চন্দ্রবোড়া (Russell’s Viper)

poribes news
0
(0)

Family: Viperidae    বিজ্ঞান সম্মত নামঃ Daboria russelli
বাংলা নামঃ চন্দ্রবোড়া, উলুবােড়া
ইংরেজীঃ ইন্ডিয়ান রাসেল ভাইপার, চেইনভাইপর।
বিচরণঃ দ্বীপ দ্বীপপুঞ্জ বাদ দিয়ে ভারতে সর্বত্র পাওয়া যায়। আসম, বিহার, ছত্তিশগড়, অন্ধপ্রদেশ, দমন দিউ, গােয়া, হরিয়ানা, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, কেরালা, ঝাড়খন্ড, মহারাষ্ট্র, ওড়িষা, পন্ডিচেরী, তামিলনাড়,
উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখন্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে এদের সুবিস্তার বর্তমান। ভারতবর্ষ ছাড়া বাংলাদেশ, ভূটান, নেপাল, পাকিস্তান, স্কটল্যান্ড, চীন, শ্রীলঙ্কার চন্দ্রবোড়া পাওয়া যায়।

চন্দ্রবোড়া চিনব কেমন করে?

হৃষ্টপুষ্ট চেহারা দেখে সহজেই এদের চিনতে পারা যায়। সারা দেহে তিনটি সারিতে চোখের মত চিহ্ন মাথার পিছন থেকে লেজ পর্যন্ত বিস্তৃত। কাছ থেকে দেখতে অনেকটা শিকল বা চেইন এর মত লাগে। সাধারণত মাটির রঙের সাথে এদের রঙ মিশে যায় তাই এরা খুব সহজে নিজেদের লুকিয়ে রাখতে সক্ষম। হাল্কা নস্যি রঙেরও হয়। সারা দেহ শুকনাে আঁশে ঢাকা, দেহ খসখসে প্রকৃতির তিনকোনা মাথা, গলা সরু হয়, দেহ
অপেক্ষাকৃত মোটা, লেজ ছোট হয়। ভোঁতা নাক, গােলাকার এৰং সামান্য উঁচু। নাসারন্ধ সাধারণত বড়। মাথার আঁশ দেহের আঁশের তুলনায় ছােট।

চন্দ্রবোড়া – goECO

দৈর্ঘ্যঃ গড় দৈর্ঘ্য 100 cm বা 3.3ft। সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্যর চন্দ্রবােড়ার দৈর্ঘ্য 180cm বা প্রায় 6ft ।

চন্দ্রবোড়া কোথায় থাকতে পছন্দ করে?

সমতল ভূমিতেই বেশী দেখা মেলে। ফাঁকা মাঠ, চাষের জমি, শুকনো পাতার স্তুপে, ঝোপঝাড়ে, আর্দ্র জায়গায় দেখা মেলে। সমতল থেকে 3000m উচ্চতায়ও এদের দেখা পাওয়া গেছে। প্রধানত যে সমস্ত জায়গা ইঁদুর ও ইঁদুর জাতীয় জীবের প্রাচুর্য বেশী সেখানেই এদের বেশী মাত্রায় দেখা মেলে। কেওড়া গাছের জঙ্গল এদের প্রিয় বাসস্থানের
অন্তর্গত। নিজেরা বাসা বানাতে অক্ষম, ইঁদুরের গর্ত,উঁইঢিবি, বাড়ির ফাটল, জমা করে রাখা পাতার স্তুপে এরা বাসকরে।

চাল চলনঃ

প্রধানত রাতেই এরা শিকার করে দিনের বেলা সে রকম ভাবে চোখে পড়েন। এরা খুবই অলস। দিনের বেলা এদের রােদে গা সেঁকতে দেখা যায়, নির্জীবের মত কুন্ডলী পাকিয়ে পড়ে থাকে। তবে এরা ভয় পেলে
শরীর ফোলাতে শুরু করে এবং প্রেসার কুকারের সিটির মত আওয়াজ বের করে। দেখে যতটা নির্জীব বা অলস মনে হয়, আদতে এরা তা নয় – চোখের পলকে(১ সেকেন্ডের ৬ভাগের একভাগে) এরা ছােবলমারে, ছােবল মারার পূর্বে এরা মাথা কিছুটা পিছিয়ে নিয়ে আসে এবং আক্রমণকরে।

বাংলার চাষবাস - চন্দ্রবোড়ার কামড়ে ...

বংশগতিঃ

শীতের শেষের দিকে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি পর্যন্ত এদের প্রজনন ঋতু। দ্বন্দ্ব যুদ্ধ পরিলক্ষিত হয় পুরুষ সাপেদের মধ্যে। স্ত্রী চন্দ্রবােড়া গ্রীষ্মের শেষ থেকে বর্ষার মধ্যে ৬-৯৬টা বাচ্চার জন্ম দেয়। এদের এজন্য Ovoviviparous বলা হয়। এদের ডিম মাতৃ জরায়ুতে থাকাকালীনই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। বেশী মাত্রায় বংশােপাদন করার ফলে পুষ্টির অভাবে এবং সঠিক শারীরিক গঠনের অভাবে অনেক জন্ম মুহূর্তে এবং কিছু বাচ্চা জন্মানোর কয়েক দিন পরেই মারা যায়।

Do Snakes Lay Eggs? - Snake Facts
চন্দ্রবােড়া দিম পারে না ,বাচ্চা দেয়।

বিষ বা Venomঃ

চন্দ্রবােড়ার বিষহিমােটক্সিক, যা সরাসরি রক্তের উপর তার প্রভাব বিস্তার করে। অন্যান্য সাপ তাদের দেহে মজুত বিষের ১০ শতাংশ ব্যবহার করে প্রতিটি ছোবলে, কিন্তু চন্দ্রবােড়া তার দেহে উপস্থিত বিষের ৭৫ শতাংশ ঢেলে দেয় আক্রমনকারীর উপর। যার জন্য এর প্রকোপ ও প্রভাব মারাত্মক। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। এদের বিযের ফলস্বরূপ রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে, রক্তে স্কন্দক পদার্থ কমে যায় এবং মাংস পেশীরও ক্ষতি হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রুত চিকিৎসার
দরকার। সাধারণ এরা কামড়ালে ক্ষত স্থান থেকে চুইয়ে রক্ত বেরােতে দেখা যায়।

বিষ দাঁতঃ চন্দ্রবোড়ার বিষ দাঁত Solenoglyph প্রকৃতির এবং ভারতীয় ভাইপার বা বােড়া সাপেদের মধ্যে সবচেয়ে বড়। Solenoglyph ধরণের দাঁত মুখ বন্ধ থাকলে ভাঁজ হয়ে থাকে। এদের বিষ মাথার দুদিকে থাকে বিষ থোলি।

Snake fangs - Snake Facts
বিষের পরিমানঃ একটি চন্দ্রবোড়ার বিষ থলিতে প্রায় 145mg বিষ মজুত থাকে। যার মাত্র 42mg মানুষের জন্য ‘fatal dose’ বা প্রাণহানিকারক।
চন্দ্রবােড়ার বিয়ের প্রভাবঃ

১) আক্রান্ত স্থানে ক্রমাগত ব্যাথা বেদনা ও জ্বালা।

২) কামড়ানাের ঘন্টা দুয়েক বাদে কামড়ানাের জায়গা ভীষণ ভাবে ফুলে ওঠে।

৩) ফোস্কা পড়া।

৪) গা গােলানাে এবং বমি বমি ভাব।

৫) প্রচুর রক্তক্ষরণ, দাঁতেরমাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ। এক্ষেত্রে কেউটে/ গােখরাে কামড়ালে
যেমন মুখ দিয়ে গাজলা ওঠে, তা দেখা যায় না। এর বিষ মানব শরীরের Vasomotor centreকে দমিয়ে রাখে এবং রক্তকে নষ্ট করে দেয়। Blood pressure কমে যায় এবং হার্ট দুর্বল হয়ে পরে। লােহিত রক্তকনিকা নষ্ট হয়ে যায় এবং তঞ্চন ক্ষমতা লােপ পায়। কার্ডিয়াক Respiratory failure অথবা Respiratory failure এ আবার কখনাে Septicaemia হয়ে মানুষ সাপেকাটার ১ থেকে ১৪ দিনের মাথায়ও মারা যেতে পারে।

বিষরােধী সিরামঃ ভারতবর্ষে একমাত্র হফকিন ইন্সটিটিউটে প্রস্তুত polyvalent serum এই বিষের প্রতিরােধী সিরাম। এই AVS সাপের কামড়ের চিকিৎসাকরা হয়।

সংরক্ষণঃ ভারতীয় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের schedule 2  অনুযায়ী এই সাপ সংরক্ষিত। এই সাপ ধরা বা মারা আইনত দন্ডনীয়।(schedule॥, 1972)

এই সাপের মত দেখতে অন্য সাপ : ভারতীয় অজগর (Indian Rockpython)।

বিশেষ তথ্য: এই সাপ ‘Indian Big four’ এর সদস্য, এর কামড়ে ভারতবর্ষে সর্বাধিক লােক মারা যায়। অবশ্য স্থান দখলে চন্দ্রবােড়ার সঙ্গে ফুর্সার (saw scaled viper) তুলনামূলক লড়াই চলে। কোন বছর ফুর্সা  প্রথম স্থান এবং চন্দ্রবােড়া দ্বিতীয়, আবার কোন বছর চন্দ্রবােড়া প্রথম স্থান এ ফুর্সা দ্বিতীয়।

লেখক:নিলেন্দু কেশ

লেখাটি বিজ্ঞান অন্বেষক পত্রিকায় বর্ষ ১৩ সংখ্যা ১ জানুয়ারি ফেরুয়ারি ২০১৬ থেকে সংগৃহীত।

WhatsApp Image 2020-07-08 at 8.34.14 AM

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

পিঁপড়ের ভাব বিনিময়,কথা বার্তা

0 (0) আমাদের চারপাশে যে সমস্ত কীটপতঙ্গ সাধারণত দেখতে পাই তার অন্যতম হল পিঁপড়ে। পিঁপড়েরা সামাজিককীট। তাদেরও নিয়মকানুন আছে। তারাও নিজেদের মধ্যে সংবাদ আদানপ্রদান করে। কেউ একজন খাদ্যের সন্ধান পেলে অবিলম্বে সে সংবাদ বন্ধুবান্ধবদের জানায় এবং তাদের শিকারের কাছে নিয়ে যায়। প্রশ্ন হচ্ছে পিঁপড়েরা নিজেদের মধ্যে ভাববিনিময় করে কিভাবে? তারা […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: