গন্ডার , বিপন্ন প্রাণী

3.2
(6)

যারা ডাঙায় চলাফেরা করে অর্থাৎ স্থলচর প্রাণী তাদের মধ্যে প্রথম স্থানে আছে হাতি।

কিন্তু দ্বিতীয় কে? পারলে না তাে! দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারতীয় গন্ডার ( Rhinoceros)

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান » আদার ...

গন্ডারের প্রজাতিঃ     এই বিশাল চেহারার গন্ডার প্রাণীটির পাঁচটি প্রজাতি এখন সারা পৃথিবীতে টিকে আছে। ভারত ছাড়া আফ্রিকায় পাওয়া যায় দুটি প্রজাতি। এরা সাধারণত সাদা ও কালাে গন্ডার নামে পরিচিত। এছাড়া আছে সুমাত্রার গন্ডার এবং জাভার ছােট গন্ডার।

ভারতীয় গন্ডারের বিজ্ঞান সম্মত নামঃ  Rhinoceros unicornis(রাইনােসেরস ইউনিকরনিস)।

ভারতীয় গন্ডারের দেহের গঠনঃ দৈর্ঘ্যে চার মিটার পর্যন্তহতে পারে। এরা খুব ওজনদার প্রাণী। প্রায় দুই টন এদের ওজন। গায়ের রঙ কালচে ধূসর।

গন্ডারের চামড়াঃ এদের কাঁধে এবং পিছনের পায়ে চামড়ার অনেক ভাঁজ লক্ষ্য করা যায়। চামড়ার উপরে অনেক গুটি থাকে। এই ভাঁজ ও গুটির জন্য চামড়া দেখতে বর্মের মতাে।

গন্ডারের শিং বা খড়্গ আসলে কি দিয়ে তৈরী ঃ গন্ডারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল খড়্গ। ভারতীয় গন্ডারের নাকের উপরে একটি খড়্গ থাকে। খড়্গটি লােম জমে তৈরি হয় এবং প্রায় ৬০ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

গন্ডার কি খায়ঃএই বিশাল চেহারার প্রাণীটি ঘাস পাতা খেয়ে বাঁচে। এরা অনেকটা সময় জলে কাটায় এবং জলজ উদ্ভিদ খায়।

গন্ডারের বাসস্থানঃ এরা একা থাকতে ভালবাসে। একসময় সিন্ধু উপত্যকা থেকে মায়ানমার (বর্মা) পর্যন্ত গন্ডার পাওয়া যেত। কিন্তু আজ এদের কেবলমাত্র ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ও নেপালে পাওয়া যায়। এখন এদের সংখ্যা প্রায় ২০০০টি।

এখন এদের কেবলমাত্র আসামের কাজিরাঙা, পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়া, গরুমারা এবং নেপালের চিতাওয়ানে দেখতে পাওয়া যায়। দুধওয়া জাতীয় উদ্যানে কয়েকটি গন্ডারকে ছাড়া হয়েছিল। গন্ডারগুলি সেখানে ভালভাবে বসবাস করছে।

গন্ডার বিলুপ্তির কারণ ঃ গন্ডারের খড়ের ভেষজ গুণ আছে, এই ভুল ধারণার ফলে অতীতে এদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। এবং বর্তমানে হচ্ছে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে গন্ডারের খড়ের কোন
ভেষজ গুণ নেই। তবুও মানুষ অতীতের ধারণাকে ভুলতে পারেনি। এর সঙ্গে যােগ হয়েছে বৃক্ষছেদন; যার ফলে এদের বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে।

এছাড়া বনের আশেপাশের লােকালয়ের পােয্য গরু মােষের পাল জঙ্গলে ঢুকে এদের খাদ্যে ভাগ বসাচ্ছে। এইসব কারণে এদের সংখ্যা কমে গেছে।

এই প্রাণীটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারী আইন তাে আছেই তবে সব থেকে জরুরী হোল সাধারণ মানুষকে সচেতন করা।নাহলে ভবিষ্যতে আমরা এই বিশাল প্রাণীটিকে দেখব কেবলমাত্র ছবিতে।

লেখটি বিজ্ঞান অন্বেষক এর বর্ষ-১ দ্বিতীয় সংখ্যা ,মার্চ-এপ্রিল/২০০৩ থেকে সংগৃহীত।

লেখাটিকে কতগুলি ট্রফি দেবেন ?

Click on a star to rate it!

Average rating 3.2 / 5. Vote count: 6

No votes so far! Be the first to rate this post.

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  

Leave a Reply

Next Post

ভারতীয় প্যাঙ্গোলিন

3.2 (6) প্যাঙ্গোলিনের বিজ্ঞান সম্মত নাম মেনিস ক্র্যাসিকডাটা (Manis crassicaudata) প্যাঙ্গোলিনের আরেকটি প্রজাতি চাইনিজ প্যাঙ্গোলিন(Manis pentadactyla aurita) বাসস্থানঃভারতীয় প্যাঙ্গোলিন বা বনরুই হিমালয়ের পাদদেশে সমতল ভূমিতে দেখা যায়।আসাম ও পূর্ব হিমালয় অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। প্যাঙ্গোলিন দেখতে কেমনঃ এই প্রাণীটির কিছু বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য আছে। স্তন্যপায়ী এই প্রাণীটির সারা দেহ শক্ত আঁশ […]
error: কপি নয় সৃষ্টি করুন
%d bloggers like this: