিনিময় পদ্ধতি।

লেখকঃ জয় বিশ্বাস,

কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ ইউরি দৃসিত্রিয়েভ এর “হ্যালাে স্কুইরেষ গ্রন্থের” আংশিক অনুবাদ।

লেখাটি বিজ্ঞান অন্বেষক পত্রিকায় বর্ষ ১৩ সংখ্যা ১ জানুয়ারি ফেরুয়ারি ২০১৬ থেকে সংগৃহীত।

WhatsApp Image 2020-07-08 at 8.34.14 AM

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 3.3 / 5. Vote count: 3

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

One thought on “পিঁপড়ের ভাব বিনিময়,কথা বার্তা

Leave a Reply

Next Post

Earth will not survive through human pity

3.3 (3) The whole world constitutes a society, within an enormous society billions of societies have been constructed naturally, in accordance with the natural laws – if one or more of the elements of Nature – for example – trees and plants, rivers, mountains, oceans, animals, human beings and so […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: