ভারতীয় প্যাঙ্গোলিন

প্যাঙ্গোলিনের বিজ্ঞান সম্মত নাম মেনিস ক্র্যাসিকডাটা (Manis crassicaudata) প্যাঙ্গোলিনের আরেকটি প্রজাতি চাইনিজ প্যাঙ্গোলিন(Manis pentadactyla aurita)

বাসস্থানঃভারতীয় প্যাঙ্গোলিন বা বনরুই হিমালয়ের পাদদেশে সমতল ভূমিতে দেখা যায়।আসাম ও পূর্ব হিমালয় অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়।

প্যাঙ্গোলিন দেখতে কেমনঃ

এই প্রাণীটির কিছু বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য আছে। স্তন্যপায়ী এই প্রাণীটির সারা দেহ শক্ত আঁশ দিয়ে ঢাকা থাকে। আঁশগুলি একটির উপর  আরেকটি উঠে থাকে। ধারণা করা হয় দেহের লােম পরিবর্তিত হয়ে এই আঁশ সৃষ্টি হয়েছে। আঁশগুলির ফাকে ফাকে শক্ত লােম দেখা যায়। বিপদ দেখলে বা বিরক্ত করা হলে প্যাঙ্গোলিন নিজের দেহকে গােল বলের মতাে করে গুটিয়ে ফেলে।

বনরুই পাচার ও বিলুপ্তি ঠেকাতে ...

প্যাঙ্গোলিনের আঁশঃ

এই অবস্থায় বাইরের দিকে অবস্থিত শক্ত আঁশগুলি এর আত্মরক্ষার ঢাল হিসাবে কাজ করে। প্যাঙ্গোলিনের দেহে শক্তিশালী পেশী থাকার ফলে বাইরে থেকে এই গােটানাে অবস্থাকে খােলা যায় না।
প্যাঙ্গোলিনের লেজটি শক্তপােক্ত এবং এর সাহায্যে কোন কিছুকে আঁকড়ে ধরতে পারে।

প্যাঙ্গোলিনের খাবারঃ

অদ্ভুত দর্শন এই প্রাণীটি প্রধানত পিঁপড়ে ও উইপােকা খেয়ে বেঁচে থাকে। চতুস্পদ প্রাণীটি লম্বা, ভোতা নখের সাহায্যে মাটি খুঁড়ে পিঁপড়ে ও উইপােকা খায়। সাধারণত মাটিতে চলাফেরা করলেও এরা খুব ভালাে গাছে চড়তে পারে। পিঁপড়ে খাওয়ার জন্যই এরা গাছে চড়ে। এই সময় এরা লেজের সাহায্য নেয়। প্যাঙ্গোলিন সাধারণত মাটির গর্তে বসবাস করে।

প্যাঙ্গোলিনের অদ্ভুত চেহারা এবং বিচিত্র আচরণের জন্য এদের দেহের বিভিন্ন অংশের ঔষধি গুণ আছে এই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে মানুষযারা এদের হত্যা করছে। এদের স্বাভাবিক বাসস্থান নষ্ট হওয়ার কারণেও এরা আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে।

লেখাটি বিজ্ঞান অন্বেষক এর বর্ষ ১,দ্বিতীয় সংখ্যা, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর/২০০৩ থেকে সংগৃহীত।

Leave a Reply

%d bloggers like this: